অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস এড়াতে কার্যকর পরামর্শ

অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক চাপ, একঘেয়েমি, বা অসচেতন অভ্যাস থেকে এটি শুরু হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, এবং অন্যান্য বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

খাবার এড়িয়ে যাবেন না
দিনের কোনো খাবার, বিশেষত প্রাতঃরাশ এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকলে শরীর স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি খাওয়ার তাড়া দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। সময়মতো সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন
অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা বলে ভুল করা হয়। শরীরের প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি প্রয়োজন, যা খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে সহজ করে। খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে তৃষ্ণা মিটবে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমবে।

খাবারের প্রতি লোভ নিয়ন্ত্রণ করুন
আপনার যখন ক্ষুধা লাগে না, তবু কিছু খেতে ইচ্ছে করে, তখন নিজেকে সময় দিন। বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। যদি তখনও খাওয়ার ইচ্ছে থাকে, তাহলে বুঝবেন সত্যিই ক্ষুধার্ত। অন্যথায় এটি খাবারের প্রতি লোভ মাত্র। এভাবে নিজের খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে ধৈর্য এবং সচেতনতা প্রয়োজন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, এবং নিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করার কার্যকর উপায়

শীতের সময় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে অনেকের ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। এটি শুধু তৈলাক্ত ত্বক নয়, শুষ্ক ত্বকেও হতে পারে। ঠান্ডা বাতাস ত্বক শুষ্ক করে তোলে এবং এই শুষ্কতা থেকে বাঁচার জন্য ত্বক সিবাম উৎপাদন শুরু করে। সিবাম অতিরিক্ত হয়ে গেলে ত্বকের ছিদ্র আটকে গিয়ে ব্রণ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বারবার মুখ স্পর্শ করবেন না
ত্বকে ব্রণ দেখা দিলে বারবার মুখ স্পর্শ না করাই ভালো। হাতের জীবাণু ব্রণের সংক্রমণ বাড়াতে পারে। সেইসঙ্গে ত্বকের শুষ্কতা রোধ করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত হাইড্রেটেড থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ব্রণের সমস্যা কমে। শীতের সময় হিটার, ব্লোয়ার, বা গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলুন। এসব কারণে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন
শীতে ব্রণের সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে অ্যালোভেরা জেল। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন এবং সকালে তা ধুয়ে ফেলুন। এটি শুধু ব্রণই দূর করবে না, ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও কমাবে। তবে কারও যদি অ্যালোভেরায় অ্যালার্জি থাকে, তবে এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক কার্যকর হতে পারে। এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া, মেথির গুঁড়া, এক চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ব্রণের স্থানে লাগিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন বা সারারাত রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতের সময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক খাবার গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নতুন বছরে ওজন কমানোর সহজ উপায়

নতুন বছর শুরুর আগে অনেকেই নিজের শরীর নিয়ে সচেতন হতে চান। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফিট থাকা বেশিরভাগ মানুষেরই লক্ষ্য। মাত্র কয়েকটি নিয়ম মানলে খুব সহজেই ৮-৯ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই কীভাবে—

সকাল শুরু করুন এভাবে

১. লেবু পানি:
এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে একটি লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে খান। এটি শরীরের টক্সিন দূর করে এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
২. চিয়া বীজ:
চিয়া বীজ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে খান। এতে থাকা ফাইবার দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সকালের ব্রেকফাস্টে যা খাবেন

১. ওটস:
ওটস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি জোগায়।
২. টাটকা ফল:
আপেল, পেঁপে বা কমলালেবু খেতে পারেন। এতে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়।
৩. ডিম:
সেদ্ধ ডিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। দিনে এক বা দুটি সেদ্ধ ডিম খেলে মাংসপেশি শক্ত থাকে।

দুপুরের খাবার

১. শাকসবজি ও সালাদ:
টাটকা সবুজ শাক, সালাদ এবং সেদ্ধ সবজি রাখুন। এগুলোতে কম ক্যালোরি এবং বেশি পুষ্টি থাকে।
২. প্রোটিন:
ডায়েটে মসুর ডাল, ছোলা বা পনির রাখুন। এটি পেশি তৈরিতে সহায়ক।

সন্ধ্যার খাবার

১. বাদাম ও বীজ:
বাদাম, আখরোট এবং সূর্যমুখী বীজ খান। এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে এবং এটি দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়।
২. গ্রিন টি:
গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মেটাবলিজম বাড়ায় এবং চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।

রাতের খাবার

১. হালকা খাবার:
রাতে স্যুপ, সেদ্ধ সবজি বা সালাদ খান। এগুলো সহজে হজম হয়।
২. প্রোটিন:
কম চর্বিযুক্ত দই, পনির বা চিকেন ব্রেস্ট খেলে শরীর মেরামত হয় এবং ওজন কমে।

অতিরিক্ত টিপস

পানি পান: প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীর হাইড্রেটেড রাখে এবং টক্সিন দূর করে।

ব্যায়াম: সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি ওজন কমাতে সহায়তা করবে।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে নতুন বছরে ফিট থাকা সহজ হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা কেন জরুরি?

আমাদের জীবনে নানা ধরনের টানাপোড়েন থাকে। এটি স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো অন্যের কাছে প্রকাশ না করাই সর্বোত্তম। বর্তমান সময়ে অনেকেই আবেগের বশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করেন। যদিও এতে কিছু সুবিধা থাকলেও এর ক্ষতিকর দিকগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানসিক শান্তি বজায় রাখতে ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কাউকে ব্যাখ্যা দিতে হয় না

যখন আপনি আপনার জীবনের ঘটনা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন, তখন তারা তাদের মতামত দেবে এবং হয়তো আপনার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়াও হতে পারে। এই অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার চাপ এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আপনার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গোপন রাখা।

গোপনীয়তায় মনের শান্তি

অনেকে মনে করেন, মনের কথা অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করলে দুঃখ লাঘব হয়। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যক্তিগত সীমারেখা টানা এবং তথ্য ভাগাভাগি সীমিত করা মানসিক সুস্থতার জন্য কার্যকর। নিজের জীবনের কিছু বিষয় গোপন রাখলে মনের মধ্যে শান্তি বজায় থাকে।

সবাই বন্ধু নয়

সবাইকে বন্ধু ভাবা ঠিক নয়। যাকে আপনি বন্ধু ভেবে নিজের জীবনের কথা শেয়ার করছেন, তিনি হয়তো আপনার বিশ্বাসের যোগ্য নাও হতে পারেন। তাই আগে যাচাই করুন এবং নিশ্চিত হন যে, যার সঙ্গে আপনি কথা বলছেন তিনি আপনার বিষয়গুলো গোপন রাখতে পারবেন।

সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ করলে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি শুধু মানসিক অবসাদ বাড়ায় না, আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্ক ভালো রাখে

অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে বেশি সত্য বলার ফলে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। তাই কিছু বিষয় এমনও থাকতে পারে যা কাছের মানুষকেও বলা উচিত নয়। নিজের জীবন গোপন রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমে।

ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখা কেবল মানসিক শান্তি আনায়ন করে না, এটি সাইবার নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সুখী ও সুস্থ জীবনের জন্য নিজের জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কৈশোরের অভিভাবকত্ব: কীভাবে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করবেন?

কৈশোরকাল অভিভাবকত্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। এই সময় একসময়ের স্নেহপূর্ণ শিশুটি আচমকাই খিটখিটে মেজাজের, বিদ্রোহী কিংবা দূরে সরে যাওয়া বলে মনে হতে পারে। বাবা-মা এই পরিবর্তনে দ্বিধায় পড়েন এবং সন্তানের সঙ্গে কীভাবে সংযোগ স্থাপন করবেন তা বুঝতে পারেন না। অন্যদিকে, কিশোর-কিশোরীরাও তাদের ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতা, বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং মানসিক পরিবর্তনের ভারে দিশেহারা থাকে। এই সময়ে মা-বাবার দায়িত্ব সন্তানকে বুঝে, সমর্থন দিয়ে তার পাশে থাকা।

বেশি শুনুন, কম বলুন

সন্তানের সঙ্গে কথা বলার আগে, কথা বলার সময় এবং পরে তাকে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই বেশি উপদেশ পায়, যা তাদের বিরক্ত করে। অপ্রয়োজনীয় কথা কমিয়ে তাদের কথা শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে সন্তানের প্রতি আপনার সম্মান ও আস্থা প্রকাশ পায়। ফলে সে নিজের ভাবনা মন খুলে বলতে শুরু করবে।

কথার আক্ষরিক অর্থ ধরবেন না

কৈশোরে সন্তানেরা অনেক সময় নাটকীয় বা আঘাতমূলক ভাষা ব্যবহার করে। যেমন, “আমি তোমাকে ঘৃণা করি” বা “সবকিছু শেষ করে দেব।” এসব কথা তাদের হতাশার প্রকাশ এবং তা গুরুতরভাবে নেওয়ার দরকার নেই। বরং তার আবেগ স্থির হতে দিন এবং অযথা তর্ক এড়িয়ে যান।

সমর্থন দিন

এই বয়সে সন্তান তার শখ, বন্ধুত্ব ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তার পছন্দগুলো অদ্ভুত বা অস্থির মনে হতে পারে। তবুও এই অন্বেষণ তার পরিচয় তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি, তার নতুন উদ্যোগগুলোকে উৎসাহ দিন। এতে তার আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে।

স্বাধীনতা ও সীমানা স্পষ্ট করুন

কিশোর-কিশোরীরা স্বাধীনতা চায়, তবে নিয়ন্ত্রণেরও প্রয়োজন। তাকে ছোট বিষয়গুলোতে স্বাধীনতা দিন, যেমন—পোশাক নির্বাচন। তবে বয়সের আগে ড্রাইভিং বা অপব্যবহার করার সুযোগ দেবেন না। সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করলে সন্তান আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং নিরাপত্তার সুরক্ষাও বজায় থাকবে।

কৈশোরে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে তাকে বোঝা, তার কথা শোনা, এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই মূল চাবিকাঠি। অভিভাবকত্বে ধৈর্য এবং ভালোবাসা বজায় রেখে সন্তানের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস দূর করার ৫টি কার্যকরী পদ্ধতি

দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুরা না বুঝে এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। নখে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণু মুখে গেলে তা শরীরে নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর এই বদভ্যাস দূর করতে নিচের পদ্ধতিগুলো কাজে লাগাতে পারেন:

১. বোঝানোর কৌশল

শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝান যে দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস ভালো নয়। তাদের স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি হতে পারে এবং নখ কাটলে কী ধরনের জীবাণু পেটে যেতে পারে তা চিত্রের মাধ্যমে বা গল্পের আকারে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

২. নখ ছোট করে কেটে রাখুন

শিশুর নখ সবসময় ছোট এবং পরিষ্কার রাখুন। স্নানের সময় নখ ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। নখে যেন ময়লা জমতে না পারে, তা নিশ্চিত করুন।

৩. শিশুকে ব্যস্ত রাখুন

যখনই দেখবেন শিশু মুখে হাত দিচ্ছে, তখনই তাদের অন্য কাজে ব্যস্ত করুন। খেলাধুলা, বই পড়া, ঘরের ছোট কাজ বা গাছের পরিচর্যার মতো কাজে যুক্ত করুন। ব্যস্ত থাকলে তারা মুখে হাত দেওয়া ভুলে যাবে।

৪. তেতো কিছু লাগান

যদি শিশুর অভ্যাস কিছুতেই না ছাড়ে, তবে তাদের নখে তেতো কিছু লাগিয়ে দিন। উদাহরণস্বরূপ, নিম পাতার বাটা ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের স্বাদ পছন্দ না হওয়ায় তারা নখ মুখে দেওয়া বন্ধ করবে।

৫. বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

যদি দেখেন শিশু শুধু নখ কাটছে না, বরং সবসময় বিমর্ষ থাকে, খেলাধুলা করছে না বা একা থাকতে পছন্দ করছে, তবে মনোবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আতঙ্ক, ভয় বা উদ্বেগ থেকে এমন অভ্যাস হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নারীদের জন্য অপরিহার্য ৬টি ভিটামিন

২৫ বছর পার করার পর নারীদের জীবনে আসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই সময়টায় কাজ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব আর স্বাস্থ্য সামলানোর ব্যস্ততায় প্রায়ই অবহেলিত হয় পুষ্টির বিষয়টি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শরীরের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন ডি

শক্তিশালী হাড় ও দাঁতের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। ২৫-এর পর কর্মব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি হয়। এই অভাব পরবর্তীতে হাড় দুর্বল করে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ফোর্টিফাইড দুধ, ডিম ও স্যামনের মতো খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবু ঘাটতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি উজ্জ্বল ত্বকের জন্যও অপরিহার্য। এটি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরের আয়রন শোষণে সাহায্য করে, যা মাসিকের সময় নারীদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। সাইট্রাস ফল, স্ট্রবেরি, বেল মরিচ ও ব্রোকলি থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি১২

যদি কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন বা সহজেই ক্লান্ত বোধ করেন, তবে এর কারণ হতে পারে ভিটামিন বি১২-এর অভাব। এটি রক্ত ​​কণিকার উৎপাদন ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়ক। ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের জন্য সাপ্লিমেন্ট হতে পারে বিকল্প।

ভিটামিন ই

ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ভিটামিন ই অপরিহার্য। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং UV রশ্মি ও দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। বাদাম, বীজ, পালং শাক ও সূর্যমুখী তেলে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ফোলেট (ভিটামিন বি৯)

ফোলেট প্রজননের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের বৃদ্ধি এবং জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। পাতাযুক্ত শাকসবজি, মটরশুটি ইত্যাদিতে ফোলেট পাওয়া যায়।

ভিটামিন কে

রক্ত ​​জমাট বাঁধা এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে ভিটামিন কে-এর ভূমিকা অসামান্য। ব্রোকলি, পালং শাক প্রভৃতি খাবারে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভ্যাপিং: ইলেকট্রনিক সিগারেটের ক্ষতিকর দিকগুলো

ভ্যাপিং, বা ইলেকট্রনিক সিগারেট, আধুনিক ধূমপানের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সাধারণ সিগারেটের তুলনায় এর গন্ধ কম হওয়ায় এবং “কম ক্ষতিকর” ধারণা থেকে এটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর।

ভ্যাপ কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে

ভ্যাপ একটি ব্যাটারি চালিত ডিভাইস যা অ্যারোসেল তৈরি করে। আমেরিকার টেক্সাস হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস-এর তথ্য মতে, অ্যারোসেল দেখতে জলীয় বাষ্পের মতো হলেও এতে নিকোটিন, ফ্লেভারিং, এবং ৩০টিরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।

ব্যবহারকারী যখন ভ্যাপ টানেন, ডিভাইসের ব্যাটারি একটি হিটিং এলিমেন্ট সক্রিয় করে। এই হিটিং এলিমেন্ট ই-লিকুইড নামে একটি তরল পদার্থ গরম করে, যা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ বাষ্পে নিকোটিনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা ধূমপায়ীর শরীরে প্রবেশ করে।

ভ্যাপের প্রযুক্তি

ভ্যাপ ডিভাইসে একাধিক অংশ থাকে, যেমন:

ব্যাটারি: রিচার্জেবল ব্যাটারি ডিভাইস চালায়।

হিটিং এলিমেন্ট: ই-লিকুইডকে গরম করার জন্য ছোট একটি কয়েল।

অ্যাটোমাইজার: এখানে ই-লিকুইড বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।

সেন্সর: তাপমাত্রা এবং ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ই-লিকুইড: এতে নিকোটিন ও ফ্লেভারিংসহ বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে।

ভ্যাপিং-এর ক্ষতিকর প্রভাব

ভ্যাপিং ডিভাইসের জটিল প্রযুক্তি সত্ত্বেও এটি শরীরের জন্য নিরাপদ নয়।

1. স্বাস্থ্য ঝুঁকি: ভ্যাপিং-এর মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে।

2. নিকোটিন আসক্তি: নিকোটিনের কারণে ভ্যাপিং ধূমপানের মতোই আসক্তিকর।

3. শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্ষতি: নিয়মিত ভ্যাপিং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

4. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

সতর্কবার্তা

ভ্যাপিং সিগারেটের বিকল্প মনে হলেও এটি স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর। তাই ভ্যাপিং এড়িয়ে চলা এবং ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুখের ক্যান্সার: প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধে সতর্কতা

মুখের ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ, যা মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, লালা গ্রন্থি এবং গলায় হতে পারে। অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় এর মৃত্যুর হার বেশি, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত হলে চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেক বেশি। চলুন মুখের ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই:

১. মাড়ির রক্তপাত:
অস্বাভাবিক বা গুরুতর মাড়ির রক্তপাত মুখের ম্যালিগন্যান্সির লক্ষণ হতে পারে। মাড়ির রক্তপাত দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

২. দীর্ঘস্থায়ী ঘা:
মুখের ঘা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা সহজে সারে না, তবে এটি মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এই ঘা থেকে রক্তপাতও হতে পারে।

৩. চোয়ালে ব্যথা:
চোয়ালের অস্বাভাবিক ব্যথা বা চিবানো ও গিলতে অসুবিধা মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এটি দাঁতের সমস্যার কারণও হতে পারে।

৪. সাদা বা লাল দাগ:
মুখের ভেতরে লাল বা সাদা দাগ দেখা দিলে এটি মুখের ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে। নিয়মিত দাঁতের ডাক্তারকে মুখের অভ্যন্তরের পরিবর্তন সম্পর্কে জানান।

৫. ঘন ঘন গলা ব্যথা:
যদি গলার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, গিলতে কষ্ট হয় বা কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হয়, তবে তা মুখের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়:

নিয়মিত মুখ পরীক্ষা করান।

তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

দাঁতের ডাক্তারকে বছরে অন্তত একবার দেখান।

প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দিন শুরু করুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দিয়ে

সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনের শুরুটা সুন্দর করার অভ্যাস গড়ে তুললে সারাদিন কর্মমুখর ও উজ্জীবিত থাকা সম্ভব। ভারতের পুষ্টিবিদ আশ্লেষা জোশীর পরামর্শ অনুযায়ী, সকালে কিছু অভ্যাস রপ্ত করলে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকবে।

পানিশূন্যতা দূর করুন

সারারাত ঘুমানোর কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এতে শরীরের জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়ে।

ধ্যান করুন

৫-১০ মিনিটের জন্য গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ধ্যান করুন। এটি শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়িয়ে কোষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ সহজ করে।

হালকা ব্যায়াম

সকালে হালকা যোগাসন বা সাধারণ ব্যায়াম করুন। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরে কর্মতৎপরতা আনে এবং ঘামের মাধ্যমে টক্সিন দূর করে।

পুষ্টিকর সকালের খাবার

সকালের খাবারে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন ওটস, চিয়াবীজ, ফল ও সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। ফাইবার হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে।

সকালের রোদ গ্রহণ

সকাল ৯টার আগে রোদের আলোতে কয়েক মিনিট বসুন। এটি ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ করে, যা যকৃত ভালো রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

সুস্থ শরীর ও মন পেতে এসব অভ্যাসগুলো প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম