একা থাকলে পাপে জড়িয়ে পড়েন? নিজেকে রক্ষা করার উপায়

বাসা বা ব্যক্তিগত কোনো পরিবেশে কেউ একা থাকলে পাপ বা গুনাহের কাজের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে পারেন। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে প্রবেশ করে এবং পরে অনুশোচনায় ভুগতে থাকে।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে শুধু অনুশোচনা যথেষ্ট নয়; বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তওবা ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো নিজের ভুল বুঝে নেওয়া এবং পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

কীভাবে পাপ থেকে বাঁচবেন:

  1. পাপের কারণ দূর করুন:
    যে পরিবেশ, সঙ্গ বা অভ্যাস আপনাকে পাপের দিকে টেনে নেয়, তা থেকে নিজেকে দূরে সরান। উদাহরণস্বরূপ, খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অশ্লীল কন্টেন্ট দেখা, অনুচিত সম্পর্ক ইত্যাদি এড়ান।
  2. দৃঢ় সংকল্প নিন:
    অন্তরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে আর কখনো পাপে প্রবেশ করবেন না এবং পাপের মাধ্যমগুলো স্পর্শও করবেন না।
  3. ভালো কাজে ব্যস্ত থাকুন:
    ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন, মন যদি ভালো কাজে ব্যস্ত না থাকে, তা মন্দ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই নেক কাজ বা উপকারী প্রজেক্ট খুঁজে সময় ব্যস্ত রাখুন।
  4. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না:
    কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছেন, তারা তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না, কারণ তিনি সব গুনাহ মাফ করেন (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩)।
    এছাড়া যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে—তাদের গুনাহকে সওয়াবে পরিণত করে দেবেন (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭০)।

তওবা মানে শুধু মুখে ক্ষমা প্রার্থনা নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা, সৎ কাজ শুরু করা এবং সেই পথে অটল থাকা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্ল্যাক কফি: সুস্থ শরীর ও সতেজ মনের জন্য প্রতিদিনের প্রিয় পানীয়

কাজের চাপে ক্লান্তি কাটাতে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় প্রাণ জোগাতে বা শুধু কিছু মুহূর্তের প্রশান্তি পেতে অনেকে খোঁজেন এক কাপ ব্ল্যাক কফি। দুধ-চিনি ছাড়া খাঁটি কফির স্বাদ ও গন্ধ যেন এক ধরনের নেশার মতো। শুধু স্বাদের জন্য নয়, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খাওয়া আমাদের শরীর ও মনের জন্য উপকারী, বলছেন পুষ্টিবিদরা।

নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করার কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো:

১. শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি:
ব্ল্যাক কফিতে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীর আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য এটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করতে পারে।

২. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নয়ন:
ক্যাফেইন নিউরোট্রান্সমিটার যেমন ডোপামিন ও নোরেপাইনফ্রিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সৃজনশীলতা বাড়ে। পরীক্ষার প্রস্তুতি বা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় এটি এক ধরনের গোপন শক্তি হিসেবে কাজ করে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
প্রায় ক্যালোরিমুক্ত ব্ল্যাক কফি বিপাকীয় হার বাড়ায় এবং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমানোর ডায়েটে এটি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই সুষম খাদ্যের সাথে খাওয়া উচিত।

৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস:
ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও পলিফেনলে ভরপুর ব্ল্যাক কফি ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি রোধ করে। এটি শরীরের কোষ সুরক্ষার পাশাপাশি ত্বকের বার্ধক্য রোধেও সাহায্য করে।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
নিয়মিত কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, পার্কিনসন এবং কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এছাড়া লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

৬. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি:
ব্ল্যাক কফি হতাশা কমাতে এবং মানসিক চাপ হ্রাস করতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত মন-মেজাজ খারাপ অনুভব করেন, তারা সীমিত পরিমাণে কফি খেলে মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে পারেন।

৭. আলঝাইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস:
নিয়মিত ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ স্নায়ু সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আলঝাইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

তবে সব ভালো জিনিসের সীমা আছে। দিনে ২-৩ কাপের বেশি ব্ল্যাক কফি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমে সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থতা ও সতেজতার জন্য পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি ডায়েটের অংশ হওয়া উচিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে গেলে যেসব ফল রাখবেন খাদ্যতালিকায়

দেশে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত অনেকেরই রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে যায়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। তবে শুধুমাত্র ডেঙ্গু নয়, অন্যান্য সংক্রমণ, ভাইরাসজনিত জ্বর কিংবা শারীরিক জটিলতার কারণেও প্লাটিলেট হ্রাস পেতে পারে।

সাধারণভাবে, একজন সুস্থ মানুষের প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার প্লাটিলেট থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এই সংখ্যা দ্রুত কমে যায়, তখন শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা চামড়ার নিচে দাগ পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট ফল যুক্ত করলে স্বাভাবিকভাবেই প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে সহায়তা পাওয়া যায়। নিচে এমন কয়েকটি ফলের উপকারিতা তুলে ধরা হলো—

আমলকি বা ভারতীয় Gooseberry প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম সেরা উৎস। এটি শরীরে প্লাটিলেট কোষকে সক্রিয় রাখে, সংক্রমণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আমলকি খেলে শরীরে প্লাটিলেটের ক্ষয় কমে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

পেঁপে প্লাটিলেট উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে পাতার নির্যাস অস্থিমজ্জাকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে শরীরে নতুন প্লাটিলেট তৈরির হার বৃদ্ধি পায়। পেঁপেতে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ডালিমে প্রচুর আয়রন ও ফলিক এসিড রয়েছে, যা নতুন রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট তৈরিতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান প্লাটিলেটকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত ডালিম খেলে রক্তস্বল্পতা কমে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র এসব ফলের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন ভিন্ন। তাই ডেঙ্গু বা ভাইরাসজনিত জ্বরের সময় সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি এসব পুষ্টিকর ফল নিয়মিত খেলে দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাস্থ্য ও ঘুমের জন্য কখন গোসল করা উচিত?

গবেষকরা বলছেন, গোসলের সময় নির্ভর করে ব্যক্তিগত জীবনধারা ও কাজের ধরনের ওপর। সকালে গোসল করলে মন সতেজ থাকে এবং কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া যায়। রাতে গোসল করলে সারাদিনের ঘাম, ধুলোময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়ে পরিষ্কার শরীরে ঘুমানো সম্ভব।

লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোন বলেন, রাতের গোসল হলেও রাতভর ঘাম ও মৃত কোষ ত্বকের উপর থেকে যায়, যা ধুলোমাইটের খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হলি উইলকিনসন আরও বলেন, ‘গোসলের চেয়ে চাদর ধোয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।

গরম পানিতে রাতে গোসল করলে ঘুম ভালো হয়। গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিটের গোসল ঘুমকে দ্রুত এবং শান্তিশীল করতে সাহায্য করে। তবে দিন শেষে দিনে একবার গোসল করলেই যথেষ্ট।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আলোচিত ‘থার্সডে-নাইট ট্রাঙ্ক হাউল’

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার এক অনন্য বিনোদন ও শপিং আয়োজন হিসেবে নজর কাড়ছে ‘থার্সডে-নাইট ট্রাঙ্ক হাউল’। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন গুলশান-২ এর বার্গার কিং-এর সামনের রাস্তায় অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনের মূল ধারণা হলো গাড়ির ট্রাঙ্কে বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা। এটি বিদেশে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে একেবারেই নতুন একটি উদ্যোগ। এখানে দর্শনার্থীরা খুঁজে পান ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় পণ্য যেমন পারফিউম, স্লাইডস এবং রঙ-বেরঙের লেডিস ব্যাগ।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনজন বন্ধুর উদ্যোগ ‘মায়ের দোয়া সুগন্ধি’, ‘ট্রে’ন্ডজ বাংলাদেশ’ এবং ‘ক্লাসিভা’ অন্যতম। পারফিউমগুলো নিজ হাতে তৈরি হওয়ায় অন্যদের তুলনায় ভিন্ন ও আকর্ষণীয়, যা ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

স্থানীয়রা জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা রাতের শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পান। উদ্যোক্তাদের আশা, ভিড় বাড়তে থাকলে এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন টিকে থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এতে অংশগ্রহণ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক

বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে পরিণত করেছে, যা জনগণের অধিকার হরণের শামিল। তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত আইনের পরিপন্থি এবং এতে বাগেরহাটের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। বক্তারা আরও দাবি করেন, চারটি আসন বহাল না থাকলে এই আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

পথসভায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম.এ সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমির আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুসসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে বিদায় জানিয়ে দাবি আদায় করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ক্যানসার ভ্যাকসিনে রাশিয়ার যুগান্তকারী সাফল্য

প্রাণঘাতী ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জন করেছে রাশিয়া। দেশটির তৈরি নতুন ভ্যাকসিন “এন্টারোমিক্স” ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে এবং এখন রোগীদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল মেডিকেল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সি (এফএমবিএ)।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন অর্থনৈতিক ফোরামে এফএমবিএর প্রধান ভেরোনিকা স্কভোর্টসোভা এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে চলা গবেষণা এবং তিন বছরের প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এন্টারোমিক্স ভ্যাকসিনটি তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যে প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির মাধ্যমে। তবে ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এই ভ্যাকসিন দুর্বল ভাইরাস ব্যবহার না করে মানব শরীরের কোষগুলোকে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা দেয়। ওই প্রোটিনগুলো শরীরে প্রবেশের পর ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বারবার ডোজ দেওয়ার পরেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—ভ্যাকসিন নেওয়া রোগীদের মধ্যে অনেকের টিউমারের আকার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছোট হয়েছে অথবা টিউমারের বৃদ্ধি অনেকাংশে কমে গেছে।

এছাড়া, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাথমিকভাবে এ ভ্যাকসিনটি কোলন ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা গ্লিওব্লাস্টোমা (এক ধরনের মস্তিষ্কের ক্যানসার) এবং বিভিন্ন ধরনের মেলানোমা (গুরুতর ত্বকের ক্যানসার, যার মধ্যে চোখের মেলানোমাও রয়েছে) মোকাবিলায় নতুন ভ্যাকসিন তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার চিকিৎসা জটিল, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই ভ্যাকসিন সেটিকে সহজ ও কার্যকর করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কৃত্রিম মিষ্টি দ্রুত কমাচ্ছে স্মৃতিশক্তি: নতুন গবেষণা

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাসপার্টেম, স্যাকারিনসহ কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত খাবার ও পানীয় মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও শব্দ স্মরণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কম ক্যালোরি যুক্ত এই মিষ্টি জনপ্রিয় হলেও, নিয়মিত গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্লডিয়া কিমি সুয়েমোটোর নেতৃত্বে পরিচালিত আট বছরের গবেষণায় ১২,৭৭২ জন সরকারি কর্মচারীর ওপর পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, যারা দৈনন্দিন জীবনে বেশি কৃত্রিম মিষ্টি গ্রহণ করেছেন, তাদের জ্ঞানীয় কার্যকারিতা ৬২% দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যা প্রায় ১.৬ বছরের অতিরিক্ত বার্ধক্যের সমান।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে ৬০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি, মৌখিক সাবলীলতা ও মানসিক কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যবহারিত কৃত্রিম মিষ্টির মধ্যে ছিল:

  • অ্যাসপার্টেম
  • স্যাকারিন
  • অ্যাসেসালফেম
  • এরিথ্রিটল
  • সরবিটল
  • জাইলিটল

এগুলি সাধারণত ডায়েট সোডা, মিষ্টি দই, কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে ব্যবহৃত হয়।

গবেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চিনির বিকল্প হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, তাই প্রাকৃতিক বিকল্প যেমন মধু বা ম্যাপেল সিরাপ ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সফট ড্রিঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্টারন্যাশনাল সুইটেনারস অ্যাসোসিয়েশন মনে করিয়ে দিয়েছে, এই গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক, সরাসরি কার্যকারণ প্রমাণ করে না এবং বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম মিষ্টি নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম মিষ্টির সাথে মস্তিষ্কের বার্ধক্যের সম্পর্ক লক্ষ্য রেখে সচেতনভাবে প্রাকৃতিক বিকল্প গ্রহণ করা উচিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কিডনির পাথর প্রতিরোধে জীবনধারায় সতর্কতা জরুরি

কিডনি শরীরের রেচন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। কিডনিতে লবণ ও খনিজ জমে তৈরি হওয়া এসব পাথর চিকিৎসা না করলে তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি ও জটিলতা সৃষ্টি করে।

ভারতের চিকিৎসক ডা. মোহিত খিরবাত জানান, সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারে। কিডনিতে পাথর এড়াতে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন—

১. প্রচুর তরল পান করুন
প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এতে প্রস্রাব পাতলা হয় এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে। যাদের ওজন বেশি, তাদের আরও বেশি পানি পান করা উচিত।

২. লবণ গ্রহণ কমান
অতিরিক্ত লবণ শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।

৩. অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করুন
পালং শাক, বিটরুট, বাদাম ও চকোলেটে থাকা অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করে। যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাদের এসব খাবার এড়ানো দরকার।

৪. উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন বেছে নিন
প্রাণিজ প্রোটিন ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে পাথর তৈরি করে। তাই ডাল, বিন, টোফুর মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুন
কোলা, সোডা ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়তে ফসফরিক অ্যাসিড বেশি থাকে, যা কিডনির ক্ষতি করে। পরিবর্তে পানি ও প্রাকৃতিক ফলের রস পান করা ভালো।

৬. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন
স্থূলতা প্রস্রাবের অ্যাসিড-বেস ভারসাম্য নষ্ট করে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস কিডনি সুস্থ রাখতে কার্যকর।


মো:আল-আমিন



যে ১০ অভ্যাসে শিশুরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে

শিশুরা সমাজসেবা করার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে। এখানে ১০টি সমাজসেবা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

০১. টিফিন শেয়ার করা:

শিশুরা সহপাঠীদের সাথে টিফিন শেয়ার করলে দরিদ্রদের সাহায্য করে এবং অতিথি সেবার গুণাবলী অর্জন করে।

০২. অসুস্থ গুরুজনের সেবা করা:
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের সেবা করা শিশুদের মমত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।

০৩. পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা:
শিশুরা নিজেদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে তা সদকাস্বরূপ হয়ে যায়।

০৪. পড়ায় পিছিয়ে থাকা বন্ধুদের সাহায্য করা:
শিশুরা তাদের সহপাঠীদের পড়াশোনায় সাহায্য করলে সওয়াব অর্জন করে।

০৫. অন্যকে পানি পান করানো:
পানি পান করানো এক মহান সদকা, যা শিশুরা সমাজসেবায় অংশগ্রহণ হিসেবে করতে পারে।

০৬. ছোটদের প্রতি সদাচার করা:
শিশুরা তাদের ছোটদের সাহায্য করে নেক কাজের মধ্যে থাকবে।

০৭. প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার:
প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে, তাদের সাহায্য করা শিশুর জন্য সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

০৮. উপকারীর জন্য দোয়া করা:
যে কেউ তাদের উপকার করলে, তার জন্য দোয়া করে শিশুরা সওয়াব অর্জন করতে পারে।

০৯. প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া করা:
গৃহপালিত প্রাণী ও গাছের প্রতি সদয় আচরণ করা শিশুর জন্য সমাজসেবার আরেকটি বড় সুযোগ।

১০. হাসিমুখে কথা বলা:

শিশুরা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে।

এভাবে শিশুরা সমাজে ভালো কাজের মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী গড়ে তুলতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।