জিআই স্বীকৃতি পেল বরিশালের আমড়া, মৌসুমে জমজমাট বেচাকেনা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব বরিশালের আমড়া এবার পেয়েছে বিশেষ পরিচিতি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। মৌসুমে বরিশাল ও আশপাশের জেলায় আমড়ার চাষ, সংগ্রহ ও বেচাকেনা নিয়ে গ্রামীণ জনপদে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন বাগানে গাছ থেকে আমড়া নামাতে চাষিরা ব্যবহার করেন ঐতিহ্যবাহী লগি। এরপর ঝুড়ি বা নৌকায় করে তা আনা হয় স্থানীয় বাজারে। আটঘর-নেছারাবাদ, হিমানন্দকাঠি বা কুড়িয়ানা খালের ঘাটে নিত্যদিন ভিড় করেন চাষি ও ক্রেতারা। এখান থেকেই পাইকাররা বড় আকারে আমড়া কিনে নিয়ে যান।

আড়তগুলোতে নারী-পুরুষ একত্রে বসে আমড়া বাছাই করেন। আকার ও মান অনুযায়ী আলাদা করে রাখা হয় কেরেট ও বস্তায়। এরপর ওজন মেপে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। মৌসুমে প্রতিদিনই শত শত মণ আমড়া পাইকারি বাজারে উঠছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বরিশালের এই আমড়া কেবল স্বাদে অনন্য নয়, বরং দেশের বাজারে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বরিশালের আমড়ার পরিচিতি আরও বাড়বে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এডিবি পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৪%, পরের বছর বাড়বে ৫%

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ধীরগতির হলেও আগামী বছর তা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরের শেষে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৪ শতাংশে, আর ২০২৬ অর্থবছরের শেষে তা বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

এডিবি মনে করছে, চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বারবারের বন্যা, শিল্পে শ্রমিক বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস করেছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সামনে দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, নীতিগত দুর্বলতা ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, টাকার দুর্বলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৫ অর্থবছরে গড় মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ১০ শতাংশে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বেশি।

অন্যদিকে বাণিজ্য ব্যবধান সংকুচিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ২০২৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে জিডিপির ০ দশমিক ০৩ শতাংশ উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের অর্থবছরের ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় অনেকটা ইতিবাচক।

এডিবি আশা করছে, ২০২৬ অর্থবছরে ভোগব্যয় হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। এর পেছনে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব নীতির কড়াকড়ি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা বাড়ায় রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের পণ্যের দাম কমাতে হতে পারে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি বর্তমানে ৬৯টি দেশের সদস্যভুক্ত। সংস্থাটি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন : জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার কার্যক্রমে  পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ।সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার  নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল এ  বৈঠকে অংশ নেয়। দলে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

বৈঠকে রাজনৈতিক সংস্কার, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহিতা, সুরক্ষাবাদী শুল্কনীতিকে ঘিরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ইস্যু এবং ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলনসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা মহাসচিবকে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়ে অবহিত করেন।

মহাসচিব গুতেরেস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার এজেন্ডায় জাতিসংঘের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। গত ১৪ মাসে প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করে মহাসচিব বলেন, এই কঠিন রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তাঁর নেতৃত্বকে তিনি সম্মান ও শ্রদ্ধা করেন।




ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক খারাপ এর জন্য দিল্লি দায়ী : ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছে দিল্লি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোটারবিহীন প্রতিটি নির্বাচনকে সমর্থন করেছে তারা। এগুলোই ক্ষতি করেছে। ভারতেরও ক্ষতি হয়েছে।’

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে যখনই আপনি ষড়যন্ত্রে যাবেন, তখনই আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। তা-ই হয়েছে। আওয়ামী লীগেরও ক্ষতি হয়েছে। এগুলো করে তারা নিজেদের ক্ষতিটা করেছে। অন্য কাউকে কিছু করতে হয়নি। তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপড়েন কাটিয়ে উঠতে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে ভারতের ওপরে। ভারত যদি চায় যে বাংলাদেশের সঙ্গে সে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাড়াবে শুধু বড় দাদা না হয়ে, বন্ধু হয়ে সমস্যা সমাধান যদি করে কিছুই, সেটা হবে। আমরা সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি, যাচ্ছি, আসছি। আর ভারতের ব্যাপারটা হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের একটা যোগাযোগ তো ছিল। কিন্তু ভারতের ওপর নির্ভর করবে যে তারা কতদূর বিএনপির সঙ্গে একটা জায়গায় আসবে।




ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক রদবদল, হাজারো কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান। চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে করা হয়েছে ওএসডি (অন স্পেশাল ডিউটি)। ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা পাবেন বটে, তবে কোনো পদে দায়িত্ব পালন করবেন না। ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজারো কর্মীকে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সিভির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা। পরবর্তীতে তাদের নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

গত শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশনায় কর্মীদের একটি বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও মাত্র ৪১৪ জন এতে অংশ নেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কর্মীরা স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে যারা পরীক্ষা দেননি, তাদেরকে পরদিন থেকেই ওএসডি করা হয়। আর পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করা ২০০ কর্মীকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়।

তবে ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংক সেই আদেশ অমান্য করে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি দাবি করে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য সরাসরি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়। তবে যেহেতু ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকে কর্মী নিয়োগ বা যোগ্যতা যাচাই তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

এদিকে, এস আলম গ্রুপের আমলে ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ এবং আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান কর্তৃপক্ষ যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া ব্যাংকটির ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতে এটি নতুন এক নজির হিসেবে দেখা দেবে, যেখানে কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের ওপর চাকরি টিকে থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চায় এক দল: সালাহউদ্দিন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কিছু মহল নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যারা এমন উদ্যোগ নেবে, তাদের জনগণ রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অতীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে কেউ সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও এ দেশের জনগণ তা হতে দেবে না। বিএনপি কখনো চায়নি রাজনীতিকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা হোক। সংবিধানেও ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে স্থান দেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে, নিরাপদে উপাসনা করবে এবং প্রচারের সুযোগ পাবে—এ বিষয়টি বিএনপি নিশ্চিত করবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে একটি দল রাজনৈতিকভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে এবং ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বিএনপির নীতি হলো—“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”। ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তার অধিকার সবার।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পূর্ণিমার দিনে মমতার স্বপ্নময় স্মৃতি: পূজা কাটছে না অপু বিশ্বাসের

ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা অপু বিশ্বাস মা-বাবাকে হারানোর বেদনা নিয়ে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপভোগ করতে পারছেন না। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী (২৯ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষ্যে রাজধানীর মন্দিরগুলোতে সকাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চললেও, নিজের পরিবারের স্মৃতিচারণে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী।

অপু জানান, “কোথাও যাবো না, বাসায় সময় কাটাব। এখন কোথাও যেতে মন চায় না। পূজার সময় মা-বাবাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। তাদের অভাব কখনও পূরণ হবে না। প্রতিদিনই তাদের মিস করি, তবে পূজার সময়টা আরও বেশি কষ্টের।”

শৈশবের স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, “বগুড়াতেই আমার বেড়ে ওঠা। সেখানেই পূজার দিনগুলো কাটত আনন্দে। বাবা, কাকা, মা এবং আরও অনেক আত্মীয়-স্বজন থাকতেন। তখন আমাদের বাড়ি উৎসবে মুখর হয়ে উঠত।”

উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ শুরু করা অপু বিশ্বাস ‘লাল শাড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে সিনেমা নির্মাণ করছেন। সিনেমাটি তাঁতপল্লির প্রেক্ষাপটে প্রেম-ভালোবাসা ও স্থানীয় রাজনীতির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তিনি এই সিনেমার জন্য সরকারি ৬৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন।

অপু বিশ্বাসের জন্য এই পূজা যেন পরিবার ও শৈশবের স্মৃতিতে আবদ্ধ এক নীরব উদযাপন, যেখানে ভক্তদের দোয়া তাঁর শক্তি যোগাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাইছে দেশের অধিকাংশ দল’

পিরোজপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রস্তাবিত সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষপাতী বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র নায়েব আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের মতামত নিয়ে নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত প্রদান করেছে।

ফয়জুল করীম বলেন, “পিআর পদ্ধতি চালু হলে একটি সুষম সংসদ গঠন হবে। বিশ্বের ৯১টি দেশে এটি কার্যকর, এবং নতুন করে আরও দেশ এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতি কালো টাকার দৌরাত্ম্য, ভোট জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির সুযোগ দেয়। তাই আমরা বাংলার মাটিতে আর এটি দেখতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেক শিক্ষার্থী জীবন হারিয়েছে বা অক্ষম হয়েছে। এ কারণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন, হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার এবং সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অপরিহার্য।

গণ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণকে হতাশ করেছে। নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো স্বৈরশাসক, দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসী শ্রেণি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। এজন্য মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে ভোটের সুষ্ঠু মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল আহসান, ইসলামী যুবি আন্দোলন জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদ জেলা সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ পিরোজপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নাঈমুল ইসলাম সহ জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরের ২ রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান, জব্দ নগদ টাকা

অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ ও চেম্পারিংয়ের অভিযোগে পিরোজপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তাদের মতো সরাসরি অফিস কক্ষে বসে প্রায় ৫০ জন নকলনবিশ সেবা দিয়ে আসছিলেন, যা নিয়মবহির্ভূত। অভিযানে নকলনবিশ মর্জিনা খানমের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার এবং শিল্পি রানীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট ৬৭ হাজার টাকা সন্দেহজনকভাবে জব্দ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মর্জিনা খানম (৪৩) সদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মানিক সিকদারের স্ত্রী এবং শিল্পি রানী (৪৮) নাজিরপুর উপজেলার শ্যামল বড়ালের স্ত্রী। তারা দুজনই নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত।

সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, “অভিযানে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। নকলনবিশরা নিয়ম ভেঙে কর্মকর্তাদের মতো কাজ করছিলেন। এছাড়া নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গভীর নলকূপেও মিলছে না পানি, ঝালকাঠিতে সুপেয় জলের তীব্র সংকট

দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। এতে ঝালকাঠি জুড়ে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির ভয়াবহ সংকট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক কলসি পানি তুলতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। নলকূপের ওপর পানি ঢেলে বা বারবার মেরামত করেও মিলছে না যথেষ্ট পানি। ঝিরিঝিরি করে যে পানি ওঠে, তা সংগ্রহে নারী-পুরুষ সবারই নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে ৭ থেকে ৮’শ ফুট গভীরেই পানি মিলত, এখন এক হাজার ফুট খুঁড়লেও পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

কামারপট্টির বাসিন্দা মনির হোসেন মিন্টু বলেন, “আধা ঘণ্টা চেষ্টা করেও অল্প পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে সুপেয় জলের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।”

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, “পৌরসভার সরবরাহ করা পানি সবই ভূগর্ভস্থ। এটি শুধু পান করার কাজে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। গোসল, ধোয়া-মোছা বা অন্য কাজে উপরিভাগের পানি সরবরাহ করা হলে সংকট অনেকটা লাঘব হবে।”

এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে সেচ এবং শক্তিশালী মেশিনে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বৃষ্টির পানি, পুকুর ও জলাশয়ের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি জেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ এখনো সুপেয় জলের জন্য গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫