পিরোজপুরে রাস্তা কেটে খাল, বয়োবৃদ্ধসহ সাত পরিবার অবরুদ্ধ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারি গ্রামে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা কেটে খাল তৈরি করে এক বয়োবৃদ্ধসহ সাতটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী ৮০ বছর বয়সী মোকলেসুর রহমান জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তার পরিবারসহ প্রতিবেশীরা যে পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন, সেটি জোরপূর্বক দখল করে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশী ছিদ্দিক হাওলাদার ও তার ছেলেরা। শুধু পথ বন্ধই নয়, সেখানে বেড়া দিয়ে গাছ লাগিয়ে চলাচলের একেবারে অযোগ্য করে ফেলা হয়েছে এবং রাস্তার মাঝখান কেটে খাল খনন করা হয়েছে যাতে কেউ আর ওই পথে পা রাখতে না পারে।

মোকলেসুর রহমানের মেয়ে আসমা আক্তার বলেন, “এই রাস্তা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এখন বাধ্য হয়ে পাশের একটি খাল পেরিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। আমাদের ঘরের শিশুরা কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর যাতায়াত সুবিধার্থে সরকারি ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় রাস্তাটি উন্নয়ন করা হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে পথটি সকলের ব্যবহারে উন্মুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ পরিবারটি জোরপূর্বক জমি দখল করে পথটি নিজেদের বলে দাবি করতে শুরু করে।

অভিযুক্ত ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, “ক্রয়সূত্রে ওই জায়গা আমার। আমি ওদের আর চলতে দিব না। ওরা যেভাবে পারে চলাচল করুক।”

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাজেদ মিয়া জানান, “ছিদ্দিক মিয়ার ক্রয়কৃত জমির ওপর দিয়েই রাস্তা গেছে ঠিকই, কিন্তু মোকলেসুর রহমানের পরিবারসহ অন্যরা প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস করা হলেও ছিদ্দিক আপসে রাজি হয়নি।”

বর্তমানে ওই এলাকার সাতটি পরিবার খাল ডিঙিয়ে বাজারঘাটসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভোগজনক। শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে বড় ধরনের সামাজিক উত্তেজনা ও জনদুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ যেখানে যত্ন-সম্মান-সততা পায়, সেখানেই আটকায় — রোজা-তাহসানের রোমান্টিক মুহূর্ত ভাইরাল

বিয়ের পর প্রেমের গন্ধ এখনো টাটকা। সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের নতুন কিছু ছবি আবারও মাতিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।

বিয়ের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজার প্রতিটি পোস্টেই থাকে ভক্তদের কৌতূহল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে তাহসানের সঙ্গে সুইমিংপুলে কাটানো কিছু একান্ত মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন রোজা।

ভালোবাসায় ভেজা একান্ত সময়

ছবিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৃদু বৃষ্টির ছোঁয়া আর এক টুকরো রোমান্টিকতা—যেখানে তাহসানের বাহুতে রোজা, আর চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার ভাষা। এই দৃশ্যই মুগ্ধ করেছে ভক্তদের।

ছবির সঙ্গে রোজা লেখেন:

“সত্যিকারের বিলাসিতা হচ্ছে প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সময়। যেখানে নীরবতাও বোঝাপড়ায় পূর্ণ, ধীর সকালে ফিসফিস করা প্রতিশ্রুতি, আর ভালোবাসা—যেটা একেবারে আমাদের নিজের।”

রিসোর্টের কক্ষে বই হাতে এক প্রশান্ত মুহূর্তের ছবি এবং ঘরটির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও তুলে ধরেছেন রোজা।

নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

রোজার এই পোস্টে শুধু ইনস্টাগ্রামেই লাইক পড়েছে এক লাখের বেশি, ফেসবুকেও প্রতিক্রিয়ার জোয়ার।

তৌকির আহমেদ তিতাস নামে একজন মন্তব্য করেন—

“প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে যত্ন, সম্মান ও সততা পায়, সেখানেই আটকে যায়।”

আনিকা লেখেন: “মায়াবী সৌন্দর্য।”
জাফরীন: “ক্রাশগুলো যেন তাদের বউদের নিয়ে সুখেই থাকুক।”
তাজকিয়া বিনতে আজাদ: “পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমের জালে।”
শাকিলা: “দুজনকেই খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে, এতদিনে তাহসান ভাই তার জীবনের পূর্ণতা পেলেন। আল্লাহ তাদের সুখে রাখুক।”

ভালোবাসার গল্প চলছেই…

দম্পতি প্রায়ই দেশের বাইরে ঘুরতে যান। তাঁদের ছবি, মুহূর্তগুলো যেন দর্শকদের মাঝে এক নতুন প্রেমের ভাষা হয়ে ওঠে।




খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি হ্রাস

খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (জুন-২০২৫)’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৫ শতাংশে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাল, মাছ ও ফলমূলের দাম বেড়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় দেশের বৈদেশিক খাতও মজবুত হয়েছে, যদিও এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙা।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেগের কারণ। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমতে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে চাল (৪০%), এরপর রয়েছে মাছ (২৮%) ও ফলমূল (১২%)। মাঝারি চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যেখানে আলু ও মুরগির মাংসের দাম কমে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া আবাসন, তৈরি পোশাক ও পরিবহন খাতেও মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।




কেমিক্যাল নয়, ঠোঁটে লাগুক প্রাকৃতিক ঘরোয়া রঙ

লিপস্টিকের ইতিহাস হাজার বছর পুরোনো। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার নারীরা পুষ্প ও রত্নের নির্যাস দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। মিশরের বিখ্যাত রানী ক্লিওপেট্রা কারমাইন পোকা ব্যবহার করে লিপস্টিক বানাতেন। সেই যুগে লিপস্টিক ছিল রাজকীয় ঐশ্বর্যের প্রতীক।

মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুঃখ, ক্লান্তি বা অবসাদে থাকা একজন নারী যখন লিপস্টিক লাগান, তা তার আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিপস্টিক শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি নারীর আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আধুনিক যুগে লিপস্টিক কেবল রঙই নয়, এটি নারীর ভাষা। তবে অনেক নারী এখন কেমিক্যাল মুক্ত, প্রাকৃতিক ও নিরাপদ লিপস্টিক ব্যবহার করতে চান। তাই আজ ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর লিপস্টিক।

ঘরোয়া লিপস্টিক তৈরির উপকরণ:

  • ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল
  • ১ টেবিল চামচ শিয়া বাটার বা কোকো বাটার
  • অর্ধেক চামচ মোম (বি ওয়্যাক্স)
  • কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
  • ছোট কনটেইনার

তৈরির পদ্ধতি:

১. একটি পাত্রে পানি গরম করে স্টিলের একটি বাটি সেট করুন।
২. বাটিতে নারকেল তেল, মোম ও শিয়া বাটার একসাথে ঢেলে কম আঁচে গলাতে থাকুন এবং ভালো করে নাড়ুন।
৩. মিশ্রণ গরম থাকাকালীন ১-২ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মেশান।
৪. ঠান্ডা হলে পুরানো লিপস্টিকের কনটেইনারে ঢেলে জমিয়ে নিন।
৫. রঙের জন্য বিটরুট গুঁড়া, কোকো পাউডার বা গাজরের রস ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরোয়া প্রাকৃতিক এই লিপস্টিক ঠোঁটকে করবে সুস্থ, সুন্দর এবং নিরাপদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে ৫ ধরনের বীজ

ওজন কমানো যেমন অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, ঠিক তেমনি অনেকেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। শুধু ওজন বাড়ানোই নয়, বাড়তি ওজন শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যারা ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবারে ভরপুর কিছু বীজ অত্যন্ত কার্যকর। নিচে ৫ ধরনের বীজের কথা উল্লেখ করা হলো, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

প্রথমেই কথা বলা যায় কুমড়ার বীজের। এই বীজ মুখরোচক ও স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই বীজ হজম শক্তি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। ২৮ গ্রাম কুমড়ার বীজে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, সূর্যমুখী বীজও খুবই জনপ্রিয়। এটি ভিটামিন ই, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে পরিপূর্ণ। ত্বকের যত্ন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী। প্রতি ২৮ গ্রাম সূর্যমুখী বীজে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম।

তৃতীয়ত, চিয়া সিডের কথা বলা যায়, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি প্রোটিন ও ফাইবারে ধনী। হজমে সহায়তা করা এবং পুষ্টি শোষণ বাড়ানো এই বীজের প্রধান গুণাবলী। ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে ৪-৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

চতুর্থত, তিসির বীজও প্রোটিন ও ফাইবারের ভালো উৎস। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। পিষে খেলে এর কার্যকারিতা আরো বাড়ে। প্রতি ২৮ গ্রাম তিসির বীজে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

উপসংহারে বলা যায়, ওজন বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র খাবারের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া বেশি জরুরি। এসব বীজের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম এবং পরিমিত বিশ্রাম ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে এবং শরীরকে সুস্থ রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হাড় মজবুত রাখার সেরা খাবার

শরীর সুস্থ রাখতে হাড়ের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। যদিও হাড় দেখা যায় না, তবে সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার থাকা উচিত যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি যেমন পালং শাক, মোলাই শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এই শাকগুলোতে ভিটামিন কে থাকে, যা ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে হাড়কে মজবুত করে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত এসব শাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দুধ, দই ও পনির জাতীয় দুগ্ধজাত খাবারও হাড়ের জন্য অতি উপকারী। এগুলো প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। আপনি চাইলে কম চর্বিযুক্ত বা পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য বেছে নিতে পারেন।

চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যামন, ম্যাকেরেল ও সার্ডিনে ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হাড়ের টিস্যুকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়, আর ওমেগা-৩ প্রদাহ কমিয়ে হাড়ের সমস্যায় সহায়তা করে।

বাদাম, চিয়া বীজ ও তিলের মতো বীজ জাতীয় খাবারগুলোতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বাদাম-বীজ খাওয়ার অভ্যাস করলে হাড় সুস্থ থাকে এবং যেকোনো ধরনের দুর্বলতা থেকে বাঁচা যায়।

এই খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে আপনার হাড় সুগঠন ও স্বাস্থ্যবান থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে নানা অসুখ থেকে রক্ষা করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গরমে কিডনি সুরক্ষায় যা করবেন

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ, ঘাম এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এই অবস্থায় শরীরের যেসব অঙ্গ বেশি চাপে পড়ে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কিডনি। শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ত পরিশোধন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে কিডনিকে বাড়তি কাজ করতে হয়।

তাই এই গরমের দিনে কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে হলে হাইড্রেশনের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঠিক কীভাবে আপনি আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক—

প্রথমেই নজর দিন প্রস্রাবের রঙের দিকে। এটি শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়। ফ্যাকাশে হলুদ রঙ স্বাভাবিক হলেও গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব আপনার শরীরের পানিশূন্যতা নির্দেশ করে। এমন পরিস্থিতিতে পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

দিন শুরু করুন এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি দিয়ে। এটি শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং কিডনির কার্যক্রম সক্রিয় করে তোলে। প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস করে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুললে সারাদিন হাইড্রেট থাকা সহজ হবে।

শুধু পানি খেয়ে অনেক সময় বিরক্ত লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে পানি সমৃদ্ধ খাবার যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, স্ট্রবেরি, টমেটো ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি কমবে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যাবে।

পাশাপাশি পানিশূন্যতা বাড়ায় এমন পানীয় যেমন কফি, চা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন বা খুব সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। এগুলো মূত্রবর্ধক হওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, ফলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করলে পেটে অস্বস্তি, হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ এবং সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে পানি পানই কিডনির জন্য উপকারী।

সবশেষে, আপনার অবস্থান ও আবহাওয়া অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক করুন। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় শরীর দ্রুত পানি হারায়, তাই ঘন ঘন পানি পান করতে হবে। অন্যদিকে শীতকালে পানির চাহিদা কিছুটা কমে আসে। তবে বছরের যেকোনো সময়ই শরীরের সংকেত বুঝে পানি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক দেশি খাবারগুলো

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা খুবই অবহেলিত একটি অঙ্গ হলেও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া, হজমশক্তি, হাড়ের সুস্থতা এবং শক্তি উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এই প্রজাপতি-আকৃতির গ্রন্থির ভারসাম্য নষ্ট হলে দেখা দেয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, চুল পড়া কিংবা মনঃসংযোগের অভাব। যদিও থাইরয়েড পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমেই অনেকাংশে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আশার কথা হচ্ছে, রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু দেশি খাবারই হতে পারে বড় সমাধান।

যেমন সজনে ডাটা, যা আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি শরীরের প্রদাহ হ্রাস করে এবং হরমোন উৎপাদনকে উৎসাহ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সজনে থাইরয়েড রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হতে পারে।

অন্যদিকে অশ্বগন্ধা নামের একটি ভেষজ রয়েছে যা কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েড-অ্যাড্রিনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের হাইপারথাইরয়েড রয়েছে তাদের জন্য এটি সঠিক বিকল্প নাও হতে পারে।

আমলকী, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি শক্তিশালী ফল। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমলকী অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে সুস্থ থাইরয়েডের চাবিকাঠি।

এছাড়াও রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান জিরাও গুরুত্বপূর্ণ। জিরা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা জিরা পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা সহজেই বাড়িতেই তৈরি করা যায়।

সবশেষে হলুদের কথা না বললেই নয়। হলুদে থাকা কুরকুমিন উপাদান দেহের প্রদাহ হ্রাস করে এবং লিভারকে সক্রিয় করে তোলে, যা T4 থেকে কার্যকর T3 হরমোনে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে হলুদের পানি খাওয়া থাইরয়েড সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর হতে পারে।

সঠিক জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যকর দেশি খাবারই হতে পারে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের সেরা সমাধান। ওষুধের পাশাপাশি খাবারের ওপরও জোর দিলে দীর্ঘমেয়াদে মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শিশুদের দাঁত ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে যা করবেন

অনেকেই ভাবেন, দুধের দাঁত পড়ে যাবে—তাই আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। শিশুদের দুধের দাঁতের সুস্থতা ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ী দাঁতের গঠন ও স্বাস্থ্যেও বড় প্রভাব ফেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দাঁতের ক্ষয়ের কারণ কী?

শিশুর দাঁত ক্ষয়ের মূল কারণ হলো মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত চিনি। নিয়মিত মিষ্টিজাতীয় খাবার বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে এবং ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যাসিড তৈরি হয়, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এর ফলেই শুরু হয় দাঁতের ক্ষয়।


করণীয় ৫টি ধাপ:

🔹 ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করানো
সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর দাঁত ব্রাশ করানো অভ্যাসে পরিণত করুন। দুই বছর বয়সের পর থেকে শিশুবান্ধব ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

🔹 ২. চিনি ও মিষ্টিজাত খাবার নিয়ন্ত্রণ
চকলেট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ইত্যাদিতে থাকা চিনি দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়। এগুলো খাওয়ানোর পরপরই মুখ ধোয়া বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত।

🔹 ৩. নিজে দাঁতের যত্ন নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া
ব্রাশ, কুলি, ও টুথপেস্ট ব্যবহারের পরিমাণ শেখাতে হবে ধাপে ধাপে, যেন শিশু নিজের যত্ন নিজেই নিতে শিখে।

🔹 ৪. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ
প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁতের অবস্থা যাচাই করা ভালো। অনেক সময় দাঁতের ক্ষয় বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না।

🔹 ৫. রাতে দুধ খাওয়ার পর পানি পান করানো
ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার পরে শিশুকে অল্প পানি খাওয়ানো বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত, কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে।


শিশুর দাঁতের প্রতি শুরু থেকেই যত্নবান হলে ভবিষ্যতে দাঁতের জটিলতা, ব্যথা ও খরচ—সবকিছুই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক! এই ৫টি অভ্যাস আপনাকে বাঁচাতে পারে

হার্ট অ্যাটাক

বর্তমানে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আগের মতো শুধুমাত্র ৫০ বা ৬০ বছরের মানুষ নয়, এখন ৩০ বা ৪০ বছর বয়সীরাও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই ঝুঁকি বাড়ছে। তবে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে অকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নিচে এমন ৫টি জরুরি অভ্যাস তুলে ধরা হলো, যা প্রতিদিনের জীবনে পালন করলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে:

১. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং বা হালকা ব্যায়াম করলে হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে। ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায়।

২. সুষম ও হৃদয়বান্ধব খাদ্যাভ্যাস
ফাস্টফুড, ট্রান্স ফ্যাট, বেশি লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলা জরুরি। এর পরিবর্তে বেশি করে সবজি, ফল, বাদাম, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ এবং পূর্ণ শস্য (whole grains) খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৩. ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন
ধূমপান হৃদপিণ্ডের রক্তনালীগুলো সরু করে তোলে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনও রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদপিণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করে। নিয়মিত মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বস্তি বজায় রাখা হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বয়স ৩০ পেরোলেই বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন হলে ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করানোও জরুরি। এতে প্রাথমিক অবস্থাতেই হৃদরোগ শনাক্ত করে প্রতিকার সম্ভব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপরের অভ্যাসগুলো রক্ষা করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও নিয়মিত জীবনযাপন। হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকলে সারাজীবন কর্মক্ষম ও উজ্জ্বল জীবন উপভোগ করা সম্ভব।