গাজায় শান্তির নিঃশ্বাস, মানুষ ফিরছে ধ্বংসস্তূপের শহরে

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনের গাজায় স্বস্তির ছায়া নেমেছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যার অংশ হিসেবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছে।
সকাল থেকেই মধ্য গাজার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় থাকা হাজারো মানুষ গাজা শহরের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। অনেকেই চোখের জল মুছছেন, কেউ কেউ চিৎকার ও শিস বাজিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এক সময়ের ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবুও নিজের শহরে ফিরতে পারার অনুভূতি মানুষদের চোখে মুখে স্পষ্ট।
গাজার বাসিন্দা ইব্রাহিম আল-হেলু (৪০) বলেন, “আমরা আবেগাপ্লুত হলেও সতর্ক ছিলাম। এখন রাস্তায় কোনো বাধা নেই, আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরছি এবং পরিস্থিতি দেখার জন্য রওনা দিয়েছি।”
এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার’ প্রথম ধাপে হামাস ও ইসরায়েল উভয়পক্ষই সই করেছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চুক্তির মাধ্যমে খুব শিগগির সব বন্দিকে মুক্ত করা হবে এবং ইসরায়েল নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক। হামাসের আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়া বলেন, “এই চুক্তি গাজায় সংঘাতের সমাপ্তি আনবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশ ও বন্দিবিনিময় নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চয়তা দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এর আগে সীমিত সময়ের জন্য দুই ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাকি সময়ে অব্যাহত ছিল বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও মানবিক বিপর্যয়।
এই নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে অন্তত এই মুহূর্তে গাজা উপত্যকার আকাশে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও শান্তির ছায়া নেমেছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








