গাজায় শান্তির নিঃশ্বাস, মানুষ ফিরছে ধ্বংসস্তূপের শহরে

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনের গাজায় স্বস্তির ছায়া নেমেছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যার অংশ হিসেবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছে।

সকাল থেকেই মধ্য গাজার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় থাকা হাজারো মানুষ গাজা শহরের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। অনেকেই চোখের জল মুছছেন, কেউ কেউ চিৎকার ও শিস বাজিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এক সময়ের ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবুও নিজের শহরে ফিরতে পারার অনুভূতি মানুষদের চোখে মুখে স্পষ্ট।

গাজার বাসিন্দা ইব্রাহিম আল-হেলু (৪০) বলেন, “আমরা আবেগাপ্লুত হলেও সতর্ক ছিলাম। এখন রাস্তায় কোনো বাধা নেই, আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরছি এবং পরিস্থিতি দেখার জন্য রওনা দিয়েছি।”

এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার’ প্রথম ধাপে হামাস ও ইসরায়েল উভয়পক্ষই সই করেছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চুক্তির মাধ্যমে খুব শিগগির সব বন্দিকে মুক্ত করা হবে এবং ইসরায়েল নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।

চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক। হামাসের আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়া বলেন, “এই চুক্তি গাজায় সংঘাতের সমাপ্তি আনবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশ ও বন্দিবিনিময় নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চয়তা দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এর আগে সীমিত সময়ের জন্য দুই ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাকি সময়ে অব্যাহত ছিল বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও মানবিক বিপর্যয়।

এই নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে অন্তত এই মুহূর্তে গাজা উপত্যকার আকাশে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও শান্তির ছায়া নেমেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর ৪ প্রভাবশালী নেতার সাক্ষাৎকার বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের ডাকে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন পটুয়াখালী জেলার চারজন শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী নেতা। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকারে তারা পৃথকভাবে অংশ নেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ভূমিকা তুলে ধরেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-১ আসন (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের ডাকা হয়েছে তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন এবং সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য মোশতাক আহমেদ পিনু

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং মাহবুবুল হক নান্নু

সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকারে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনিক সক্ষমতা ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে দলের আন্দোলন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “গত দুই দশক ধরে তৃণমূলের পাশে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছি এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছি।”

অন্যদিকে সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু জানান, “আমি পৌর মেয়র থাকাকালে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছি এবং এখনো স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে দলের পক্ষে মাঠে আছি।”

মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে চারজনই দলের প্রতি তাদের আনুগত্য, তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি তুলে ধরেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বোর্ড সাক্ষাৎকার শেষে তাদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক প্রভাব ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবে পরবর্তী ধাপে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্ত শহিদুল আলম, পৌঁছেছেন তুরস্কে

বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রশিল্পী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম অবশেষে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি তুরস্কে পৌঁছান, যেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়,
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকার পর তাঁর মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্ক সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শহিদুল আলমের মুক্তিতে তুরস্কের সহযোগিতা বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা শহিদুল আলমের মুক্তিকে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাঁর নিরাপদে তুরস্কে পৌঁছানোয় দেশজুড়ে স্বস্তির বাতাস বইছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিআর নিয়ে গনভোট চায় জামায়াতে ইসলামী : গোলাম পরওয়ার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত গণ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন , পিআর নিয়ে জাতির রায় আমরা গ্রহণ করবো 

গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতি যদি পিআরের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে সব দলকে তা মানতে হবে। আর জাতি না মানলে সে রায় আমরাও গ্রহণ করবো।

তিনি বলেন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে গণভোট এবং সেখানে পিআর পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতির মতামত না নিয়ে পিআরকে উপেক্ষা করা যাবে না।

গোলাম পরওয়ার আরো  বলেন, পিআর জনগণ বোঝে না-এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।




ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে সব সংশয় কেটে গেছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সব বাধা ও সংশয় দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “দেশবাসী এবার একটি বাস্তব ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে পাবে। বহু বছর পর সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।”

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “বিগত ষোলো বছর ধরে জনগণ শুধু ‘ফেইক ইলেকশন’ দেখেছে। কিন্তু এবার আমরা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীরা পোস্টার, প্রচারণা শুরু করেছে। এটি প্রমাণ করে, জনগণ একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”

তিনি জানান, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সব রাজনৈতিক দল এই সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করবে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম আইয়ুব আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

এসময় প্রেস সচিব আরও জানান, সাংবাদিক শহীদুল আলমকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন—স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় ভরপুর।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




শান্তির প্রতীক মারিয়া কোরিনা মাচাদো: গণতন্ত্রের লড়াকু কণ্ঠ

ভেনেজুয়েলার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। দেশটির গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও অবিচল অবস্থানই তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস ভূমিকার জন্যই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন মারিয়া। তার বাবা হেনরিকে মাচাদো জুলোয়াগা ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের একজন। শিক্ষাজীবনে তিনি Universidad Católica Andrés Bello (UCAB) থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে IESA থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

২০০২ সালে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘Súmate’ নামে একটি নাগরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পান এই সাহসী নারী।

২০১১ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘ভেন্তে ভেনেজুয়েলা (Vente Venezuela)’, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক পথে ফেরানো।

২০১২ সালের পর থেকেই প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন মারিয়া। ২০২৩ সালে বিরোধী জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও সরকার তাকে ১৫ বছরের জন্য সরকারি পদে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও দমননীতিও তাকে থামাতে পারেনি। বরং তার সাহসিকতা দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি পেয়েছেন ‘ভ্যাকলাভ হাভেল হিউম্যান রাইটস প্রাইজ’ এবং ‘সাখারভ প্রাইজ ফর ফ্রিডম অব থট’।

বর্তমানে মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, বরং সমগ্র লাতিন আমেরিকা ও বিশ্বের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। নিপীড়ন, বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তার লড়াই প্রমাণ করে— গণতন্ত্রের জন্য সত্যিকারের সংগ্রাম কখনো থেমে থাকে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আগামী নির্বাচনে ইসলামী শক্তি বনাম বিপক্ষ শক্তির লড়াই অনিবার্য: মুফতি ফয়জুল করীম

আগামী জাতীয় নির্বাচন ইসলামের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষ শক্তির মধ্যে এক অনিবার্য লড়াইয়ে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে ইসলামী শক্তির সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই যুদ্ধে ইসলামের পক্ষে থাকা দেশপ্রেমিক শক্তিই বিজয়ী হবে। যারা বিদেশি স্বার্থে দালালি করে, তাদের পতন অনিবার্য।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন এমন একটি সমাজ গঠন করতে চায়, যেখানে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব থাকবে না, কেউ খাদ্যের অভাবে কষ্ট পাবে না, আর সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) বলেন, শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনা সময়ের দাবি। বর্তমান পরিস্থিতি ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নির্বাচনে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির বাস্তবায়ন এখন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক ভোটব্যবস্থায় জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এতে জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অবিচার সৃষ্টি হয়, যা শ্রমিকদের অধিকারকেও বাধাগ্রস্ত করে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




উদ্যোক্তা রুনার খামার পরিদর্শনে বিএনপি নেতা জিয়াউদ্দিন হায়দার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা সৈয়দ মাফুজা রুনা গড়ে তুলেছেন এক আধুনিক দুগ্ধ খামার, যেখানে রয়েছে ১৮টি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী। প্রতিদিন প্রায় ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন করে তিনি মাসে দুই লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।

একসময় সংসারের টানাপড়েনে থাকা মাফুজা রুনা আজ আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে হয়েছেন সফল নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে তার খামারে তিনজন স্থায়ী কর্মী কাজ করছেন।

সম্প্রতি তার উদ্যোক্তা জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেই সংবাদ দেখে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রুনার খামারটি পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকত, রাজাপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া সুমন, গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবুয়াল হাসান চাঁন মিয়া, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম ফারুক মোল্লা, উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টুটুল গাজী, যুবদল নেতা ইমাম হোসেন সেন্টু এবং সাতুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর শহিদ প্রমুখ।

খামার পরিদর্শন শেষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “নিজের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর অধ্যবসায় দিয়েই প্রমাণ করেছেন মাফুজা রুনা। তিনি এখন রাজাপুরের নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ১০.৭ কোটি ডলার কিনেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে দেশের ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার কেনেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি জানান, “বাজারে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি রয়েছে। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছে।”

বৃহস্পতিবারের ডলার ক্রয় করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে, মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে। যেখানে এক ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে আলাদা সময়ে ১৩ দফায় ডলার কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্রয়গুলো হলো:

  • ১৩ জুলাই: ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার
  • ১৫ জুলাই: ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ২৩ জুলাই: এক কোটি ডলার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সায়
  • ৭ আগস্ট: ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ১২১ টাকা ৪৭–৫০ পয়সায়
  • ১০ আগস্ট: ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ১৪ আগস্ট: ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার
  • ২৮ আগস্ট: ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার
  • ২ সেপ্টেম্বর: ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার
  • ৪ সেপ্টেম্বর: ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার
  • ৯ সেপ্টেম্বর: ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার
  • ১৫ সেপ্টেম্বর: ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ২২ সেপ্টেম্বর: ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার
  • ৬ অক্টোবর: ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার ১২১ টাকা ৭৮–৮০ পয়সায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ক্রয়মূলক নীতির মাধ্যমে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে ডলারের মূল্য স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে।

 

আল-আমিন

 




সিলেটে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তেজনা

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী তাহসীনা রুশদী লুনা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্বনাথের বাসিয়া ব্রিজ ও থানার সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় যুবদল নেতা আব্দুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মিনহাজসহ উভয়পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লুনা ও হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে হুমায়ুন কবির দৌলতপুর ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন, আর অপরদিকে লুনার সমর্থকরা পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ শেষে বাসিয়া সেতুর সামনে মিছিল করেন।

সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকে এবং রাত ৯টার দিকে নতুন বাজার ও পুরান বাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে, এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম আতঙ্কে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) আশরাফুজ্জামান পিপিএম (সেবা) জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে, তবে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।”

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এমন বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম