শীতে চুলের যত্নে গরম পানি কি নিরাপদ?

শীতকালে চুলের যত্ন নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই সময় চুল পড়া, খুশকি, চুলের ডগা ভাঙা কিংবা চুল রুক্ষ্ম হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে হয় অনেককেই। এছাড়া গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। অনেকের ধারণা, গরম পানি চুলের ক্ষতি করতে পারে। তবে এ নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে?

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গরম পানি চুলের কিউটিকল খুলে দেয়, যেখানে ময়লা জমে থাকে। গরম পানি ব্যবহারে কিউটিকল খুলে সেই ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার চুলের ক্ষতি করতে পারে। শ্যাম্পু করার সময় গরম পানি ব্যবহার করলেও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে কন্ডিশনার ধুয়ে ফেলা উচিত।

ঠান্ডা পানি কিউটিকল বন্ধ করে দেয়, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। এর ফলে চুল পরিষ্কার এবং শক্তিশালী হয়।

চুল ধোয়ার সঠিক নিয়ম
১. শ্যাম্পু করার আগে চুলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
২. চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন এবং তা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩. পুরোপুরি গরম পানি দিয়ে গোসল না করে শীতল ও গরম পানির মধ্যে ভারসাম্য রাখুন।

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, চুল ধোয়ার সঠিক নিয়ম মেনে চললে চুল হবে আরও স্বাস্থ্যকর, মজবুত এবং সুন্দর।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দাঁতের সঠিক যত্নে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

অনেকেই দাঁত থাকতে দাঁতের গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। নিয়মিত এক বা দু’বার দাঁত ব্রাশ করলেও অনেকেই জানেন না, এটি যথেষ্ট নয়। দাঁতের পাশাপাশি মাড়ির যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। মাড়ি বা দাঁতের সমস্যার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা তীব্র যন্ত্রণা ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, দিনে দুইবার ব্রাশ করা আবশ্যক। সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে শোয়ার আগে ব্রাশ করা উচিত। তবে ব্রাশ করার নিয়ম ঠিকঠাক জানা প্রয়োজন। একটানা অনেকদিন একই ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, দাঁত ব্রাশ করার সময় খুব জোরে চেপে ব্রাশ করবেন না। বেশি জোরে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দাঁতে শিরশির ভাব সৃষ্টি করে।

সারাদিন খাবার খাওয়ার পর কিংবা চা-কফি পান করার পর মুখ কুলকুচি করা অভ্যাস করুন। এতে দাঁতে খাবারের অংশ আটকে থাকার ঝুঁকি কমে।

মাড়ি খোঁচানো বা অযথা দাঁতের গোড়া নিয়ে নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকুন। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাড়ি পরিষ্কার করতে হাতের আঙুল ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন। দেশলাই কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচানোর বদভ্যাস ত্যাগ করুন। প্রয়োজনে টুথপিক ব্যবহার করুন।

দাঁতের যেকোনো কেমিক্যাল ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

দাঁতে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের কাছে যান।

দাঁতের যত্নে সতর্কতা এখনই শুরু করুন। কারণ দাঁতের সঠিক যত্ন শুধু দাঁতের নয়, পুরো শরীরের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে সাইনাসের সমস্যা: কারণ ও সমাধান

শীতকালে সাইনাসের সমস্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। ঠান্ডার কারণে সাইনাসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার ফলে নাক, চোখ, এবং মাথাব্যথা বেড়ে যায়। সাইনাসের সমস্যা তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের জন্য সাধারণত অ্যান্টি বায়োটিকের ব্যবহার প্রয়োজন হয়।

সাইনাস সংক্রমণ সাধারণত ডাস্ট অ্যালার্জি, কেমিক্যাল বা ধোঁয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাব্যথা, মুখে কোমলতা, সাইনাসে ব্যথা, কান, দাঁত ও গলা ব্যথা সহ আরও নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশেষ কিছু খাবার সাইনাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন ঠান্ডা পানীয়, ঠান্ডা খাবার, তৈলাক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার। এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। তবে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার সাইনাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

সাইনাস সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়:

1. পানির ভাপ নিন:
সাইনাসজনিত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে গরম পানির ভাপ নিন। পানির ভাপে পুদিনা পাতা যোগ করলে আরও কার্যকরী হবে, যা নাক পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে।

2. পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
শরীরের সঠিক হাইড্রেশন রক্ষা করতে বেশি পরিমাণে পানি পান করুন। পানি শ্লেষ্মাকে পাতলা করে সাইনাসের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

3. আপেল সিডার ভিনেগারের পানি পান করুন:
আপেল সিডার ভিনেগারের পানি সাইনাস ব্যথা কমাতে সহায়ক। কিছুটা গরম পানিতে এটি মিশিয়ে পান করুন।

4. গরম স্যুপ পান করুন:
গরম স্যুপ খাওয়ার মাধ্যমে সাইনাসের ব্যথা কমানো যেতে পারে। এটি শরীরকে আরাম দেয় এবং সাইনাসকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

 

এই ঘরোয়া উপায়গুলো সাইনাসের ব্যথা এবং যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়। তবে যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার

শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন, যা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। তবে শীতে মাথাব্যথার পিছনে রয়েছে বেশ কিছু শারীরিক ও পরিবেশগত কারণ।

শীতে মাথাব্যথার কারণ:
শীতকালে মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হলো সাইনাসের সমস্যা। ঠান্ডা বাতাসে সাইনাসে প্রদাহ দেখা দেয় এবং সাইনোসাইটিসের সৃষ্টি হতে পারে, যা চোখ ও মাথার চারপাশে চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা বাড়ায়। এছাড়া শীতকালে পানি কম পান করার ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়, যা মাথাব্যথার প্রধান কারণ হতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ কমে গিয়ে মাথাব্যথা হয়। এর পাশাপাশি শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে ভিটামিন ডি ঘাটতিজনিত টেনশন হেডেক দেখা দেয়। নাসাল কনজেশনের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হলে অক্সিজেনের অভাবে মাথাব্যথা হতে পারে।

শীতে মাথাব্যথার প্রতিকার:

1. পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে ডিহাইড্রেশনমুক্ত রাখুন।

2. সাইনাস সমস্যায় গরম পানির ভাপ নিন।

3. শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার করুন।

4. ভিটামিন ডি’র ঘাটতি পূরণে সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।

5. গুরুতর মাথাব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

শীতকালে সঠিক যত্ন নিলে এই ধরনের মাথাব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস: সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন

২০০১ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) আবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শ্বাসযন্ত্রের এই ভাইরাসটি সব বয়সের মানুষের জন্য বিপজ্জনক। এটি শ্বাসতন্ত্রের ফোঁটার মাধ্যমে ছড়ায়, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন—

প্রথমত, হাত পরিষ্কার রাখা অপরিহার্য। সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে অ্যালকোহল-বেইজড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখ, নাক বা চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

দ্বিতীয়ত, মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মাস্ক ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। নাক ও মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করুন এবং হাঁচি-কাশির সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।

তৃতীয়ত, রেসপিরেটরি ম্যানার্স অনুসরণ করুন। হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকুন। ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত নির্দিষ্ট বিনে ফেলুন এবং পরে হাত স্যানিটাইজ করুন।

চতুর্থত, বারবার স্পর্শ করা জিনিসপত্র পরিষ্কার করুন। দরজার হাতল, স্মার্টফোন, কীবোর্ডের মতো জিনিসগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

পঞ্চমত, অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। শ্বাসকষ্টের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্য নিজেকে আলাদা রাখুন।

ষষ্ঠত, অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে কাজ, স্কুল বা জনবহুল স্থান থেকে দূরে থাকুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সবশেষে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখুন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লিভার সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের রক্ত ​​পরিশোধন, হজম সহায়তা এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে, যা প্রথমে বোঝা যায় না। জেনে নিন এমন কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পর্কে যা আপনার লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—

প্রথমত, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন লিভারের অন্যতম প্রধান শত্রু। অ্যালকোহল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং প্রদাহ ও ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ডিহাইড্রেশন লিভারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষত, সকালে পানি পান করা শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, ঘুমের অভাব সরাসরি লিভারের ওপর প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে লিভার অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের শিকার হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।

চতুর্থত, বেশি চিনি খাওয়া লিভারের ফ্যাটি রোগের অন্যতম কারণ। চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে থাকা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পঞ্চমত, অনিরাপদ যৌনতা হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। হেপাটাইটিস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই সবসময় নিরাপদ যৌন অভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।

সবশেষে, ব্যায়ামের অভাব লিভারের সুস্থতায় বাধা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।

সুস্থ লিভারের জন্য এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩ স্টার, ৫ স্টার এবং ৭ স্টার হোটেলের মধ্যে পার্থক্য কী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে এখন চলছে ভ্রমণেরও মৌসুম। আর অচেনা জায়গায় কয়েক দিনের জন্য ভ্রমণে গেলে হোটেলই ভরসা।

সাধারণত রিভিউ বা রেটিংয়ের ভিত্তিতে গ্রাহকেরা ভ্রমণের আগে হোটেল নির্বাচন করে থাকেন। হোটেলগুলোর নামের পাশেই তা কত তারকাখচিত বা কত স্টার-যুক্ত সে উল্লেখ থাকে। সবাই জানেন, বেশি স্টারের অর্থ হোটেলের সুযোগ-সুবিধাও বেশি। স্টার অনুযায়ী হোটেলগুলোর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

কিন্তু বিভিন্ন হোটেলের ‘স্টার’ রেটিং নির্ধারণ করেন কারা! জানলে অবাক হবেন যে, হোটেলের জন্য এককভাবে কোনো স্টার নির্ধারক কমিটি বা সংস্থা নেই পুরো বিশ্বে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে এটি নির্ধারণ করে থাকে।

সাধারণত রুমের আকার, পরিচ্ছন্নতা, সুযোগ-সুবিধা এবং পরিষেবার গুণমানের মতো বৈশিষ্ট্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে মানদণ্ডের একটি সেট মূল্যায়ন করা হয় এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে হোটেলটিকে র‌্যাঙ্কিং দেওয়া হয়।

বিংশ শতকের গোড়ার দিকে সম্ভবত প্রথম হোটেলগুলোর স্টার রেটিংয়ের প্রচলন শুরু হয়। কারও মতে, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএ) হাত ধরে এর সূচনা। আবার কেউ মনে করেন, ফোর্বস ট্রাভেল গাইড সর্বপ্রথম হোটেলের এই রেটিং স্টার সিস্টেম চালু করে।

বর্তমানে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকায় হোটেল রেটিং প্রদানের জন্য দায়ী দুটি প্রধান সংস্থা হলো আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) এবং ফোর্বস ট্রাভেল গাইড। অন্যদিকে ইউরোপের হোটেলগুলোর জন্য নিয়োজিত রয়েছে ইউরোপিয়ান হোটেল স্টারস ইউনিয়ন নামক বিশেষ সংস্থা।

হোটেলে চেক-আউট সময় বেলা ১২টা কেন হয় জানেন?হোটেলে চেক-আউট সময় বেলা ১২টা কেন হয় জানেন?
হোটেলের রেটিং দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সংস্থার রয়েছে নিজস্ব মানদন্ড এবং শর্ত। দেখা যাবে, নেপালের একটি পাঁচতারকা হোটেলের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিংবা অস্ট্রেলিয়ার তিন তারকা হোটেলও তুলনামূলকভাবে বেশি অভিজাত এবং বিলাসবহুল।




শীতে মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার

শীতকাল এলেই অনেকেই বাইরে বের হলে মাথাব্যথায় ভোগেন। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শারীরিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়। শীতে মাথাব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইনাসের সমস্যা, ডিহাইড্রেশন, রক্তনালি সংকোচন, টেনশন ও স্ট্রেস এবং নাক বন্ধ হওয়া।

সাইনাসের সমস্যা
শীতে ঠান্ডা বাতাস ও সর্দি-কাশির কারণে সাইনাসে প্রদাহ বা সংক্রমণ হতে পারে, যা সাইনোসাইটিস নামক রোগ সৃষ্টি করে। সাইনাসের মধ্যে মিউকাস জমে গিয়ে চাপ সৃষ্টি হলে এটি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত মুখের চারপাশে, চোখের নীচে বা মাথার উপরের দিকে অনুভূত হয়।

ডিহাইড্রেশন
শীতকালে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে পারেন না, ফলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় এবং পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

রক্তনালি সংকোচন
ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং মাথাব্যথা হতে পারে।

টেনশন ও স্ট্রেস
শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হতে পারে, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে টেনশন হেডেক দেখা দিতে পারে।

নাক বন্ধ হওয়া
শীতকালে সর্দি বা ইনফেকশনের কারণে নাসাল কনজেশন বা শ্বাসনালির বন্ধ হওয়া ঘটতে পারে, যা অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন
শীতে শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষ করে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে।

শীতে মাথাব্যথা প্রতিকার

শরীরের ডিহাইড্রেশন কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

সাইনাসের সমস্যা এড়াতে গরম পানি ও স্টিম ব্যবহার করতে পারেন।

ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গরম পোশাক পরুন, যাতে রক্তনালিগুলো সংকুচিত না হয়।

ভিটামিন ডি’র অভাব রোধে সাপ্লিমেন্ট বা সূর্যের আলো নিন।

মাথাব্যথা গুরুতর হয়ে উঠলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে অযথা ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, এতে হীতে বিপরীত হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত, কি জানা উচিত

দেশে প্রথমবারের মতো রিওভাইরাস (রেসপিরেটরি এন্টারিক অরফান ভাইরাস) শনাক্ত হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) পাঁচ জনের শরীরে এই ভাইরাসটি চিহ্নিত করেছে। রিওভাইরাস মূলত হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।

বিশ্বে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। এই ভাইরাসটি সাধারণত অন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করে এবং পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। শিশুদের ডায়রিয়া এবং জ্বরের কারণও হতে পারে রিওভাইরাস। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৩-৬ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম ভয়াবহ এবং সাধারণত সহজেই চিকিৎসা করা যায়।

রিওভাইরাসের লক্ষণ:

ডায়রিয়া: পানি জাতীয় পাতলা মল, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

বমি: খাবার খাওয়ার পর বমি হতে পারে।

পেটে ব্যথা: অন্ত্রের অস্বস্তি বা পেটের ব্যথা।

শক্তি কমে যাওয়া: শরীর দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভূত হতে পারে।

এ ভাইরাস সাধারণত মারাত্মক নয়, তবে এটি গুরুতর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে, তবে যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে।

প্রতিরোধের উপায়: রিওভাইরাসের প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) রয়েছে, যা শিশুদের জন্য দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খাবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সহজ কিছু নিয়ম

আপনার মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিত করা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে প্রতিদিন কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। চলুন, জেনে নিই কোন নিয়মগুলি আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

ঘুমের গুরুত্ব
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সঠিক এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন যা আপনার ঘুম উন্নত করতে সাহায্য করবে। ঘুমানোর আগে মন শান্ত রাখুন, ঘর অন্ধকার করুন এবং আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে যান। ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে মনের অস্থিরতা কমে যেতে পারে, যা আপনার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

শিথিলায়ন চর্চা করুন
আপনার মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতা চিহ্নিত করে শিথিলায়ন প্রশিক্ষণ নিন। ঘুমানোর আগে মিউজিক শোনাও একটি ভালো শিথিলায়ন কৌশল হতে পারে। এটি আপনাকে সমস্যা মোকাবিলার দক্ষতা শিখতে সাহায্য করবে।

নতুন চিন্তা করুন
প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন। নতুন ভাষা বা বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করুন। নতুন কিছু শেখা আপনার মস্তিষ্কের চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
ওমেগা-৩ ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার, ফল এবং শাকসবজি নিয়মিত খেতে চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। যারা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কম।

সামাজিকতা বাড়ান
আপনার মা-বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন, পরিচিতজনদের সঙ্গে আড্ডা দিন এবং দূরবর্তী বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করুন। সামাজিক সম্পর্কগুলি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম