প্রতিদিন কেশর-এলাচ চা? মিলবে শরীর ও ত্বকের একাধিক উপকারিতা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম::
বিশ্বব্যাপী পানির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হলো চা। আর স্বাদ ও উপকারিতা বাড়াতে অনেকেই চায়ে মেশান নানা প্রাকৃতিক উপাদান। এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর দুটি হলো কেশর (জাফরান) ও এলাচ। প্রতিদিন কেশর-এলাচ মেশানো চা পান করলে শরীর ও ত্বকে মিলতে পারে বিস্ময়কর উপকার।

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর—বয়সের ছাপ রোধে সহায়ক

কেশর ও এলাচে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে মুক্ত র‌্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত এই চা পান করলে কোষের ক্ষয় রোধ হয়, ব্যথা কমে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে বয়সের ছাপ পড়ে ধীরগতিতে।

২. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

কেশর পরিচিত প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিকারক উপাদান হিসেবে। ত্বকের দাগ, রুক্ষতা ও ক্ষত মেরামতে এটি কার্যকর। এলাচ আবার শরীর ডিটক্সিফাই করে, ত্বক পরিষ্কার করে এবং পুনর্জীবিত করে। তাই কেশর-এলাচ চা হতে পারে আপনার রূপচর্চার আভ্যন্তরীণ সঙ্গী।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

এই দুই উপাদানে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। যা শরীরকে করে আরও বেশি রোগ প্রতিরোধী। নিয়মিত পান করলে ঠান্ডা, সর্দি বা মৌসুমি সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

৪. ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি

কেশরে থাকা ক্রোসিন ও সাফ্রানাল অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে। এলাচের সুগন্ধ মনকে করে শিথিল। রাতে ঘুমানোর আগে এই চা পান করলে ঘুম আসে সহজে, মানসিক চাপও কমে যায়।

সুস্বাদু, সুগন্ধি ও স্বাস্থ্যকর এই চা শুধু শরীর নয়, আপনার প্রতিদিনের জীবনের মান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখবে। তবে বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




চুলের খুশকি রোধে ঘরোয়া সমাধান: সুস্থ ও পরিষ্কার স্ক্যাল্পের জন্য ৫টি কার্যকর উপায়

শীত হোক বা গ্রীষ্ম—খুশকি অনেকের কাছেই এক অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর সমস্যা। চুলে জমে থাকা সাদা খুশকি শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং এটি মাথার ত্বকে চুলকানি, এমনকি চুল পড়ার কারণও হতে পারে। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

খুশকি রোধে ৫টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়:

১. মেথির বাটা
রাতে এক চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে তা বেটে স্ক্যাল্পে লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মেথি মাথার ত্বকে ঠান্ডা ভাব এনে ফাঙ্গাস নিয়ন্ত্রণ করে খুশকি কমাতে সাহায্য করে।

২. নারকেল তেল ও লেবু
গরম নারকেল তেলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং চুলকে শক্তিশালী করে।

৩. অ্যালোভেরা জেল
প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান অ্যালোভেরা খুশকির বিরুদ্ধে কাজ করে। স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিয়ে শ্যাম্পু করলে খুশকি তো কমবেই, চুলও হবে মসৃণ ও উজ্জ্বল

৪. নিয়মিত চুল ধোয়া ও পরিষ্কার রাখা
সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার চুল পরিষ্কার করুন। অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তেল ও ধুলাবালি জমা হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, যা খুশকির অন্যতম কারণ।

৫. মানসিক চাপ কমান
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ খুশকির একটি লুকায়িত কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ও মেডিটেশন মানসিক প্রশান্তি এনে খুশকির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

উপসংহার:
ঘরোয়া উপায়গুলো খুশকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও, যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা মারাত্মক হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, কখনো কখনো খুশকি হতে পারে অন্য কোনো ত্বকের সমস্যার লক্ষণ।

 

আল-আমিন

 




ভিটামিন ডি: হাড়ের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

শরীরের জ্বালানি হলো খাবার। এই খাবারের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ভিটামিন ডি একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, যা শুধু হাড়কে মজবুত করেই রাখে না—বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কোষের বৃদ্ধি, এমনকি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রা অনুযায়ী, বয়সভেদে ভিটামিন ডি প্রয়োজনীয়তার পরিমাণ ভিন্ন হয়।

  • শিশুদের জন্য দৈনিক প্রয়োজন ৪০০ আইইউ
  • বড়দের জন্য প্রয়োজন ৬০০ আইইউ
    তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও পরিবেশভেদে এই চাহিদা বাড়তেও পারে।

ভিটামিন ডি’র প্রধান উৎসসমূহ:

১. টুনা মাছ
সামুদ্রিক মাছগুলোর মধ্যে টুনা ভিটামিন ডি’র অন্যতম ভালো উৎস। এটি হাড়ের গঠনসহ সামগ্রিক শরীরের জন্য উপকারী।

২. ম্যাকেরেল
চর্বিযুক্ত এই মাছ শুধু হৃদয় সুস্থ রাখে না, বরং এতে রয়েছে প্রচুর খনিজ পদার্থভিটামিন ডি, যা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক।

৩. সার্ডিন
ছোট আকৃতির এই মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি ভিটামিন ডি’র চমৎকার উৎস হিসেবে বিবেচিত।

৪. মাশরুম
কিছু মাশরুম, বিশেষ করে UV রশ্মিতে উন্মুক্ত হলে, উদ্ভিদভিত্তিক ভিটামিন ডি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। নিরামিষভোজীদের জন্য এটি দারুণ একটি উৎস।

৫. ডিমের কুসুম
সাধারণত ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি থাকে, যদিও তার পরিমাণ নির্ভর করে মুরগির খাদ্যাভ্যাসের উপর। ডিম সস্তা, সহজলভ্য এবং উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন খাবার।


উপসংহার:
ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অপরিহার্য। এর ঘাটতি শুধু হাড় দুর্বল করে না, বরং মন-মেজাজ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব উৎস অন্তর্ভুক্ত করে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি পূরণ করা উচিত।

 

আল-আমিন



তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই সহজ অভ্যাসগুলো

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও ক্লান্তি। এই সময়ে সামান্য অবহেলাও শরীরের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই গরমের এই মৌসুমে সতর্কতা অবলম্বন করে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তীব্র গরমে সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা করণীয়:

প্রচুর পানি পান করুন
এই গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফলের রস, ডাবের পানি ও লেবু-শরবতও খেতে পারেন।

হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে হালকা রঙের সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও টুপি পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। যেতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করুন।

খাবারে সচেতন হোন
গরমে বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সহজে হজম হয় এমন হালকা খাবার খান। তরমুজ, বাঙ্গি, শসার মতো পানিযুক্ত মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
তাপমাত্রা বেশি থাকলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়া জরুরি।

শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্ন দিন
এই বয়সভিত্তিক দুই শ্রেণি গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই তাদের পর্যাপ্ত পানি পান ও রোদ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্য সমস্যা হলে অবহেলা নয়
অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা দুর্বল লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই তীব্র গরমেও নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পানীয়

প্রচণ্ড গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ পানীয় নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মের দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন, তবে প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কিছু প্রাকৃতিক, চিনিমুক্ত ও পুষ্টিকর পানীয়ের বিকল্পই হতে পারে সেরা সমাধান।

নিচে এমন কয়েকটি পানীয়ের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো গরমে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপযোগী:

🔹 ঘোল:
প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। দুধ বা পাতলা দই দিয়ে তৈরি ঘোলে থাকে কম শর্করা এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এতে ভাজা জিরা গুঁড়া, এক চিমটি লবণ, ধনেপাতা বা গোলমরিচ মিশিয়ে স্বাদে ভিন্নতা আনা যায়।

🔹 ডাবের পানি:
স্বল্প ক্যালোরি এবং স্বাভাবিকভাবে চিনিমুক্ত এই পানীয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট শরীরকে ঠান্ডা রাখে ও হাইড্রেটেড থাকতে সহায়তা করে। তবে দিনে পরিমিত পরিমাণেই পান করা উচিত।

🔹 আমলকির রস:
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাজা আমলকি থেকে রস বের করে পানি মিশিয়ে পান করলে শরীর থাকবে সতেজ। চাইলে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।

🔹 শসা-পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
এক জগ পানিতে পাতলা করে কাটা শসা ও পুদিনা পাতা দিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এই ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে শীতল রাখবে, হজমে সাহায্য করবে এবং গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তা যেন চিনিমুক্ত, প্রাকৃতিক এবং শরীরের জন্য উপকারী হয়। তাই সতেজ ফল বা ভেষজ উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জীবনে সুখী হতে হলে করণীয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জীবনে সুখী হওয়া কি আসলেই অনেক কঠিন? চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কাজগুলো আপনাকে সুখী করবে-



রসুন নিয়ে সত্যি নয় যে ধারণাগুলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আপনি যদি রসুনের ভক্ত হন এবং এটি ছাড়া আপনার দিনটি কল্পনাও করতে না পারেন, তাহলে রসুন সম্পর্কে কিছু সাধারণ মিথ জেনে নিন যা একেবারেই সত্য নয়-

১. কাঁচা রসুন রান্না করা রসুনের চেয়ে ভালো

অবশ্যই, কাঁচা রসুনে অ্যালিসিন নামক একটি যৌগ প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পরিচিত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে রান্না করা রসুন অকেজো। যখন আপনি রসুন ভাজবেন বা সেদ্ধ করবেন, তখন কিছু অ্যালিসিন হারাতে পারে, তবে রান্নার সময় অন্যান্য উপকারী যৌগ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়াও রান্না করা রসুন হজম করা সহজ এবং অনেক বেশি সুস্বাদু।

২. রসুন সব স্বাস্থ্য সমস্যা নিরাময় করতে পারে

রসুন নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, প্রদাহ-প্রতিরোধী এবং হৃদরোগ-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র রসুনই আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা নিরাময় করতে পারে এই ধারণাটি একটি মিথ। কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যাবে না বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিরাময় হবে না। আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং এটিকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে না নেন তবে এটি সহায়ক হতে পারে। তাই কাঁচা রসুন খান, তবে রাতারাতি কোনো অলৌকিক ঘটনা আশা করবেন না।

৩. রসুন নষ্ট হয় না

মনে হতে পারে রসুন চিরকাল আপনার রান্নাঘরে থাকবে, কিন্তু অন্য যেকোনো খাবারের মতো এটিও পচে যেতে পারে। অঙ্কুরিত রসুন খাওয়া গেলেও এর স্বাদ তেতো হতে পারে। রসুনকে তাজা রাখতে, এটিকে ভালো বাতাস চলাচলের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করুন। দুর্গন্ধ এড়াতে ফ্রিজে রাখবেন না।

৪. রসুন খেলে মশা দূরে থাকে

এটি বেশ জনপ্রিয় মিথ এবং এর কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই। ত্বকের মধ্য দিয়ে নির্গত তীব্র গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখতে সক্ষম হতে পারে তবে এটি বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত নয়। মশার জন্য যা আসলে কাজ করতে পারে তা হলো ইউক্যালিপটাস। তাই মানুষকে দূরে রাখতে চাইলে রসুন চিবিয়ে নিন, তবে এটি মশার জন্য কার্যকর হবে না!




প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পর দই খেলে যা হয়

দই খাওয়ার প্রচলন আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে বহু পুরনো। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর দই খাওয়ার অভ্যেস রয়েছে, কারণ এটি হজমে সাহায্য করে। দইয়ে প্রোবায়োটিক, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে। তবে, প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পর দই খাওয়ার উপকারিতা ও কিছু সতর্কতা রয়েছে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ কণিকা মালহোত্রা গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

১. অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার উন্নতি

দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান, বিশেষ করে ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম স্ট্রেন অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোর বৃদ্ধি কমায়। এটি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটাকে শক্তিশালী করে, যা হজমে সহায়ক।

২. প্রদাহ কমানো

দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। এর ফলে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা কোলন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান, যেমন ল্যাকটোব্যাসিলাস গ্যাসেরি এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম ল্যাকটিস, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক।

৪. পেটের স্বস্তি ও শীতল অনুভূতি

দই খাওয়ার ফলে পেটের স্বস্তি অনুভূত হয় এবং এতে থাকা পরিমিত পরিমাণ পানি শীতল অনুভূতি দেয়। তবে, দই সরাসরি শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৫. পুষ্টির শোষণ উন্নত করা

দইয়ের প্রোবায়োটিকস অন্ত্রে ভালো প্রভাব ফেলে এবং পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষেত্রে সাহায্য করে। এটি ফোলাভাব কমাতে পারে এবং অন্ত্রে রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে, এর প্রভাব ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও বেসলাইন মাইক্রোবায়োটার উপর নির্ভর করে।

সতর্কতা:

দই অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও, সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। যারা ল্যাকটোজে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দই খাওয়াটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত দই খাওয়া হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে দই খাওয়া উচিত।




পেটে ব্যথা হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ! জানুন সতর্কতার উপায়

পেটে ব্যথা হলে বেশিরভাগ মানুষই একে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ধরে নেন। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন। তবে জানেন কি? প্রায়ই পেটে ব্যথা হওয়া মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে! বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার: নীরব ঘাতক

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার তুলনামূলকভাবে দেরিতে ধরা পড়ে। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা কঠিন, ফলে যখন ধরা পড়ে, তখন শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ

১. তীব্র পেটে ব্যথা

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী প্রথমে তীব্র পেটে ব্যথার অভিযোগ করেন। খাবার খাওয়ার পর বা শুয়ে থাকার সময় ব্যথা বাড়তে পারে এবং এটি ধীরে ধীরে পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. ঘন ঘন জন্ডিস

বারবার জন্ডিস হওয়া বা চোখ-মুখ হলুদ হয়ে যাওয়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ।

৩. বদহজম ও খাওয়ার অরুচি

প্রতিনিয়ত বদহজম হওয়া, খাওয়ার প্রতি অনীহা, বমি বমি ভাব—এসব উপসর্গ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।

৪. মলের রঙ পরিবর্তন

মলের রঙ স্বাভাবিকের তুলনায় হালকা বা অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে গেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কী করবেন?

প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই উপরের লক্ষণগুলোর যে কোনোটি থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লিভার সুস্থ রাখতে এই ৫টি ফল খান!

ব্যস্ত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে লিভারের সমস্যা বাড়ছে। লিভারের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে আমাদের প্রচুর পানি পান করা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ জোসেফ সালহাব লিভারের সুস্থতায় বিশেষ কিছু ফলের কথা বলেছেন। আসুন, জেনে নিই লিভার হাইড্রেট ও সুস্থ রাখতে ৫টি উপকারী ফল—

১. ডালিম

টক-মিষ্টি স্বাদের ডালিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী উপাদানে ভরপুর। এতে থাকা পুনিক্যালাজিন ও এলাজিক অ্যাসিড লিভারের রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়িয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে। এটি লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২. বেরি জাতীয় ফল

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরি জাতীয় ফল লিভারের জন্য দারুণ উপকারী। এগুলোতে থাকা প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন রক্তনালীকে শিথিল করতে ও রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে, যা লিভারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

৩. আঙুর

আঙুর ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ, যা লিভারের রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায় ও ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া উন্নত করে। এটি লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে লিভার আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।

৪. তরমুজ

রসালো ও পানিতে ভরপুর তরমুজ লিভারকে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটেড রাখে। এতে থাকা নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীকে শিথিল করে ও রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায়, যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে।

৫. বিট

বিটে প্রচুর নাইট্রেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে, লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের কোষকে রক্ষা করে ও সুস্থতা বজায় রাখে।

 

লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও এই পাঁচটি ফল নিয়মিত খান। এগুলো লিভার হাইড্রেটেড রাখবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে ও লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম