কেন ভয়ের স্মৃতি মস্তিষ্কে বেশি গভীর হয়?

জীবনে সুখ-দুঃখ আসে পালাক্রমে। সুখের মুহূর্তগুলো দ্রুত কেটে গেলেও ভয়ের বা খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মনে থেকে যায়। এমনটি কেন ঘটে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন তুলেন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা।

তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, মস্তিষ্কের সংবেদনশীল কেন্দ্র অ্যামিগডালার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া এর জন্য দায়ী। বিশেষত, ভয়াবহ ঘটনার সময় স্ট্রেস নিউরোট্রান্সমিটার নরপাইনফ্রাইন অ্যামিগডালাকে উদ্দীপিত করে। এতে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক স্রাবের বিশেষ একটি প্যাটার্ন তৈরি হয়, যা ভীতিকর স্মৃতি গঠনে সহায়তা করে।

গবেষক দলের সদস্য এবং তুলেন সেল ও আনবিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক জেফরি টাস্কার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন কেউ আপনাকে বন্দুকের মুখে আটকে রাখে, তখন মস্তিষ্ক প্রচুর পরিমাণে নরপাইনফ্রাইন নিঃসরণ করে। এটি অ্যামিগডালায় বৈদ্যুতিক নিঃসরণের ধারা পরিবর্তন করে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত অবস্থায় স্থানান্তরিত করে।’

তারা আরও জানান, ‘ভয়ানক অভিজ্ঞতার কারণে এই বৈদ্যুতিক পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়। এর ফলেই ভয়ের স্মৃতি সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। সুখের মুহূর্তগুলো এমন বৈদ্যুতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে না, তাই সেগুলো মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’

গবেষণাটি আমাদের মস্তিষ্কের কর্মপদ্ধতি এবং স্মৃতির কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ভয়ের স্মৃতিগুলো ভুলতে না পারার মূল কারণ এটি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার ঘরোয়া সমাধান

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ছোট-বড় সবাই কমবেশি সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। এই মৌসুমে জীবাণু বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা গলা খুসখুস ও ব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু উপাদানের মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

ঘরোয়া সমাধান:

১. আদা চা:
গলা ব্যথায় আদা চা অত্যন্ত কার্যকর। আদায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দ্রুত গলার যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। চায়ের সঙ্গে মিশ্রিত আদার উপকারিতা গলার সংক্রমণ দূর করে আরাম দেয়।

২. আদা, গুড় ও জোয়ান:
সর্দি, কাশি ও গলা খুসখুসে ভাব দূর করতে আদা, গুড় ও জোয়ানের মিশ্রণ খুবই উপকারী। এক চিমটি গুড়ের সঙ্গে আদা কুচি এবং জোয়ান মিশিয়ে খেলে গলার সমস্যা দ্রুত সেরে যায়।

৩. হলুদ দুধ:
হলুদ দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। গরম দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে গলাব্যথা ও গলার খুসখুসে ভাব দূর হয়।

৪. লবণ পানি:
গলাব্যথা কমাতে লবণ পানি অত্যন্ত কার্যকর। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার গার্গল করলে গলার ব্যথা দ্রুত সেরে ওঠে।

এগুলো ছাড়াও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং গরম পানীয় পান করার মাধ্যমে শীতে সর্দি-কাশি ও গলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুস্থ শরীরের জন্য দাঁত নয়, জিহ্বাও পরিষ্কার করুন

মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বা পরিষ্কার করাও অত্যন্ত জরুরি। ভারতের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. নিতিকা কোহলি জানিয়েছেন, প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পর একটি রূপালি বা তামার ইউ-আকৃতির টাং স্ক্র্যাপার দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত। এটি শুধু মুখের স্বাস্থ্য নয়, পুরো শরীরের জন্য উপকারী।

ডা. কোহলি ব্যাখ্যা করেন, নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হওয়ার পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধও চলে যায়। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সহায়ক।

জিহ্বা পরিষ্কারের উপকারিতা:

১. ব্যাকটেরিয়া দূরীকরণ: জিহ্বা থেকে জমে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার হলে মুখের রোগ ও দুর্গন্ধ দূর হয়।
২. শরীরের রোগ নির্ণয়: জিহ্বার রং বদলে যাওয়া শরীরের বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত দেয়।
৩. স্বাস্থ্য উন্নতি: আয়ুর্বেদ মতে, জিহ্বা ও অন্ত্রের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত করে।

জিহ্বা পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি:

১. একটি পরিষ্কার টাং স্ক্র্যাপার ব্যবহার করুন।
২. দিনে দু’বার, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি করুন।
৩. ভালো মানের স্ক্র্যাপার কিনুন যা মসৃণ প্রান্তযুক্ত।
৪. হালকা চাপ দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করুন, যেন কেটে বা ছিঁড়ে না যায়।
৫. জিহ্বায় সাদা দাগ বা ক্ষত থাকলে স্ক্র্যাপ করা বন্ধ করুন।

ডা. পুনীত আরও জানান, জিহ্বার পৃষ্ঠে জমে থাকা শ্লেষ্মা আস্তরণ এবং খাদ্যকণাগুলো পরিষ্কার না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা স্বাস্থ্যবিধির অপরিহার্য অংশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে শিশুদের সুস্থ রাখবে যেসব খাবার

শীতকাল এলেই শিশুদের সর্দি-কাশি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। তাই শিশুদের শীতকালে সুস্থ রাখতে সঠিক পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। শীতকালীন ফল, শাকসবজি এবং পুষ্টি-সমৃদ্ধ খাবার এই সময় শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দুধ:

শীতকালে শিশুদের নিয়মিত কুসুম গরম দুধ খাওয়ানো উচিত। এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুদের শরীরকে শক্তিশালী করে এবং সর্দি-কাশি থেকে সেরে উঠতে সহায়তা করে।

দই:

দই শিশুদের ইমিউনিটি শক্তিশালী করে। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে সক্রিয় হয়ে শরীরকে দ্রুত সর্দি-কাশি থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে।

কমলা:

শীতকালীন এই ফল ভিটামিন সি-তে ভরপুর। প্রতিদিন কমলা খেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সর্দি-কাশির মতো অসুখ সহজে হয় না।

মাছ:

শীতকালে শিশুর ডায়েটে মাছ থাকা জরুরি। মাছ ভিটামিন ও মিনারেলে পরিপূর্ণ, যা ইমিউনিটি বাড়ায় এবং শরীরে শক্তি জোগায়। তবে বড় সাইজের মাছের পরিবর্তে ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছ খাওয়ানো নিরাপদ।

শীতকালীন ফল ও শাকসবজি:

শীতের সময় দেশীয় মৌসুমি ফল ও শাকসবজি শিশুর ডায়েটে যোগ করুন। এগুলো শরীরকে পুষ্টি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শীতকালে শিশুদের এই খাবারগুলো খাওয়ালে তাদের শরীর সুস্থ থাকবে এবং সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষা মিলবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পর্যাপ্ত পুষ্টি না খেলে শরীরের ক্ষতি

শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবার কমিয়ে দেন, কিন্তু এতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পৌঁছালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত খাবার যাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য কয়েকটি লক্ষণ আছে যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

ওজন ও ক্লান্তি:
যদি বয়স এবং উচ্চতার তুলনায় ওজন কম থাকে, তবে বুঝতে হবে খাবারের ঘাটতি রয়েছে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি সারাদিন ক্লান্তি ও অবসন্নতা অনুভব করলে খাওয়ার পরিমাণ এবং পুষ্টিগুণ যাচাই করা উচিত।

চুল পড়া:
অকারণে চুল পড়া শরীরে প্রোটিন, বায়োটিন এবং আয়রনের ঘাটতির সংকেত। এই উপাদানগুলো যথাযথভাবে না পেলে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে।

অতিরিক্ত খিদে:
সবসময় খিদে পেলে বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে খিদে মরে গেলে বুঝতে হবে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না।

হরমোনের ভারসাম্য:
পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার ফলে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ত্বকের সমস্যা:
পুষ্টির ঘাটতিতে ত্বক পাতলা হয়ে যায়, বলিরেখা পড়ে এবং চামড়া উঠতে পারে। এ ছাড়া শীতকাতুরে হওয়া বা ঠান্ডা বেশি লাগাও হতে পারে পুষ্টির অভাবে।

বারবার অসুস্থ হওয়া:
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পৌঁছালে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

পর্যাপ্ত খাবারের গুরুত্ব

এই সমস্যাগুলো এড়াতে সুষম খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, এবং মিনারেল রাখা উচিত। শরীরের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলেই সুস্থতা বজায় থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেসব অভ্যাস

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। চিন্তা-ভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণসহ দৈনন্দিন জীবনের সব কাজই মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু অভ্যাস মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দেই না। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এসব ক্ষতিকর অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া

সকালের খাবার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি এবং গ্লুকোজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়, যা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং মনোযোগ ও স্থিরতায় সমস্যা তৈরি করে। তাই প্রতিদিন পুষ্টিকর সকালের খাবার গ্রহণ করা উচিত।

একসাথে অনেক কাজ করা

একই সঙ্গে একাধিক কাজ করলে মস্তিষ্কের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। এতে মনোযোগ বিভক্ত হয় এবং গভীর চিন্তা বা জটিল কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে কাজের সময় একমুখী মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে কানে এবং মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে শ্রবণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্মৃতিভ্রমসহ মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।

ঘুমের অভাব

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ক্ষতিপূরণ করে এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নীল আলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়

মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো মস্তিষ্ক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। এটি ঘুমের রুটিন নষ্ট করে, যা সরাসরি মনোযোগ ও স্মৃতি সংরক্ষণ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। তাই নীল আলোর এক্সপোজার সীমিত রাখা উচিত।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এই অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ত্যাগ করা প্রয়োজন। মস্তিষ্ককে যত্নে রাখলেই শরীরের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে ভিটামিন সি পেতে যেসব ফল খাবেন

শীতকালীন ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও নানা রোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ অত্যন্ত জরুরি। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সহজে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে। শীতে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখুন। জেনে নিন এই মৌসুমে ভিটামিন সি পেতে যেসব ফল আপনার খাবারের তালিকায় থাকা উচিত।

১. নাশপাতি
একটি মাঝারি সাইজের নাশপাতিতে ৫.৫৮ গ্রাম ফাইবার থাকে। ফাইবার শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বিকাশে সাহায্য করে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। নাশপাতি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা রোধ করে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

২. আনারস
আনারস হলো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি জনপ্রিয় ফল। এক কাপ আনারসে ৭৮.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, যা স্নায়ু এবং হজম তন্ত্রের জন্য উপকারী।

৩. ক্র্যানবেরি
ক্র্যানবেরি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এক কাপ কাঁচা ক্র্যানবেরিতে ১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। শীতে এটি খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে।

৪. কমলা
কমলায় প্রায় ৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩.৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। আস্ত কমলা খেলে শরীরে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়। শীতে নিয়মিত কমলা খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. জাম্বুরা
জাম্বুরা ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস। এক জাম্বুরায় ৪৩.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

৬. ডালিম
এক কাপ ডালিমে ১৭.৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। ডালিম ভিটামিন কে-এরও ভালো উৎস, যা হাড় মজবুত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

৭. কিউই
একটি কিউই ফলে ৫৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩০.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন কে থাকে। প্রতিদিন কিউই খেলে শীতে শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।

শীতে শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ফলগুলো যোগ করুন। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং শরীরকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মজাদার ভাপা পিঠা ঘরেই তৈরি করুন

শীতের দিনে ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। কুয়াশা ঘেরা সকাল বা সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা যেমন স্বাদে অনন্য, তেমনই ঘরেই এটি তৈরি করা যায় সহজে। যারা বাইরের খাবার এড়িয়ে ঘরে নিজ হাতে ভাপা পিঠা বানাতে চান, তাদের জন্য রইলো সহজ রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
১. চালের গুঁড়া – ২ কাপ
২. খেজুরের গুড় – পরিমাণমতো
৩. নারকেল কুরানো – পরিমাণমতো
৪. লবণ – স্বাদমতো

পদ্ধতি:
প্রথমে চালের গুঁড়ো ভালোভাবে চালুনিতে চেলে নিন। তারপর এতে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিয়ে লবণ মিশিয়ে নরমভাবে মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন, যেন দলা না বাঁধে।

এরপর একটি বড় হাঁড়িতে পানি দিন এবং তার ওপর ছিদ্রযুক্ত ঢাকনি রাখুন। ঢাকনির পাশে কোনো ফাঁক থাকলে আটার খামির দিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দিন। এরপর চুলায় অল্প আঁচে হাঁড়িটি বসিয়ে দিন।

একটি ছোট বাটিতে মাখানো চালের গুঁড়ো রাখুন এবং তার মাঝখানে পরিমাণমতো খেজুরের গুড় দিন। এরপর ওপরে আবার সামান্য চালের গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। পাতলা কাপড়ে বাটির মুখ ঢেকে নিন এবং বাটিটি ছিদ্রযুক্ত ঢাকনির ওপরে উল্টে দিয়ে আলতোভাবে সরিয়ে নিন।

২-৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। পিঠা হয়ে গেলে ওপরে নারকেলের কুরানো ছড়িয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন সুস্বাদু ভাপা পিঠা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জমে উঠেছে রিহ্যাবের আবাসন মেলা: নিউ ভিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্কষণীয় ছাড়

দিন দিন জমে উঠছে রিহ্যাব আবাসন মেলা। আজ ছুটি হওয়ায় দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর মেলা প্রাঙ্গন। মেলা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন শেষদিন শুক্রবার হওয়ায় ভীর আরও বাড়বে।

এদিকে, মেলায় ক্রেতা আকর্ষণের জন্য চমকপ্রদ ছাড় দিচ্ছে আবাসন কোম্পানিগুলো। মেলায় বুকিং দিলেই নিউভিশন ল্যান্ড মার্ক লিমিটেড দিচ্ছে ১৫ শতাংশ ছাড়।

প্লট, ফ্ল্যাট, নির্মাণ সামগ্রীর সরঞ্জামাদির বিভিন্ন অফার ও পরিচিতি নিয়ে স্টল সাজিয়েছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

মেলাতে দর্শনার্থীদের ৫০ টাকা করে টিকিট কাটতে হচ্ছে। অবশ্য টিকিট থেকে র্যাফেল ড্র এর ব্যবস্থা আছে। প্রতিদিনই থাকছে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার। রয়েছে সবার জন্য ফ্রি কফি, চমৎকার ভিডিওগ্রাফি ও ফ্রি স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

লতিফুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নিজেকে ভালো রাখুন: নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করুন

নিজেকে ভালো রাখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ আপনি ভালো থাকলে তবেই অন্যদের ভালো রাখা সম্ভব। তাই নিজেকে ভালো রাখাকে কখনো স্বার্থপরতা ভাবা উচিত নয়; বরং এটি স্মার্টনেসের পরিচায়ক। এমন মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকা জরুরি, যারা সম্মান, সহানুভূতি বা সমর্থন দেখায় না। নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

যে মানুষগুলোকে এড়িয়ে চলা উচিত:

প্রথমত, যারা বুলিং করে।
এ ধরনের মানুষেরা শারীরিক, মানসিক বা মৌখিকভাবে আপনাকে আঘাত করবে। তারা ছোট করে কথা বলবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবে। যারা আপনাকে অপমান করে আনন্দ পায়, তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, অহেতুক সমালোচনাকারী।
এই মানুষগুলো আপনার স্বপ্ন ও ব্যক্তিত্বে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তারা আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। এদের পাশাপাশি থাকলে আপনিও নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারেন। তাই এদের এড়িয়ে চলুন।

তৃতীয়ত, যারা দোষ ধরে বেড়ায়।
এ ধরনের মানুষেরা নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না। তারা সব সময় অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং আপনাকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে। তাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলা আপনার জন্য মঙ্গলজনক।

সবশেষে, পরচর্চাকারী।
যারা অন্যদের সম্পর্কে আপনার সামনে পরচর্চা করে, তারা আপনার সম্পর্কে অন্যদের কাছেও একই কাজ করে। এ ধরনের মানুষ নেতিবাচকতা ছড়ায়। তাই এদের আড্ডা এড়িয়ে ইতিবাচক মানুষদের সঙ্গ গ্রহণ করুন।

নিজের মানসিক শান্তি এবং জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন। ইতিবাচক এবং সমর্থনমূলক মানুষের সঙ্গ আপনাকে ভালো থাকার পথে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম