ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন যেসব শাক-সবজিতে

প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ডিম বেশ জনপ্রিয়। তবে কিছু শাক-সবজি প্রোটিনের দিক থেকে ডিমকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এগুলো শুধু প্রোটিন সমৃদ্ধই নয়, বরং ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দিক থেকেও স্বাস্থ্যকর। আসুন জেনে নিই এমন কিছু শাক-সবজি, যেগুলোতে ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন রয়েছে।

১. পালং শাক

পুষ্টিগুণে ভরপুর পালং শাক প্রোটিনের চমৎকার উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে ২.৯ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর রান্না করা অবস্থায় এক কাপ পালং শাকে থাকে প্রায় ৫.৪ গ্রাম প্রোটিন। এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ, সি ও কে-সমৃদ্ধ, যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. সজনে ডাটা

সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা অনেক উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের তুলনায় বেশি। এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৩. ব্রোকলি

ব্রোকলির পুষ্টিগুণ অসাধারণ! প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২.৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর এক কাপ রান্না করা ব্রোকলিতে থাকে ৫.৭ গ্রাম প্রোটিন, যা একটি ডিমের চেয়েও বেশি। এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

৪. মাশরুম

মাশরুমেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুমে প্রায় ৩.১ গ্রাম প্রোটিন থাকে, তবে রান্নার পর এই ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। এক কাপ রান্না করা মাশরুমে প্রায় ৫-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। এটি বি ভিটামিন, সেলেনিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৫. মটরশুঁটি

প্রতি ১০০ গ্রামে মটরশুঁটিতে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে থাকে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন, যা ডিমের তুলনায় বেশি। এটি ফাইবার, ভিটামিন কে এবং ফোলেটের সমৃদ্ধ উৎস, যা হজম, হৃদরোগের স্বাস্থ্য এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এই শাক-সবজিগুলো ডায়েটে রাখলে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে!

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভিটামিনের খাদ্য উৎস ও প্রয়োজনীয়তা

ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ হলো এমন একটি জৈব উপাদান যা শরীরের পুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ১৯১২ সালে বিজ্ঞানী ক্যাশিমির ফ্রাঙ্ক ভিটামিন আবিষ্কার করেন। বিভিন্ন ভিটামিন শরীরের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখে। তবে, কোন ভিটামিন কীভাবে কাজ করে এবং কোন খাবারে পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

ভিটামিন এ

চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। এর উৎস: দুধ, ডিম, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, কচুশাক ইত্যাদি।

ভিটামিন সি

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা, রক্তকণিকা তৈরি এবং ক্ষত সারাতে সহায়ক। উৎস: আমড়া, পেয়ারা, লেবু, আনারস, বাঁধাকপি।

ভিটামিন ডি

হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উৎস: সূর্যালোক, ডিমের কুসুম, দেশীয় ছোট মাছ।

ভিটামিন ই

দেহকোষ সুরক্ষা ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক। উৎস: বাদাম, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখীর তেল।

ভিটামিন বি-১ থেকে বি-১২

প্রতিটি বি-ভিটামিনের রয়েছে আলাদা ভূমিকা। যেমন: শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখা, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা। এর উৎস: ফুলকপি, মাশরুম, লাল চাল, শিম, কলা, মাংস, ডিম।

ভিটামিন কে

রক্ত জমাট বাঁধা ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়ক। উৎস: সবুজ শাক, সয়াবিন, ফুলকপি।

আয়রন

রক্তস্বল্পতা দূর করে ও রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে। উৎস: মেথি শাক, শিমের বীজ, খেজুর, ছোলা।

ক্যালসিয়াম

হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত রাখে। উৎস: দুধ, দই, পনির, বাঁধাকপি।

পটাসিয়াম

হৃদযন্ত্র ও মাংসপেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। উৎস: কলা, ডাব, মিষ্টি আলু।

জিংক

শরীরের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। উৎস: চিংড়ি, ছোলা, কাজুবাদাম।

আয়োডিন

গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের পুষ্টি পরিবহনে ভূমিকা রাখে। উৎস: সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিনযুক্ত লবণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঈদে গোলাপের শরবত: তীব্র গ্রীষ্মে স্বস্তির এক চুমুক

ঈদ, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসব। এই উৎসব মানেই নানা রকম খাবারের সমারোহ। তবে, ভারী ও মশলাদার খাবারের মাঝে গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ কমাতে যে জিনিসটি প্রয়োজন, তা হলো ঠান্ডা শরবত। এই ঈদে, গোলাপের শরবত হতে পারে আপনার সেরা পানীয়। গোলাপের শরবত গ্রীষ্মের তীব্র তাপ কাটিয়ে, শরীরে সতেজতা এবং স্বস্তি এনে দিতে পারে।

গোলাপের শরবত কেবল স্বাদেই নয়, বরং ত্বককে ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। একসাথে গোলাপ, পুদিনা, পেস্তা ও লেবুর সংমিশ্রণ, আপনার শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখতে সক্ষম। চলুন, দেখে নেয়া যাক গোলাপের শরবত তৈরির সহজ উপায়:

গোলাপ এবং পুদিনা শরবত:

১। ১ কাপ গোলাপ জলের সাথে ২ কাপ ঠান্ডা জল এবং ১/৪ কাপ চিনি মিশিয়ে নিন।
২। চিনি এবং এক মুঠো তাজা পুদিনা পাতা হালকা কুঁচি করে বা গুঁড়া করে শরবতের দ্রবণে মিশিয়ে নিন।
৩। পছন্দমতো বরফ টুকরো যোগ করুন এবং পুদিনা পাতা বা ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজান। পুদিনার শীতলতা এবং গোলাপের সুবাস সম্মিলিত এই শরবত আপনাকে দেবে সতেজতা।

গোলাপ ও পেস্তা স্মুদি:

১। ১/২ কাপ গোলাপ পানি ৩ কাপ ঠান্ডা দুধের সাথে মিশিয়ে নিন।
২। বাদাম কুঁচকানোর জন্য ২ টেবিল চামচ পেস্তা কুঁচকানো মিশিয়ে নিন।
৩। মিষ্টি বেশি পছন্দ করলে ১ টেবিল চামচ চিনি যোগ করুন।
৪। চিনি গলে না যাওয়া পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবে নেড়ে, তারপর বরফের টুকরো দিয়ে পরিবেশন করুন এবং উপরে কয়েকটি আছড়ে পেস্তা ছিটিয়ে দিন।

গোলাপ ও লেবুর শরবত:

১। ১ কাপ গোলাপ জলের সাথে ৪ কাপ ঠান্ডা জল মিশিয়ে নিন।
২। ১/৪ কাপ তাজা লেবুর রস এবং ১/৪ কাপ মধু বা চিনি যোগ করুন। স্বাদ অনুযায়ী চিনি বা মধুর পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে।
৩। সবকিছু ভালোভাবে নেড়ে বরফের টুকরো দিন এবং লেবুর টুকরো দিয়ে পরিবেশন করুন।

এবার ঈদে আপনার অতিথিদের জন্য প্রিয় এই গোলাপের শরবতগুলো প্রস্তুত করুন, যা তাদের স্বস্তি দেবে এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঈদে মিষ্টিমুখ: নতুন স্বাদের তিনটি রেসিপি

ঈদ মানেই উৎসব, আর উৎসব মানেই সুস্বাদু খাবার! এবার ঐতিহ্যবাহী লাচ্ছা সেমাই বা নারকেলের সেমাইয়ের পরিবর্তে চমৎকার তিনটি নতুন রেসিপি দিয়ে ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে তুলুন।

বাতাসার পায়েস

উপকরণ:

  • দুধ – ১ লিটার
  • আতপ চাল – ৫০ গ্রাম
  • বাতাসা – ২৫০ গ্রাম
  • ঘি – ১ চা চামচ
  • দুধের গুঁড়া – ১০০ গ্রাম
  • তেজপাতা – ২টি
  • এলাচ – ২টি
  • কিসমিস – ১৫টি
  • কাজুবাদাম – ১৫টি

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা গরম হলে কিছুটা দুধ আলাদা রেখে দিন। এতে গুড়ো দুধ মিশিয়ে রাখুন। এরপর দুধে তেজপাতা ও এলাচ দিন। চাল ধুয়ে শুকিয়ে নিন এবং ঘি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার দুধ ঘন হলে তাতে চাল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। চাল সিদ্ধ হলে মিশ্রিত গুড়া দুধ দিন এবং কিছুক্ষণ নেড়ে বাতাসা যোগ করুন। নাড়তে নাড়তে ঘন হলে নামানোর আগে বাদাম ও কিসমিস ছড়িয়ে দিন।

নবাবী সেমাই

উপকরণ:

  • লাচ্ছা সেমাই – ২৫০ গ্রাম
  • দুধ – ১ কেজি
  • মিল্ক পাউডার – ২০০ গ্রাম
  • কর্নফ্লাওয়ার – ৩ চামচ
  • কনডেন্সড মিল্ক – ৫০ গ্রাম
  • ঘন ক্রিম – ৫০ গ্রাম
  • চিনি – স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে কড়াইতে ঘি গরম করে সেমাই ভাজুন। এরপর চিনি ও মিল্ক পাউডার দিয়ে আরও ভাজুন। অন্য একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিন। ৫ মিনিট পর কনডেন্সড মিল্ক ও চিনি দিয়ে নেড়ে নিন। এরপর ক্রিম ও কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে নেড়ে ঘন করুন। একটি পাত্রে ভাজা সেমাই দিয়ে তার উপর ক্রিম মিশ্রণ ছড়িয়ে দিন। এর উপর আবার সেমাই দিন এবং বাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

শাহী টুকরা

উপকরণ:

  • পাউরুটি – ৪-৬ টুকরা
  • দুধ – ১/২ লিটার
  • ঘি – ২ টেবিল চামচ
  • চিনি – ১/২ কাপ
  • পানি – ১ কাপ
  • ছোট এলাচ – ২-৩টি
  • কাঠবাদাম, পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম ও কিসমিস – পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে চিনি ও এলাচ দিয়ে ঘন সিরাপ তৈরি করে ঠান্ডা করুন। পাউরুটির চারপাশ কেটে কোণাকুণি করে নিন। ফ্রাইপ্যানে ঘি গরম করে পাউরুটির টুকরাগুলো ভালোভাবে ভেজে নিন। এরপর এগুলো সিরায় কয়েক সেকেন্ড ডুবিয়ে তুলুন।

এবার ফ্রাইপ্যানে বাদাম ও কিসমিস হালকা আঁচে ভেজে নিন। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন হলে তাতে বাদাম মিশিয়ে নিন। সাজিয়ে রাখা পাউরুটির উপর এই দুধের মিশ্রণ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শবে কদরের মহিমা ও ফজিলত

প্রতিবছর এমন একটি রাত আসে, যা অন্য সব রাতের তুলনায় অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। মহান আল্লাহ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই রাতটি হলো লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন মাজিদ নাজিল করেছেন এবং বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত বর্ষণ করেন।

শবে কদরের গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—
“রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হলো, সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।” (ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় শবে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বোখারি: ৩৫)

শবে কদরের তারিখ নির্ধারণ

শবে কদরের সঠিক তারিখ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের এটি রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে বলেছেন

সহিহ হাদিসে এসেছে—
“তোমরা শবে কদর রমজানের শেষ দশকে, বিশেষ করে বিজোড় রাতে খোঁজ করো।” (সহিহ বোখারি: ২০২৭)

২৭ রমজানকে শবে কদর হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে ২১, ২৩, ২৫, ২৯ রমজানের রাতেও এটি হতে পারে।

শবে কদরের লক্ষণ

রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু নির্দিষ্ট আলামত বলে গেছেন, যার মাধ্যমে এই রাত চেনা যায়—

আকাশ ও আবহাওয়া:

  • রাতটি হবে শান্ত ও মনোরম।
  • বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা থাকবে না।
  • বাতাস থাকবে মৃদুমন্দ।

চাঁদের অবস্থা:

  • চাঁদ থাকবে উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ।
  • কখনো কখনো মেঘের আড়ালে থাকতে পারে।

পরদিন সূর্যের অবস্থা:

  • শবে কদরের পরের দিন সূর্য নির্জ্বল ও কিরণবিহীন হবে
  • সূর্য দেখতে হবে এক টুকরো থালার মতো।

শবে কদরের ইবাদত

এ রাতে বেশি বেশি—

  • নফল নামাজ পড়া
  • কোরআন তিলাওয়াত করা
  • তওবা ও ইস্তিগফার করা
  • দোয়া ও জিকির করা
  • সদকা-দান করা

বিশেষ দোয়া

হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি আমি শবে কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া পড়ব?

নবী (সা.) বললেন, এই দোয়া পড়বে—
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি”।
(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন।)

শবে কদর এক মহিমান্বিত রাত। এটি পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশকে বিশেষভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকা উচিত। এই রাতেই ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়, তাই আমাদের উচিত গুনাহ থেকে মুক্তি চেয়ে বেশি বেশি দোয়া করা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক উপায়

স্মৃতিশক্তি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের কাজকর্ম থেকে শুরু করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মৃতির মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। সাধারণত, বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমতে পারে, তবে অতিরিক্ত স্মৃতিভ্রম বা কম বয়সেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বর্তমান যুগে আমরা প্রায়ই মাল্টিটাস্কিংয়ের শিকার হয়ে থাকি এবং বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ দিয়ে মনে রাখতে হয়। তবে দুর্বল স্মৃতিশক্তি অনেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, যা বিশেষভাবে আপনার মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।

নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করুন:
প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি পরিকল্পিত রুটিন তৈরি করুন। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্মরণ করা সহজ হয় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমে। ছোট নোটপ্যাডে কাজের তালিকা করে রাখতে পারেন, কারণ যেকোনো বিষয় লিখে রাখলে তা মনে রাখার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ভালো ঘুম:
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ৬-৮ ঘণ্টার ঘুম স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ঘুমানোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম নেয় এবং ব্রেনের নিউরন কোষগুলো ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু করে। এতে তথ্য মনে রাখা এবং স্মরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মানসিক চর্চা:
পাজল বা ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা বা পড়াশোনা করা, ইত্যাদি মস্তিষ্কের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের কাজ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্মৃতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মানসিক চাপ কমানো:
মানসিক চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রশান্তির পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। যখন মস্তিষ্ক মানসিক চাপমুক্ত থাকে, তখন ক্ষতিকর হরমোনের নিঃসরণ কমে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

এখানে কিছু সহজ নিয়ম অনুসরণ করে আপনার স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফুসফুসের ক্যানসারের আগাম সংকেত: অবহেলা নয়, সতর্ক হোন

ধূমপান, বায়ুদূষণসহ নানা কারণেই ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। তবে অনেকেই একটানা কাশি বা শ্বাসকষ্টকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু জানেন কি? এসব লক্ষণ হতে পারে ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত।

ফুসফুসের ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আগেভাগে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদিও ক্যানসারের লক্ষণ নির্ভর করে এটি শরীরের কোন অংশে ছড়াচ্ছে তার ওপর, তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ফুসফুস ক্যানসারের ৫টি আগাম লক্ষণ

১. দীর্ঘস্থায়ী কাশি

সাধারণ ঠান্ডা বা সর্দি-কাশি কিছুদিন পর সেরে যায়। তবে যদি কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে, তবে এটি ফুসফুসের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

২. অতিরিক্ত ক্লান্তি

ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে ক্লান্তিভাব বেড়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভব করলে এটি উপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. শ্বাসকষ্ট

কোনো কারণ ছাড়াই যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয় বা আগের চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে যান, তবে এটি হতে পারে ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ। বিশেষ করে, শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁধা অনুভব করলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

৪. গলার স্বরে পরিবর্তন ও গলাব্যথা

গলার স্বর ভেঙে যাওয়া, সবসময় গলাব্যথা থাকা বা স্বরের পরিবর্তন ফুসফুস ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে গলা ভাঙা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

৫. বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা

দীর্ঘদিন ধরে বুক, পিঠ বা কাঁধের আশপাশে ব্যথা অনুভূত হলে এটি ফুসফুসের ক্যানসারের আগাম লক্ষণ হতে পারে। যদি ব্যথা নিয়মিত থাকে এবং তীব্র হয়, তবে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন

ফুসফুস ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ধূমপান থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং দূষণ এড়িয়ে চলা—এই অভ্যাসগুলো ফুসফুস ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকির পায়রা পয়েন্টে ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট উদ্বোধন

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’র ৬১১তম আউটলেট চালু হলো পটুয়াখালীর দুমকীর পায়রা পয়েন্টে। ঢাকা-কুয়াকাটার হাইওয়েতে পায়রা ব্রিজের পাদদেশে অবস্থিত লেবুখালীর পায়রা পয়েন্ট মার্কেটে শুক্রবার বিকেলে এর উদ্বোধন করেন নিউভিশন গ্রুপের এমডি মো. তারিকুল ইসলাম মনির।

এসময় তিনি বলেন, “দুমকির লেবুখালীতে আধুনিক আউটলেটের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। আশা করছি, এখানে আমাদের সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং গ্রাহকরা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নিয়মিত বাজার করতে পারবেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘স্বপ্ন’র অপারেশনস ম্যানেজার মো. নাইম খান জানান, নতুন এই আউটলেটে মাসব্যাপী বিশেষ অফার থাকবে। এছাড়া, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য হোম ডেলিভারি সেবাও চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পরে যোগ দেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম।

এদিকে আসন্ন ঈদের আগে স্বপ্ন’র আউটলেট হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। তাদের আশা এবার আর জেলা শহরে যেতে হবেনা। ‘স্বপ্ন’র নতুন শাখা তাদের বাজারের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে।

 

 




ইফতারে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্বাস্থ্যকর সাহরি খাওয়ার পাশাপাশি ইফতার হলো রমজানের প্রধান খাবার। তাই আমাদের রোজা ভাঙার সময় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খাচ্ছি। স্বাস্থ্যকর ইফতার বরকতময় মাসে আমাদের ইবাদত থেকে সর্বাধিক সুবিধা পেতে এবং অস্বাস্থ্যকর ইফতারের কারণে এই মাসে যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বাঁচতে এড়াতে সাহায্য করবে। রমজানে উদ্যমী ও সুস্থ বোধ করার জন্য এবং ক্লান্তি এড়াতে ইফতারে এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি-

ধীরে ধীরে খান এবং স্বাদ গ্রহণ করুন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রোজা ভাঙবে, তখন সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা বরকতময়। যদি তা না পাওয়া যায়, তাহলে যেন সে পানি দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা পবিত্র।” সুনান আত-তিরমিযী ৬৯৫

ইফতারের সময় যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি খাওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। খেজুর, এক গ্লাস পানি এবং এক বাটি ফল দিয়ে ইফতার শুরু করুন। মাগরিবের নামাজ পড়ুন এবং তারপর বাকি খাবারের জন্য টেবিলে বসুন। নামাজ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত না খেয়ে ধীর গতিতে খেতে পারেন, এভাবে আপনার খাবার উপভোগ করতে পারবেন।

ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন

রমজানে ডিপ ফ্রায়ার সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। খাবার বেক করার জন্য চুলা অথবা এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করুন। এই দুই পদ্ধতিই ভাজা থেকে আসা ফ্যাট এবং ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

প্রোটিন, প্রোটিন এবং প্রোটিন

বেশিরভাগ ইফতারে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে এবং প্রোটিনের অভাব থাকে। দীর্ঘ সময় রোজা থাকার পর শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য প্রতিটি ইফতারে প্রোটিনের যোগ করতে ভুলবেন না। প্রোটিনের উৎসের মধ্যে কেবল মুরগি এবং মাছ নয়, বরং ডাল এবং বিনের মতো উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনও রয়েছে।

চিনির শরবতের বদলে পানি পান করুন

তৃষ্ণা নিবারণের জন্য গ্লাস ভরা শরবত বা জুস পান করা লোভনীয় হতে পারে, তবে এতে প্রচুর চিনি এবং ক্যালোরিও থাকে! তাই এর বদলে পানি পান করুন। স্বাদের জন্য তাতে লেবুর টুকরা, পুদিনা পাতা এবং তাজা ফল মিশিয়ে নিতে পারেন।




উচ্চ রক্তচাপ? সকালের নাস্তায় যা খেতে পারেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : উচ্চ রক্তচাপ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। সুষম খাদ্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সকালের নাস্তা হলো একটি অপরিহার্য খাবার। যা দিনের বাকি সময়ের জন্য সুস্থতার মাত্রা নির্ধারণ করে। সকালের নাস্তায় পুষ্টিকর, কম সোডিয়াম যুক্ত এবং হৃদযন্ত্র-বান্ধব খাবার নির্বাচন করুন। এ ধরনের খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচতে সকালের নাস্তায় কী খাবেন-

১. বাদাম এবং বেরি সহ ওটমিল

ওটসে প্রচুর বিটা-গ্লুকান থাকে, যা এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এক বাটি চিনি ছাড়া ওটমিলের উপরে বেরি এবং এক মুঠো বাদাম যেমন কাঠবাদাম বা আখরোট ছড়িয়ে নিন। বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, অন্যদিকে বাদাম স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী।

২. তিসির বীজ এবং ফলের সঙ্গে টক দই

টক দই প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিকের একটি চমৎকার উৎস, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তিসির বীজ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং লিগনান সমৃদ্ধ, যা রক্তচাপ কমানোর জন্য পরিচিত। কলার মতো তাজা ফল, যাতে পটাশিয়াম বেশি থাকে, তা যোগ করলে হৃদরোগের উন্নতি হতে পারে।