শীতকালেও সুস্থ থাকার সহজ উপায়

শীতের আগমন সঙ্গে আনে কম রোদ, দীর্ঘ রাত ও ঠান্ডা বাতাস। দিন যত ছোট হচ্ছে, শরীরের ইমিউন সিস্টেম ততই পরীক্ষা হচ্ছে। সচেতন না হলে শীত নানা রোগের সুযোগ দেয়। সর্দি, কাশি, ফ্লু এবং শ্বাসকষ্ট শীতকালে সাধারণ সমস্যা।

ঠান্ডা ও রোগ প্রতিরোধ
শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও হালকা ব্যায়াম অপরিহার্য। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, কিউই ও পেয়ারা নিয়মিত খেলে ঠান্ডা ও ভাইরাস থেকে শরীরকে রক্ষা করা যায়।

খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা
শীতকালে ভারি, তেল-মশলাযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরকে ক্লান্ত ও স্থূল করে। হালকা, গরম ও পুষ্টিকর খাবার যেমন ডাল, হালকা স্যুপ, শাক-সবজি শরীরকে গরম রাখে এবং হজম সহজ হয়। পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়াম ও সক্রিয় থাকা
শীতকালে ঘরে বসে সময় কাটানো সাধারণ হলেও শরীরকে সক্রিয় রাখা জরুরি। মাত্র ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং শরীর গরম রাখে।

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
শীতকালে মানসিক চাপও বেড়ে যায়। কম আলো, ঘন কুয়াশা ও দীর্ঘ রাত মানুষকে বিষণ্ণতায় ফেলতে পারে। গান শোনা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সতর্কতা
হঠাৎ ঠান্ডায় বের হলে গরম পোশাক ও মোজা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ঠান্ডার সময় ঠান্ডা পানির বদলে হালকা গরম পানীয় বা স্যুপ বেশি স্বাস্থ্যকর। শীতকালে জীবনধারা ও শরীরের যত্ন নিলে এই ঋতুকে সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বছরে দ্রুত ওজন কমানোর ট্রেন্ড: ডুকান ডায়েটের চমক

নতুন বছর শুরু মানেই অনেকের তালিকায় শীর্ষে থাকে ওজন কমানোর লক্ষ্য। তবে সাধারণ ডায়েটের ধারণা ভাত, রুটি বা প্রিয় খাবার বাদ দিয়ে কষ্ট করা—তার বাইরে গিয়ে আলোচনায় এসেছে ডুকান ডায়েট। অনুসারীরা দাবি করছেন, ঘি, মাখন, মাছ, মাংস ও ডিম খেয়েও দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব।

অনেকেই জানিয়েছেন, সকালে সেদ্ধ ডিম বা বেকড মাছ, দুপুরে গ্রিলড চিকেন ও শাকসবজি, রাতে হালকা মাখন মাখানো মাছ বা চিকেন খেলে নিয়মিতভাবে ওজন কমছে।

ডুকান ডায়েট কী?
ডুকান ডায়েট একটি লো-কার্বোহাইড্রেট ও হাই-প্রোটিন খাদ্যাভ্যাস, যা ফরাসি চিকিৎসক পিয়ের ডুকান তৈরি করেছেন। ডায়েটের মূল নিয়ম হলো ভাত, রুটি, চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া এবং প্রোটিন ও শাকসবজি বেশি খাওয়া। প্রতিটি প্লেটে অর্ধেক শাকসবজি, অর্ধেক মাছ, মাংস বা ডিম। চিনিযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় ও মিষ্টি পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

ঘি ও মাখন খাওয়া যাবে কি?
ডুকান ডায়েটে পরিমিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করা যায়। দিনে এক থেকে দুই চামচ ঘি বা মাখন খাওয়া নিরাপদ। কেউ কেউ ঘি-মাখনের বদলে অলিভ অয়েল, বাদাম বা কম তেলে রান্না করা মাছ-মাংস বেছে নেন।

ওজন কমার প্রক্রিয়া
কার্বোহাইড্রেট কম খেলে শরীরে গ্লুকোজের সরবরাহ কমে যায়, তখন শরীর জমে থাকা চর্বি ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে কিটোসিস বলা হয়। প্রোটিনজাত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং হজম করতে শরীর তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি খরচ করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডুকান ডায়েট মানে ইচ্ছেমতো চর্বিযুক্ত মাংস বা অতিরিক্ত রেড মিট খাওয়া নয়। বারবিকিউ সস, মেয়োনিজ বা মিষ্টি ড্রেসিং ব্যবহার করলে ডায়েটের কার্যকারিতা কমে যায়।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের মত
ডুকান ডায়েট নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানায়, দীর্ঘমেয়াদে সুষম খাদ্যাভ্যাসই নিরাপদ। অল্প সময়ের জন্য ডায়েট মেনে চললে দ্রুত ওজন কমতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ডায়েট কীভাবে মেনে চলবেন
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ডুকান ডায়েট একটানা ১–২ সপ্তাহ মেনে চলা যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে ভাত, রুটি, ডালিয়া বা কিনোয়া খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত। শিম, ডাল, বাদাম, ফল, লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, দুধ, দই ও বীজজাত খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ যোগায়।

সবচেয়ে নিরাপদ হলো—ডায়েট শুরু করার আগে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া। এতে ওজন কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে সর্দি-কাশি বাড়লে ভরসা হতে পারে তুলসী পাতা

শীত মৌসুম শুরু হলেই অনেকের শরীরে একের পর এক সমস্যা দেখা দেয়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ, হালকা জ্বর কিংবা শরীর ব্যথা যেন এই সময়ের নিত্যসঙ্গী। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে তুলসী পাতা সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আয়ুর্বেদ ও ভেষজ চিকিৎসায় তুলসী পাতার ব্যবহার বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান শীতকালীন বিভিন্ন অসুস্থতা প্রতিরোধে শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে জানিয়েছেন ভেষজ চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী পাতায় থাকা ইউজেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ভিটামিন-সি শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা দেয়। শীতকালে ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তুলসী পাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাশি ও গলা ব্যথার ক্ষেত্রে তুলসী পাতার রস কিংবা তুলসী চা বেশ কার্যকর। গলার ভেতরের জ্বালা, খুসখুসে ভাব ও শুষ্কতা কমাতে এটি স্বস্তি দেয়। প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান থাকার কারণে শ্বাসনালীর ভেতরের ফোলা ভাবও ধীরে ধীরে কমে আসে।

শীতকালে সর্দির কারণে অনেকের নাক বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ সময় তুলসী পাতার উষ্ণ চা নাকের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে। ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয় এবং বুকের ভারীভাবও কমে।

হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতেও তুলসী পাতার ক্বাথ উপকারী বলে মনে করেন ভেষজ চিকিৎসকরা। এটি শরীরকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে এবং ঘাম বের হওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

তুলসী পাতা ব্যবহার করা খুবই সহজ। কয়েকটি তাজা তুলসী পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে তাতে মধু বা লেবু মিশিয়ে চা হিসেবে পান করা যেতে পারে। সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চা চামচ তুলসী পাতার রস গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া যায়। আবার তুলসী পাতার সঙ্গে আদা ফুটিয়ে পান করলে সর্দি-কাশিতে দ্রুত আরাম মেলে।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে শুধুমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে কেএফসি’র নতুন স্বাদের ঝড়, এলো ‘বক্স মাস্টার’

বিশ্বখ্যাত ফাস্টফুড ব্র্যান্ড কেএফসি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের মাধ্যমে, যা ২০০৬ সাল থেকে দেশের বাজারে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন আইটেম নিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও ভোজনরসিকদের চমকে দিতে বাজারে যুক্ত হয়েছে একেবারে ভিন্ন স্বাদের নতুন মেনু ‘বক্স মাস্টার’।

খাবারের স্বাদে বৈচিত্র্য খোঁজেন যারা, তাদের জন্য এই আইটেমটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এক খাবারের মধ্যেই যেন একাধিক ফ্লেভার ও টেক্সচারের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, এমনভাবেই সাজানো হয়েছে এর উপাদানগুলো। নরম ও তুলতুলে টর্টিয়ার ভেতরে রাখা হয়েছে কেএফসি’র জনপ্রিয় হট অ্যান্ড ক্রিস্পি জিঙ্গার ফিলে, যা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রিস্পি হ্যাশ ব্রাউন, তাজা সবজির মিশ্রণ, স্পাইসি ন্যাশভিল সস এবং একটি চিজ স্লাইস—সব মিলিয়ে প্রতিটি কামড়ে পাওয়া যাবে ঝাল, নরম ও কড়মড়ে স্বাদের অনন্য সংমিশ্রণ। খাবারের এই মেলবন্ধন একদিকে যেমন তৃপ্তিদায়ক, অন্যদিকে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে ফুড লাভারদের কাছে।

বর্তমানে দেশের সব কেএফসি আউটলেটে এই নতুন আইটেম পাওয়া যাচ্ছে। ডাইন-ইন থেকে শুরু করে টেকঅ্যাওয়ে, হোম ডেলিভারি, অফিসিয়াল অ্যাপ কিংবা অনলাইন অর্ডার—সব মাধ্যমেই গ্রাহকরা ‘বক্স মাস্টার’ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ঘরে বসেও সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বমানের এই নতুন স্বাদের খাবারটি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্লাস্টিক বোতলের পানি কি নীরবে ক্ষতি করছে? সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণ—প্লাস্টিকের বোতলের পানি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহজলভ্য ও নিরাপদ মনে করেই আমরা প্রায় কোনো দ্বিধা ছাড়াই এটি পান করি। কিন্তু এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে নারীদের হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ নমামি আগারওয়াল।

তিনি প্লাস্টিকের বোতলের পানি ও পিসিওস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)-এর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার মতে, বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই, কারণ এর প্রভাব নীরবে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, একটি এক লিটার প্লাস্টিকের বোতলে প্রায় দুই লাখের বেশি ন্যানো-প্লাস্টিক কণা থাকতে পারে। এসব অতিক্ষুদ্র কণা অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে সক্ষম। এ কারণেই প্লাস্টিকের বোতলের পানিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিপিএ (Bisphenol A)। এই রাসায়নিক উপাদান প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের কন্টেইনার এবং টিনজাত খাদ্যের আস্তরণে ব্যবহৃত হয়। বিপিএ শরীরে প্রবেশ করলে এটি নকল ইস্ট্রোজেনের মতো আচরণ করে এবং প্রকৃত হরমোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।

পিসিওস-এ আক্রান্ত নারীদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ পিসিওস নিজেই একটি হরমোনজনিত জটিলতা। এর সঙ্গে বিপিএ যুক্ত হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স তৈরি হতে পারে। এর ফল হিসেবে ডিম্বাশয়ে সিস্টের সমস্যা বাড়তে পারে, ব্রণ ও চুল পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, ওজন দ্রুত বাড়তে পারে এবং মাসিক অনিয়মিত হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য কিছু করণীয়ও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে স্টিল বা কাচের বোতল ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। একইভাবে খাবার সংরক্ষণেও প্লাস্টিকের বদলে নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিকের বোতল যতটা সুবিধাজনক মনে হয়, এর নীরব ক্ষতিও ততটাই গভীর। বিশেষ করে পিসিওস-এ আক্রান্ত নারীদের জন্য সচেতন সিদ্ধান্তই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কে সারা লাইফস্টাইল

দেশের পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ড ‘সারা লাইফস্টাইল’-এর বিরুদ্ধে মানহীন পোশাক বিক্রি ও অনলাইন সেবায় গ্রাহক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব ও নতুন ডিজাইনের পোশাকের প্রচারণা চালালেও বাস্তবে বিদেশি ব্র্যান্ডের অবিক্রিত বা বাতিলকৃত স্টকলট পণ্য নিজেদের লোগো লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব পোশাক সাধারণত ফুটপাত বা ছোট দোকানে কম দামে পাওয়া যায়, সেই একই পণ্য ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’র নাম করে সারা লাইফস্টাইলের শোরুমে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা জানতেই পারছেন না যে তারা আসলে স্টকলট পণ্য কিনছেন। বিষয়টিকে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকেই।

এমন অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন আব্দুর রউফ নামের এক ক্রেতা। তিনি গত ঈদে সারা লাইফস্টাইল থেকে একটি ফরমাল শার্ট-প্যান্ট কিনেছিলেন। কিছুদিন ব্যবহারের পরই পোশাকটি আর পরার উপযোগী থাকেনি। তার ভাষ্য, শার্টের কলার অল্প সময়ের মধ্যেই ছিঁড়ে যায় এবং নীল রঙের প্যান্ট মাত্র দুইবার ধোয়ার পরই রঙ ফিকে হয়ে যায়। তিনি বলেন, সারা নিজেদের সাশ্রয়ী ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে তাদের পোশাকের মান সেই দামের সঙ্গে কোনোভাবেই মানানসই নয়। নিউ মার্কেট বা স্থানীয় দোকানেই এর চেয়ে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান দীপান্বিতা নামের আরেক ক্রেতা। তিনি চার হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রি-পিস কিনেছিলেন। কয়েকবার পরার পরই কাপড়ের মান এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে সেটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তার অভিযোগ, দাম অনুযায়ী পোশাকের মান একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি যখন ধীরে ধীরে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর আস্থা তৈরি করছে, ঠিক সেই সময় সারার মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, পুরো খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

শুধু অফলাইন নয়, অনলাইন সেবার ক্ষেত্রেও সারা লাইফস্টাইলের বিরুদ্ধে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাওয়া তো দূরের কথা, দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কোনো সঠিক তথ্য মেলে না। সারার ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে এসব অভিযোগের ছড়াছড়ি থাকলেও অভিযোগমূলক মন্তব্য দ্রুত ফিল্টার বা সরিয়ে ফেলা হয় বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

একজন ক্রেতা জানান, অনলাইনে কেনাকাটা করা একেবারেই উচিত নয়। তাদের সার্ভিস লেভেল এতটাই দুর্বল যে এক সিজনের অর্ডার আরেক সিজনে এসে পৌঁছায়। শওকত পারভেজ নামের আরেক গ্রাহক বলেন, তিনি বিকাশে টাকা পরিশোধ করার পর ২–৩ দিনের মধ্যে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ছয় দিন পার হয়ে গেলেও কোনো পণ্য পাননি।

প্রিমিয়াম সেবা ও মানসম্মত পোশাকের প্রত্যাশা নিয়ে সারা লাইফস্টাইলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন ক্রেতারা। কিন্তু অন্য ব্র্যান্ডের পোশাকে নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রির অভিযোগ সেই আস্থাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কৌশল শুধু একটি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

অভিযোগের বিষয়ে সারা লাইফস্টাইলের হেড অব ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনস ফেরাজ হোসেন রুম্মান বলেন, এসব বিষয় মূলত গ্রাহক সেবার আওতাভুক্ত এবং Consumer Rights Protection Act অনুযায়ী সমাধানযোগ্য। তিনি জানান, গ্রাহকরা প্রথমে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে পারেন। তাতেও সমাধান না হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তার দাবি, যদি কোনো গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন এবং উপযুক্ত প্রমাণ দেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চিকিৎসার নামে কি চলছে দেশে?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ২০১২ সালের মার্চ মাস। ফিরোজা খাতুনের জীবনের এক উল্লেখযোগ্য সময়। তার স্তনের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের দ্বারস্ত হন  দেশের নামিদামি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা হয়েছে, আপনার ডান পাশের স্তনে ক্যানসার ধরা পড়েছে। ‘কথা শুনে আঁতকে উঠলেন তিনি ।

তিনি বলেন, স্লাইড পরীক্ষায় মেডিনোভা ও আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস নামের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই ক্যানসার থাকার কথা বলেছিল।

এরপর একটি নয়, দুটি নয়, চারটি ক্যামোথেরাপিও দেওয়া হয়। প্রস্তুতি চলে অপারেশনেরও। ডাক্তাররা বললেন, অপারেশন করে স্তন ফেলে দিতে হবে।

কিন্তু অপারেশন করার আগে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন আত্মীয়স্বজনরা। স্বজনদের কথায় ভারতের কলকাতায় পাড়ি দেন তিনি। ওখানেও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান ডাক্তাররা। কিন্তু এসব পরীক্ষায় ক্যানসারের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলা হয়েছে ক্যানসার আছে, ভারতের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলেছে ক্যানসার নেই।

ফিরোজা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু তাতে কী? পেশায় একজন শিক্ষক ফিরোজার প্রশ্ন না জানি আমার মতো কত মানুষ ভুল পরীক্ষায় অকালে জীবন হারাচ্ছে। কিংবা অপারেশন করে অঙ্গ হারাচ্ছে। ভুল চিকিৎসার ফাঁদে যেন কেউ না পড়েন সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে আমাদের চারপাশে। অধিকাংশ মানুষেরই এ দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা নেই। যারা সুযোগ পান তারা চলে যান বিদেশে। কিন্তু যারা বিদেশে যেতে পারেন না, তারা চিকিৎসার নামে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হন বটে সুস্থ হন না। অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী নন।

‘আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। কষ্ট পাচ্ছে, তবুও সে ডাক্তারের কাছে যেতে রাজি না,’ বলছিলেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ফখরুল আলম।

বছরখানেক আগে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে আলমের বড় ছেলে আহনাফ তাহমিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শোকার্ত পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ‘আমার ছোট ছেলেরও খতনা করানোর সময় হয়েছে। কিন্তু তাকে যে হাসপাতালে নেবো, সেই সাহস পাচ্ছি না,’ বলেন তিনি।

সন্তানহারা এই বাবা এটাও জানিয়েছেন যে, তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন।

ফখরুল আলমের মতো বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, বিভিন্ন কারণে যারা দেশটির চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর সেভাবে ভরসা রাখতে পারছেন না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা পেতে ভোগান্তি, রোগ ধরতে না পারা, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেওয়া, রোগীকে যথেষ্ঠ সময় না দেওয়া, দায়িত্বে অবহেলায় মৃত্যু, স্বাস্থ্যসেবায় বাণিজ্যিক মনোভাব, জবাবদিহি ও নজরদারির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

বেসরকারি হিসেবে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখের মতো মানুষ চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, চিকিৎসার নামে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এতে অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘দেশে অন্তত ১০-১২জন ডাক্তারকে দেখাইছি। কিন্তু কেউ বলতে পারেনি যে, আমার ঠিক কী হয়েছে,’ বলছিলেন বজলুর রহমান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বজলুর রহমানের বছর দুই আগে অনেকটা হঠাৎ করেই পেটে ব্যথা শুরু হয়। শুরুর দিকে কিছুটা কম থাকলেও ক্রমেই ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। তখন তিনি সমস্যার সমাধানে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যান। ‘তিনি আমাকে বেশকিছু টেস্ট দিলেন। সেগুলো করালাম, কিন্তু কিছুই ধরা পড়ল না। তখন ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়ে বলল, ওষুধগুলো খান, সব ঠিক হয়ে যাবে,’ নিজের ভোগান্তির কথা এভাবেই বলছিলেন এই ভুক্তভোগী। ওষুধগুলো খাওয়ার পর কিছুদিন ব্যথা ঠিকও হয়েছিল তার। কিন্তু মাস না পেরোতেই পুনরায় সেটি ফিরে আসে। এর পরের এক বছরে যে যেখানে রেফার করছে, সেখানে গিয়ে ডাক্তার দেখাইছি। কিন্তু কেউ বলতে পারে না যে, ঠিক কী রোগ হয়েছে, রোগ ধরা না পড়লেও ওই এক বছরে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ বাবদ এক লাখেরও বেশি টাকা খরচ করে ফেলেন বজলুর রহমান।

পরে পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে রোগ নির্ণয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। ‘সেখানে গিয়ে দেখা গেল, আমার কোলনে আলসার। অথচ দেশের ডাক্তাররা এক বছরেও ধরতে পারল না। আমার টাকাও নষ্ট হলো, ভুগতেও হলো,’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তিনি।

সঠিকভাবে রোগ ধরা না পড়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বছর যত মানুষ বিদেশে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন, তাদের প্রায় ৫৩ শতাংশই রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন বলে এক গবেষণায় জানা গেছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের পুরোনো একটি অভিযোগ হচ্ছে, ডাক্তাররা তাদের পর্যাপ্ত সময় দেন না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে যেসব দেশে চিকিৎসকরা রোগীদের সবচেয়ে কম সময় দেন, বাংলাদেশ সেগুলোরই একটি। দেশটিতে চিকিৎসকরা একজন রোগীর পেছনে গড়ে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে থাকেন।

সরকারি হিসেবে, দেশে বর্তমানে ১৫ হাজারের মতো নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসব হাসপাতালের একটি বড় অংশেই প্রশাসনের নজরদারি নেই। জেলা পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলও নেই।

২০২৪ সালে ঢাকার সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে মারা যায় পাঁচ বছর বয়সি শিশু আয়ান আহমেদ। ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল শিশুটি পরিবার।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নির্মাণাধীন হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালটি চলছিল বলে তখন জানান সরকারের কর্মকর্তারা।

মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয় হাই কোর্ট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে শিশু আয়ানের মৃত্যুর জন্য ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখানকার দুই চিকিৎসককে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা।

সেই সঙ্গে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিহত শিশুর পরিবারকে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওইসব সুপারিশের কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। সব অনিয়মের বিরুদ্ধে এরকমই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত হয়, সুপারিশ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে জবাবদিহির অভাবে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা এখন অরাজকতায় পূর্ণ হয়েছে।

 




এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম

 

৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ

 

জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ

এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।

প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাথা ব্যাথা উপশমে ঘরোয়া উপায়ই সবচেয়ে কার্যকর

মাথাব্যথা আজকাল এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রায় সবাইকেই ভোগায়। অফিস, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজের মাঝে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। যদিও অনেকেই ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তা কমাতে চান, তবে প্রকৃতির কিছু সহজ উপায় মেনে চললে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পানিশূন্যতা শরীরে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে মাথা ভারী হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে আধঘন্টার মধ্যেই আরাম মেলে। একইভাবে আদা চা শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে দারুণ কার্যকর। আদার উপাদান প্রদাহ কমায় এবং মাইগ্রেনের ব্যথাও প্রশমিত করে।

অন্যদিকে ক্যাফেইন নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত। অতিরিক্ত ক্যাফেইন যেমন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে, তেমনি অল্প পরিমাণে এটি ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে। তাই চা–কফি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।

ঘুমের অভাবও মাথাব্যথার একটি বড় কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্নায়ু উত্তেজিত হয় এবং মাথা ব্যথা করে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় ক্যাফেইন গ্রহণের পর অল্প সময় ঘুমালে ব্যথা দ্রুত কমে যায়।

মাথাব্যথা লাঘবে ঠাণ্ডা পানির সেঁকও দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে বরফের প্যাক মাথায় রাখলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে ব্যথা উপশম হয়। একইভাবে প্রেসার পয়েন্টে হালকা ম্যাসাজ করলেও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এনে, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার ও স্ক্রিন টাইম কমিয়ে মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশুর মোবাইল আসক্তি কমাতে বিশেষজ্ঞের কার্যকর পরামর্শ

জেন ও আলফা প্রজন্মের শিশুদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি। রিলস, কার্টুন, গেম—সব মিলিয়ে স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে তারা হয়ে পড়ছে জেদি, অমনোযোগী এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়। এতে তাদের আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কমে যাচ্ছে মনোযোগ ক্ষমতা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান

তিনি বলেন, শিশুকে স্ক্রিনের নেশা থেকে দূরে আনতে সবচেয়ে আগে অভিভাবকদের নিজেদের আচরণ বদলাতে হবে। সন্তানের সামনে সবসময় ফোন হাতে থাকলে সে সেটাকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন বলে ধরে নেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতে মোবাইল দূরে রাখা, তার পরিবর্তে গল্প বলা, একসঙ্গে খেলাধুলা করা কিংবা রান্নাঘরে সাহায্য নেওয়ার মতো কার্যক্রমে তাকে যুক্ত রাখা। এতে শিশুর মনোযোগ ধীরে ধীরে স্ক্রিন থেকে সরে আসবে।

অনেক মা–বাবা খাওয়ানোর সময় শিশুর হাতে মোবাইল দেন, যাতে খেতে সুবিধা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুর খাবারের প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং খাবার গ্রহণে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়—যা মনোভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সময়াভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরের ভেতরেই একটি ছোট খেলাঘর তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে থাকবে সৃষ্টিশীল ও শিক্ষামূলক খেলার উপকরণ—লুডো, ব্লকসেট, পাজল, গল্পের বই, রং করার সামগ্রী ইত্যাদি। এসব খেলায় মনোযোগ দিলে শিশু স্ক্রিন ভুলে সময় কাটাতে শেখে।

তবে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা—হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নেওয়া যাবে না। এতে শিশুর আচরণ আরও জেদি ও চঞ্চল হতে পারে। তার পরিবর্তে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমানোর পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। যেমন—প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কার্টুন দেখার নিয়ম করলে সে ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই ফোন ব্যবহারের সময় কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানো কোনো শাস্তির বিষয় নয়। তাকে বোঝানো প্রয়োজন যে ফোনের বাইরে আরও রঙিন, প্রাণবন্ত ও সৃষ্টিশীল একটি পৃথিবী রয়েছে। ধৈর্য, নিয়ম এবং ভালোবাসা—এ তিনটির সমন্বয়ই পারে শিশুকে আবারও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম