আম খাওয়ার পরে যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাকা আমের মধুর স্বাদ কে এড়িয়ে যেতে পারে? সুমিষ্ট এই ফল যেমন সুস্বাদু তেমনই পুষ্টিকর। তীব্র গরমে প্রাণ জুড়াতে আমের তুলনা হয় না। পুষ্টিকর এই ফলে থাকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন বি। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্যও আম খাওয়া উচিত। তবে আম খেলেই হবে না, এটি খাওয়ার আছে কিছু নিয়মও। যেমন আম খাওয়ার পরপরই কিছু খাবার খাওয়া যাবে না। কোনগুলো? চলুন জেনে নেওয়া যাক-




মেদ কমানোর সহজ উপায়




পাকা আম খাওয়ার ৫ উপকারিতা




৭ ফল ফ্রিজে রাখবেন না




যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে




উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে ভুল ধারণা ও করণীয়

অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রায়ই একটি স্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর জন্য চিকিত্সা ও প্রতিরোধ খুবই জরুরি। তা না হলে বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি হঠাত্ করে মৃত্যুরও ঝুঁকি থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা। তাই এ সম্পর্কে সচেতন থাকার বিকল্প নেই। যদি কারো রক্তচাপ নরমাল মাত্রার চাইতে বেশি হয় এবং অধিকাংশ সময় এমনকি বিশ্রামকালীনও বেশি থাকে, তবে ধরে নিতে হবে তিনি উচ্চ রক্তচাপের রোগী। প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :

(১) কোনো এক সময় একবার উচ্চ রক্তচাপ হলেই কি রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে?

উত্তর: না, কেউ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে তা বলার আগে বেশ কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যেমন—অন্তত তিন দিন ভিন্ন সময়ে বেশ কয়েক বার রক্তচাপ মাপতে হবে। এরপর যদি দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তচাপ বেশি, তবেই বলা যাবে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অবশ্যই বসে রক্তচাপ মাপা উচিত, শরীর ও মন যেন শান্ত অবস্থায় থাকে, এমন সময় রক্তচাপ মাপতে হবে।

(২) কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ তো নেই, কেন চিকিৎসা নেব বা ওষুধ খেতে হবে?

উত্তর : অনেকেই মনে করেন যে, উচ্চ রক্তচাপ তার দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহে কোনো সমস্যা করছে না বা রোগের কোনো লক্ষণ নেই, তাই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতে চান না বা প্রয়োজন মনে করেন না। তাদের ধারণা, ভালোই তো আছি, ওষুধের কী দরকার?

এই ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। এটাই উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে খারাপ দিক। নিয়ন্ত্রণ করা না হলে উচ্চ রক্তচাপ ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যদিও অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের রোগীর বেলায় কোনো লক্ষণ থাকে না, তবু নীরবে উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ জন্যই উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। অনিয়ন্ত্রিত ও চিকিত্সাবিহীন উচ্চ রক্তচাপ থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত না থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গে মারাত্মক ধরনের জটিলতা হতে পারে। যেমন—হূিপণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ও চোখ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থেকে হূদ্যন্ত্রের মাংশপেশি দুর্বল হয়ে হূদ্যন্ত্র রক্ত পাম্প করতে পারে না এবং এই অবস্থাকে বলা হয় হার্ট ফেইলিওর। রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি বিকল হয়ে কার্যকারিতা হারাতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক হয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে এবং চোখের রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয়ে অন্ধত্ব বরণ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়াতেই ওষুধ দেওয়া হয়।’

(৩) উচ্চ রক্তচাপ হলে কি চিকিৎসা করাতেই হবে? ওষুধ সেবন কি খুবই জরুরি?

উত্তর : অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত জানার পরেও ওষুধ খেতে অনিহা প্রকাশ করেন বা খেতে চান না। কারো কারো ধারণা, একবার ওষুধ শুরু করলে তা আর বন্ধ করা যাবে না। সারা জীবন খেতে হবে। তাই ওষুধ শুরু না করাই ভালো। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, এই চিন্তাও বিপজ্জনক। মনে রাখতে হবে, উচ্চ রক্তচাপ সারে না, একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর জন্য নিয়মিত ওষুধপত্র সেবন করতে হবে।

(৪) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধ কি বন্ধ করা যাবে?

উত্তর :অনেক রোগী কিছুদিন ওষুধ ব্যবহার করার পর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধ বন্ধ করে দেন, মনে করেন রক্তচাপ ভালো হয়ে গেছে, কাজেই ওষুধ খাওয়ার দরকার কী? এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এ ধরনের রোগীরাই হঠাত্ করে হূদেরাগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, এমনকি মৃত্যুও হয়ে থাকে। কোনোক্রমেই ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না। অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে, নিয়মিত সারা জীবন ওষুধ সেবন করতে হবে এবং নিয়মিত চেক করাতে হবে।

(৫) উচ্চ রক্তচাপ কি শুধু বয়স্কদেরই হয়?

উত্তর : শুধু বয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ হয়—এ ধারণা ঠিক নয়। যে কোনো বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বয়স হলে রক্তচাপ একটু বেশিই থাকে, এ জন্য চিন্তার কিছু নেই—এমন ধারণাও সঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপ যে বয়সেই ধরা পড়ুক, তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবেই গণ্য করা উচিত।

(৬) তরুণ বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে কি?

উত্তর : অনেকে ভাবেন, উচ্চ রক্তচাপ বয়স্কদের রোগ। আসলে তা নয়। অল্প বয়সেও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের বংশগত ধারাবাহিকতা আছে, যদি বাবা-মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে সন্তানেরও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া অন্যান্য কারণ হতে পারে, যেমন—অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্ত্যাদি। অধিক ওজন এবং অলস জীবনযাত্রা, খেলাধুলা, ব্যায়াম বা কায়িক শ্রমের অভাবে অল্প বয়সিদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়ছে।

কিছু কিছু অঙ্গে আক্রান্ত রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। যেমন—কিডনির রোগ, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার, ধমনীর বংশগত রোগ, গর্ভধারণ অবস্থায় অ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রি অ্যাকলাম্পসিয়া হলে, অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহার, স্টেরয়েড গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ সেবন করলে।

(৭) উচ্চ রক্তচাপ হলে ঘাড়ে ব্যথা হয় কি?

উত্তর : ঘাড়ে ব্যথা হলে কেউ কেউ মনে করেন, নিশ্চয়ই রক্তচাপ বেড়েছে। এই ধারণা অমূলক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রক্তচাপ বাড়ার কোনো উপসর্গ বোঝা যায় না।

(৮) লবণ ভেজে খাওয়া যাবে কি?

উত্তর :উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারে বাড়তি লবণ ব্যবহার বারণ। শুধু তরকারিতে যতটুকু লবণ দেওয়া হয়, তা খাওয়া যাবে। অনেকের ধারণা, কাঁচা লবণ নিষেধ, কিন্তু লবণ ভেজে খাওয়া যাবে। এ ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। কাঁচা বা ভেজে খাওয়া লবণে কোনো পার্থক্য হবে না।

(৯) মাংস, ডিম, দুধ খাওয়া নিষেধ কি?

উত্তর : অনেকের ধারণা, উচ্চ রক্তচাপ হলে মাংস, ডিম, দুধ খাওয়া নিষেধ। এসব খাবার খেলে রক্তচাপ বাড়ে। এটা ঠিক নয়। পরিমাণমতো এগুলো খাওয়া যাবে, তবে গরু বা খাসির মাংসের চর্বি পরিহার করতে হবে।

(১০) তেঁতুল গুলে খেলে বা টক খেলে রক্তচাপ কমে কি?

উত্তর : অনেকে মনে করেন, রক্তচাপ বাড়লে পানিতে তেঁতুল গুলে খেলে বা টক খেলে রক্তচাপ কমবে। আসলে মনে রাখতে হবে, এই ধারণা সম্পুর্ণ ভুল, তেঁতুল বা টক খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ কমার কোনো সম্পর্ক নেই।

উপসংহার : মনে রাখতে হবে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, মদ্যপান, তেল-চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। জীবনাচরণ পরিবর্তন করে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর ওষুধ সেবনের বেলায় অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেকেই ফার্মেসিতে গিয়ে দোকানির কাছ থেকে অথবা নিজের ইচ্ছমেতো ওষুধ কিনে সেবন করে থাকেন। যে কোনো ওসুখের ক্ষেত্রেই এটি বিপজ্জনক। মনে রাখতে হবে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবনযাপন পদ্ধতির সঠিক পরিবর্তনের সাথে নিয়মিত ওষুধ সেবন অত্যন্ত জরুরি। যারা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত চেক করাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ’র লেখাটি ইত্তেফাক থেকে নেয়া।



হিট স্ট্রোকের সহজ ঘরোয়া প্রতিকার




স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায় ব্যায়াম




হাড় ভালো রাখে যেসব ভিটামিন




তীব্র গরমে অতিরিক্ত চা-কফি কেন নয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চা অথবা কফিপ্রেমী যারা আছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কড়া চা অথবা কফি না পান করলে তাদের ঘুম যেন ছাড়তেই চায় না। এর পাশাপাশি চা-কফি পান না করলে যেন তাদের শরীর ম্যাজম্যাজে ভাব আর মাথা ধরাও কমতে চায় না! সকালে আর বিকেলে এক কাপ কড়া চা অথবা কফি, তা না হয় স্বাভাবিক সীমানার ভেতরে রেখেই পান করলেন। কিন্তু অনেকেই আছেন যাদের গরমের চোটে অতিরিক্ত মাথা ঝিম ভাব সারাতে সারাদিন অন্তত কয়েক দফায় চা-কফি পান করতে হয়, তাদের জন্য কিন্তু অপেক্ষা করছে বিপৎসংকেত! বুঝলেন না? জি, সহজভাবে যদি বলি, তীব্র গরমে বেশি বেশি চা-কফি বা অন্যান্য কার্বনেটেড পানীয় পান করলে হতে পারে বিভিন্ন শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশবিষয়ক সংস্থা সিটিইএইচের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক জেসন সিলস বলেন, ‘চিনি এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়গুলো পান করা বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’ এ ছাড়া উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করলে ডিহাইড্রেশন কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
কেন গরমের দিনে চা-কফি বেশি পান করাকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়? এর কারণ হলো, অনেক ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে কফি এবং চা হচ্ছে মূত্রবর্ধক। যার অর্থ, এসব পানীয় বারবার আপনার শরীরকে তরল হারাতে উৎসাহিত করে। ফলাফল হিসেবে এটি আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে, শরীর হয়ে যাবে ডিহাইড্রেটেড। যেহেতু গরম বেড়ে গেলে সবারই অতিরিক্ত ঘাম হয়, এর সঙ্গে বারবার যদি প্রস্রাব হতে থাকে, তীব্র তাপদাহে দীর্ঘমেয়াদি ডিহাইড্রেশন হওয়াও অসম্ভব কিছু না।

এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমে চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন বেশি গ্রহণ করার আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। ক্যাফেইন উপাদান আপনার অনিদ্রা, নার্ভাসনেস, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, উদ্বেগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো এমনকি আপনার দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। হয়তো আপনি রাস্তাঘাটে কোনো গাড়ি ড্রাইভ করছেন, অথবা বাসায় রান্না করছেন দেখা গেল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান সঙ্গে অতিরিক্ত গরমের প্রভাবে আপনি হুট করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

দৈনিক কতটুকু চা-কফি পান করা যাবে?
চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন হচ্ছে আমাদের জন্য ভালো এবং খারাপ জিনিস। ভালো এ জন্য, আপনি যদি নির্দিষ্ট মাত্রায় এটা গ্রহণ করেন আপনার শরীরের ম্যাজম্যাজে ভাব চলে যাবে, মাথা ঝিমঝিম থাকলে সেটিও চলে যাবে। পাশাপাশি আপনি যে কোনো কাজ করার জন্য নতুন করে শক্তি পাবেন। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে বেড়ে যায় অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

এজন্য আপনার চা-কফিতে বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে কতটা ক্যাফেইন রয়েছে, তা এখানে লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ একটি আট আউন্স কাপ কফিতে প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে একটি ১৬ আউন্স এনার্জি পানীয়তে ৩৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, স্বাভাবিক তাপমাত্রার দিনে প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রামের মতো কফি গ্রহণ করা স্বাভাবিক। এ হিসেবে তাহলে প্রতিদিন আপনি ৩ থেকে ৪ কাপ চা বা কফি পান করতে পারবেন, যদি বাইরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। অন্যথায় প্রচণ্ড গরমের দিনে আপনাকে অবশ্যই এ পরিমাণ অর্ধেকে নামাতে হবে।

তাই এই প্রচণ্ড গরমে, প্রতিদিনের শরীরের শক্তির প্রয়োজনীয় মাত্রা ঠিক রাখতে অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংকস এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে, সম্ভব হলে দীর্ঘমেয়াদি জীবনধারা পরিবর্তন করার ওপর ফোকাস করুন বা বিকল্প কিছু ভাবুন। বিকল্প পথ হতে পারে আপনার খাদ্যের পুষ্টির মান উন্নত করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা, স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রচুর পানীয় বা ফলের জুস পান করা ইত্যাদি। এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি রোধ করার জন্য দারুণ কার্যকরী সব উপায়।