চিনি খেয়ে ফেলছি কি না, বুঝব কী করে?

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অ্যাডেড সুগার (খাবারে যে চিনি যোগ করা হয়)’ খাওয়া উচিত নয়। কেননা আমরা যে চিনি খাই তার বেশির ভাগই অবচেতনভাবে। মিষ্টি, কেক, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পানীয়র সুক্রোজ, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও কর্ন সিরাপের মাধ্যমে ‘লুকায়িত’ চিনি ঢুকে পড়ে।
আমরা যে চিনি খাই তার বেশির ভাগই অবচেতনভাবে। মিষ্টি, কেক, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পানীয়র সুক্রোজ, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও কর্ন সিরাপের মাধ্যমে ‘লুকায়িত’ চিনি ঢুকে পড়ে l

চিনি তো আমরা কমবেশি সবাই খাই। কিন্তু আমরা বেশি চিনি খেয়ে ফেলছি কি না, বুঝব কী করে? জার্মানির ডার্মাটোলজিস্ট ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ডা. লিলা আহলেমান চিনি বেশি খেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, তা জানিয়েছেন।

১. বারবার খিদে লাগে, ওজন বেশি

চিনিতে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে। পাশাপাশি বেশি চিনি খেলে বারবার ক্ষুধা লাগে। কারণ, স্বল্প মেয়াদে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় চিনি, কিন্তু ফাইবারের অভাবের কারণে এর কোনো স্থায়ী প্রভাব থাকে না। ফলে ‘সুগার স্পাইক’ হয় আর বারবার ক্ষুধা লাগে। পরিণতিতে বেশি বেশি খেয়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলি আমরা।

২. ত্বকের স্বাস্থ্য নষ্ট

চিনি খেলে শুধু ইনসুলিনের মাত্রাই বাড়ে না, রক্তে ইনসুলিনের মতো গ্রোথ ফ্যাক্টর-১ বা জিএফ-১ নামে একটি হরমোনও বাড়ে। ইনসুলিন ও জিএফ-১ সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলোকে উদ্দীপ্ত করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বকের প্রোটিন। আর ব্রণসহ বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্রণ দেখা দিলে বুঝতে পারবেন যে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি খাচ্ছেন।

আমরা যে চিনি খাই তার বেশির ভাগই অবচেতনভাবে। মিষ্টি, কেক, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পানীয়র সুক্রোজ, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও কর্ন সিরাপের মাধ্যমে ‘লুকায়িত’ চিনি ঢুকে পড়ে l

চিনি তো আমরা কমবেশি সবাই খাই। কিন্তু আমরা বেশি চিনি খেয়ে ফেলছি কি না, বুঝব কী করে? জার্মানির ডার্মাটোলজিস্ট ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ডা. লিলা আহলেমান চিনি বেশি খেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় l

৩. মুড সুইং, বদমেজাজ

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ার ফলে ইনসুলিন নিঃসরণও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘটে। এটি মাঝেমধ্যে এতটাই শক্তিশালী হয় যে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক স্তর থেকে কমে ন্যূনতম মাত্রার নিচে চলে যায়। তখন আপনার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। তখন ক্ষুধা লাগে আর ‘মুড সুইং’ হয়। ফলে হুট করে রেগে যাওয়া, অল্পতে হতাশ হয়ে পড়া ও মেজাজ হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

৪. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া

সাধারণত ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে চিনি শোষিত হয়। যখন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো সাধারণ চিনির পরিমাণ আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন এই চিনি বৃহদন্ত্রে শোষিত হয়। পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিনি বৃহদন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে ওঠে। এর ফলে এন্ডোটক্সিন নামের বিষ উৎপন্ন হয়। এটি লাইপোপলিস্যাকারাইড নামেও পরিচিত। এটি রক্তে প্রবেশ করে নীরব প্রদাহ তৈরি করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। আর শরীরের বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে।

৫. দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া

এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে বেশি বেশি চিনি খেলে ‘অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রোডাক্টস’(এজিইএস) তৈরি হয়। এর ফলে বয়স ৩০-এর পর আমাদের ত্বকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে ক্ষয় হয়, তা আর পূরণ করে উঠতে পারে না। ফলে মানুষ দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে।




লিভারের জন্য ৫টি উপকারী খাবার




ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে যেভাবে মিলবে মুক্তি




মহানবীর যুগে যেমন ছিল ধর্মীয় সহাবস্থান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রিয় নবী (সা.) মদিনায় হিজরতকালে (সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি.) পাঁচ ধরনের মানুষের সংশ্লেষের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। যথা—মুহাজির, আনসার, ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক। তখন তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হয় ভ্রাতৃবিরোধ-বিদ্বেষ ও বিগ্রহের অবসান ঘটানো। প্রিয় নবী (সা.)-এর দর্শন—‘সহজ করো, জটিল কোরো না। সুসংবাদ দাও, ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়ো না। ’ (বুখারি)

এই নীতিতে ‘শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ’ তথা Peace & Submission-এর শিক্ষায় তিনি Social contract বা সামাজিক চুক্তির মতো সম্প্রীতিমূলক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন।

মদিনা সনদের প্রধান অর্জন—

(ক) তাওহিদভিত্তিক লিখিত সনদের আলোকে সংঘাতের স্থলে সর্বজনীন নিরাপত্তা।

(খ) প্রিয় নবী (সা.)-এর নেতৃত্বে শান্তি ও রাজনৈতিক ঐক্য।

গ) সাম্য ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা। মদিনা সনদের ফলে অসাম্প্রদায়িকতা ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ গড়ে ওঠা সহজতর হয়। মদিনা সনদকে বলা হয়, মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান Written constitution.

সনদের সারসংক্ষেপ

(ক) মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.) হবেন নব গঠিত ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রে’র প্রধান ও সর্বোচ্চ বিচারালয়ের Court of Appeal-এর সর্বময় কর্তা।

(গ) সবার পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে, এতে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

(ঘ) কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে তার সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।

(ঙ) দুর্বল, অসহায়কে সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে।

(চ) সনদ স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে রাসুল (সা.) তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করবেন।

মদিনা সনদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি পায়, ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি রচিত হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মদিনার পুনর্গঠন সম্ভব হয়। মদিনা সনদের ধারাবাহিকতায় প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। মদিনাকেন্দ্রিক এ ব্যবস্থার বিস্তৃতি ছিল ১০-১১ লাখ বর্গমাইলেরও বেশি এলাকা। পরবর্তী সময়ে প্রিয় নবী (সা.) সংঘাতের স্থলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ষষ্ঠ হি./ ৬২৮ খ্রি. ‘হুদাইবিয়া’র সন্ধি স্বাক্ষর করেন।

হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে মক্কা-মদিনার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ স্থগিত থাকার সুবাদে প্রিয় নবী (সা.) ইসলাম প্রচারে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। ফলে প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম আন্তর্জাতিকরূপ পরিগ্রহ করে। যার ভিত্তি হলো—

উম্মাহ (অভিন্ন জাতীয়তাবোধ ও অখণ্ডতা),

উখওয়াৎ (বিশ্বজনীন ইসলামী ভ্রাতৃত্ব),

তাবলিগ (ধর্মীয় প্রচার) ও

খিদমতে খালক (সৃষ্টির সেবা-সংরক্ষণ)।

এই চেতনাবোধের সার্থকতায় প্রিয় নবী (সা.) পত্রাবলি অনন্য কিংবদন্তি ও প্রিয় নবী (সা.)-এর চলন্ত-জীবন্ত মুজিজা। মিসরীয় গবেষক ড. হামিদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (স.) যাঁদের কাছে পত্র পাঠিয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা দু-আড়াই শর কম নয়। তাঁদের অন্যতম হলেন—

রোম সম্রাট (কায়সার) হিরাক্লিয়াস,

ইয়ামামার গভর্নর হাওয়া বিন আলী,

বাহরাইনের গভর্নর মুনজির বিন সাওয়া,

ওমানের গভর্নর জাফর বিন জুলান্দি,

দামেস্কের গভর্নর হারিস বিন আবি শামর গাসসানি,

আবিসিনিয়া বা হাবশার বাদশাহ নাজ্জাসি আসহাম,

মিশররাজ মাকাওকাস এবং ইরানের শাহানশাহ কিসরা খসরু পারভেজ।

রোম সম্রাটের কাছে লিখিত পত্রের ভাষ্য—

প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র পত্র পাঠে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের মনোজগতে ঝড় বইতে শুরু করে। তিনি প্রিয় নবী (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন—‘হায়! আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতাম! তবে আমি তাঁর পা ধুয়ে দিতাম। ’ (বুখারি)

শুধু তাই নয়, তিনি রাজপ্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে ঘোষণা করলেন : ‘হে রোমবাসী। তোমরা কি কল্যাণ, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর আনুগত্য (বাইআত) গ্রহণ করো…’ (বুখারি)

বস্তুত এভাবেই ইসলাম ‘বিশ্ব বিজয়ী ধর্ম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, এতেও আল-কোরআনের বাণীর নিত্যতা প্রমাণিত হলো : ‘তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ…। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)




সম্পর্ক ব্রেকআপ হয়ে গেছে? কষ্ট কমাবেন যেভাবে




জীবন পাল্টে দিতে পারে এ পি জে আব্দুল কালামের এই ১০ বাণী




বন্যায় স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় কী?

চন্দ্রদ্বীপ স্বাস্থ্য ডেক্স :: ভারি বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি উঠায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে অতি দ্রুত। আর বন্যায় স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে উত্তেজিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিছু বিষয় অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থরক্ষার বিষয়টিও অনুসরণ করতে হবে।

১. বন্যার সময় পানির উৎস দূষিত হয়ে যায়। তাই পানি ভালোমতো ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করাসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর এই পানি ঢেলে আধা ঘণ্টা রেখে এরপর একটানা আধা ঘণ্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিলে সেই পানি খাওয়ার উপযোগী হতে পারে। ব্লিচিং পাউডার না থাকলে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে।

২. বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়রিয়া। এ জন্য খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। পায়খানা করার পর হাত একইভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা শুরু হলে পরিমাণমতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে।

৩. দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস না থাকলে বিকল্প হিসেবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

৪. বন্যায় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য আন্ত্রিক রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী। খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালাবাসন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালাবাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে পরিষ্কার পানিতে ধুলেও দূর হতে চায় না। তাই খাবার গ্রহণের আগে থালাবাসন পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

৫. বন্যার সময় মলত্যাগে সতর্কতা অবলম্বন খুব জরুরি। যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মলত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

৬. এ সময় সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকামাকড়ের কামড়ের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এ বছরের বন্যায় সাপের কামড়ে মারা গেছে অনেক মানুষ। এ ছাড়া পানির নিচে বহু বৈদ্যুতিক টাওয়ার, খুঁটি, ট্রান্সফরমার লাইনের তার ডুবে থাকে। এসব বৈদ্যুতিক লাইনের নিচ দিয়ে নৌকা বা ভেলা চালানোর ক্ষেত্রে বা চলাচলের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে।




ত্বকের সমস্যায় উপকারী পুঁইশাক




‘মাঙ্কিপক্স’র প্রকোপ বাড়ছে, কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন?

চন্দ্রদ্বীপ লাইফস্টাইল :: কোভিডের মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও কারও মন থেকেই মুছে যায়নি, তার মধ্যে নতুন করে মাঙ্কিপক্সের চিন্তা। এই নিয়ে দু’বছরে দুইবার মাঙ্কিপক্স নিয়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আফ্রিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ছাড়িয়েছে ১৭ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে কী দেখলে বুঝবেন আপনি মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত।

আসুন জেনে নিই কি কি উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

> প্রবল জ্বর হতে পারে। মাঙ্কিপক্সের ফলে শরীরে ব্যথাও হতে পারে। ত্বকে র‌্যাশ দেখা যেতে পারে। সেই র‌্যাশ আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল ফোঁড়ার মতো আকার ধারণ করতে পারে। হাত, পা, পায়ের পাতা, মুখ এবং শরীরের নানা অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই র‌্যাশ।

> কোভিডের মতোই ছোঁয়াছে এই রোগ। পশু থেকে মানুষে বা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। আক্রান্তের ক্ষত বা দেহ তরলের সংস্পর্শে আসা জামাকাপড় থেকেও কিন্তু ছড়াতে পারে এই মাঙ্কিপক্স।

এই রোগের উপসর্গ দেখলে যা করবেন:

> প্রথমেই এই রোগের উপসর্গ দেখলে পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বর, ক্লান্তি, গা ব্যথা, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ও ত্বকে ক্ষত তৈরির মতো উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

> মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ সাধারণত সংক্রমণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেখা যায়। যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসেন, তবে আগে থেকেই আলাদা থাকা ভালো। তাতে বাকিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

> আলাদা থাকার সঙ্গেই গোসলের গামছা, তোয়ালে আলাদা করতে হবে। যতক্ষণ না পরীক্ষার ফল হাতে আসছে, ততক্ষণ সতর্ক থাকতে হবে।




দ্রুত ওজন কমাতে পারে যে একটিমাত্র খাবার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ওজন কমানো সহজ কথা নয়। এবার ওজন বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। আপনি যদি ওজন কমাতে ব্যর্থ হন তবে একটি খাবারের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। যার নাম শসা। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, শসা খেলে দ্রুত ওজন কমে। শুধু কি তাই? শসার রয়েছে নানাবিধ উপকার। জানুন বিস্তারিত।

​ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার​ শসা: এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ খেকে শুরু করে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। সেই সঙ্গে এই ফলে বেশ কিছুটা পরিমাণে ফাইবারের খোঁজও মেলে। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। যেই কারণে নিয়মিত শসা খেলে দেহে প্রদাহ কমে। দূরে থাকে একাধিক জটিল অসুখ। তাই চেষ্টা করুন রোজ শসা খাওয়ার। তাতেই একাধিক জটিল অসুখের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে পারবেন।

ওজন কমবে দ্রুত : আগেই বলা হয়েছে শসায় রয়েছে ফাইবারের ভাণ্ডার। শুধু তাই নয়, এই ফলে অনেকটা জলীয় অংশ রয়েছে। আর ফাইবার এবং পানির সৌজন্যে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরে থাকে। যার ফলে আজেবাজে খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাতেই ওজন কমে। এছাড়াও এতে মজুত কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের গুণে বাড়ে বিপাকের হার। সেই সুবাদেও ঝটপট মেদ কমে যেতে সময় লাগে না। তাই আপনার ওয়েট লস ডায়েটে অবশ্যই শসাকে জায়গা করে দিন। তাতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।

বশে থাকবে হাই সুগার : ডায়াবেটিস রোগীদের নানা খাবারে বারণ থাকে। তবে আপনারা চাইলে অনায়াসে শসা খেতে পারেন। কারণ, এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম। যেই কারণে শসা খেলে সুগার বাড়ার আশঙ্কা থাকে না। উল্টো এতে মজুত ফাইবারের গুণে রক্তে উপস্থিত সুগারকে অনায়াসে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই মধুমেহ রোগীরা রোজের ডায়েটে অবশ্যই শসাকে জায়গা করে দিন। তাতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।

সুস্থ-সবল থাকবে হাড়: ​হাড়ের জোর বাড়াতেই হবে। নইলে অকালেই হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা নেবে পিছু। এরপর সঙ্গী হবে অসহ্য ব্যথা। হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হবে। তাই বিপদের ফাঁদে পড়ার আগেই চেষ্টা করুন হাড়ের জোর বাড়িয়ে ফেলার। আর সেই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে অত্যন্ত উপকারী শসা। আসলে এই ফলে রয়েছে ভিটামিন কে-এর ভাণ্ডার। আর এই ভিটামিন হাড়ের শক্তি বাড়ানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এই ফল খেয়ে রসনাতৃপ্তি করার পরামর্শ দেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকবে দূরে: ​আপনার কি প্রতিদিন ঠিকমতো পেট পরিষ্কার হয় না? সেক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন শসার উপর। কারণ, এই ফলে রয়েছে জল এবং ফাইবারের ভাণ্ডার। আর এই দুইয়ের গুণে পেটের হাল ফিরতে সময় লাগে না। এমনকি মলকে নরম করতে এবং তার গতিবিধি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় জল এবং ফাইবার। যার ফলে সহজেই পেট পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই এই রোগে ভুক্তভোগীরা রোজের ডায়েটে অবশ্যই শসাকে জায়গা করে দিতে পারেন।