হার্ট ফাটলের ক্লিপ: ওপেন-হার্ট সার্জারি ছাড়াই জীবন রক্ষা

বছরের পর বছর ধরে হৃদরোগীদের জন্য ওপেন-হার্ট সার্জারি ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে আধুনিক কার্ডিওভাসকুলার প্রযুক্তি এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দিমিত্রি ইয়ারানোভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, হার্টের ফুটো বা লিক হওয়া ভালভ ঠিক করতে এখন আর অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। শিরার মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া একটি ছোট ক্লিপই এখন রোগীর জীবন বদলে দিচ্ছে।

ড. ইয়ারানোভ ব্যাখ্যা করেন, হৃদপিণ্ডের ‘মাইট্রাল’ ও ‘ট্রাইকাস্পিড’ ভালভকে বলা হয় ইনলেট ভালভ। এই ভালভগুলো রক্তকে সঠিক দিকে প্রবাহিত রাখতে অবিরাম কাজ করে। কিন্তু যখন এই ভালভে রিগার্জিটেশন বা লিক দেখা দেয়, তখন রক্ত পিছনের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিওরের দিকে অগ্রসর হয়। পূর্বে এই সমস্যার সমাধানের জন্য ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হত। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনেক রোগী এই অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত হতেন না।

ড. ইয়ারানোভ জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি এনেছে। পায়ের শিরা দিয়ে ক্যাথেটারের মাধ্যমে ভালভের জায়গায় একটি ছোট ক্লিপ বসানো হয়। এই পদ্ধতি সম্পন্ন হওয়ার পর রোগী পরের দিনই বাসায় ফিরে যেতে পারেন। এটি শুধু হার্ট ফেইলিওরের হার কমাচ্ছে না, রোগীর জীবনমানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করছে।

অতীতে ওপেন-হার্ট সার্জারিতে বুকে বড় ছেদ কেটে হার্টে পৌঁছাতে হত এবং প্রায়ই হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন ব্যবহার করতে হতো। করোনারি ধমনী রোগ, ত্রুটিপূর্ণ ভালভ বা জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ। নতুন ক্লিপ পদ্ধতির কারণে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

ড. ইয়ারানোভ বলেন, “এই প্রযুক্তির অগ্রগতি শুধু চিকিৎসকদের হাত শক্ত করছে না, রোগীদের জীবনমানও বদলে দিচ্ছে। এখন হার্টের রোগীদের জন্য নিরাপদ, দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রক্রিয়াজাত খাবার বাড়াচ্ছে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি

বর্তমান যুগে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কিছু নির্দিষ্ট খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। কিডনিতে পাথর হলে যন্ত্রণা এতটাই তীব্র হতে পারে যে, তা অনেক সময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।

ভারতের ল্যাপারোস্কোপি সার্জন ডা. উৎকর্ষ গুপ্ত জানিয়েছেন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে এই কষ্টদায়ক রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষ করে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়—

প্রথমত, অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার যেমন বাঁধাকপি, বিট, রাঙা আলু, ঢেঁড়শ ও বাদাম। এসব খাবারের অক্সালেট ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত মাছ-মাংস খাওয়া, বিশেষ করে রেড মিট, মুরগি ও ফ্যাটযুক্ত মাছ। এগুলো ইউরিক অ্যাসিড এবং প্রস্রাবে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।

তৃতীয়ত, বেশি লবণ খাওয়া। লবণ মাখানো বাদাম, আচার, চিপস বা রেস্টুরেন্টের খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনিকে বেশি ক্যালশিয়াম তৈরি করতে বাধ্য করে, ফলে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।

চতুর্থত, মিষ্টি পানীয় যেমন কোক, ফলের জুস ও এনার্জি ড্রিঙ্ক। এতে থাকা ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ক্যালশিয়াম জমিয়ে পাথর তৈরি করে।

পঞ্চমত, ক্যাফেইন ও মদ্যপান। চা, কফি বেশি খেলে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়, মদ্যপানের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যায়।

ষষ্ঠত, অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ। প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি অক্সালেটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সবশেষে, পর্যাপ্ত পানি পান না করা। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

তাই কিডনি সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক রোগ থেকে রক্ষার সেরা উপায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে পিঠ ও কোমরের ব্যথা

আজকের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাপনে পিঠ ও কোমরের ব্যথা অনেকের জন্যই নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে এই সমস্যা মূলত বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের মাঝেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার, এবং একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে মেরুদণ্ড ও পিঠের পেশিতে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা শুধু কোমর ও পিঠ নয়, চোখ, ঘাড় ও পুরো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে নিয়মিত বিরতিতে উঠে হাঁটা, স্ট্রেচিং করা এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসা অপরিহার্য।

চেয়ারে বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখা, হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে বাঁকানো এবং পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা উচিত। পিঠের নিচে একটি ছোট বালিশ ব্যবহার করলে চাপ কমে। ভুলভাবে বসা, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে থাকা, শারীরিক ব্যায়ামের অভাব, ভারী ওজন তোলা, এবং হঠাৎ ঝুঁকে কাজ করা—এসব অভ্যাস কোমর ও পিঠের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

মেঝেতে বসার অভ্যাসও অনেক সময় উপকারী হতে পারে। পাতলা চাদর ব্যবহার করে বসলে মেরুদণ্ডের চাপ কমে এবং পিঠের পেশি স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হয়। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট মেরুদণ্ডের ব্যায়াম করাও কার্যকর। যেমন—ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ায়, চাইল্ড’স পোজ পেশি শিথিল করে, এবং ব্রিজ এক্সারসাইজ কোমরের পেশি শক্তিশালী করে।

ভারী কিছু তুলতে হলে পিঠ বাঁকানোর পরিবর্তে হাঁটু ভেঙে তুলতে হবে এবং জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে এমআরআই করে সমস্যার উৎস নির্ণয় করা যেতে পারে।

এ ছাড়া প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাঁটা, স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ—এসব অভ্যাস শুধু কোমর ও পিঠ নয়, পুরো শরীরের জন্য উপকারী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যায়ামে কমে ক্যানসারের ঝুঁকি

নিয়মিত ব্যায়াম শুধু দেহকে সুস্থ রাখে না, বরং ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র একবারের শরীরচর্চাও ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির হার কমিয়ে দিতে সক্ষম। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এক সেশন ব্যায়াম ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যায়ামের এই উপকারিতা শুধুমাত্র স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ক্যানসার সম্মেলনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেজ ২ ও ৩ কোলন ক্যানসারের রোগীদের মধ্যে যারা অপারেশন ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন, তাদের পুনরায় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে যারা ব্যায়াম করেননি, তাদের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কোষকে সুস্থ রাখে এবং একাধিক ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এ কারণে ক্যানসার রোগীসহ সুস্থ ব্যক্তিদেরও দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং (RT) ও হাই-ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT) ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের মধ্যে ডাম্ববেল, কেটলবেল, ভারোত্তোলন, স্কোয়াট, পুশ-আপ, প্ল্যাঙ্ক ও বাইসেপস কার্লের মতো ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে HIIT ব্যায়ামে স্বল্প সময়ে তীব্র শরীরচর্চা ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের সংমিশ্রণ থাকে—যেমন ৩০ সেকেন্ড জাম্পিং জ্যাকের পর ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম, তারপর ৩০ সেকেন্ড বার্পি।

বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। এই অভ্যাস শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুমার নামাজ: জান্নাতের পথ খুলে দেয় যে সালাত

‘জুমা’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ একত্র হওয়া, সমবেত হওয়া বা কাতারবদ্ধ হওয়া। ইসলাম ধর্মে শুক্রবার বিশেষ তাৎপর্যের দিন। এই দিনে মুসলিম সমাজ মসজিদে একত্রিত হয়ে যে দুটি রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করে, তাকেই বলা হয় সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ। এটি কেবল একটি নামাজই নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির একটি অনন্য প্রতীক।

পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা রয়েছে—সুরা আল-জুমা (৬২ নম্বর সুরা)। এই সুরার ৯ নম্বর আয়াতে জুমার নামাজের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়। আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।” এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট যে, জুমার নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং এটি একটি আল্লাহপ্রদত্ত সুযোগ—নিজেকে শুদ্ধ করার, গোনাহ থেকে মুক্তির এবং ঈমানকে জাগ্রত রাখার।

জুমার নামাজের আহ্বান (আযান) দেওয়ার পর সব ধরনের পার্থিব কাজ স্থগিত রেখে মুসলমানদের মসজিদে কাতারবন্দী হয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। একত্রিতভাবে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ইসলামে সামাজিক বন্ধন, সম্মিলিত ইবাদতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ দৃশ্যমান হয়।

সুরা জুমার পরবর্তী আয়াত, আয়াত ১০-এ আল্লাহ বলেন, “আর যখন সালাত সম্পন্ন হয়, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও।” এখানে বোঝা যায়, জুমার নামাজের মাধ্যমে আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের পাশাপাশি দুনিয়ার জীবিকা অন্বেষণের পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ইসলামে ইবাদত ও রুজি উপার্জন—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

জুমার দিনকে ইসলামে “সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন” বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমা। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়।” (সহিহ মুসলিম)

এই দিন বিশেষ কিছু আমল রয়েছে—গোসল করা, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, মিসওয়াক করা, আগেভাগে মসজিদে গিয়ে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ইত্যাদি। যারা এই নিয়মগুলো পালন করে জুমার নামাজ আদায় করে, তাদের জন্য মহান আল্লাহ অশেষ সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জুমার দিন এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা কবুল হয়—এই সময়ের সন্ধানে রসূল (সা.) আমাদের উৎসাহিত করেছেন। তাই মুসলমানদের উচিত এই দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া, নামাজসহ অন্যান্য ইবাদতে সময় ব্যয় করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা।

আসুন, আমরা সবাই জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আরও সচেতন হই এবং এই মহান ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করে তুলতে চেষ্টা করি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০ বছর পার হলে একবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান: হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ডাক্তারদের পরামর্শ

কোলেস্টেরল শরীরের জন্য একধরনের প্রয়োজনীয় লিপিড বা চর্বি, যা কোষের গঠন বজায় রাখা, হরমোন উৎপাদন ও লিভারে পিত্তরস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা হতে পারে নীরব ঘাতক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মাত্রার এলডিএল (LDL) বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ধমনী ব্লকেজের মতো প্রাণঘাতী সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি।

কোলেস্টেরল পরীক্ষা: কখন শুরু করবেন?

ভারতের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নবীন ভামরির মতে, ২০ বছর বয়সেই প্রথমবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত। এই পরীক্ষা সাধারণত লিপিড প্রোফাইল নামে পরিচিত এবং এটি উপবাস অবস্থায় করা হয়।

যদি প্রথম পরীক্ষায় সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তবে প্রতি ৪ থেকে ৬ বছর পরপর রুটিন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও ঘন ঘন করা প্রয়োজন।


কারা আগে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন?

ডা. ভামরি যাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন:

  • পরিবারের কারও অল্প বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগলে
  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
  • ধূমপায়ী বা কম শারীরিক পরিশ্রমকারী হলে
  • নারীদের ক্ষেত্রে যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে

কেন সচেতনতা জরুরি?

উচ্চ কোলেস্টেরলের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—এটি সরাসরি কোনো লক্ষণ তৈরি করে না। একে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। একমাত্র রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা সম্ভব। তাই সময়মতো পরীক্ষা না করলে অজান্তেই হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

ডা. ভামরি বলেন, “অল্প বয়সেই জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা ভবিষ্যতে হৃদরোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।”


প্রতিরোধের উপায় কী?

✅ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
✅ ট্রান্স ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
✅ সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরণের ব্যায়াম করা
✅ ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা
✅ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

 

কোলেস্টেরল পরীক্ষা এখন আর কেবল অসুস্থ হলে করানোর বিষয় নয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ, যা হৃদরোগসহ নানা জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

👉 আপনি যদি ইতিমধ্যে ২০ বছর অতিক্রম করে থাকেন, তবে আজই কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান। আর যদি আপনি ঝুঁকির তালিকাভুক্ত হন, তাহলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।


মো. আল-আমিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪

 




উজ্জ্বল হাসি ও সুস্থ দাঁতের জন্য এড়িয়ে চলুন এই ৩টি জিনিস

উজ্জ্বল হাসি কেবল সৌন্দর্যই নয়, বরং এটি সুস্থ জীবনের প্রতীকও। সুস্থ দাঁত ও মাড়ি আমাদের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের অনেকেরই খাদ্যাভ্যাস দাঁতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনিযুক্ত খাবার, কোমল পানীয় ও স্টার্চযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ দাঁতের এনামেল ক্ষয়, গহ্বর (ক্যাভিটি), সংবেদনশীলতা ও মাড়ির সমস্যার অন্যতম কারণ। ভারতের খ্যাতনামা অর্থোডন্টিস্ট ডা. জৈনীল পারেখের মতে, দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে আমাদের সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

🛑 দাঁতের ক্ষতি করে এমন ৩টি সাধারণ খাবার ও পানীয়:

১. চিনিযুক্ত খাবার:

চিনিযুক্ত ক্যান্ডি, চকোলেট, মিষ্টি পানীয় ইত্যাদি মুখের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের ওপরের স্তর এনামেল ধ্বংস করে দেয়, যা দাঁতের ক্ষয় ও গহ্বর সৃষ্টি করে।

২. কোমল পানীয়:

সোডা, ফ্লেভারড জুস, এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদিতে থাকা অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে হলদে হয়ে যায়।

৩. স্টার্চযুক্ত খাবার:

আলুর চিপস, প্রেটজেল, সাদা পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এসব খাবার দাঁতের সঙ্গে লেগে থেকে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে প্লাক তৈরি করে, যা দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।


✅ করণীয় কী?

দাঁতকে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই অনুসরণ করুন:

  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন (বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে)
  • ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করুন
  • চিনিযুক্ত ও অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় যতটা সম্ভব পরিহার করুন
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন
  • প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের কাছে দাঁতের পরিদর্শন করুন
  • দাঁতে ব্যথা, রক্তপাত বা যেকোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন

😊 সুস্থ দাঁতের জন্য সচেতন থাকুন

সুস্থ দাঁত আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তাই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, সঠিক নিয়মে ব্রাশ ও নিয়মিত চিকিৎসা পরিদর্শনের মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন একটি উজ্জ্বল, সুস্থ ও আকর্ষণীয় হাসি।


আল-আমিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম | হেলথ ডেস্ক



দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে এড়িয়ে চলুন ৩টি খাবার

উজ্জ্বল হাসি কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, এটি সামগ্রিক সুস্থতারও প্রতীক। তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস দাঁতের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভারতের অর্থোডন্টিস্ট ডা. জৈনীল পারেখ জানিয়েছেন, দাঁতের যত্নে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস এড়িয়ে চলা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিনি খেলে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তা অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে। এতে দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি ও ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:

১. চিনিযুক্ত খাবার:
চকলেট, মিষ্টি, ক্যান্ডি, কোক বা চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খেলে দাঁতের ক্ষয় দ্রুত হয়। চিনি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে দাঁতের এনামেল ভেঙে দেয়।

২. কোমল পানীয় ও জুস:
সোডা, ফিজি ড্রিংকস, সাইট্রাস জুসে থাকা অ্যাসিড দাঁতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, হলুদ দাগ পড়ে এবং গহ্বর সৃষ্টি হয়।

৩. স্টার্চযুক্ত খাবার:
আলুর চিপস, সাদা পাউরুটি ও প্রেটজেলের মতো স্টার্চজাতীয় খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে রূপ নেয়। এতে দাঁতে প্লাক তৈরি হয় যা দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়।

করণীয়:

  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন।
  • ফ্লস ব্যবহার করুন।
  • চিনি ও কোমল পানীয় কমিয়ে আনুন।
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যান।

দাঁতের যেকোনো সমস্যা যেমন ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্তপাত বা ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। মনে রাখবেন, নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতাই দাঁতের সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং আপনাকে দেয় ঝকঝকে সুন্দর হাসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বর্ষায় নাক বন্ধ ও শ্বাসকষ্ট? ঘরে বসেই মুক্তির ৫ কার্যকর উপায়

গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে বর্ষাকাল এনে দেয় স্বস্তি, কিন্তু সাথে নিয়ে আসে একগুচ্ছ সংক্রমণজনিত সমস্যা। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ছত্রাক, ধুলাবালি ও জীবাণুর উপদ্রব বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি শ্বাসনালী ও নাকের স্বাস্থ্যে, দেখা দেয় নাক বন্ধ, ঘুমের ব্যাঘাত, সাইনোসাইটিস এমনকি শ্বাসকষ্ট

তবে আতঙ্ক নয়—সতর্কতা ও ঘরোয়া কিছু অভ্যাসই পারে আপনাকে এই সমস্যাগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে। নিচে থাকছে বর্ষাকালে নাক বন্ধসহ শ্বাসজনিত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের ৫টি কার্যকর উপায়:


১️⃣ নাক বন্ধ হলে কী করবেন?

  • কুসুম গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করুন (Neti pot বা Steam নিতে পারেন)।
  • প্রয়োজনে নাকের জন্য বিশেষ নাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন—যা শ্লেষ্মা তরল করে এবং বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
  • দিনে ২–৩ বার গরম পানির ভাপ নিলে শ্বাসনালীর রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং জীবাণু নষ্ট হয়

2️⃣ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ান সুষম খাদ্যাভ্যাসে

  • প্রতিদিনের খাবারে রাখুন:
    • আদা, রসুন ও হলুদ – প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক
    • লেবু, আমলকি ও ফলমূল – ভিটামিন C সমৃদ্ধ
    • দই বা প্রোবায়োটিক – অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে, যা ইমিউন সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

3️⃣ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক ঘর

  • বর্ষায় ঘরে ছত্রাক ও ধুলাবালি জমা হওয়া খুব স্বাভাবিক, বিশেষত জানালার কোণ, পর্দা ও বাথরুমে।
  • ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করুন, ভেন্টিলেশন ঠিক রাখুন।
  • ভেজা কাপড় ঘরে শুকানো পরিহার করুন, কারণ এতে আর্দ্রতা বাড়ে এবং ছত্রাক জন্মায়—যা নাক বন্ধের বড় কারণ।

4️⃣ তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এড়ান

  • এসি থেকে হঠাৎ বাইরে বের হওয়া বা ঠান্ডা বাতাসে বেশি সময় থাকলে নাক ও শ্বাসনালীতে চাপ পড়ে
  • বাইরে গেলে স্কার্ফ বা মাস্ক পরুন, ঘরে এসির নিচে সরাসরি বসা এড়িয়ে চলুন।

5️⃣ মাস্ক ব্যবহার করুন, বিশেষ করে বাইরে গেলে

  • বর্ষাকালে বাতাসে ধুলা, পরাগকণা ও জীবাণুর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়
  • মাস্ক শুধু করোনা নয়, সাধারণ ঠান্ডা-কাশি ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকেও রক্ষা করে
  • ঠান্ডা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছাকাছি গেলে মাস্ক না পরা মানে নিজেই ঝুঁকিতে পড়া।

বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি ও ঠান্ডা নয়—সাথে আসে সংক্রমণ আর নানা ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে এই ৫টি সহজ অভ্যাস মেনে চললে ঘরে বসেই আপনি থাকতে পারেন সুস্থ, সতেজ ও শ্বাসপ্রশ্বাসে স্বস্তিতে

আল-আমিন

 




অভ্যাসেই বিপদ: যেভাবে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নীরবে ক্ষতি করছে আপনার মস্তিষ্ককে

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক সাধারণ অভ্যাসই মস্তিষ্কের ওপর ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রযুক্তিনির্ভরতা, অলসতা, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এই চারটি বিষয় যেন ধীরে ধীরে আমাদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সৃজনশীলতাকে অবশ করে দিচ্ছে


📱 স্ক্রিনটাইম: প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক অলসতা বাড়ায়

ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা টিভি—সবই আজকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এসব স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্কের ঘুমের চক্র নষ্ট করে, চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং মানসিক ক্লান্তি ও বার্নআউট ঘটায়।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক একাধিক বিষয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়, এতে সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি কমে যায়।


🪑 অলস সময়: বসে থাকা মানে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও ঝুঁকিতে

অনেকক্ষণ বসে থাকা শুধু হৃদযন্ত্র নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও শত্রু। কম শারীরিক সক্রিয়তায় মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে, অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং হিপ্পোক্যাম্পাসের সংকোচন ঘটতে পারে, যা সময়ের সাথে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।


🍔 খারাপ খাদ্যাভ্যাস: চিনির সাথে মস্তিষ্কের শত্রুতা

প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অপুষ্টিকর ডায়েট সরাসরি মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পুষ্টির ঘাটতি যেমন ওমেগা-৩, বি-ভিটামিন বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব স্নায়বিক সংকেত ও স্মৃতি দুর্বল করে দেয়। এছাড়া খারাপ খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব পড়ে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যে


⚠️ চাপ ও স্ট্রোক: নীরব ঘাতক চাপ

দীর্ঘস্থায়ী চাপ মানসিক বিষণ্নতা ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ধমনীতে প্রদাহ এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চাপের কারণে ধমনীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ব্লক হয়ে যেতে পারে কিংবা ফেটে গিয়ে ইস্কেমিক বা হেমোরেজিক স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এটি নিঃশব্দে ঘটে, কিন্তু প্রভাব হতে পারে জীবনধ্বংসী।


কীভাবে বাঁচবেন মস্তিষ্কের এই ক্ষয় থেকে?

  • দৈনিক স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ করুন (বিশেষ করে রাতের বেলা)
  • প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন
  • প্রাকৃতিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন (ওমেগা-৩ ও বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ)
  • ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন

 

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের নেতৃত্বদানকারী অঙ্গ। একে সতেজ, সক্রিয় এবং সুরক্ষিত রাখতে হলে জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলোতে সচেতন পরিবর্তন আনতেই হবে। না হলে ‘আধুনিক জীবনের আরাম’ একদিন হয়ে উঠবে নীরব ঘাতক


আল-আমিন