রান্নার গ্যাস চুলা: স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজন কিছু সতর্কতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বর্তমান সময়ে গ্যাসের চুলা রান্নার জন্য সবচেয়ে প্রচলিত ও সহজলভ্য উপায় হলেও এর মাধ্যমে বায়ুদূষণ ঘটতে পারে, যা শ্বাসকষ্টজনিত রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। এক সময় মাটির চুলা, কাঠের চুলা, স্টোভ ইত্যাদি ব্যবহার করে গ্রামবাংলার ঘরে খাবার রান্না হতো। কিন্তু আজকাল গ্যাসের চুলার সহজলভ্যতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে এই চুলা ব্যবহারে তৈরি হওয়া দূষিত গ্যাস শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানিজনিত সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্যাসের চুলা ব্যবহারের ফলে রান্নাঘরের বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, বেনজিন ফরমালডিহাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যায়। এসব উপাদান শিশুদের হাঁপানিজনিত রোগ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

গ্যাসের চুলার স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে করণীয়:
১. রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, চিমনি বা এক্সহস্ট ফ্যান লাগান।

২. রান্নাঘরের জানালা বা দরজা খোলা রাখুন।

৩. ইলেকট্রনিক কুকার বা হিটারের ব্যবহার বাড়াতে পারেন, যা গ্যাস চুলার তুলনায় কম ক্ষতিকর।

৪. রান্নার গ্যাসের চুলা ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন এবং শিশুদের দূরে রাখুন।

বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলি আপনাকে ও আপনার পরিবারকে দূষণজনিত রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




পেটের চর্বি কমাতে ৫টি কার্যকরী উপায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পেটের চর্বি জমা শরীরের জন্য বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে লিভার ও অন্ত্রের কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পেশি ও জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়া এবং পেইন মেডিসিনে পেটের চর্বির ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি উঠে এসেছে। তবে, পেটের চর্বি কমাতে কিছু কার্যকরী পদ্ধতি রয়েছে:

১. জীবনধারা পরিবর্তন:
দৈনন্দিন জীবনের কাজ যেমন হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানোর মাধ্যমে শরীর সক্রিয় রাখতে পারেন, যা অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

২. সুষম খাবার:
চর্বিযুক্ত ও চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করে আস্ত ফল, শাকসবজি এবং শস্যজাত খাবার খেতে চেষ্টা করুন।

৩. মানসিক স্থিতি:
মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম ও ধ্যানের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখুন, যা কর্টিসল হরমোনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম:
প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমায়।

৫. পর্যাপ্ত পানি পান:
শরীরের হজম ও মেটাবলিজম ভালো রাখতে এবং চর্বি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান খুবই কার্যকর।

এই ছোটখাট পরিবর্তনগুলি আপনাকে পেটের চর্বি কমাতে এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউজ১৮




কৈশোরে চুল পড়া রোধে করণীয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: প্রতি দিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক, তবে কৈশোরে অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া আশঙ্কাজনক হতে পারে। কৈশোরে চুল পড়া কিশোর-কিশোরীদের ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ভারতীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ রিংকি কাপুর জানিয়েছেন, পরিবেশগত কারণ ও হরমোনের পরিবর্তন কিশোর বয়সে চুল ঝরে যাওয়ার প্রধান কারণ। এছাড়াও কৈশোরে চুল পড়ার কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে:

১. বংশগতি:
জিনগত প্রভাবে পরিবারের সদস্যদের মতোই কিশোরদের মধ্যেও চুল পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

২. থাইরয়েডের সমস্যা:
থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের কারণে চুলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়, যার ফলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।

৩. পুষ্টির অভাব:
খাদ্যাভাসে প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন এবং জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে।

৪. মানসিক চাপ:
চাপে থাকলে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে কিশোররা, যা চুল ঝরার কারণ হতে পারে।

৫. চুলের অত্যধিক স্টাইলিং:
কেমিক্যাল ব্যবহার, স্ট্রেটনার ও ড্রায়ার বেশি ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়তে থাকে।

কৈশোরে চুল পড়া রোধে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং চুলের যত্নে সচেতন হওয়া উচিত। নিয়মিত তেল ব্যবহার এবং কম রাসায়নিক ব্যবহারে চুল ঝরা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




জাপানিজ ডায়েট ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধে সহায়ক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাপানিদের দীর্ঘ আয়ু ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা রয়েছে। সম্প্রতি, ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এই খাদ্যাভ্যাসে প্রচুর পরিমাণে নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করে।

নিউক্লিক অ্যাসিড হলো প্রাকৃতিক একটি যৌগ, যা সব ধরনের জীবন্ত জীবনে উপস্থিত। যখন আমরা এই যৌগগুলো গ্রহণ করি, তখন তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নিউক্লিওটাইড এবং নিউক্লিওসাইডে ভেঙে যায়। অধ্যাপক কোজিমা-ইউয়াসার পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিউক্লিক অ্যাসিডের এই ভাঙন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সক্ষম। বিশেষ করে স্যামন এবং উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে এই নিউক্লিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি।

গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি উৎসের নিউক্লিক অ্যাসিড যৌগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে: সালমন মিল্ট এবং টরুলা ইস্ট। বিজ্ঞানীরা এই দুটি উৎসের আরএনএ ও ডিএনএ ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুক্ত করে ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণ পেয়েছেন যে, এই যৌগগুলো ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। গুণগতভাবে এদের মধ্যে গুয়ানোসিন নামক যৌগের উপস্থিতি ক্যানসার কোষের প্রতিলিপি প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়, ফলে কোষের বৃদ্ধি থমকে যায়।

গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করেছে যে, গুয়ানোসিনের খাদ্য উৎস ও সম্পর্কিত রাসায়নিকগুলো ক্যানসার প্রতিরোধের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও গবেষণা এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তবে এটি জাপানিজ ডায়েটের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।




ফ্রিজে কতদিন পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিভিন্ন ধরনের মাংস ফ্রিজে রাখার সময়সীমা নির্দিষ্ট। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে মাংস দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস ফ্রিজে রাখতে চাইলে আগে থেকে সংরক্ষণের নিয়মগুলো জেনে নেয়া জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের পর মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

গরু ও খাসির মাংস: কাঁচা গরু বা খাসির মাংস সাধারণ ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন ভালো থাকে। যদি মাংস দীর্ঘ সময়ের জন্য রাখতে চান, তাহলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ডিপ ফ্রিজে গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। রান্না করা মাংস সাধারণ ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন ভালো থাকে এবং ডিপ ফ্রিজে ৬ মাস পর্যন্ত রাখা নিরাপদ।

মুরগির মাংস: কাঁচা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত তাজা থাকে। তবে ডিপ ফ্রিজে রাখতে চাইলে সেটি ৯ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। আস্ত মুরগির ক্ষেত্রে ডিপ ফ্রিজে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ সম্ভব। রান্না করা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে কয়েক দিন ও ডিপ ফ্রিজে ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

কিমা ও সসেজ: মাংসের কিমা সাধারণত ডিপ ফ্রিজে ৪ মাস পর্যন্ত নিরাপদে রাখা যায়। সসেজ সাধারণ ফ্রিজে দুই দিন এবং ডিপ ফ্রিজে ২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন।

ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন যেন মাংস সম্পূর্ণ মুখবন্ধ পাত্রে রাখা হয়। এর মাধ্যমে মাংস থেকে আসা গন্ধ বা ব্যাকটেরিয়া ছড়ানো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যথাযথ সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার সংরক্ষিত মাংস দীর্ঘ সময় তাজা ও স্বাস্থ্যকর থাকবে।




বলিরেখা কমাতে ডিমের কার্যকর ব্যবহার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বয়সের ছাপ কমাতে ও ত্বককে টানটান রাখতে অনেকেই খোঁজ করেন সহজ ও ঘরোয়া উপায়। বলিরেখা দূর করতে ডিমের প্যাক ব্যবহার একটি জনপ্রিয় সমাধান। ডিমে থাকা প্রোটিন ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে মসৃণ ও টানটান করে তোলে। নিয়মিত ডিমের প্যাক ব্যবহার ত্বকের ছিদ্র সঙ্কুচিত করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি দেওয়া হলো যেগুলো নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে এনে দিতে পারে সতেজতা ও কোমলতা।

১. মধু, লেবু, অলিভ অয়েল, অ্যালোভেরা, দই ও হলুদের মিশ্রণ: একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু, ১ চা চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ অলিভ অয়েল, আধা চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ চা চামচ দই এবং আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. ডিমের সাদা অংশের ফেসপ্যাক: ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে ত্বকে পাতলা করে লাগান। শুকিয়ে গেলে ত্বক টানটান হয়ে যাবে, এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩. গাজরের রস ও ডিমের সাদা অংশ: ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে গাজরের রস মেশান এবং ত্বকে পাতলা করে লাগান। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করলে বলিরেখা কমবে।

৪. লেবুর রস ও ডিমের সাদা অংশের প্যাক: তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে তাতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. জয়ফল ও ডিমের সাদা অংশের ফেসপ্যাক: ডিমের সাদা অংশে সামান্য জয়ফল গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে টিস্যু দিয়ে টেনে তুলে ফেলুন এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

৬. দই ও ডিমের ফেসপ্যাক: একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ দই মিশিয়ে ত্বকে লাগান। সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করলে বলিরেখা কমে যাবে এবং ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৭. মুলতানি মাটি ও ডিমের সাদা অংশ: এক চা চামচ মুলতানি মাটি ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। ২০ মিনিট রেখে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।




শীতকালে সহজে পালনীয় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শীতকাল ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে পরিচিত, যা মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে ইবাদত করা তুলনামূলক সহজ হয় এবং এতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বেশি পাওয়া যায়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, “শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল।” (মুসনাদে আহমাদ: ১১৬৫৬)।

নিচে শীতকালে করা যায় এমন পাঁচটি সহজ আমল তুলে ধরা হলো:

১. নফল রোজা রাখা: শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় রোজা রাখা সহজ হয়। এটি এক ধরনের সওয়াব অর্জনের সুযোগ; হাদিসে বলা হয়েছে, “শীতকালের গনিমত হচ্ছে এ সময় রোজা রাখা।” (তিরমিজি: ৭৯৫)

২. শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো: দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সহায়তায় শীতের মৌসুমে পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষার অন্যতম অংশ। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আত্মীয়-স্বজনকে দাও তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৬)

৩. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়: শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সহজ হয়। আল্লাহ ঈমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেছেন, “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে…” (সুরা সাজদাহ, আয়াত: ১৬)

৪. অজু ও গোসলের গুরুত্ব: শীতকালে শরীর শুষ্ক থাকায় অজু ও গোসল যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “অজু করার সময় পায়ের গোড়ালি যেসব স্থানে পানি পৌঁছেনি, সেগুলোর জন্য জাহান্নাম।” (মুসলিম: ৪৫৮)

৫. গাছের পাতা ঝরে পড়া দেখে শিক্ষা গ্রহণ: হাদিসে বলা হয়েছে, “কোনো বান্দা ‘আলহামদু লিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ এবং লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বললে তা তার গুনাহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয়; যেভাবে এ গাছের পাতা ঝরে পড়ে।” (তিরমিজি: ৩৫৩৩)




মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কৌশল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: প্রতিদিনের জীবনে রাগ বা মেজাজ হারানো স্বাভাবিক একটি বিষয়, তবে এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রাগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কিছু কৌশল রয়েছে, যা মেনে চললে মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

প্রথমত, কোনো বিষয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক অনুভূতিটিকে নিজের মনে রেখে একটু সময় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত। ধীরস্থির হয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে পরিস্থিতি আরও সুন্দরভাবে সামাল দেওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নজর দিন। রাগের মুহূর্তে শ্বাস ধীরে ও গভীরভাবে নেওয়া মনের অস্থিরতা কমায় এবং দেহকে শান্ত রাখে। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তৃতীয়ত, মনোযোগ পরিবর্তন করার কৌশলটি কার্যকরী। যদি কোনো বিষয় মেজাজ খারাপ করে দেয়, তবে সাময়িকভাবে সেই পরিবেশ থেকে সরে গিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দিন। একটু হেঁটে আসা, গান শোনা বা প্রিয় বইটি পড়া মেজাজকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

চতুর্থত, নেতিবাচক অনুভূতিকে ভালো কাজে প্রয়োগ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন, পরীক্ষায় খারাপ করলে সেই হতাশা থেকে শক্তি সংগ্রহ করে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো যায়। এতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

পঞ্চমত, রাগের সময় অন্যের বক্তব্য শোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ জানা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে রাগ কমে যায়।

সবশেষে, নিজেকে সংযত রাখতে হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেকে শান্ত রাখা এবং সংযত আচরণ বজায় রাখা সমাধানের প্রধান পথ।




ফ্রিজে ভাত কতদিন সংরক্ষণ করা নিরাপদ?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রান্না করা ভাত বেশি হয়ে গেলে অনেকেই তা ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করেন, তবে এই ভাত কতদিন পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যাবে তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্না করা ভাত সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা নিরাপদ। এর বেশি সময় ফ্রিজে রেখে দিলে ভাতে ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে শুরু করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও পেটে প্রবেশ করলে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

ভাত ফ্রিজে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত সংরক্ষণের জন্য বায়ুনিরুদ্ধ বা ঢাকনা দেওয়া পাত্র ব্যবহার করা উচিত। এমন পাত্রে রাখা ভাত দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে। অন্যদিকে, বড় বা খোলা পাত্রে ভাত রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে মাত্র এক দিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ খোলা পাত্রের ভাত দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে পানি বেরোতে থাকে এবং তাতে বিশ্রী গন্ধ হয়। সুতরাং, ভাত ফ্রিজে সংরক্ষণ করার জন্য সবসময় বায়ুনিরুদ্ধ পাত্রই ব্যবহার করা উচিত।

ভাত রাখার সময় আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—ভাত গরম অবস্থায় ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। রান্না হয়ে গেলে ভাত ঠান্ডা করে তবেই ফ্রিজে রাখতে হবে। গরম অবস্থায় ফ্রিজে রাখলে তাতে দ্রুত পচন ধরতে পারে। আর খাওয়ার আগে ফ্রিজ থেকে ভাত বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে দিতে হবে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, ভাত গরম করার সময় তা আবার ফুটিয়ে নেওয়া নিরাপদ।

ফ্রিজ থেকে ভাত বের করার পর যদি দেখা যায় তা নরম হয়ে আঠালো হয়ে গেছে বা কালো বা হলদেটে ছোপ পড়েছে, তাহলে বুঝতে হবে সেই ভাতে ছত্রাক বা জীবাণু বাসা বেঁধেছে। এমন ভাত খাবার ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা ফেলে দেওয়াই উত্তম। তাই, একটু সচেতন হয়ে ভাত সংরক্ষণ এবং খাওয়ার প্রক্রিয়া মেনে চললে খাদ্যবিষক্রিয়া এড়ানো সম্ভব।




দাঁত ও মাড়ির সুস্থতায় দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: নিজের শরীরের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি দাঁতের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন না নিলে দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যায় ভুগতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। দ্য গার্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমে দন্তচিকিৎসকরা এই বিষয়ে কয়েকটি কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন।

দাঁতের ক্ষতির মূলে চিনি
ডায়াবেটিসসহ অনেক রোগের প্রধান কারণ চিনি। চিনি দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটির জন্যও প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রখ্যাত যুক্তরাজ্যের ডেন্টিস্ট ট্রিস্টান রবার্টস বলেন, বর্তমানে প্রায় সব খাবারে চিনি থাকে, যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, অতীতে ক্যাভিটির সমস্যা কম ছিল কারণ খাবারে এত চিনি ছিল না। চিনি মুখে অগণিত ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়, যা দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি করে। তাই চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দেয়া উচিত।

ইলেকট্রিক টুথব্রাশের উপকারিতা
ট্রিস্টান রবার্টসের মতে, দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় ইলেকট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার দারুণ উপকারী। এটি দাঁত ও মাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। তবে অবশ্যই ভালোমানের ইলেকট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত, যা মাড়ি ও দাঁতের জন্য উপকারী।

স্ন্যাক্স কমিয়ে দিন
দাঁতের যত্নে খাদ্যাভ্যাসের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। অনেকেই তিনবেলার খাবারের পাশাপাশি স্ন্যাক্স এবং মিষ্টি পানীয় গ্রহণ করেন। কর্নওয়ালের ডেন্টিস্ট জেনা মুরগাট্রয়েডের মতে, শুধুমাত্র সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, বিকেলের চা ও রাতের খাবারে মিষ্টি খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণের কারণে বারবার ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, যা দাঁতের ক্ষতি করে।

সকালের নাশতার আগে এবং রাতে ব্রাশ করুন
সকালে নাশতার আগে এবং রাতে খাবারের পর ব্রাশ করার অভ্যাস থাকা উচিত। ট্রিস্টান রবার্টস বলেন, দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ক্যাভিটি এবং মাড়ির সমস্যা কমে যায়।

ব্রাশ করার পর মাউথওয়াশ ব্যবহার না করার পরামর্শ
অনেকেই ব্রাশের পর মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন, যা সঠিক নয়। কারণ টুথপেস্টের ফ্লোরাইড মাউথওয়াশের তুলনায় বেশি কার্যকর। ব্রাশের আধা ঘণ্টা পরে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।