ভূমিকম্পের পর কেন মাথা ঘোরে? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

মাত্র ৩১ ঘণ্টায় টানা চারটি ভূমিকম্প—বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন এক অস্বস্তি তৈরি করেছে। ঘরবাড়ি দুলে ওঠার ভয় সরে যাওয়ার পরও অনেকের মনে হচ্ছে, যেন আবার কাঁপুনি শুরু হলো। কেউ কেউ রাতের ঘুম হারাচ্ছেন, কেউ আবার অকারণে আতঙ্কে ভুগছেন। ভূমিকম্পের পর এমন অনুভূতি খুবই সাধারণ হলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় পোস্ট-আর্থকোয়েক ডিজিনেস সিনড্রোম (Post-Earthquake Dizziness Syndrome) বা পেডস (PEDS)। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর পর দেশের বহু মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গটি হঠাৎ ঝাঁকুনি খায়। কাঁপন থেমে গেলেও সেই অস্থিরতা কিছু সময় ধরে বজায় থাকে। পাশাপাশি ভূমিকম্পের ভয় মানসিক চাপ তৈরি করে, মস্তিষ্কও তখন ঝাঁকুনির স্মৃতি ধরে রাখে। ফলে বাস্তবে ভূমিকম্প না হলেও মাথা দুলছে, মাটি নড়ছে—এমন অনুভূতি দীর্ঘ সময় থাকতে পারে।

এই অবস্থার সঙ্গে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এর মিলও রয়েছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার পর শরীর ও মন যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, পেডসও তারই একটি রূপ।

এই সমস্যার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো, চারপাশ নড়ছে বলে অনুভব হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে হাঁটতে সমস্যা, বমি ভাব, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, একা থাকতে ভয় পাওয়া, অনিদ্রা, দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত বিরক্তিভাবও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা যায়। বিশেষ ব্যায়াম করে কানের ভারসাম্য স্বাভাবিক করা, মানসিক চাপ কমানোর থেরাপি, প্রয়োজন হলে ওষুধ—এসবই কার্যকর সমাধান।

ভূমিকম্প শুধু মাটি নয়, মানুষের মনও কাঁপিয়ে দেয়। সেই ঝাঁকুনির চাপ স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। বুক ধড়ফড়, ঘাম হওয়া, শরীর কাঁপা বা বমি বমি ভাব—এসবই মানসিক চাপের শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তাই চিকিৎসা ছাড়া এসব উপসর্গ দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অনশন ভাংতে কেন ডাবের পানি খাওয়া হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : দাবি-দাওয়া আদায়ে মানুষজন ভিন্ন রকমের কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেটি যেমন শান্তিপূর্ণ হতে পারে, তেমনি হতে পারে সংহিস। তবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলো আমরণ অনশন, যে প্রথাটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। এখনও সেটা চালু রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিতে অন্য কারও ক্ষতি না হলেও অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেজন্য বড় রকমের অসুস্থতার হাত থেকে থেকে রক্ষা পেতে অনশনকারীকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ।

পুষ্টিবিদরা বলছেন– ক্ষুধা লাগার পরেও না খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। এমনকি রক্তচাপ কমে যেতে পারে, হতে পারে পেশি ক্ষয়। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলে শরীরে শক্তি কমে যায়। ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা অনুভব হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। মেজাজ খারাপ হতে পারে। এতে করে হজমশক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যায়— অ্যাসিড বাড়ে, এনজাইম কমে, আর অন্ত্রের মুভমেন্ট ধীর হয়।

আর দীর্ঘমেয়াদে তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের বা অন্যদেরও রক্তের সুগারের মাত্রা অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকরী। এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে। ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময়ও শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

এছাড়াও ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্টই শুধু করে না, পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে একজন মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতিটা হয়– হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, অ্যাসিড বাড়ে। ডাবের পানি পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে।




খাদ্য নিরাপত্তা: বর্তমান সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ

খাদ্য নিরাপত্তা আজকের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়। এর মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যকে জীববৈজ্ঞানিক, রাসায়নিক বা ভৌত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা এবং অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি প্রতিরোধ করা। আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, বিশ্বায়নের দ্রুততা এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা এখন এক জটিল চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বায়নের ফলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা অনেক জটিল ও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, দ্রুত নগরায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাদ্য উৎপাদন খাদ্য নিরাপত্তার উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া, খাদ্যবাহিত রোগ, দূষণ এবং মানহীন খাদ্যের কারণে প্রতি বছর লাখো মানুষ অসুস্থ হয় এবং অনেকে মারা যায়। তাই খাদ্য নিরাপত্তা শুধু স্বাস্থ্য বা বিজ্ঞান বিষয় নয়—এটি একটি বহুমাত্রিক জননীতি ও প্রশাসনিক বিষয়, যেখানে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হন এবং প্রায় ৪২০,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে বিশ্বব্যাপী ৩৩ মিলিয়ন ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার (DALYs) হারানো হয়, যা মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে।

একবিংশ শতাব্দীতে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নতুন রূপে এসেছে। উদীয়মান ঝুঁকি যেমন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করছে। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যিক ও আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

ঐতিহ্যিক খাদ্য নিরাপত্তা ছিল প্রতিক্রিয়াশীল—কোনো দূষণ বা রোগ প্রাদুর্ভাব ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আধুনিক যুগে খাদ্য নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিরোধমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আচরণনির্ভর। প্রযুক্তিগত, নিয়ন্ত্রক এবং শিক্ষামূলক কৌশল একত্রিত করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক আচরণ, সাংস্কৃতিক অভ্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার মান নির্ধারণে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস (Codex Alimentarius) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে Food Safety Management System (FSMS) প্রণয়ন করতে হয়, যা ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ধারণ করে। HACCP এবং GMP পদ্ধতি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আইন, মানদণ্ড ও নির্দেশিকা প্রণয়নের মাধ্যমে উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়। খাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবেশক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও তাদের দায়িত্ব। WHO-র Global Strategy for Food Safety 2022–2030 দলিলে বলা হয়েছে: “দক্ষ কর্তৃপক্ষকে খাদ্য নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা ও যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”

আদর্শ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় Behaviour-Based Safety Management গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি মানবকেন্দ্রিক সাংগঠনিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেয়, যেখানে কর্মীদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়। Risk-Based Food Safety Strategy বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পদ ও হস্তক্ষেপের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

Farm-to-Fork বা “ক্ষেত থেকে টেবিল” ধারণার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিটি ধাপে—উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ভোগ—নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সরকার ইতিমধ্যে Bangladesh Food Safety Authority (BFSA) গঠন করেছে। তবে কার্যকর প্রয়োগ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ভোক্তা সচেতনতার ঘাটতি এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র এক দেশের দায়িত্ব নয়। এটি একটি বৈশ্বিক নৈতিক ও নীতিগত দায়বদ্ধতা। বিজ্ঞাননির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মানবকেন্দ্রিক সংগঠন সংস্কৃতি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। খাদ্য নিরাপত্তা এখন শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রেমে পড়ার পেছনের লুকানো কারণ! জানলে অবাক হবেন আপনি

প্রেমে পড়া যেন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিশেষ করে বর্তমান যুগে ডেটিং একটি সাধারণ সামাজিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। মস্তিষ্কের জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলেই একজন মানুষ অন্যজনের প্রতি গভীর আকর্ষণ ও আসক্তি অনুভব করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — কেবল “ভালো লাগা” কি সম্পর্কের একমাত্র কারণ? নাকি এর পেছনে আরও লুকানো কারণ রয়েছে?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন মানুষ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে —

ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি এক ধরনের মানসিক আশ্রয়। অনেকেই সম্পর্কে জড়ান কারণ এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, মনে প্রশান্তি দেয়। যখন কেউ আপনাকে ভালোবাসে, আপনার খোঁজ নেয়, তখন নিজের প্রতিও একধরনের ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়। এই ভালো লাগাই মানুষকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ সম্পর্কে জড়ান আনন্দ ও ভালোবাসা খোঁজার জন্য। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কারো সঙ্গে হাসি, কথা, সময় ভাগ করে নেওয়াই হয়ে ওঠে মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম। এমন সম্পর্ক মানুষকে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলো উপভোগ করতে শেখায়।

অনেক সময় মানুষ ডেট করে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে বা খুঁজে পেতে। সবার মতো সম্পর্কের পথে হাঁটতে গিয়েই তারা আবিষ্কার করে নিজেদের পছন্দ, সীমাবদ্ধতা ও অনুভূতির গভীরতা। যখন দুজনের বোঝাপড়া স্বাভাবিক হয়, তখন সম্পর্কটি হয়ে ওঠে সহজ ও প্রাণবন্ত।

তবে অনেকেই মনে করেন, প্রেম মানুষকে সম্পূর্ণ করে তোলে। একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতার মাঝে কারো সঙ্গ মানুষকে মানসিকভাবে শান্তি দেয়। অন্যের ভালোবাসা যেন নিজের অস্তিত্বকে আরও পূর্ণ করে তোলে।

আবার কেউ কেউ সম্পর্কে জড়ান ভবিষ্যতের স্থায়ী সম্পর্ক বা বিয়ের উদ্দেশ্যে। ডেটিংয়ের মাধ্যমে তারা বুঝে নেন, কে হতে পারে জীবনের উপযুক্ত সঙ্গী। কারো মূল্যবোধ, স্বভাব ও মানসিকতার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাওয়া সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সবশেষে, অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক চাপও মানুষকে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে। নির্দিষ্ট বয়সে ডেট করা বা সম্পর্কে থাকা সমাজে একধরনের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকে শুধুমাত্র মানিয়ে নিতে বা সামাজিক প্রশ্ন এড়াতে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

সব মিলিয়ে, ভালোবাসা শুধু অনুভূতির নয়, এটি এক ধরনের মানবিক প্রয়োজনও বটে। তবে সম্পর্ক যেন হয় পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে — তবেই তা দীর্ঘস্থায়ী সুখ এনে দিতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালের ৫টি ভুল অভ্যাসে নষ্ট হচ্ছে কিডনি! জেনে নিন এখনই

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি, যা শরীর থেকে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের কিছু ছোট ছোট ভুল অভ্যাস নিঃশব্দে কিডনির ক্ষতি করছে— যা অনেক সময় আমরা টেরই পাই না। চিকিৎসকরা তাই কিডনির সমস্যাকে বলেন ‘নিঃশব্দ ঘাতক’।

ভারতের প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. ভেঙ্কট সুব্রামণিয়াম জানিয়েছেন, “আপনার কিডনি সারারাত কাজ করে শরীরকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। তাই সকালে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।” তাঁর মতে, কয়েকটি সাধারণ সকালের অভ্যাস পরিবর্তন করলে কিডনিকে সহজেই সুস্থ রাখা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি সকালের অভ্যাস, যা অজান্তেই কিডনির ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে—

১️⃣ পানি না খেয়ে চা/কফি পান করা
অনেকে ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফি পান করেন, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। সকালে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

২️⃣ প্রস্রাব আটকে রাখা
অলসতার কারণে অনেকে সকালে প্রস্রাব আটকে রাখেন। এতে মূত্রনালিতে সংক্রমণ হতে পারে, যা ধীরে ধীরে কিডনি ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। তাই ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব করে ফেলাই উচিত।

৩️⃣ ব্যায়ামের পর পানি না খাওয়া
ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়। ব্যায়ামের পর পর্যাপ্ত পানি বা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় পান না করলে কিডনি ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

৪️⃣ খালি পেটে ব্যথানাশক সেবন
খালি পেটে পেইনকিলার খাওয়া কিডনির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এই ওষুধ কিডনির ফিল্টারিং প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বা খালি পেটে কোনো ব্যথানাশক খাওয়া উচিত নয়।

৫️⃣ সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালে নাস্তা করেন না। এতে শরীর দুর্বল হয়, রক্তে সুগার লেভেল কমে যায় এবং কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই সকালে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাস্তা করা অত্যন্ত জরুরি।

এই সহজ ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কিডনির প্রকৃত সুরক্ষা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালের শুরু হোক এক মুঠো ভেজানো ছোলায়

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দিন শুরু করেন এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। কিন্তু জানেন কি, খালি পেটে এক মুঠো ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের জন্য হতে পারে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো? দামে কম হলেও গুণে ভরপুর এই ছোলা শুধু শক্তি জোগায় না, বরং শরীরের ভেতর-বাহিরে আনে আশ্চর্য পরিবর্তন।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ভেজানো ছোলা খেলে শরীর পায় প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ। এটি শুধু পেট ভরায় না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করে।

ছোলায় থাকা ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা দমন করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে এর কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। এতে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিন বাড়ায়, শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে।

তবে শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বাহ্যিক সৌন্দর্যেও ছোলার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। এতে থাকা ভিটামিন A, B6, জিঙ্ক এবং ম্যাঙ্গানিজ চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া রোধ করে এবং আগা ফাটা প্রতিরোধ করে। নিয়মিত ছোলা খেলে চুল হয় ঘন, মজবুত ও প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল।

ত্বকের জন্যও ছোলা এক অনন্য উপাদান। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা, দাগ ও বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে। ছোলা নিয়মিত খেলে ত্বক হয় তরতাজা, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

এছাড়া ছোলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। এটি শরীরের রক্তনালীকে মজবুত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ভেজানো ছোলা এক কথায় প্রাকৃতিক শক্তির ভাণ্ডার। এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর পাবে ভরপুর শক্তি, মন থাকবে সতেজ, আর সারাদিন জুড়ে কাজের উদ্যম বজায় থাকবে।

তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক মুঠো ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই সামান্য পরিবর্তন আপনার জীবনে আনবে বিশাল ইতিবাচক প্রভাব—ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বক ও চুলের যত্ন—সবকিছুতেই মিলবে সুস্থতার পরশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর খাবারে কমতে পারে মাইগ্রেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : মাইগ্রেন এক জটিল স্নায়বিক সমস্যা, দীর্ঘ সময় ধরে এই যন্ত্রণা চলতে থাকলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সমস্যার আশঙ্কাজনক দিক হলো এটির কোন স্থায়ী বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব মাইগ্রেনের তীব্রতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়ম মেনে চললে মাইগ্রেনের সঙ্গে লড়াইটা একটু সহজ হয়ে উঠতে পারে।জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যকর কিছু খাবার খাদ্যাভ্যাসে রাখলে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে মাইগ্রেনের সঙ্গে লড়তে।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমবে যে সব খাবার খেলে –

পর্যাপ্ত পানি পান: বহু শারীরিক সমস্যার সমাধানই করতে পারে পানি। মাইগ্রেনের একটি সাধারণ কারণ হতে পারে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন। এজন্য মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন নিয়ম পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।

কলাঅনেক সময়ে খালি পেটে থাকলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া) হয়ে মাথা ধরে যেতে পারে। সেটাই মাইগ্রেনের ব্যথায় পরিণত হতে পারে। চটজলদি মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে একটি কলা খেয়ে নিতে পারেন। ম্যাগনেশিয়ামের ভরপুর এই ফল খেলে খুব দ্রুত শরীর সতেজ করতে সাহায্য করে এবং মাইগ্রেনের আশঙ্কাও কমায়।

বাদাম: বাদামে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। এই উপাদানটি মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফলে কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে এই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নেওয়াই যায়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট খাওয়ার অভ্যাস করা যেতেই পারে।

তেলযুক্ত মাছ: ইলিশ, রুই, কাতলা, পমফ্রেটের মতো মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ভরপুর মাত্রায় থাকে। খাদ্যাভ্যাসে এমন মাছ রাখলে মাথা যন্ত্রণার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

শাক তাজা ফল: তাজা ফল এবং শাকসবজি ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। পালংশাকে ভিটামিন বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই সব উপাদান মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে কাজে লাগে। তাই এই শাক খাদ্যাভ্যাসে রাখা যেতেই পারে।

আদা চা: মাইগ্রেন শুরু হলে বমি বমি ভাব আসে, শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়। এই সমস্যা দূর করতে আদা চায়ে চুমুক দিতে পারেন। আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ মাইগ্রেনের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে, কোনও রকম ক্রনিক অসুখ থাকলে খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 




“স্ক্রিনের জগতে শিশুরা হারাচ্ছে মনোযোগ ও মেধা”

আগে শিশুদের আনন্দের উৎস ছিল টিভি কার্টুন। আজ সেই স্থান দখল করেছে স্মার্টফোন, ইউটিউব, ভিডিও গেম এবং নানা অ্যাপ। বিনোদনের অপার সম্ভার বেড়েছে, কিন্তু বই পড়ার আগ্রহ ও মনোযোগ কমে গেছে।

কানাডার সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি শিশুকে নিয়ে চালানো এই গবেষণায়, শৈশবে প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা বেশি স্ক্রিন টাইম নিলে ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা ৯ শতাংশ কমে যায়।

গবেষকরা জানান, শিশুরা বেশি স্ক্রিনে সময় কাটালে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। যদিও লেখার ক্ষেত্রে ক্ষতি কম, তবু পড়া বোঝার ক্ষমতা ও আগ্রহ কমে যায়। এক গবেষক রসিকতার ছলে বলেন, “ওরা লিখতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন করলে বলে ‘গুগলে খুঁজে দেখুন।’”

তাদের পরামর্শ, অভিভাবকরা ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করবেন। দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ডিভাইস ব্যবহার না করা, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার না করা এবং পড়ার সময় ডিভাইস বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা সতর্ক করছেন, ছোটবেলায় গড়ে ওঠা অভ্যাসই পরবর্তী জীবনের মনোযোগ, শেখার দক্ষতা এবং মেধার বিকাশ নির্ধারণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সকালে খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা ও সতর্কতা

বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে অ্যাপল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উপাদান। শুধু রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করে না, বরং শরীরের বিপাক, হজম এবং পুষ্টি শোষণেও সাহায্য করে। বিশেষ করে খালি পেটে নিয়মিত এটি পান করলে স্বাস্থ্য উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
অ্যাপল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড শরীরে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
এটি ক্ষুধা কমায়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। নিয়মিত পান করলে ওজন কমানো এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।

৩. হজমশক্তি বাড়ায়
অ্যাপল সিডার ভিনেগার পেটের অ্যাসিড নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাবার ভালোভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে খাবারের পর পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমে। পাশাপাশি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
নিয়মিত পান করলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে। এটি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রক্তনালির সুরক্ষা বাড়ায়।

৫. ত্বকের জন্য উপকারী
এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। খালি পেটে এটি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ থাকে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

  • দাঁতের এনামেল ক্ষয়
  • বুক জ্বালা বা পেটের অস্বস্তি
  • গলায় জ্বালা

কিছু ওষুধের (যেমন ইনসুলিন, মূত্রবর্ধক বা হার্টের ওষুধ) সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরামর্শ: খালি পেটে ১–২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানি বা লবণমুক্ত জুসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করবেন না।

 

আল-আমিন

 




ফুসফুস সুস্থ রাখার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ফুসফুস আমাদের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিন আমরা হাজার হাজার বার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করি। ফুসফুস সুস্থ না থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, দুর্বল শরীর এবং বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, পরিবেশ ও কিছু রোগ ফুসফুসকে অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

১. ধূমপান:
ধূমপান ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু। সিগারেট বা হুক্কার ধোঁয়ায় থাকা টার, রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থ ফুসফুসের টিস্যুতে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদি ধূমপান শ্বাসকষ্ট, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরোক্ষ ধূমপানও সমানভাবে ক্ষতিকর।

২. দূষিত বাতাস:
শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ দিনে দিনে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ধুলা, ধোঁয়া, কার্বন মনোক্সাইড ও সূক্ষ্ম কণার কারণে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকা হাঁপানি, সিওপিডি (COPD) ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ডেকে আনতে পারে।

৩. সংক্রমণ:
নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ সরাসরি ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। চিকিৎসা না করলে এগুলো স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

৪. অ্যালার্জি ও অ্যাজমা:
ধুলা, পোলেন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবারের কারণে অ্যালার্জি হলে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের প্রদাহ দেখা দেয়। অ্যাজমা রোগীদের ফুসফুসের নালীগুলো অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস দুর্বল করে।

৫. পেশাগত ঝুঁকি:
কারখানা, নির্মাণস্থল বা খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা নিয়মিত ধুলা, রাসায়নিক ধোঁয়া বা অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে থাকেন। এতে ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

৬. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা:
শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো ফুসফুসও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকে। অলস জীবনযাপন বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ফুসফুস দুর্বল হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৭. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
ভাজা খাবার, জাঙ্ক ফুড বা প্রিজারভেটিভসমৃদ্ধ খাবার শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে, যা শ্বাসনালীতেও প্রভাব ফেলে। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসকে সংক্রমণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

ফুসফুস সুস্থ রাখার পরামর্শ:

  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
  • বাইরে থাকলে মাস্ক ব্যবহার করুন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ফুসফুসের ক্ষতি ধীরে ধীরে হয় এবং প্রথম দিকে টের পাওয়া যায় না। সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফুসফুসকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম