তরুণরাও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে, উপসর্গ উপেক্ষা নয়

এক সময় মনে করা হতো ক্যান্সার কেবল প্রবীণদের রোগ, কিন্তু এখন আর তা নেই। আধুনিক জীবনের অনিয়ম, খাদ্যাভ্যাসের অবনতি এবং পরিবেশ দূষণের প্রভাবে এখন তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের হার। বিশেষ করে হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবসমাজের মধ্যে ক্যান্সারের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ বলেন, আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে দীর্ঘ ক্লান্তি, অল্পতেই ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা হজমের সমস্যাগুলোকে সাধারণভাবে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত। এ অবস্থায় অধিকাংশ মানুষ নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।
গত এক দশকে দেখা গেছে, ক্যান্সারের হার বহুগুণে বেড়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা না পড়ায় অনেকেই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান তখন, যখন ক্যান্সার শরীরের বড় একটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে যদি রোগ নির্ণয় করা যেত, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব হতো।
ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের কথা বলেন, যেগুলো দীর্ঘদিন অবহেলা করা ঠিক নয়। যেমন:
- ঘন ঘন রক্তপাত বা ছোট ক্ষত হওয়া ও সেগুলোর সহজে না শুকানো,
- হঠাৎ শরীরে ফোলা মাংসপিণ্ড অনুভব হওয়া,
- দীর্ঘ সময় ধরে আলসার থাকা বা মুখে ঘা না শুকানো,
- খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা হঠাৎ শক্তি হারিয়ে যাওয়া।
এই উপসর্গগুলো সাধারণ মনে হলেও এগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো বিপদ। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
প্রতিরোধেই সমাধান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আগে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন—
- প্রতিদিন সুষম ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া, যাতে থাকে প্রচুর শাকসবজি ও ফল,
- ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা,
- নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করা, অন্তত ৩০ মিনিট প্রতিদিন হাঁটা বা দৌড়ানো,
- বছরে একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং
- প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট বয়সে এইচপিভি বা হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—দুই দিক থেকে কাজ করা। একদিকে যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়, অন্যদিকে যেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে আগামী প্রজন্মকে ক্যান্সারমুক্ত রাখার প্রধান অস্ত্র।








