তরুণরাও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে, উপসর্গ উপেক্ষা নয়

এক সময় মনে করা হতো ক্যান্সার কেবল প্রবীণদের রোগ, কিন্তু এখন আর তা নেই। আধুনিক জীবনের অনিয়ম, খাদ্যাভ্যাসের অবনতি এবং পরিবেশ দূষণের প্রভাবে এখন তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের হার। বিশেষ করে হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবসমাজের মধ্যে ক্যান্সারের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ বলেন, আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে দীর্ঘ ক্লান্তি, অল্পতেই ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা হজমের সমস্যাগুলোকে সাধারণভাবে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত। এ অবস্থায় অধিকাংশ মানুষ নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।

গত এক দশকে দেখা গেছে, ক্যান্সারের হার বহুগুণে বেড়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা না পড়ায় অনেকেই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান তখন, যখন ক্যান্সার শরীরের বড় একটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে যদি রোগ নির্ণয় করা যেত, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব হতো।

ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের কথা বলেন, যেগুলো দীর্ঘদিন অবহেলা করা ঠিক নয়। যেমন:

  • ঘন ঘন রক্তপাত বা ছোট ক্ষত হওয়া ও সেগুলোর সহজে না শুকানো,
  • হঠাৎ শরীরে ফোলা মাংসপিণ্ড অনুভব হওয়া,
  • দীর্ঘ সময় ধরে আলসার থাকা বা মুখে ঘা না শুকানো,
  • খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা হঠাৎ শক্তি হারিয়ে যাওয়া।

এই উপসর্গগুলো সাধারণ মনে হলেও এগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো বিপদ। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

প্রতিরোধেই সমাধান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আগে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন—

  • প্রতিদিন সুষম ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া, যাতে থাকে প্রচুর শাকসবজি ও ফল,
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা,
  • নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করা, অন্তত ৩০ মিনিট প্রতিদিন হাঁটা বা দৌড়ানো,
  • বছরে একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং
  • প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট বয়সে এইচপিভি বা হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—দুই দিক থেকে কাজ করা। একদিকে যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়, অন্যদিকে যেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে আগামী প্রজন্মকে ক্যান্সারমুক্ত রাখার প্রধান অস্ত্র।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বর্ষায় চোখের সংক্রমণ: সতর্ক থাকুন, উপদেশ দিলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ

বর্ষাকাল প্রকৃতির এক শান্তিময় ঋতু হলেও শরীরের জন্য নানা ধরনের অসুবিধা নিয়ে আসে। বিশেষ করে চোখ, যা শরীরের অন্যতম স্পর্শকাতর অঙ্গ, বর্ষায় সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও জমে থাকা দূষিত পানি এই ঋতুতে চোখের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। ভারতের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: নীরজ সন্দুজা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে আর্দ্রতা ও অ্যালার্জেনের কারণে চোখে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে চোখে ব্যথা, শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং কনজাংটিভাইটিসের মতো সমস্যা হয়।

ডা: নীরজ সন্দুজা বর্ষায় চোখের যত্নে যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে মেনে চলার কথা বলেছেন, সেগুলো হলো:

১. শুষ্ক চোখ
বর্ষাকালে ঘরে থাকার কারণে এসির ব্যবহারের ফলে বা ধুলাবালির প্রভাবে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এতে চোখ লাল হয়ে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি সৃষ্টি হতে পারে।
করনীয়: প্রিজারভেটিভ-মুক্ত আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত।

২. স্টাই বা ফোঁড়া
চোখের পাতার গোড়ায় সংক্রমণ হলে ছোট ফোঁড়া বা স্টাই হয়ে যায়, যা চোখে ব্যথা ও লালভাব সৃষ্টি করে। আর্দ্রতা ও অপরিষ্কার পরিবেশ এই সমস্যা বাড়ায়।
করনীয়: চোখের পাতাকে হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন, প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. কনজাংটিভাইটিস
বর্ষায় এটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস যা চোখ লাল, পানি পড়া এবং চুলকানির মতো সমস্যা সৃষ্টি করে।
করনীয়: চোখ স্পর্শ এড়িয়ে চলুন, বালিশের কভার ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি করবেন না, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন এবং দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

পরামর্শ:
বর্ষাকালে চোখের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ভালো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। ধুলাবালি ও অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পেতে চশমা ব্যবহার করুন এবং চোখ ভালো রাখতে ভিটামিন এ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান। চোখে সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন

আগে ক্যান্সারকে প্রবীণদের রোগ হিসেবে ভাবা হলেও আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে এখন তরুণদের মধ্যেও ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চেন্নাইয়ের হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ জানাচ্ছেন, অবিরাম ক্লান্তি, শরীর বা জয়েন্টে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব না দিলেও এগুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি। অনেকেই নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

গত এক দশকে ক্যান্সারের হার বহুগুণ বেড়েছে। সচেতনতার অভাবে রোগ ধরা পড়ে প্রায়ই শেষ পর্যায়ে, তখন কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলেই চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উল্লেখ করেছেন যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়, যেমন—

  • বারবার রক্তপাত বা ক্ষত হওয়া
  • হঠাৎ জন্ডিস বা শরীরে কোনো অস্বাভাবিক গঠন পাওয়া
  • দীর্ঘস্থায়ী আলসার
  • ক্ষুধা ও শক্তির অভাব

প্রতিরোধে করনীয়:

  • প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
  • বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
  • প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ, যেমন এইচপিভি ভ্যাকসিন

ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে এবং সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই দুটি স্তরে কাজ করা প্রয়োজন।




‘বিগ বস ১৯’-এ রেকর্ড পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সালমান খান!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ছাড়া যেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ ভাবাই যায় না। প্রতি সিজনে তার স্বভাবসুলভ উপস্থাপনা এবং দৃঢ় উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এনে দেয় আলাদা জনপ্রিয়তা। এবার ‘বিগ বস ১৯’–এর জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়ছেন ভাইজান।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে সম্প্রচার শুরু হবে ‘বিগ বস ১৯’। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলবে এই রিয়েলিটি শো। এ সিজনের জন্য সালমান খান নিচ্ছেন ৩০০ কোটিরও বেশি পারিশ্রমিক! এর আগের সিজন অর্থাৎ ‘বিগ বস ১৮’-এর জন্য তিনি নিয়েছিলেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, আর ‘বিগ বস ১৭’-এ নিয়েছিলেন ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার পারিশ্রমিক বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি সালমান খান বা শো কর্তৃপক্ষ। তার পরও এই বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক ঘিরে ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে ভক্ত ও মিডিয়া মহলে।

এদিকে সালমান খানকে সবশেষ দেখা গেছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘সিকান্দার’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। তবে ছবিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি এবং বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

সিনেমায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ‘বিগ বস’-এর মতো রিয়েলিটি শোয়ে সালমান খানের উপস্থিতিই যেন বাড়িয়ে দেয় অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও টিআরপি। আর তার এই আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকও সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




হাদিসে যেসব সময় ঘুমাতে নিষেধ করা হয়েছে

ঘুম মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপার নেয়ামত। এটি যেমন শরীরের ক্লান্তি দূর করে, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ঘুমের গুরুত্ব ও সঠিক সময়ের প্রতি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ঘুমকে শুধু বিশ্রামের মাধ্যম হিসেবে দেখেনি, বরং এর নির্দিষ্ট সময় ও আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিছু সময় রয়েছে, যেসব সময়ে ঘুমাতে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বা তা অনুত্তম হিসেবে বিবেচিত।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী।’ (সুরা নাবা : ৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তিনি রাতকে করেছেন তোমাদের জন্য আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন নিদ্রা এবং দিনকে করেছেন জীবিকার অনুসন্ধানের সময়।’ (সুরা ফুরকান : ৪৭)। অর্থাৎ ইসলামে রাতে ঘুম এবং দিনে কাজের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে হাদিসে দিনের কিছু সময় ঘুম না দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে নির্দেশনা রয়েছে। চলুন জেনে নিই, হাদিস অনুযায়ী কোন সময়গুলোতে ঘুম না করাই উত্তম—

ফজরের নামাজের পর ঘুমাতে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যদিও তা হারাম নয়, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সময়টিতে বরকতের দোয়া করেছেন:
“হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে সকালবেলায় বরকত দান করুন।” (সুনানে আবু দাউদ : ২৬০৬)
সকালের সময় কর্মমুখরতা, উৎপাদনশীলতা ও মানসিক সক্রিয়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায়ও দেখা গেছে, সকালবেলা ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আসরের পর ঘুমানো
হাদিস অনুযায়ী, আসরের নামাজের পর ঘুমানোকে ‘মাকরুহ’ বলা হয়েছে। এই সময় ঘুমালে বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
একটি হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি আসরের পর ঘুমায় এবং তার বুদ্ধি কমে যায়, সে যেন নিজেকে দোষ দেয়।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা : ৪৮৯৭)

মাগরিবের পর ও ইশার আগে ঘুমানো
এই সময় ঘুমানোকে হারাম বলা হয়নি, তবে এটি অনুত্তম বা অপছন্দনীয় বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। কারণ এই সময়ে ঘুমালে ইশার নামাজ আদায়ে সমস্যা হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে অহেতুক গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি : ৫১৪)
তবে যদি কারো বিশ্রামের প্রয়োজন হয় এবং ইশার নামাজে বিঘ্ন না ঘটে, তাহলে ঘুমাতে বাধা নেই।

ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুম এক মহৎ ইবাদতের অংশ, তবে তা যেন দৈনন্দিন ইবাদত ও দায়িত্ব-কর্তব্যের পথে প্রতিবন্ধক না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে শরীরে দেখা দিতে পারে যেসব উপসর্গ

শরীরের সঠিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ভিটামিন ডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার কাজে ভূমিকা রাখে। সাধারণত রোদে ঘোরাঘুরি করলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তবে অনেকেই পর্যাপ্ত রোদে না যাওয়ায় কিংবা খাদ্যাভ্যাসে ঘাটতির কারণে ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভোগেন। এই অভাব শরীরে নানা উপসর্গের মাধ্যমে জানান দেয়, বিশেষ করে ত্বক ও পায়ের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ভিটামিন ডি’র ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো ধীরে ক্ষত নিরাময়। এটি ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবন ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন না থাকলে সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা ঘা সহজেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

চুলকানি বা ত্বকের শুষ্কতা আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। ভিটামিন ডি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রুক্ষতা বা একজিমার মতো সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে, চুলকায় ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভিটামিন ডি’র অভাবে ত্বক হয়ে যেতে পারে নিষ্প্রভ ও ফ্যাকাশে। এই পুষ্টি উপাদান মেলানিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও রং ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু ত্বক নয়, পায়ের ব্যথা কিংবা দুর্বলতাও ভিটামিন ডি’র অভাবের প্রভাব হতে পারে। বিশেষ করে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা নিচে নামতে সমস্যা হলে তা পেশি দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি হাড়ের গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেট রোগ দেখা দিতে পারে।

আরেকটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ঘাম। বিশেষ করে মাথা বা মুখে অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এটি ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করে, যা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

এইসব উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত রোদে যাওয়া, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি গ্রহণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা

পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায়। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতালে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই আধুনিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) থেকে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি পক্ষাঘাত, স্ট্রোক, স্নায়ুবিক সমস্যা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভোগা রোগীদের পুনর্বাসনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিএমইউ সূত্রে জানা গেছে, চীনের সরকার এই সেন্টারে প্রায় ২০ কোটি টাকার রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। কেন্দ্রটিতে রয়েছে মোট ৬২টি রোবট, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI)। এই রোবটগুলো রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ভুল ও সুনির্দিষ্টভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে।

সেন্টারটি চালুর পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনের ৭ সদস্যের একটি বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দল ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই জনবল পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করার পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই রোবটিক থেরাপি বিশেষত স্ট্রোক, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতার মতো রোগীদের জন্য কার্যকর হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে গণআন্দোলনে আহতদের এই সেন্টারে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে।

শুধু বিশেষ প্রয়োজন নয়, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সাধারণ রোগীদের জন্যও চিকিৎসা সেবা উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে রোগীদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রোবটিক রিহ্যাব সেন্টার শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত নয়, বরং হাজারো পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ভরা মৌসুমেও বরিশালে ইলিশের সংকট, দাম কেজিতে ২৮০০ টাকা

বর্ষার ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশের দেখা যেত যেখানে, সেই বরিশালের বাজারেই এখন এক পিস ইলিশ পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটুকু ইলিশ বাজারে আসছে, তার দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ১২ হাজার টাকায়, যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকার মতো।

বরিশালের কাগাশুরা থেকে পোর্ট রোডে এসে ইলিশ কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, “একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বড় সাইজের কিছু ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু যা দাম, তা শুনে গাড়িভাড়াই শুধু খরচ হলো। আগের মতো মাছ নেই, আর যেটুকু আছে সেটা আমাদের সাধ্যের বাইরে।”

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন একই কথা। পোর্ট রোডের বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার জানান, “মাছ আসছেই কম। যেটুকু আসে তাও সোজা চলে যায় ঢাকার দিকে। নদীর কিছু মাছ বাজারে এলেও তা অনেক দামি। সাগরের মাছ এলেই হয়তো দাম কিছুটা কমবে।”

জেলেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তারা সাগরে যেতে পারছেন না। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলে সুজন আকন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সাগর উত্তাল। সিগন্যাল থাকায় অনেক ট্রলার মালিক সাগরে বোট পাঠাননি। একেকটি ট্রলার চালাতে এখন পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ পড়ে, সেই টাকা উঠে আসবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।”

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ছোট সাইজের (৪০০ গ্রাম) ইলিশের মণপ্রতি দাম ৬৮-৭০ হাজার টাকা, মাঝারি (৮০০-৯০০ গ্রাম) সাইজের এক লাখ, আর এক কেজির বেশি সাইজের ইলিশের দাম ১ লাখ ৮ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে বড় সাইজের ইলিশের দাম মণপ্রতি ১২ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপণ কান্তি ঘোষ জানান, “রবিবার পোর্ট রোডে মাত্র ৩০ মণ ইলিশ উঠেছে। সাগরে সিগন্যাল থাকায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। তবে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কয়েকটি ট্রলার ফিরেছে, এতে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে ট্রলার থেকে মাছ তুলে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। সাগরের মাছ এলেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে সবজির বাজারে স্বস্তি, কমেছে ২০ টাকা পর্যন্ত

কয়েক দিনের ব্যবধানে বরিশালের সবজির বাজারে দামের ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরেছে। পাইকারি বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোমবার (৭ জুলাই) নগরীর সাগরদী, বাংলাবাজার, বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পাইকারি বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫-৩০ টাকা। কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে কমে এসেছে ৩০ টাকায়, বরবটি ৪৫ থেকে ৩০ টাকায়, করলা ৬৫ থেকে ৪৫ টাকায় এবং পটল পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৩০-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা এবং লাউ ৩০-৫০ টাকায়। এছাড়া কাঁচা কলা হালি প্রতি ২০-৩০ টাকা এবং লেবু ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেশি হলেও তা এখনও সাধারণের নাগালের মধ্যেই আছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, লেবার, পরিবহন, ইজারা ও বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়ে।

মাংসের বাজারে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০-২৮০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা।

মাছের বাজারেও একই ধরনের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাস ১৫০-১৮০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায়।

বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা মো. আমিন শুভ জানান, বর্তমানে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা পরিবহন ও অন্যান্য খরচের কারণে স্বাভাবিক।

এদিকে, বরিশাল বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বেড়েই চলেছে

বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৩৫) এবং অন্যজন বাবুগঞ্জ উপজেলার ১৮ বছর বয়সী ছনিয়া আক্তার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, গত একদিনেই নতুন করে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জনে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না হলে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে। সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে ডেঙ্গু মোকাবিলার একমাত্র পথ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম