মশার কামড় থেকে হতে পারে ভয়াবহ রোগ

বর্তমানে মশার কামড়ে শুধু ডেঙ্গু নয়, হতে পারে আরও মারাত্মক সব রোগ। ডেঙ্গুর প্রকোপ দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই এখন মশাবাহিত রোগের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর পাশাপাশি ইয়েলো ফিভার, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, জিকা, সিন্ডবিসসহ ভয়াবহ রোগগুলোর কথা জেনে সাবধান থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু:

এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। এ রোগে শরীরে ব্যথা, লাল গুটি, মাংসপেশী এবং হাড়ের জোড়ায় ব্যথা দেখা দেয়। চরম পর্যায়ে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। আবার দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে তা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ইয়েলো ফিভার:

টাইগার মশা ও এডিস প্রজাতির মশা ইয়েলো ফিভার ছড়ায়। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশে এ রোগের ঝুঁকি বেশি। লক্ষণ হিসেবে জ্বর, বমি এবং পরে মেনিনজাইটিস দেখা দেয়।

চিকুনগুনিয়া:

কয়েক বছর আগে চিকুনগুনিয়া দেশে মহামারির রূপ নেয়। এর ফলে হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, একবার চিকুনগুনিয়া হলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম।

ম্যালেরিয়া:

অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এ রোগে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

জিকা ভাইরাস:

২০১৫ সালে জিকা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এডিস মশা এই ভাইরাস বহন করে। গর্ভবতী নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হলে নবজাতকের মধ্যে শারীরিক বিকৃতি দেখা দিতে পারে।

সিন্ডবিস:

কুলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ানো এ রোগে জ্বর, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা দেখা দেয়।

ওয়েস্ট নাইল ফিভার:

বয়স্ক বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের জন্য এই রোগ ভয়াবহ হতে পারে। এতে মেনিনজাইটিস এবং মায়োকার্ডিটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লাইশম্যানিয়াসিস:

গর্ভবতী মশার কামড়ে ছড়ানো এই রোগে ত্বকের ক্ষত, জ্বর এবং মাথাব্যথা দেখা দেয়। চিকিৎসার অভাবে এটি লিভার ও কিডনিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিরোধ:

মশাবাহিত এসব রোগ থেকে বাঁচতে মশা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার বিকল্প নেই। ঘরে-বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং মশার কামড় এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিরতি নিয়ে দক্ষতা আয়ত্ত করার বিজ্ঞান

নতুন কিছু শেখার সময় অধিকাংশ মানুষ একটানা অনুশীলনেই বিশ্বাসী। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু হুবারম্যান বলছেন, এই পদ্ধতির চেয়ে কার্যকর হতে পারে অনুশীলনের মাঝে ছোট বিরতি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ সেকেন্ডের বিরতি দক্ষতা আয়ত্তের প্রক্রিয়াকে সুপারচার্জ করতে পারে।

কেন বিরতি গুরুত্বপূর্ণ?

অনুশীলনের সময় বিরতি নেওয়া শুধুমাত্র বিশ্রাম নয়; এটি শেখার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গবেষণা বলছে, বিরতির সময় আমাদের মস্তিষ্ক অনুশীলিত বিষয়গুলোকে বিদ্যুতগতিতে পুনঃপ্রspাদন করে। মস্তিষ্কের নিউরনগুলো দ্রুত কাজ শুরু করে এবং শেখা বিষয়গুলোকে শক্তিশালী করে।

কীভাবে কাজ করে?

১. নিউরাল রিপ্লে:
বিরতির সময় মস্তিষ্ক পুনরায় অনুশীলনের বিষয়গুলো রিওয়াইন্ড করে এবং স্নায়ু পথগুলোকে শক্তিশালী করে। এটি এমন যেন আপনি প্র্যাকটিস ছাড়াই দক্ষতার উন্নতি করছেন।

২. তথ্যের একত্রীকরণ:
একটানা কাজ করার পরিবর্তে বিরতি দিলে মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণে পর্যাপ্ত সময় পায়। এটি দক্ষতার দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি ঘটায়।

কীভাবে অনুশীলনে বিরতি নেবেন?

ছোট অংশে অনুশীলন: কয়েক মিনিটের জন্য নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর কাজ করুন।

১০-১৫ সেকেন্ডের বিরতি: অনুশীলনের মাঝে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে মস্তিষ্ককে কাজ করার সুযোগ দিন।

বিরতির নিয়মিত ব্যবহার: প্রতিটি সেশনে বিরতির কৌশল প্রয়োগ করুন।

অনুশীলনের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া আলসেমি নয়, বরং এটি শেখার একটি কৌশল। মস্তিষ্ককে তার নিজস্ব গতিতে কাজ করতে দিয়ে দক্ষতা আয়ত্তের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং কার্যকর করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাগ কমানোর উপায়: অতিরিক্ত রাগের ক্ষতিকর প্রভাব

রাগ একটি স্বাভাবিক অনুভূতি, যা অনেক সময় আমাদের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত রাগ শরীর ও মনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রিত রাগ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, কিন্তু অতিরিক্ত রাগ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে।

অতিরিক্ত রাগের ক্ষতিকর প্রভাব

১. হৃদযন্ত্রের ক্ষতি
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাগের ফলে হৃদপিণ্ডের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায়। এ কারণে হাই ব্লাড প্রেসার, হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হ্রাস এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ হৃদযন্ত্র বজায় রাখতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. হজমে ব্যাঘাত
অতিরিক্ত রাগ অন্ত্রের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে হজম সমস্যা, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা বা গ্যাস্ট্রোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী রাগ অন্ত্রের স্বাস্থ্যকেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি
অতিরিক্ত রাগ উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং একাগ্রতার অভাব তৈরি করে। এটি মস্তিষ্কের সুস্থ চিন্তাশক্তিকে নষ্ট করে এবং জীবনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলে।

রাগ কমানোর কার্যকর উপায়

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: রাগ অনুভব করলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন।

মেডিটেশন: প্রতিদিন কিছুক্ষণ মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পরামর্শ গ্রহণ: প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মনোবিদের সঙ্গে আলোচনা করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম: শরীরচর্চা শুধু রাগ কমায় না, মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।

রাগ জীবনের একটি অংশ হলেও অতিরিক্ত রাগ আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনে। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সিভি তৈরি করবেন কীভাবে: পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে থাকুন

আপনার ক্যারিয়ারের সাফল্যের প্রথম ধাপ হতে পারে একটি নিখুঁত সিভি। কিন্তু কেবল একটি সুন্দর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেটি হতে হবে সঠিক কৌশলে সাজানো এবং প্রাসঙ্গিক। জেনে নিন, সিভি তৈরির এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল যা আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।

১. প্রতিটি পদের জন্য আলাদা সিভি তৈরি করুন

একটি সাধারণ সিভি ব্যবহার না করে প্রতিটি চাকরির বিবরণ পড়ে সিভি কাস্টমাইজ করুন। নির্দিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী সিভি সাজান। উদাহরণস্বরূপ, যদি চাকরিটি ডিজিটাল মার্কেটিং সংক্রান্ত হয়, তবে আপনার ডিজিটাল দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন।

২. সিভি সহজ ও পরিষ্কার রাখুন

পেশাদার ফন্ট এবং সহজে পড়ার মতো ফরম্যাট ব্যবহার করুন। ভারসাম্যপূর্ণ বিন্যাস এবং পর্যাপ্ত সাদা স্থান রাখুন যাতে নিয়োগকারী সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে পারেন। এমন একটি নকশা বেছে নিন যা সিম্পল কিন্তু আকর্ষণীয়।

৩. প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড যোগ করুন

বেশিরভাগ বড় প্রতিষ্ঠান অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম (ATS) ব্যবহার করে। সিভিতে কাজের বিবরণ থেকে উপযুক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কাজের বিবরণে “ডেটা অ্যানালিটিক্স” উল্লেখ থাকে, তবে সেই অভিজ্ঞতা আপনার সিভিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

৪. অর্জনকে গুরুত্ব দিন

কাজের বিবরণ না দিয়ে আপনার অর্জনগুলো স্পষ্ট করুন। উদাহরণস্বরূপ, “আমি একটি দল পরিচালনা করেছি” বলার পরিবর্তে লিখুন, “আমি পাঁচ জনের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই প্রকল্প শেষ করেছি, যা ১৫% খরচ বাঁচিয়েছে।”

৫. যোগাযোগ দক্ষতা তুলে ধরুন

আপনার যোগাযোগ দক্ষতার উদাহরণ দিন, বিশেষত টিমওয়ার্ক এবং সমস্যা সমাধানে। উদাহরণস্বরূপ, উল্লেখ করতে পারেন, “আমি একটি জটিল পরিস্থিতি সমাধান করেছি যা একটি দলের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করেছে।”

শেষ কথা

একটি শক্তিশালী সিভি কেবল একটি কাগজ নয়, এটি আপনার পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। কৌশলগুলো অনুসরণ করলে আপনার সিভি নিয়োগকারীর নজরে আসবে এবং পছন্দের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



খেজুর: সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধের চমৎকার সমাধান

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য খেজুর হতে পারে অন্যতম সমাধান। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই প্রাকৃতিক মিষ্টি খাদ্য শরীরের নানা উপকারে আসে।

খেজুরে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দিনে মাত্র কয়েকটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে আরও শক্তিশালী করে।

খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমিয়ে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি শুধু অসুস্থতা দূরে রাখে না, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

ওজন কমাতে খেজুরের ভূমিকা

খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমায়। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি, এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এটি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

খেজুরের বহুমুখী ব্যবহার

খেজুর সাধারণত কাঁচা খাওয়া হলেও এটি স্মুদি, কেক বা ডেজার্টে ব্যবহার করা যায়। এটি চিনি বা গুড়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা স্বাদে এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা পালন করে।

ওয়ার্কআউটের জন্য আদর্শ স্ন্যাক

ওয়ার্কআউটের আগে শক্তি জোগাতে প্রাক-ব্যায়াম স্ন্যাক হিসেবে খেজুর আদর্শ। এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তিশালী রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন

আজই আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে খেজুর যোগ করুন। এর মিষ্টি স্বাদ ও অসাধারণ পুষ্টিগুণ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে কার্যকর পরামর্শ

বায়ুদূষণ এবং ধূমপানের কারণে বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষ নানা ধরণের ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার অন্যতম। তবে কিছু ঘরোয়া অভ্যাস অনুসরণ করে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফুসফুসের যত্ন নেওয়ার সহজ কিছু পদ্ধতি।

মুখের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

ফুসফুস ভালো রাখতে মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ এবং জিহ্বা পরিষ্কার করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া দেহে প্রবেশ করতে পারে না।

ডিটক্স ওয়াটার পান করুন

ফুসফুস পরিষ্কার করতে মধু-গরম পানি, লেবুর শরবত, সবুজ চা, গাজরের রস, হলুদ ও আদার মিশ্রণ কার্যকর। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে ২-৩ সপ্তাহেই ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি হয়।

হ্যালোথেরাপি নিন

লবণ থেরাপি বা হ্যালোথেরাপি হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং কাশির জন্য উপকারী। এটি ফুসফুসের শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে।

ওরিগানো অয়েলের ব্যবহার

ওরিগানো অয়েল ও আমন্ড অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন ১-২ ফোঁটা জিহ্বার নিচে রেখে কুলকুচি করলে ফুসফুস ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়। এই পদ্ধতি এক মাস ধরে অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

গরম পানিতে গোসল করুন

সপ্তাহে অন্তত ৩ বার গরম পানিতে গোসল করুন বা স্টিম বাথ নিন। এটি ফুসফুসের শ্লেষ্মা কমাতে সহায়ক।

শ্বাসের ব্যায়াম করুন

শ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ঠোঁট পাউট করে শ্বাস ছাড়ুন। প্রতিদিন ৪-৫ বার এই ব্যায়াম করলে বায়ু চলাচল সহজ হয়।

মসলাদার খাবার বাদ দিন

পনির, মাখন, দই, এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ফুসফুসের শ্লেষ্মা বাড়ায়। এসব খাবার থেকে দূরে থাকুন।

ফুসফুস সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস অনুসরণ করে দেখুন। আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্য দ্রুত উন্নতি হতে শুরু করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিজেই নিজের ক্ষতি করার পাঁচটি কারণ ও করণীয়

নিজের জীবনকে উন্নত করার বদলে অনেক সময় আমরা নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর অভ্যাস তৈরি করি। এগুলো ধীরে ধীরে আমাদের সুখ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সম্পর্ককে নষ্ট করতে পারে। এমন কিছু অভ্যাস আছে যা আমরা না বুঝেই প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কাজগুলো আমাদের ক্ষতির কারণ এবং এগুলো থেকে মুক্তির উপায়।

জীবনকে প্রতিযোগিতা মনে করা

অন্যদের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করা বা সবকিছুতেই প্রতিযোগিতায় জড়ানো এক বিপর্যয়কর অভ্যাস। জীবন কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এটি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মানের জায়গা। পরিবর্তে নিজের শক্তি এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

ঝকঝকে জীবনের মোহ

উচ্চ বেতন, সামাজিক স্বীকৃতি, বা বিলাসবহুল জীবনধারাকে সুখের একমাত্র মানদণ্ড বানানো মানে নিজেকে চাপের মধ্যে ফেলা। বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে, জীবনের ছোট খুশিগুলোকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

অতীতের ক্ষত আঁকড়ে ধরা

অতীতের অভিযোগ বা ভুলগুলোকে ধরে রাখা মানে বর্তমানকে নষ্ট করা। এগুলো আপনাকে সামনের দিকে এগোতে বাধা দেবে। পুরনো আক্ষেপ ভুলে নতুন সূচনা করার মানসিকতা গড়ে তুলুন।

সব ভাবনাকে সঠিক মনে করা

নিজের প্রতিটি ভাবনা বা বিশ্বাসকে সঠিক ধরে নেওয়া আত্মসমালোচনা এবং শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের চিন্তাগুলোকে বিশ্লেষণ করুন এবং প্রয়োজনে অন্যের মতামত গ্রহণ করুন।

দায়িত্ব এড়িয়ে চলা

নিজের সমস্যার জন্য সবসময় পরিবেশ বা অন্যদের দোষারোপ করা আত্মোন্নতির পথে বড় বাধা। নিজের অবস্থার উন্নতি করতে দায়বদ্ধ হোন এবং সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে মুখ ও হাত-পায়ের চামড়া উঠলে কী করবেন?

শীতকালের আগমন না হলেও অনেকেই এখনই ত্বকে শুষ্কতা ও চামড়া ওঠার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে মুখ, হাত, ও পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং কিছু ক্ষেত্রে পিলিং বা ত্বকের খোসা ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত, এসব সমস্যা ক্রিম বা ভ্যাসলিন মাখলেও দ্রুত সমাধান হয় না। তবে, এর পেছনে রয়েছে কিছু কারণ এবং সঠিক যত্ন নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ত্বক শুষ্ক ও খোসা ওঠার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায়-

ত্বক শুষ্ক হওয়ার কারণ:

১. শীত বা গরমের প্রভাব:
শীত বা অত্যাধিক গরম ত্বকের আর্দ্রতা হ্রাস করে। যখন ত্বক প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারায়, তখন তা শুষ্ক হয়ে যায় এবং পিলিং হতে পারে। শীতে বিশেষ যত্ন নিতে না পারলে ত্বক আরো শুষ্ক হয়ে পড়ে।

২. পানিশূন্যতা:
শীতকালে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, যা ত্বককে ডিহাইড্রেটেড (পানিশূন্য) করে তোলে। এতে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং ত্বকে খোসা ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে যাতে ত্বক আর্দ্র ও কোমল থাকে।

৩. প্রসাধনীর ক্ষতিকর প্রভাব:
বিভিন্ন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো ত্বকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এসব কেমিক্যাল ব্যবহারে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং পিলিংয়ের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

৪. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
অ্যান্টিবায়োটিক বা কোনো কড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ত্বকের চামড়া উঠে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে এসব ওষুধ গ্রহণ করলে ত্বকে খোসা ওঠার সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

৫. রোদে পোড়ানো:
রোদে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা সানট্যানের কারণে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ত্বকে ফোস্কা পড়তে পারে এবং পরবর্তীতে ত্বকের চামড়া উঠতে পারে।

ত্বকের যত্ন নেওয়ার উপায়:

১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং:
শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। আপনি অ্যালো ভেরা, নারিকেল তেল বা গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বককে আর্দ্র রাখবে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করবে।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
পানিশূন্যতা এড়াতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এতে ত্বক সুস্থ ও কোমল থাকবে এবং পিলিংয়ের সমস্যা কমবে।

৩. সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার:
ত্বকের জন্য সঠিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন, যা কেমিক্যাল মুক্ত এবং ত্বকের জন্য উপযোগী। আলাদা আলাদা ত্বক (যেমন: শুষ্ক ত্বক, তৈলাক্ত ত্বক) অনুযায়ী উপযুক্ত প্রসাধনী নির্বাচন করুন।

৪. সানস্ক্রিন ব্যবহার:
রোদে বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এতে ত্বক রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং ত্বকে পিলিং হতে কম হবে।

৫. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:
শীতে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান, যেমন- লেবু, শসা, গাজর, এবং পর্যাপ্ত ফ্যাট গ্রহণের জন্য বাদাম এবং তেলযুক্ত খাবার।

৬. নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করুন:
ত্বকের পরিচর্যা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা পরিষ্কার না করা উচিৎ, কারণ এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ ও সমাধান

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া এমন একটি সমস্যা, যা শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অনেক সময় সাময়িক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চলুন জেনে নিই এর কারণ ও প্রতিকার।

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ:

১. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ:
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অবসাদের কারণে অনেকেরই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

২. মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার:
রাত পর্যন্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. শারীরিক সমস্যা:

ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি (পুরুষদের ক্ষেত্রে)

হৃদরোগের কারণে শ্বাসকষ্ট

গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ের অস্বস্তি

৪. খাবারের অভ্যাস:

রাতে অনেক দেরি করে খাবার খাওয়া।

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া, যা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এর কারণ হতে পারে। এর ফলে শোবার পর কাশি, গলা জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়:

১. সূর্য ডোবার পর চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
২. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. বিকেলে নিয়মিত হাঁটুন।
৪. ঘুমানোর ৪ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন।
৫. রাতে বেশি দেরি করে শোবেন না।
৬. খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর শুতে যান।
৭. ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।
৮. প্রার্থনা বা ধ্যান করুন।
৯. শারীরিক সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

**মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম**

 




শরীরের ডিটক্সে দিন শুরু করার ৫ উপায়

সকালের ডিটক্স রুটিন শরীর ও মনের জন্য আশ্চর্যজনক উপকার নিয়ে আসে। এটি শুধু বিষাক্ত পদার্থ দূর করে না, বরং শক্তি বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখে। নিচে এমন ৫টি উপায় দেওয়া হলো, যা সকাল ৯টার আগে আপনার ডিটক্স রুটিনে যোগ করতে পারেন।

১. নারিকেল তেল ব্যবহার:
প্রাচীন একটি পদ্ধতি হিসেবে নারিকেল তেল মুখ ও শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। সকালে এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল মুখে ঘষলে মুখের টক্সিন দূর হয়, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং প্রদাহ কমে। এটি দাত ও মুখ পরিষ্কার রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

২. গভীর শ্বাস নেওয়া:
ভোরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুস পরিষ্কার করে এবং মানসিক চাপ কমায়। সহজ একটি পদ্ধতি হলো: ৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখা, এবং ৮ সেকেন্ডে ধীরে শ্বাস ছাড়া। এটি রক্তকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ করে এবং শরীরকে দিন শুরু করার জন্য প্রস্তুত করে।

৩. আদা-লেবু-পানিতে চুমুক:
হালকা গরম পানিতে লেবু এবং আদা মিশিয়ে পান করলে এটি প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। লেবু শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আদা হজমে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে এই পানীয় আপনাকে দিনভর সতেজ রাখবে।

৪. হালকা গরম পানিতে গোসল:
সকালের হালকা গরম পানির গোসল ঘামের মাধ্যমে টক্সিন বের করে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় তেল যোগ করলে ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। ১০-১৫ মিনিটের এই গোসল মানসিক চাপ কমিয়ে আপনাকে তরতাজা রাখবে।

৫. হাঁটা এবং যোগব্যায়াম:
সকালে হাঁটাহাঁটি এবং যোগব্যায়াম রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্স প্রক্রিয়া উন্নত করে। প্রাকৃতিক আলো ভিটামিন ডি সরবরাহ করে এবং সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সকালে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করলে আপনি শরীর ও মনের সুস্থতা উপভোগ করতে পারবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম