প্রিয়জনের মানসিক স্বাস্থ্য বুঝুন

অনেক সময় প্রিয়জনের আচরণ অপ্রত্যাশিত হয়ে ওঠে, যার পেছনের কারণ বুঝতে না পেরে আমরা হয়তো তাদের ভুলভাবে বিচার করি। এটি তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। ভারতের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ঊর্মি চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে মানসিক সমস্যার লক্ষণগুলো চিহ্নিত করেছেন, যা আমাদের প্রিয়জনের মানসিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে।

দূরে সরে আসা
মানসিক চাপে ভোগা মানুষরা প্রায়ই নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। তারা মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে চায় এবং নানা অজুহাতে যোগাযোগ বন্ধ করে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে প্রিয়জনকে নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন।

ঘুমের পরিবর্তন
ঘুমানোর অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে তা মানসিক চাপে ইঙ্গিত করতে পারে। হয়তো তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কথা বলুন, সমস্যা ভাগ করার চেষ্টা করুন।

পছন্দের কাজের প্রতি আগ্রহ হারানো
যদি কোনো ব্যক্তি তার পছন্দের কাজগুলোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে বুঝতে হবে মানসিক সমস্যা গভীর। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ান, তাদের কাজের প্রশংসা করুন এবং উৎসাহ দিন।

আবেগের পরিবর্তন
প্রিয়জন যদি হঠাৎ করেই অতিরিক্ত রাগ, কান্না, চেঁচামেচি, বা অতিরিক্ত হাসি দেখায়, তবে তা হতাশার লক্ষণ হতে পারে। এসময় তাদের কঠোর না হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন।

নিজের সমালোচনায় মুখর
মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা প্রায়ই নিজেদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর হন এবং সামান্য ভুলেও নিজেদের সমালোচনা করতে থাকেন। তাদের প্রতি সহমর্মী হয়ে তাদের দোষারোপ না করে সমর্থন দিন।

উপরোক্ত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে প্রিয়জনকে সময় দিন এবং প্রয়োজনে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চীনে ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস ‘এইচএমপিভি’, আতঙ্ক বাড়ছে

কোভিড-১৯ এর পর চীনে এবার দেখা দিয়েছে নতুন ভাইরাস ‘এইচএমপিভি’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীনের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে।

এইচএমপিভি কী?

এইচএমপিভি বা হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস একটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস। এটি মূলত শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক। ভাইরাসটি ২০০১ সালে প্রথম সনাক্ত করা হয়।

উপসর্গগুলো কী কী?

এইচএমপিভির উপসর্গ ফ্লু বা সাধারণ সর্দি-কাশির মতো হলেও, এটি গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর সাধারণ উপসর্গগুলো হলো:

কাশি

জ্বর

নাক বন্ধ

শ্বাসকষ্ট

গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া তৈরি করতে পারে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ৩-৬ দিন।

কীভাবে ছড়ায় এইচএমপিভি?

এই ভাইরাস ছড়ায় সাধারণত:

হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নিঃসৃত কণা

হাত মেলানো বা স্পর্শ করা

সংক্রমিত স্থান স্পর্শ করে চোখ, মুখ বা নাক স্পর্শ করা

প্রতিরোধে কী করবেন?

এইচএমপিভি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। বারবার হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কমলালেবুর ভাপা দই: মুখে লেগে থাকবে এর স্বাদ

দই খেতে সবাই ভালোবাসে, আর তা যদি হয় কমলালেবুর ফ্লেভারে, তাহলে এর আকর্ষণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। কখনো কমলালেবুর ভাপা দই খেয়েছেন? এই দই একবার খেলে এর স্বাদ ভুলে থাকা অসম্ভব। সহজ উপায়ে এবং ঝটপট এটি তৈরি করতে পারেন। চলুন জেনে নিই কীভাবে তৈরি করবেন কমলালেবুর ভাপা দই।

উপকরণ:

১. টকদই (পানি ঝরানো) – ২৫০ লিটার
২. চিনি গুঁড়া – ২ টেবিল চামচ
৩. কনডেন্সড মিল্ক – ৩ টেবিল চামচ
৪. কর্নফ্লাওয়ার – ১ চা চামচ
৫. গুঁড়া দুধ – ২ চা চামচ
৬. কমলালেবুর রস – ৫-৬ ফোঁটা
৭. কাজুবাদাম, কিসমিস, পেস্তা, আমন্ড কুচি – ৩ টেবিল চামচ
৮. কমলালেবুর খোসা বাটা – আধা চা চামচ

তৈরি পদ্ধতি:

১. প্রথমে একটি টিফিন বাটিতে পানি ঝরানো টকদই নিন।
২. একে একে চিনি, কনডেন্সড মিল্ক, কর্নফ্লাওয়ার, গুঁড়া দুধ, কমলালেবুর রস ও খোসা বাটা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
3. সব উপকরণ ভালোভাবে মেশানোর পর এতে কাজুবাদাম, কিসমিস, পেস্তা ও আমন্ড কুচি মেশান।
4. বাটির মুখ ঢেকে একটি প্রেসার কুকারে অল্প পানির মধ্যে বসান।
5. কুকারে ৩-৪টি সিটি দিলে চুলা বন্ধ করুন।
6. ঠাণ্ডা হওয়ার পর বাটি বের করে দেখুন দই জমে গেছে।

এই স্বাদে ভরা কমলালেবুর ভাপা দই আপনার ঘরোয়া আয়োজনকে করবে আরও জমজমাট। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভাত নাকি রুটি: কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ভাত ও রুটি, উভয়ই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে কোনটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, এই প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে। বিশেষত, ওজন কমানো বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভাত ও রুটির মধ্যে তুলনা করা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।

ভাত বনাম রুটি: পুষ্টিগুণ
ভাত ও রুটি দুটোতেই কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। তবে রুটিতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি, যা ভাতে নেই। ফাইবার সমৃদ্ধ রুটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমেও সহায়ক। ভাত দ্রুত হজম হয়, ফলে বারবার খিদে পেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
ভাত খাওয়ার পর ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে, রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রুটি নিরাপদ বিকল্প।

ওজন কমানোর জন্য
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রুটি ভাতের তুলনায় কার্যকর। রুটিতে ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং খাবারের পরিমাণ কমায়। তবে ব্রাউন রাইসও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।

হজমের জন্য
রুটিতে ফাইবার থাকায় এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি বদহজম ও অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে একনাগাড়ে রুটি খেলে অনেকের পেটের সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভাত বা ব্রাউন রাইস খাওয়া যেতে পারে।

পরামর্শ

ওজন কমানোর জন্য ভাতের পরিবর্তে রুটি খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীরা ভাত বাদ দিয়ে রুটি বেছে নিন।

দীর্ঘদিন এক ধরনের খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই ভাত ও রুটি পরিবর্তন করে খেতে পারেন।

ব্রাউন রাইস একটি ভালো বিকল্প। এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং হজমেও সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দিনের শুরুতে ৫ মিনিটে জীবন বদলে দিতে পারে

সকালের শুরুটা দিনের বাকি সময়ের জন্য দিকনির্দেশক হতে পারে। তাই দিনের প্রথম কয়েকটি মুহূর্তে এমন কাজ করা উচিত যা দিনটিকে সুন্দর, ইতিবাচক এবং প্রফুল্ল করে তুলবে। সকালে মাত্র ৫ মিনিটের কিছু সহজ অভ্যাস আপনাকে শারীরিক এবং মানসিক শক্তি জোগাবে। আসুন জেনে নেই এই অভ্যাসগুলো—

হাইড্রেট করা দিয়ে দিন শুরু করুন
ঘুমের পর শরীরকে সজীব করার জন্য এক গ্লাস পানি পান করা জরুরি। এটি আপনার হজম প্রক্রিয়া সচল করে, শরীরের বিপাক বাড়ায় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এই ছোট অভ্যাসটি আপনাকে সারা দিন সতেজ থাকতে সাহায্য করবে।

হাত-পা প্রসারণ বা স্ট্রেচিং
ঘুমের পর শরীর জাগিয়ে তুলতে স্ট্রেচিং দারুণ কার্যকর। হাত উপরে তুলুন, পায়ের আঙুল স্পর্শ করুন বা ঘাড় ঘোরান। এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি পেশির টান কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা আপনার দিনটিকে শারীরিকভাবে প্রাণবন্ত করে তুলবে।

গভীর শ্বাস নিন
গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস মনকে শান্ত রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়। নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে ছেড়ে দিন। এটি মনোযোগ বাড়ায় এবং মানসিক স্বচ্ছতা এনে দেয়, যা সারা দিন কাজে ডুবে থাকতে সাহায্য করে।

ধ্যান করুন
মাত্র ৫ মিনিটের ধ্যান মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। এটি বিষণ্ণতা দূর করে, মনকে ফোকাস করে এবং নিজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। ধ্যান আপনাকে ইতিবাচক মানসিক অবস্থায় দিন শুরু করতে সাহায্য করবে।

ভিজ্যুয়ালাইজেশন করুন
দিনের কাজগুলো মসৃণভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি মানসিক চিত্র আঁকুন। চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে এবং কাজ সফলভাবে সম্পাদন করার দৃশ্য কল্পনা করুন। এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে ইতিবাচকভাবে সক্রিয় করে তোলে এবং আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হতে সহায়তা করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

শীতকালে তীব্র ঠান্ডার কারণে হার্টের রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও হার্ট ফেইলিউরের ঘটনা প্রায় ১৪-২০ শতাংশ বেড়ে যায়। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, যা কার্ডিয়াক সমস্যার মূল কারণ।

হার্টের সমস্যা থাকা ব্যক্তিরা যেমন- বয়স্ক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ, ও ডায়াবেটিসে ভোগা মানুষদের শীতকালে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যচর্চায় কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

শীতে রক্তনালি সংকুচিত হওয়ার কারণে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

শীতকালে অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে ভাজাপোড়া ও মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়। এটি কোলেস্টেরল বাড়ায় ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। টাটকা ফল, বাদাম, সালাদ ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক থাকলে হার্টের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ৩০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে সবাইকে শীতের আগে কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা করাতে হবে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার

ধূমপান ও অ্যালকোহল রক্তনালির সংকোচন বাড়িয়ে হার্টের সমস্যা তীব্র করে। এসবের বদলে গরম চা, স্যুপ বা কফি পান করুন।

শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো

শীতকালে অলসতা ও ওজন বৃদ্ধি এড়াতে প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন। ঘরে ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শীতে ফুসফুস সংক্রমণ ও বুকের ঠান্ডা বেড়ে যায়। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রাখুন। নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং সচেতন থাকুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাত-পা ঠান্ডা থাকার কারণ ও সমাধান

শীতকালে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শীতল আবহাওয়ায় হাত-পা খোলা রাখার কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে, তবে গরম কাপড় পরেও যদি এই সমস্যা হয়, তাহলে তা অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। কারণ এটি হতে পারে একাধিক গুরুতর রোগের ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে হাত-পা ঠান্ডা থাকার বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। এটি হতে পারে নিচের রোগগুলোর লক্ষণ:

ডায়াবেটিস:
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তাদের ক্ষেত্রে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি দেখা দিতে পারে। এতে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রক্তপ্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া ডায়াবেটিস থেকে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজও হতে পারে, যার ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

হাইপোথাইরয়েডিজম:
থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ কারণে শরীর গরম রাখতে সমস্যা হয় এবং হাত-পা প্রায়ই ঠান্ডা থাকে।

রেনৌডস ডিজিজ:
এ রোগে হাত-পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে গরম রক্ত পৌঁছাতে পারে না, এবং হাত-পা ঠান্ডা থাকে।

হাই কোলেস্টেরল:
রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে হাত-পায়ে ঠান্ডা লাগতে পারে।

দুশ্চিন্তা:
দুশ্চিন্তার কারণে শরীরে এপিনেফ্রিন হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এর ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

সমাধান:

1. পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানিশূন্যতা দূর হলে শরীরের রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকবে।

2. শীতের দিনে গরম কাপড় ব্যবহার করুন এবং হাত-পা ঢেকে রাখুন।

3. মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা যোগব্যায়াম করুন।

4. চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

 

শীতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার কারণ বুঝতে হলে লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বছরে রাশিফল: কেমন যাবে ২০২৫?

নতুন বছরের শুরুতে সবাই জানতে চান, কীভাবে কাটবে তাদের সময়। ২০২৫ সাল নিয়ে বিভিন্ন রাশির জাতকদের জন্য জ্যোতিষ শাস্ত্রের পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। দেখে নিন, আপনার রাশির জন্য কেমন যাবে আসন্ন বছরটি।

মেষ রাশি

২০২৫ সাল মেষ রাশির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। স্বাস্থ্য, অর্থ ও পারিবারিক জীবনে নানা সমস্যা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বছরজুড়ে সতর্ক থাকুন।

বৃষ রাশি

বৃষ রাশির জাতকদের জন্য নতুন বছরটি বেশ শুভ হতে পারে। প্রতিটি কাজে সাফল্যের পাশাপাশি ভাগ্য আপনার সঙ্গে থাকবে। তবে সম্পত্তি বা গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। মে মাসের পর আর্থিক দিক থেকে উন্নতি ও সঞ্চয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

মিথুন রাশি

মিথুন রাশির জাতকদের জন্য ২০২৫ সাল মিশ্র ফল বয়ে আনবে। অর্থের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারেন। খরচ বেড়ে যাবে। চাকরি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে কিছু ভালো খবরও আসতে পারে।

কর্কট রাশি

২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কর্কট রাশির জাতকরা আর্থিক উন্নতি দেখতে পাবেন। কর্মক্ষেত্রে প্রাপ্তি ও সাফল্যের সুযোগ থাকবে। তবে মে মাসের পর কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে।

সিংহ রাশি

সিংহ রাশির জাতকদের জন্য নতুন বছরটি সুযোগ ও সম্মান নিয়ে আসবে। সূর্যের উপাসনা করলে কর্মক্ষেত্র ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে।

কন্যা রাশি

২০২৫ সাল কন্যা রাশির জাতকদের জন্য পরিশ্রমের ফলাফলে ভরপুর হবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য লাভের সুযোগ থাকলেও অলসতা এড়িয়ে চলতে হবে।

তুলা রাশি

তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ২০২৫ সাল কর্মজীবন ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন।

বৃশ্চিক রাশি

বৃশ্চিক রাশির জাতকরা বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আর্থিক অগ্রগতি ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করবেন। ব্যবসায় নতুন সুযোগ আসতে পারে।

ধনু রাশি

২০২৫ সাল ধনু রাশির জন্য মিশ্র ফলাফল বয়ে আনবে। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য আসলেও অন্য ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল নাও মিলতে পারে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনের উন্নতি হবে।

মকর রাশি

মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বছরটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। বছরের প্রথমার্ধে ধীরগতি থাকলেও মার্চের পর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করবে।

কুম্ভ রাশি

কুম্ভ রাশির জাতকদের জন্য ২০২৫ সাল সাফল্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বড় সুযোগ আসবে, যা ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

মীন রাশি

মীন রাশির জাতকরা নতুন বছরে শুভফল পাবেন। জীবনে সমৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বছরে ধূমপান ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করুন

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা জানা সত্ত্বেও অনেকেই এটি ত্যাগ করতে পারেন না। তবে নতুন বছরের শুরুতে ধূমপান ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করে আপনি নিজেকে ও প্রিয়জনদের জন্য একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর ধূমপানের কারণে ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ধূমপায়ী বাস করেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাব প্রকট। ধূমপান ফুসফুস, কোলন, জরায়ু, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। এমনকি এটি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) নামক মারাত্মক রোগেরও জন্ম দেয়।

তাহলে কিভাবে ধূমপান ছাড়বেন? এখানে কয়েকটি কার্যকর উপায় উল্লেখ করা হলো:

নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি গ্রহণ করুন

ধূমপান ত্যাগে এটি একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। নিকোটিন প্যাচ, গাম ও লজেঞ্জ ব্যবহার করে ধূমপানের ইচ্ছা কমানো সম্ভব। এগুলো সহজলভ্য এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়।

ট্রিগার এড়িয়ে চলুন

যে মুহূর্তগুলোতে ধূমপানের প্রবল ইচ্ছা হয়, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। ব্যস্ত থাকুন এবং সেই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। একাকী সময় কাটানো, আড্ডা বা চা পানের সময় ধূমপানের ইচ্ছা হলে অন্য কোনো কাজে মন দিন।

মানসিক চাপ সামলান

ধূমপানের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। চাপ কমানোর জন্য ধূমপানের বদলে গভীর শ্বাস নেওয়া, যোগব্যায়াম, পেশী শিথিলকরণ বা সঙ্গীত শোনা চেষ্টা করুন। এটি মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

অ্যাপ ব্যবহার করুন

কিছু অ্যাপ যেমন Kwit, MyQuit, এবং Smoke Free ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হতে পারে। এই অ্যাপগুলো ধূমপান ছাড়ার টিপস, গেমস এবং অনুপ্রেরণামূলক তথ্য প্রদান করে।

২০২৫ সাল হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যেখানে ধূমপানমুক্ত একটি সুস্থ জীবন আপনাকে সমৃদ্ধ করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়

শীতের সময় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়। ধুলাবালি ও বাতাসে জীবাণুর আধিক্য বাড়ার ফলে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণে হতে পারে হাঁচি-কাশি, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকে চুলকানি ও লালচে ভাব, র‍্যাশ এবং শ্বাসকষ্ট। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন।

টকদইয়ের উপকারিতা
টকদইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করলে ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

ভাপ নেওয়া
ডাস্ট অ্যালার্জি কমাতে স্টিম নেওয়া একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। গরম পানির বাষ্প নাক ও মুখ দিয়ে গ্রহণ করলে নাকের বন্ধভাব দূর হয়। ১০ মিনিট স্টিম নিলে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়।

মধুর কার্যকারিতা
মধু প্রাকৃতিক অ্যালার্জেনের সঙ্গে শরীরকে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য অ্যালার্জির ফুসকুড়ি ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

ঘি ও গুড়
অ্যালার্জি প্রতিরোধে ঘি এবং গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন। আধা চা চামচ ঘি ও গুড় মিশিয়ে খেলে অনিয়ন্ত্রিত হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়।

অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে সহায়ক। ৩-৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার পান করুন। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। শীতের দিনে সুস্থ থাকতে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম