৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।

মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে আসতে শুরু করেছে। ফলে জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্বিনের দ্বিতীয় পক্ষ থেকে কার্তিকের প্রথম পক্ষ পর্যন্ত সময়টি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, নদীতে ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে এবং তাদের অধিকাংশের পেটে ডিম রয়েছে। বড় আকারের ইলিশ কিছুটা পরে আসা শুরু করবে।

স্থানীয় জেলে রিয়াজ মোল্লা ও মোতালেব হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। আগে যেখানে দিনভর জাল ফেলে কয়েক শ টাকার মাছ মিলত, এখন কয়েক হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় আকারের ইলিশ কম ধরা পড়ছে, আর অধিকাংশ ছোট ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে বরিশালের পোর্ট রোডের আড়তদার আকতার হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন এখন দেড়শ থেকে দুই শ মণ মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি জানান, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়, এক কেজি আকারের ইলিশ ২ হাজার ১৫০ টাকা, আর ৩০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে চাঁদপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ ২০ জেলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে। এই সময়ে বরফকলও বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ ১২ জেলার নদ-নদীতে শুধু ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা। সরকারের আশা, এ উদ্যোগে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে আর ফিরবে না স্বৈরশাসন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরে যাবে না। জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো টেকসই করার প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও সরকার বেছে নিয়েছে আরও কঠিন পথ—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ কারণেই বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন এবং নারী অধিকারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, এই সংস্কার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে একত্রিত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ‘জুলাই ঘোষণা’ প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিশ্রুতির ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। দেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ড. ইউনূস জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার চালু করা হয়েছে এবং সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স ও শক্তিশালী তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবাসীদের নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, তরুণ প্রজন্মকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতি আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যেন ন্যায্যভাবে সবার কাছে পৌঁছে—সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক ব্যবসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক ব্যবসা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে, যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্যদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরকে নিজ দেশ থেকেই হজে যেতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:অনাবাসী বাংলাদেশিদেরকে নিজ দেশ থেকেই হজে যেতে হবে। তারা যেদেশে বসবাস বা অবস্থান করছেন সেদেশ থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রী হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবে যাবার কোন সুযোগ নেই।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা হতে জারিকৃত এক পত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এপত্রে বলা হয়েছে, কোনো দেশের হজ কোটায় নিবন্ধিত হজযাত্রী সেই দেশ ব্যতীত অন্যদেশ হতে সৌদি আরব গমন নিষিদ্ধ। এটি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত আবশ্যিক নির্দেশনার ১৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

এপত্রে আরো বলা হয়েছে, কিছু কিছু এজেন্সি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধন করে বিদেশ হতে সরাসরি সৌদি আরবে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এই চিঠিতে যেসকল সমস্যার কথা বলা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে নুসুক মাসার সিস্টেমে এরূপ হজযাত্রীর ফ্লাইট তথ্যসহ প্রি-এ্যারাইভাল ডাটা প্রদান করা সম্ভব হয় না। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দেওয়া এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত নয় ও হজ পালনে সক্ষম মর্মে ই-হজ সিস্টেম জেনারেটেড ফিটনেস সনদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদেরকে হজের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া বিমানের সিট খালি থাকাসহ সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনায় নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের এই চিঠিতে।

শেষে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিদেশে অবস্থানরত নিবন্ধিত হজযাত্রীগণকে হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ হতে সৌদিতে প্রেরণের ব্যবস্থা নিতে হজ এজেন্সিকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে বলে সর্তক বার্তাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 




ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন: চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে — সিইসি

আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে করার লক্ষ্য নিয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তদারকি করা হচ্ছে। রমজানের আগে ভোট আয়োজন করতে ও কয়েক দফা কাজ সম্পন্ন করতে কমিশন তৎপরভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সিইসি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রস্তুতি দরকার, আমরা জোরে–সোরে নিচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সুন্দর, ঐতিহাসিক ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের উচিৎ ধারাবাহিক কাজ করা এবং নিরপেক্ষভাবে আচরণ করা। সাংবাদিকদের প্রতি বলেও বলেন, গণমাধ্যম সঠিক তথ্য পৌঁছে দিলে নির্বাচন আরও সম্মানজনক হবে — অন্যথায় ভুল ব্যাখ্যা পরিস্থিতি নষ্ট করতে পারে।

কমিশনার আরও জোর দিয়ে বলেন, কমিশন কোনো পক্ষ কিংবা প্রভাবের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে কাজ করবে। “আমরা বিবেকের তাড়নায় চলি, আইন অনুযায়ী চলি, সংবিধান অনুযায়ী চলি এবং সরল, সোজা পথে চলব — কোনো বাঁকা পথে নয়,” তিনি বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সিইসি স্পষ্ট করেন, “রাজনৈতিক দল আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি যোগ করেন, মাঠে অংশ নেওয়া সব দলের কাছেই অনুরোধ থাকবে যে তারা ফাউল বা অসদাচরণে লিপ্ত হবে না; এমন হলে রেফারির পক্ষে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

সিইসি বিদেশ সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিদেশে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে নির্বাচনের সময় নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপের সুযোগও রয়েছে — এ সব যোগাযোগও ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করতে সহায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি।

একই সঙ্গে সিইসি আবারো গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা লাগবে। আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে আপনি জনগণকে বুঝাতে সাহায্য করবেন। আমরা কারো কথায় চলতে চাই না — আমরা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী চলতে চাই।”

সিইসি আশা ব্যক্ত করেন, রাজনীতিকরা নির্বাচনে অংশ নেবেন সৌন্দর্যবোধ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মানে বুঝে; কেউ নির্বাচনের মাঠে ফাউল বা অন্যায় করার ইচ্ছা নিয়ে নামবেন না। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমাদের স্টেকহোল্ডাররা সুন্দরভাবে সহযোগিতা করবে — কারণ আমরা একটি বিশাল বিপ্লবের মধ্যে আছি এবং এখন ক্রান্তি লগ্নে আছি।”

ব্রিফিংয়ে সিইসি কয়েকটি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির দিকও আভাস দেন — ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, কেন্দ্র বনাম ফলাফল প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এবং বুথভিত্তিক লজিস্টিক ব্যবস্থা দ্রুত তদারকি করা হবে। তিনি সমগ্র ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাগরিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিইসি জনগণকে আত্মবিশ্বাসীভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে আইন এবং সংবিধান মেনে চলার আবেদন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুব বেকারত্ব বিশ্বজুড়ে বড় সংকট : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণরাই পৃথিবীর পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি, কিন্তু একইসঙ্গে তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় যুব বেকারত্ব এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে আরও বেশি প্রকট।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে তিনি যুবকদের জন্য বিশ্ব কর্মপরিকল্পনার (ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ফর ইয়ুথ) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল — “আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অগ্রগতি।”

বক্তব্যের শুরুতে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আজ ৮৫ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করছি এই প্রতিপাদ্যের গভীর তাৎপর্য। বাংলাদেশে আমরা গত বছর প্রত্যক্ষ করেছি যুবসমাজের অসাধারণ শক্তি। তারা সাহসিকতার সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে এবং জাতিকে নতুন পথে পরিচালিত করেছে। এই তরুণ প্রজন্মই আমাকে সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব দিয়েছে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী তরুণরা অসমতা, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সুরক্ষাবাদ ও ডিজিটাল বিভাজনের মতো সংকটের প্রথম শিকার। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সংকট তাদের জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি তুলে ধরেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে যুব বেকারত্ব প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় যুব উদ্যোক্তা নীতি চালু করেছি। এর মাধ্যমে তরুণদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, সংস্কার কমিশনগুলোতে যুবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে তরুণদের চিন্তাভাবনা প্রতিফলিত হয়।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা বিশ্বব্যাপী কর্মপরিকল্পনা ফর ইয়ুথ, ফ্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার, জাতিসংঘ যুব কৌশল ২০৩০ এবং ইয়ুথ, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো দেশ একা যুব ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারবে না। বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “তরুণদের প্রতি অবহেলা করলে হতাশা দ্রুত অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ একা বহন করতে হবে না। কেবল তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তরুণরা নিজেদের জন্য, পৃথিবীর জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

মাত্র ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে পেয়েও সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং আর শট নির্বাচনের ভুলে টাইগাররা হেরে গেল মাত্র ১১ রানে। অন্যদিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ধারালো ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল পাকিস্তান, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি তাদের। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ফারহান। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদির নিয়ন্ত্রিত স্পিনে এক পর্যায়ে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে মাত্র ৪৯। তবে এরপর মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নাওয়াজ দলের হাল ধরেন। মাঝের ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির কয়েকটি বড় শট এবং ফাহিম আশরাফের অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোভাবে ১৩৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল খুব একটা বড় নয়। জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ধীরস্থির ব্যাটিং আর স্ট্রাইক রোটেশন। কিন্তু প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান ইমন আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর একে একে সোহান, জাকের, হৃদয়, মেহেদি—সবাই ফিরলেন দায়িত্বহীন শটে। দলকে ভরসা দেওয়ার মতো কোনো জুটি গড়তে পারেননি ব্যাটাররা।

শামীম হোসেন কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেললেও শাহিন আফ্রিদির বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ারে পরাস্ত হন তিনি। বাকিরা ছিলেন সম্পূর্ণ ছন্দহীন। সাইফ হাসান ১৭, নুরুল হাসান ১৬ এবং রিশাদ হোসেন অপরাজিত ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪/৯।

বোলিং বিভাগে অবশ্য টাইগাররা লড়াই করেছে। তাসকিন আহমেদ ৩টি উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। রিশাদ ও মেহেদি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। তবে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় সেই কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যায়। মাঠের বাইরে বসে থাকা কোচিং স্টাফদের হতাশ মুখই যেন বলে দিচ্ছিল, কত বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো!

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান নিশ্চিত করল ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনাল। ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। ৪১ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনো ফাইনালে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি।

ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল একে অপরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (হারিস ৩১, নাওয়াজ ২৫, আফ্রিদি ১৯, সালমান ১৯, ফাহিম ১৪*, ফখর ১৩; তাসকিন ৩/২৮, রিশাদ ২/১৮, মেহেদি ২/২৮, মুস্তাফিজ ১/৩৩)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (শামীম ৩০, সাইফ ১৭, নুরুল ১৬, রিশাদ ১৬*, মেহেদি ১১, তানজিম ১০; আফ্রিদি ৩/১৭, রউফ ৩/৩৩, সাইম ২/১৬, নাওয়াজ ১/১৪)।
ফলাফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শাহিন শাহ আফ্রিদি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের পক্ষে। তবে শত্রুরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা সবাইকে মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”

জনগণের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে যে আস্থা সংকট রয়েছে, সে প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “অবশ্যই নির্বাচন হবে। তবে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করে সবার মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জানে যে নির্বাচন আসন্ন।

নির্বাচন নিয়ে এনসিপি ও জামায়াতের দাবিসমূহ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দল সবসময় দরকষাকষির মাধ্যমে কিছু অর্জন করতে চায়। তবে সব দাবি সহজে পূরণযোগ্য নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিআর পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট সরকার তৈরি হতে পারে: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার মতো একটি ফ্যাসিস্ট বা দুর্বল সরকার গঠিত হতে পারে, যা দেশের স্থায়ী অস্থিতিশীলতার কারণ হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “পিআর চাওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো বেশি আসন পাওয়া। অন্য একটি উদ্দেশ্য হলো দেশে অনৈক্য এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে মেজরিটি পার্টি ক্ষমতায় না আসতে পারে। কম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের জন্য পিআর লাভজনক।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুসারে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হওয়া উচিত। এ বিষয়ে জামায়াতকে সংবিধান খতিয়ে দেখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টা নিজেও বহুবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালনা করতে হলে সংবিধান মেনে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে কোনো রাজনৈতিক দলের অসাংবিধানিক, অরাজনৈতিক বা অবৈধ দাবিকে মেনে জাতিকে বিপদে ফেলা যাবে না।

জরিপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তা থেকে দেখা গেছে ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি ঠিকভাবে বোঝে না। কিন্তু জামায়াত ইসলামী দাবি করছে যে ৭০ শতাংশ মানুষ পিআর চায়। “এ ধরনের তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না,” বলেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিউইয়র্ক ঘটনার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টার: সারজিস আলম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অথচ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যখন একই ধরনের ঘটনার শিকার হন, তখন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করায় এটি নিছক গাফিলতি নয়, বরং ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকে স্বীকার করতে হবে।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “আমরা চাই, ভবিষ্যতে কেবল দায় স্বীকার আর বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করছে।”

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের প্রতীক বিষয়ে দলটি সাদা বা লাল শাপলার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কোনো আইনি বাধা না থাকা সত্ত্বেও চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন সাহস দেখাতে পারেনি। এটিকে কমিশনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ: জামায়াত আমির

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ রোধ করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন—আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা হবে।

চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান ঝো পিংজিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতের আমির আরও জানান, ভবিষ্যতে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুই দেশের পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও অবহিত করেন জামায়াত নেতারা।

এ সময় চীনের ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝো পিংজিয়ানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫