নাটকীয় জয় পেল টাইগাররা আফগানিস্তানের বিপক্ষে

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ নারী দলের মতোই পূর্ণাঙ্গ নাটকীয়তায় জিতল বাংলাদেশ জাতীয় দল। শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৬ রান। পরিস্থিতি সহজ মনে হলেও ম্যাচের শেষ অংশে টাইগাররা রীতিমতো সংগ্রামে পড়েছিল।

ম্যাচের ১৯তম ওভারে আফগানিস্তানের বোলিংয়ে এসেছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এই ওভারে নুরুল হাসান সোহান ব্যাট হাতে টানা দুইটি ছক্কা মেরে বাংলাদেশের জয়ের পথ উন্মুক্ত করেন। তৃতীয় বলে আসে একটি সিঙ্গেল, চতুর্থ বলে রিশাদের শট উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পরিণত হয়। অবশেষে ৮ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১৫৩ রানে, ৬ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে।

দলীয় জয়ের পথ শুরু হয় উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। দুই ওপেনারই আফগান বোলারদের কঠিন প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তানজিদ ৫১ রান করে ফিরে যান, আর পারভেজ ৫৪ রান করে সাজঘরে। এরপর দলের বাকি ব্যাটাররা তুলনামূলকভাবে নির্ধারিত রানের দিকে এগোতে পারেননি।

শেষ দিকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫১ বলে ৪৩ রান, হাতে সবকটি উইকেট। আফগান স্পিনার রশিদ খানের বল যেন টাইগারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এই স্পিনারের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের ৪ জন ব্যাটার, আর দলের রান ১১৮ এ এসে দাঁড়ায়। তবে নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসান ঠান্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। সোহান ১৩ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, রিশাদ ৯ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৫১ রান। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। বাংলাদেশের বোলিংয়ে নাসুম আহমেদ প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন। ইব্রাহিম জাদরানকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর দারউইস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাক দুইজনই দুই অঙ্কের রান করতে না পারায় আফগানিস্তান দল বিপাকে পড়ে।

শেষ দিকে মোহাম্মদ নবি ঝড়ো ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। ১৮তম ওভারে তিনটি ছক্কার সাহায্যে দলের রান বৃদ্ধি করেন, শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৩৮ রান করেন। অপরাজিত থাকেন শরাফুদ্দিন আশরাফ ১২ বলে ১৭ রান করে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ক্রম এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের নাটকীয়তা দেখালো দলের মানসিক দৃঢ়তা এবং সংযম। টাইগারদের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র-গবেষণার জীবন্ত মহীরুহ আহমদ রফিক আর নেই

বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র-গবেষণার জীবন্ত মহীরুহ আহমদ রফিক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। ৯৬ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান জানান, রাত ১০টা ১২ মিনিটে আহমদ রফিকের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

এর আগে বুধবার তাঁকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারডেমে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন এবং অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি একাধিক মৃদু স্ট্রোকও হয়েছিল তাঁর।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই প্রখ্যাত রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ। সেখানে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠায় তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দিনই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাঁকে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে না পারায় গত রোববার তাঁকে স্থানান্তর করা হয় বারডেম হাসপাতালে। সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটান তিনি।

বাংলা সাহিত্যে ও রবীন্দ্রচর্চায় তাঁর অবদান অপরিসীম। দীর্ঘ জীবনে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ, কবিতা ও গবেষণার মাধ্যমে পাঠক সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ও গবেষণা আগামী প্রজন্মের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

সাহিত্যপ্রেমীরা বলছেন, আহমদ রফিক ছিলেন একাধারে সৃজনশীল কবি, চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক এবং নিবেদিত রবীন্দ্র-অনুরাগী। তাঁর প্রস্থান বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশবাসী তাঁকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দাপট দেখাল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন টাইগ্রেসরা ৭ উইকেটের দারুণ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। তরুণ পেসার মারুফা আক্তার প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান। এরপর নাহিদা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের ঘূর্ণি আক্রমণে একের পর এক ব্যাটার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মুনিবা আলি ও রামিন শামীম কিছুটা লড়াই করলেও খুব বেশি এগোতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৩ ওভারে ১২৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণা আক্তার নেন ৩ উইকেট মাত্র ৫ রানে। মারুফা ও নাহিদা আক্তার দু’জন করে উইকেট শিকার করেন। নিশিতা আক্তার নিশি, ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খান একটি করে উইকেট নেন।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ফারজানা হক দ্রুত আউট হলেও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক দেখান তার মেধার ঝলক। ৭৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি যোগ করেন ২৩ রান এবং সোবহানা মোস্তারী মাত্র ১৯ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন।

৩১.১ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান তুলে টাইগ্রেসরা পায় দাপুটে জয়। পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন রামিন শামীম, ফাতিমা সানা ও ডায়ানা বাইগ।

এই জয় শুধু গ্রুপ পর্বে সাফল্যের শুরু নয়, বরং টাইগ্রেসদের আত্মবিশ্বাস আরও উঁচুতে তুলে নিল। বোলারদের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ, ফিল্ডারদের সতর্কতা আর রুবাইয়ার অভিষেক ফিফটি যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারীরা চমক দেখাতে প্রস্তুত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজাগামী ফ্লোটিলায় হামলা, বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের নৌবাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৩টি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে এবং সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও ফরাসি নাগরিক এমা ফোরোও। তিনি ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সরাসরি অংশ নিচ্ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগেই ফ্লোটিলাটি গাজার উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলের ঘোষিত তথাকথিত ‘বিপৎসীমায়’ প্রবেশ করেছিল। আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের গাজা উপকূলে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী অভিযান চালায়।

হামলার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য এমা ফোরো বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেন। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এক্স অ্যাকাউন্টে তার দেওয়া বার্তায় বলা হয়— “দেশটিকে অবরুদ্ধ করুন, বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিন। আসুন ফ্লোটিলার মিশন সম্পন্ন করি: অবরোধের অবসান ঘটাই, গাজায় গণহত্যা বন্ধ করুন।”

ইসরায়েলের আগ্রাসন ও অবরোধে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য ঘাটতি, অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রতিদিন শিশু ও সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবরোধ ভাঙতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানবাধিকারকর্মীরা একত্রিত হয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। নৌবহরে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, এই ত্রাণবাহী বহর তাদের আরোপিত ‘আইনসম্মত নৌ অবরোধ’ ভাঙার চেষ্টা করছে। যদিও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে অবরুদ্ধ অঞ্চলে সাহায্য পাঠানোর অনুমতি সুস্পষ্টভাবে দেওয়া আছে।

এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। একইসাথে তারা বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অবিলম্বে গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

এই হামলার পর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ভবিষ্যৎ মিশন অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, যত বাধাই আসুক না কেন তারা গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রে নয় দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পন্ন করে তিনি দেশে ফিরলেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে তিনি বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সংকট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

২৯ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং অনুন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমার সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের মানবিক ও উন্নয়ন ইস্যুগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ইউনূস। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।

সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ইউনূস ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান ও কসোভোসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

নিউইয়র্ক সফর শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ফেরেন প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীরা।

এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র বিশ্লেষকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজে উঠে পড়ল ইসরায়েলি সেনারা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে এগিয়ে যাওয়া “ওয়ার্ল্ড সুমুদ ফ্লোটিলা”র জাহাজে উঠে পড়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে নৌবহরের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী জাহাজ আলমা-তে ইসরায়েলি সেনাদের উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই

এর পাশাপাশি আদারা নামের আরেকটি জাহাজেও সেনারা উঠে পড়ে। সেখানে উপস্থিত অধিকারকর্মীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দিতে দেখা গেছে। যদিও তারা স্বেচ্ছায় তা করেছেন নাকি সেনাদের বাধ্যবাধকতায়, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এই নৌবহরে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের ৫০০ অধিকারকর্মী অংশ নিয়েছেন। ৪৫টি ছোট-বড় জাহাজে করে তারা মানবিক ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাদের লক্ষ্য কেবল ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং দখলদার ইসরায়েলের আরোপিত অবৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা।

ইসরায়েল আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিল, ত্রাণবাহী এসব জাহাজ যেন গাজার উপকূলে না আসে। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে অধিকারকর্মীরা এগিয়ে যাওয়ার সময় থেকেই তাদের জাহাজ আটকানো শুরু করেছে দখলদার বাহিনী।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে আবারো ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোকে বাধা দেওয়া মানবিক অধিকারের ঘোর লঙ্ঘন। তারা অবিলম্বে এই অভিযান বন্ধ করে ত্রাণবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজার আরও কাছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এই নৌবহরে রয়েছে প্রায় ৪৫টি জাহাজ এবং ৪০টি দেশের পাঁচ শতাধিক অধিকারকর্মী, যাদের লক্ষ্য গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ও ইসরায়েলের অবৈধ নৌ অবরোধ ভাঙা।

ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বর্তমানে এমন এক স্থানেরও অতিক্রম করেছে যেখানে এর আগে গ্রেটা থুনবার্গসহ কয়েকজন অধিকারকর্মীকে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার (১ অক্টোবর) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়, “আমরা গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। সবাই নিরাপদ আছি। মাদলিন জাহাজ যেখানে আটক হয়েছিল, আমরা এখন অনেক দূরে এগিয়ে গেছি। তবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।”

তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো—গাজার জনগণের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিশ্ববাসীর কাছে অবরুদ্ধ জনগণের প্রতি সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেত জানিয়েছে, ফ্লোটিলার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইতোমধ্যেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিকারকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে জাহাজগুলো জব্দ করা হবে। এ জন্য আসোদ বন্দরের আশপাশের হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে, ফ্লোটিলা গাজার কাছাকাছি পৌঁছালে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এলিট ইউনিট সায়েতেত ১৩ সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে। অধিকারকর্মীদের আটক করে আসোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে কেতজিয়োত কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে। যারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে, আর যারা অমান্য করবে তাদের কারাগারেই আটক রাখা হবে।

ইসরায়েলি সেনারা জব্দকৃত জাহাজের একটি অংশ বন্দরে নিয়ে যাবে, আর বাকিগুলো সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লোটিলায় থাকা অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, যে কোনো সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে।

গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য এগিয়ে চলা এ নৌবহরকে ঘিরে এখন পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গাজায় প্রবেশ করা এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কেবল একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি অবরুদ্ধ মানুষের ন্যায্য অধিকারের জন্য একটি বৈশ্বিক আন্দোলন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগামী কাল দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন  সহ  নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে আসে।

সফরকালে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। একই দিনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘের অনুন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা ইউনূসের সঙ্গে আলাদা সাক্ষাত করেন।

নিউইয়র্ক অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেন অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এছাড়া নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান ও কসোভো সহ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।




শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধান উপদেষ্ঠা ড.মুহাম্মদ ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জিটিও’র সাংবাদিক মেহদি হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভারত বরাবরই হাসিনাকে সমর্থন করে এসেছে। তারা হয়তো এখনো আশা করছেন যে তিনি পূর্ণ গৌরবের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, একজন বিজয়ী নেতা হিসেবে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়ে উদ্বেগের প্রশ্নে ড. ইউনূস জানান, বাইরের কিছু শক্তি তাকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে সহায়তা করবে। আমরা সব সময় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

প্রধান উপদেষ্টা মোদির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে অনুরোধ করেছি, যদি হাসিনাকে (ভারতে) রাখেন, সে বাংলাদেশের মানুষ বা সরকারের বিষয়ে যেন কথা না বলে। মোদি আমাকে বলেছিলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।’

ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ এবং নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।

 




প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তারেক রহমান

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসবগুলো যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটাই আমাদের বিশ্বাস। নাগরিক নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে উৎসব পালন করতে পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পবিত্র হাদিসেও অমুসলিমসহ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই সমাজে উৎপীড়ন, প্রতিহিংসা ও কুশাসন রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতা আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে এবং এটি দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫