ব্যায়ামে কমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

ব্যায়াম শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, মানসিক রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিয়ানজিন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক শুকি ওয়াং ও লিয়াও জু ১২ বছর ধরে ডিমেনশিয়া নিয়ে এক বিস্তৃত গবেষণায় দেখিয়েছেন, হৃদপিণ্ড এবং যকৃত সুস্থ থাকলে এই রোগের ঝুঁকি কমে।

গবেষণার প্রক্রিয়া

‘ইউকে বায়োব্যাঙ্ক’ এর আওতায় ৩৯ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর এ গবেষণা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা যাচাই করতে ৬ মিনিট স্থির বাইকের উপর ব্যায়াম করানো হয়। এ পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস বেশি, তাদের স্মৃতি, চিন্তার গতি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বেশি।

কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস বলতে বোঝায় শারীরিক ক্রিয়ার সময় পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহের পরিমাণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ ফিটনেস কমে যায়। ৭০ বছরে পৌঁছানোর আগেই প্রতি ১০ বছরে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা ২০% হ্রাস পায়। তবে নিয়মিত ব্যায়াম করলে এ ফিটনেস বজায় রাখা সম্ভব।

ফলাফল

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস ভালো, তাদের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪০% কম। এমনকি বংশগতভাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও এই ফিটনেস রোগের প্রভাব দেড় বছর পেছাতে পারে।

গবেষকরা জানান, ব্যায়াম শুধু ডিমেনশিয়া নয়, আল্জাইমারের মতো স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর। তাই সুস্থ হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিপ্রেশনে নারীদের সংকট ও উত্তরণের উপায়

জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগতে হয় অনেককেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা ডেকে আনে। বিশ্বের নানা গবেষণা দেখায়, ডিপ্রেশন যেকোনো বয়স বা শ্রেণির মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নারীরা পুরুষদের তুলনায় এই মানসিক সমস্যায় বেশি ভোগেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডিপ্রেশন অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃত প্রভাব পড়ে।

কেন নারীরা বেশি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন?

বর্তমান যুগে নারীরা মাল্টিটাস্কিংয়ে বেশি যুক্ত। পরিবারের দায়িত্ব, পেশাগত চাপ এবং ব্যক্তিগত চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে তারা প্রায়ই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিশ্রামের অভাব, পারিবারিক চাপে নিজের চাহিদা উপেক্ষা করা এবং সর্বদা উৎপাদনশীল থাকার চেষ্টা নারীদের বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ায়।

তাছাড়া জৈবিক, হরমোনজনিত এবং সামাজিক চাপও নারীদের ডিপ্রেশনের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তান জন্মের পর অনেক নারী পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভোগেন। এছাড়া ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা বা সামাজিক প্রত্যাশার চাপও বিষণ্নতা সৃষ্টি করে।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ

নারীদের মধ্যে ডিপ্রেশনের কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়, যেমন:

অনিদ্রা ও ক্লান্তি

বিরক্তিভাব

ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া

কাজের প্রতি অনাগ্রহ

নেতিবাচক চিন্তা

একাকিত্ব

স্মৃতিশক্তি হ্রাস

ফোকাস করার সমস্যা

খাবারে অরুচি

মেজাজ পরিবর্তন

সমাধানের উপায়

নারীদের ডিপ্রেশন এড়াতে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

1. যোগব্যায়াম ও ধ্যান: মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম ও ধ্যান খুবই কার্যকর। এটি বিষণ্নতা নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

2. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গুরুতর ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

3. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সময়ের ব্যবস্থাপনা: নিজের জন্য সময় বের করুন। বিশ্রাম নিন এবং নিজের চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দিন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের উচিত ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। না হলে এটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আয়রনের ঘাটতি পূরণে করণীয়

আয়রন শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি খনিজ। এটি শুধু রক্ত ​​প্রবাহের সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় রাখে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও ভূমিকা রাখে। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই আয়রনের ঘাটতি পূরণে খাবারের পরিবর্তন সত্ত্বেও আশানুরূপ উন্নতি হয় না। এর কারণ হতে পারে শরীরে আয়রন শোষণে প্রতিবন্ধকতা। কীভাবে এ সমস্যা সমাধান করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নির্বাচন করুন
আয়রন ঘাটতি পূরণের প্রথম ধাপ হলো সঠিক খাবার নির্বাচন। পালং শাক, খেজুর, ডালিম, চিয়া বীজ, কাজুবাদাম এবং শুকনো এপ্রিকটের মতো খাবার উচ্চ আয়রনসমৃদ্ধ। এগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়ে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক আয়রনের চাহিদা ৪ মিলিগ্রাম এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য এটি ১৮ মিলিগ্রাম।

চা ও কফি এড়িয়ে চলুন
চা এবং কফি আয়রন শোষণ বাধাগ্রস্ত করে। এগুলোতে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন আয়রনের শোষণ কমিয়ে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, চা খেলে আয়রন শোষণ ৩৫% পর্যন্ত এবং কফির সঙ্গে খেলে তা ৬২% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সময় চা-কফি এড়িয়ে চলুন।

ভিটামিন সি যুক্ত করুন
ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়ক। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদির সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। উদাহরণস্বরূপ, শাকসবজি খাওয়ার সময় লেবুর রস ব্যবহার করলে আয়রন শোষণ অনেকটাই বেড়ে যায়।

খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনুন
পালং শাক ছাড়াও চিয়া বীজ, শুকনো এপ্রিকট, কাজুবাদাম, এবং অন্যান্য বাদামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের আয়রনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়।

সতর্কতা ও পরামর্শ
আয়রনের ঘাটতি পূরণে সঠিক খাবার বাছাইয়ের পাশাপাশি জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। চা-কফি কমিয়ে সঠিক সময়ে ভিটামিন সি এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীরের আয়রন শোষণ প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শুষ্ক চোখের সমস্যা: ঘরোয়া প্রতিকার যা আপনাকে আরাম দেবে

শুষ্ক চোখ একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে যারা অধিক সময় স্ক্রিনের সামনে কাটান তাদের জন্য। এটি তখন ঘটে যখন চোখ পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি করতে পারে না বা অশ্রু খুব দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এর ফলে অস্বস্তি, লালচেভাব এবং কখনো কখনো ঝাপসা দৃষ্টিও হতে পারে। যদিও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক চোখের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি, তবে কিছু কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার শুষ্ক চোখের সমস্যা উপশমে সাহায্য করতে পারে এবং অশ্রু উৎপাদন উন্নত করতে পারে। শুষ্ক চোখের জন্য কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় জেনে নিন:

১. উষ্ণ সংকোচন:
উষ্ণ সংকোচন শুষ্ক চোখ উপশমের জন্য একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়। এটি চোখের পাতায় অবরুদ্ধ তেল গ্রন্থি খুলতে সাহায্য করে, যা অশ্রুর তৈলাক্ত স্তর তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অশ্রু বাষ্পীভূত হওয়া প্রতিরোধ করে। একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ডুবিয়ে বন্ধ চোখের ওপর ৫-১০ মিনিট রাখুন। সেরা ফলাফলের জন্য এটি প্রতিদিন ২-৩ বার করুন। একটি গবেষণায় জানা গেছে, উষ্ণ সংকোচন টিয়ার ফিল্ম স্থিতিশীলতা উন্নত করে এবং মেইবোমিয়ান গ্রন্থির কর্মহীনতা কমাতে সাহায্য করে, যা শুষ্ক চোখের একটি প্রধান কারণ।

২. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড:
আমাদের খাদ্য চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাছ, তিসি বীজ, এবং আখরোটের মতো খাবারে পাওয়া যায়, প্রদাহ কমাতে এবং অশ্রুর গুণমান উন্নত করতে সহায়ক। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ সম্পূরক চোখের শুষ্কতার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এবং চোখের স্থিতিশীলতা উন্নত করে।

৩. অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন:
অ্যালোভেরা তার প্রশান্তিদায়ক এবং প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এটি চোখের পাতার চারপাশে বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করলে শুষ্ক চোখ উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। একটি গবেষণায় অ্যালোভেরার প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অশ্রু উৎপাদন উন্নত করতে সহায়তা করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন:

তাজা অ্যালোভেরা জেল বের করে চোখের পাতার চারপাশে অল্প পরিমাণে প্রয়োগ করুন।

চোখে ভেতরে যেন না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই ঘরোয়া উপায়গুলো শুষ্ক চোখের সমস্যার উপশমে সহায়ক হতে পারে এবং চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওজন কমানোর ডায়েট প্লান কেন কাজ করছে না?

ওজন কমানোর বিষয়টি প্রায় সবার কাছে পরিচিত, এবং অনেকেই নানা উপায়ে চেষ্টা করছেন—ক্যালরি গণনা, বাড়তি খাবার এড়িয়ে চলা, এবং আরও নানা কৌশল। তবে, এতকিছুর পরেও আপনার ডায়েট প্লান যদি ঠিকভাবে কাজ না করে, তবে আপনি একা নন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পড়েন। তাহলে কেন আপনার ডায়েট প্লান সফল হচ্ছে না? চলুন জানি কিছু কারণ:

১. দ্রুত সমাধান পেতে চাওয়া:
আপনি যদি দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনার খাদ্য পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, ২-৩ মাসের মধ্যে ১৫-২০ কিলোগ্রাম ওজন কমানোর চেষ্টা করলে তা সম্ভবত সফল হবে না। এ ধরনের দ্রুত ফলাফল অর্জনের চেষ্টা আপনার শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং আপনার শরীর দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল দিতে পারবেন না। শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ফলাফল আসতে সময় লাগে।

২. উদ্দেশ্যহীনভাবে চেষ্টা করা:
অনলাইনে নানা ডায়েট প্লান দেখে আপনিও যদি এগুলোর মধ্যে থেকে কোনো একটি অনুসরণ করেন, তবে সফলতা আশা করা কঠিন। যদি আপনার স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে, তাহলে সাধারণ ডায়েট প্লান আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ডায়েট পরিবর্তন শুরু করার আগে আপনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা এবং স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

৩. উপযোগী খাবার বেছে না নেওয়া:
ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত ডায়েট প্লান বেছে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের জীবনযাপন, সময়সূচী এবং শারীরিক পরিস্থিতি ভিন্ন। আপনার ডায়েট প্লান যদি এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না নেয়, তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। তাই নিজের জীবনযাপন অনুযায়ী ডায়েট পরিকল্পনা সাজান।

৪. কঠোর ডায়েট অনুসরণ:
অনেকেই মনে করেন, কঠোর ডায়েট অনুসরণ করলে দ্রুত ওজন কমানো যাবে। তবে বাস্তবে এমন পরিকল্পনা সবসময় টেকসই হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কেটো ডায়েট—এটি স্বল্পমেয়াদে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে পড়ে। মূল বিষয় হলো ভারসাম্য এবং পরিমিত খাবারের গ্রহণ, কঠোরতা নয়।

তাহলে, এই সকল কারণগুলি যদি আপনার ডায়েট প্লানকে ব্যাহত করে, তবে সময় নিয়ে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোর পথে হাঁটুন এবং আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী উপায়

ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট খাবার রাখা কিংবা বরফ গলে প্যানে জমা হলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত যত্ন ও কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন।

দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী পদ্ধতি:

১. ট্রে পরিষ্কার করা:
সপ্তাহে একবার ফ্রিজের ডিপ প্যান বা ট্রে পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এটি বের করে সব পানি ফেলে দিতে হবে। পরে হালকা গরম পানির স্প্রে ব্যবহার করে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। প্যান শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় ফ্রিজে পুনরায় রাখতে হবে।

২. ফ্রিজের দরজা পরিষ্কার রাখা:
ফ্রিজের দরজার রাবারের গ্যাসকেটটি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হালকা গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় বা স্পঞ্জ এবং সামান্য ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটি পরিষ্কার করুন।

৩. বেকিং সোডা ব্যবহার:
ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে এক বাটিতে বেকিং সোডা রেখে দিন। এটি ফ্রিজের গন্ধ শোষণ করবে।

৪. লেবু বা কমলা:
অর্ধেক কাটা লেবু বা কমলা ফ্রিজে রাখলে সাইট্রাস গন্ধ দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করবে।

৫. আদা ও ভিনেগার:
একটি বাটিতে অল্প পরিমাণ সাদা ভিনেগার ও আদা রেখে দিন। এটি দ্রুত দুর্গন্ধ কমিয়ে দেবে।

৬. কফি ব্যবহার:
ফ্রিজে এক মুঠো কফি রাখলে দুর্গন্ধ দূর হবে।

৭. এসেনশিয়াল অয়েল:
তুলার বলগুলোতে এসেনশিয়াল অয়েল লাগিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। একদিনের মধ্যেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

৮. পানির ফিল্টার পরিবর্তন:
ফ্রিজের ফিল্টারের মেয়াদ শেষ হলে দ্রুত পাল্টে ফেলুন। অনেক সময় পুরনো ফিল্টারের কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে ফ্রিজ দীর্ঘদিন দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিষ্কার থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে ত্বক ও চুলের যত্নের সহজ টিপস

শীত ঋতুতে ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে, হারায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। এ সময় সঠিক যত্ন নিয়ে ত্বক ও চুলকে সুস্থ রাখা সম্ভব। এই বিষয়ে কথা বলেছেন মডেল মৌ রহমান। তার পরামর্শগুলো শীতকালীন যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মৌ রহমান জানান, শীতে ত্বক ও চুল ভালো রাখতে প্রথমেই ময়েশ্চার ধরে রাখার প্রতি মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, “ত্বক ও চুলের সুস্থতার জন্য আমি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করি। শীতের শাক-সবজি খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করি।”

ত্বকের যত্নে মৌ রহমানের পরামর্শ:

১. প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক ব্যবহার: টক দই, চাউলের গুঁড়া, বেসন ও মধু মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ ত্বকে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এটি ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে।
২. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: ওয়াটার বেজড বা জেলজাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি সকালে মুখ ধোয়ার পর, গোসলের পর, এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাখতে হবে।
৩. অ্যালোভেরা জেল: ত্বকে মাঝে মাঝে অ্যালোভেরা জেল লাগান। এটি শুষ্কতা দূর করে ত্বককে আর্দ্র রাখে।
৪. পুষ্টিকর খাবার: শীতের শাক-সবজি খেলে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
৫. অলিভ অয়েল: পুরো শরীরের ময়েশ্চার ধরে রাখতে অলিভ অয়েল নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।

চুলের যত্নে মৌ রহমানের টিপস:

১. হট অয়েল ম্যাসাজ: চুলের ঝলমলে ভাব ধরে রাখতে হট অয়েল ম্যাসাজ অত্যন্ত কার্যকর।
২. প্রাকৃতিক যত্ন: শীতকালে চুলের শুষ্কতা এড়াতে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করতে পারেন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

শীতকালে এই যত্নগুলো নিয়মিত মেনে চললে ত্বক ও চুল উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দীর্ঘ সময় ডায়াপার পরানোর ক্ষতিকর দিক

শিশুর যত্নে ডায়াপার ব্যবহার এক অত্যন্ত কার্যকর উপায়, যা তাদের পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই ডায়াপার পরিয়ে রাখার ফলে শিশুর কোমল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশুর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আর্দ্রতা, জ্বালাপোড়া এবং বায়ুপ্রবাহের অভাবে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। এতে যেমন শারীরিক অস্বস্তি হয়, তেমনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। জেনে নিন, শিশুকে দীর্ঘ সময় একই ডায়াপার পরিয়ে রাখলে কী কী সমস্যা হতে পারে—

১. ত্বকে ফুসকুড়ি:
ডায়াপারের আর্দ্রতা এবং প্রস্রাব-মল ত্বকের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।

২. মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই):
নোংরা বা ভেজা ডায়াপার ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যা মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়, তবে ছেলেরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে।

৩. ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ:
দীর্ঘ সময় ধরে পরা ডায়াপারের উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে ক্যান্ডিডা ইস্টের কারণে ক্যান্ডিডিয়াসিস হতে পারে। এর ফলে ত্বক লাল হয়ে ফোলা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

৪. ত্বক ফেটে যাওয়া:
ডায়াপারের কারণে ত্বক ক্রমাগত ভিজে থাকার ফলে ফেটে যেতে পারে। এর ফলে ঘা বা আলসার তৈরি হয়, যা শিশুর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হতে পারে।

৫. অ্যামোনিয়া ডার্মাটাইটিস:
প্রস্রাব থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া ত্বকের জ্বালাপোড়া বাড়ায়। দীর্ঘ সময় ডায়াপার না বদলালে অ্যামোনিয়া ডার্মাটাইটিস হতে পারে। এটি শিশুর ত্বকে লালচে রং এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।

পরামর্শ:

নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন করুন।

শিশুর ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।

নিম্নমানের ডায়াপার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে এসি বন্ধ করার আগে করণীয়

গরমের সময় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) গরম থেকে মুক্তি পেতে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। একসময় এসি শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন মধ্যবিত্ত পরিবারেও এটি একটি সাধারণ যন্ত্র। তবে শীতের সময়ে এসির প্রয়োজন কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে রাখেন। কিন্তু এসি বন্ধ করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে রাখলে এটি ভালো থাকবে এবং দীর্ঘদিন টিকবে। আসুন জেনে নিই শীতে এসি বন্ধ করার আগে করণীয়গুলো—

১. এসি আনপ্লাগ করুন:
এসি বন্ধ করার আগে এটিকে বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখুন। এটি শর্ট সার্কিট বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

২. ফিল্টার পরিষ্কার করুন:
ফিল্টার পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। স্প্লিট এসি থাকলে সামনের ঢাকনা খুলে সহজেই ফিল্টার বের করে নিতে পারবেন। উইন্ডো এসির ক্ষেত্রে ফ্রন্ট প্যানেল খুলে ফিল্টার বের করতে হবে। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নরম পরিষ্কার কাপড়ে মুছে তা পুনরায় সংযুক্ত করুন।

৩. এসির বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন:
এসির বাইরের অংশে ধুলো জমে থাকতে পারে। একটি নরম কাপড় বা ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করলে এসি দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে।

৪. এসির ভেতরের অংশ পরীক্ষা করুন:
যদি সম্ভব হয়, এসির ভেতরের কন্ডেনসার, ইভাপোরেটর, এবং পাইপগুলো পরীক্ষা করুন। ধুলো বা ময়লা জমে থাকলে তা পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।

৫. ঢাকা দিয়ে রাখুন:
লম্বা সময়ের জন্য এসি ব্যবহার না করলে এটি ঢেকে রাখুন। একটি ঢাকনা ব্যবহার করলে ধুলো বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

এসি রক্ষণাবেক্ষণের এই সাধারণ নিয়মগুলো অনুসরণ করলে এটি ভালো থাকবে এবং পরবর্তী গরমের মৌসুমে সঠিকভাবে কাজ করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করণীয়

শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি শিরায় জমা হয়ে ধমনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিচে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সহজ কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।

ফাইবারযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ান

খাবারের তালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করুন। বার্লি, তুষ, গোটা গমের আটা, শণের বীজ, বাদাম, পেস্তা, সূর্যমুখী বীজ ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করুন। মটরশুটি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, ওটমিল, আপেল, ও নাশপাতির মতো ফল-মূল কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে শরীর থাকবে সুস্থ।

ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপান শুধুই ক্ষতিকর অভ্যাস নয়, এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধূমপান বন্ধ করলে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে। হৃদরোগ, ফুসফুস ক্যান্সার, বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ধূমপান পরিহার করুন।

প্রোটিন ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার

প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। মুরগির মাংস, ডিমের সাদা অংশ, আখরোট, বাদাম এবং সামুদ্রিক মাছ খেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এই উপাদানগুলো যোগ করলে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম

প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যায়াম করুন। এটি কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটার মতো কার্যক্রম শরীরের রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।

অপ্রয়োজনীয় চর্বি পরিহার

খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণের অভ্যাস বদলাতে হবে। বিশেষত প্রসেসড ফুড এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

নিজের যত্ন নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই আপনি সুস্থ থাকতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম