বরিশাল নগরীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

বরিশাল নগরীতে গরু জবাইয়ের আগে কোনো ধরনের ভেটেরিনারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রি হচ্ছে— এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। ফলে নগরবাসী পড়েছেন সরাসরি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

জানা গেছে, নগরীতে নির্দিষ্ট কোনো কসাইখানা নেই। ফলে বাজারের রাস্তায়, খোলা জায়গায় কিংবা সড়কের ধারে গরু জবাই দিয়ে মাংস বিক্রি হচ্ছে। কসাইরা নিজেরাই ইচ্ছেমতো পশু জবাই করছেন, কোনো সরকারি অনুমোদন বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই।

সম্প্রতি রংপুরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী ও অসুস্থ গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের পর বরিশালের মানুষদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয়দের প্রশ্ন— “গরু জবাইয়ের আগে পশুচিকিৎসক কেন পরীক্ষা করেন না? কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই তখন কেন সচেতনতার কথা বলা হয়?”

কসাইদের বক্তব্য:
পোর্ট রোড বাজারের প্রবীণ কসাই মো. জালাল বলেন, “৫০ বছর ধরে কসাইয়ের কাজ করছি। আগে গরু জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি সার্জনরা শরীরে সিল দিতেন। এখন অনেক বছর হলো কেউ আসে না।”
তিনি আরও জানান, “আগে নগরীতে একটি কসাইখানা ছিল, এখন সেটিও বন্ধ। প্রতিদিন ২০-২২টি গরু জবাই দেওয়া হয়, কিন্তু কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।”

স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলা:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক এক স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, “নতুন বাজার এলাকায় একটি স্লটার হাউস আছে, তবে সেটি ব্যবহার অনুপযোগী। ভেটেরিনারি সার্জন আছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কখনো জবাইয়ের আগে বা পরে বাজার পরিদর্শনে যান কিনা সন্দেহ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নথুল্লাবাদ, নতুন বাজার, পোর্ট রোড, বটতলা, সাগরদীসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন গরু জবাই হয়। অধিকাংশ স্থানে পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর।”

স্থানীয়দের অভিযোগ:
নগরবাসী জাকির হোসেন ও গোলাম রাব্বানী বলেন, “আমরা জানিই না গরু রোগাক্রান্ত কিনা, না মহিষ জবাই দেওয়া হয়েছে কিনা। কসাইয়ের কথায় ভরসা করে মাংস কিনতে হয়।”

সিটি করপোরেশনের স্বীকারোক্তি:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, “নগরীতে কোনো কসাইখানা নেই, তাই জবাইয়ের আগে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আগের মেয়র ও বর্তমান প্রশাসককেও জানিয়েছি। কসাইখানা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বাজেট না থাকায় পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস, স্যালমোনেলাসহ প্রাণীজ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে গরু জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে পশু পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

“আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাই সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়। আমি এ দেশেই থাকব”— এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, “বছরের পর বছর আমাদের সমাজে বৈষম্য ও অধিকার বঞ্চনার যে চিত্র ছিল, সেখান থেকে জাতির একটি সেফ এক্সিট নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। জাতি যেন ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই টিকা ক্যাম্পেইন একটি আশীর্বাদ। রোগ প্রতিরোধ সবসময় প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। তাই এই কর্মসূচিকে সফল করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

এ সময় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত
বরিশাল বিভাগে ২৬ লাখ ১৪ হাজার মানুষকে টাইফয়েড টিকার আওতায় আনা হবে। ৪ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকা, যা সরকার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায়। টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আফগানিস্তানের কাছে ধস, ১০৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপুটে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। ফরম্যাট বদলেই বদলে গেছে পারফরম্যান্স—প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একই চিত্র। ১৯১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ৮১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করে ১৯০ রান। বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেল, মেহেদি হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণি—সব মিলিয়ে দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেয় টাইগাররা। আফগান ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র ইব্রাহিম জাদরান লড়াই চালিয়ে যান, করেন ৯৫ রান। কিন্তু তার সঙ্গী ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় ৪৪.৫ ওভারে অলআউট হয় আফগানিস্তান।

কিন্তু ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত রান আউট হয়ে ফিরলে দল পড়ে আরও চাপে। সাইফ হাসান ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি।

তাওহীদ হৃদয়ও ফিরে যান ২৪ রানে, এরপরের ব্যাটাররাও একে একে সাজঘরে ফেরেন। জাকের আলি অনিক, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন—কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। রশিদ খানের ঘূর্ণির জালে একে একে ধরা পড়েন সব ব্যাটার। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আফগান স্পিনার আবারও হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন।

শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এতে ৮১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়।

এই পরাজয়ের ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের পথও কঠিন হয়ে পড়ল বাংলাদেশের জন্য। একসময় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা ব্যাটারদের অনিয়ন্ত্রিত শট বাছাই ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা যেন আবারও মুখ থুবড়ে ফেলল পুরো দলকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাপার অরাজকতা ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়: নুর

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, জাপা (জাতীয় পার্টি) শনিবারের কর্মসূচিতে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “তারা না থাকলে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারত।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুর এ মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেন, “জাপাকে সেনাবাহিনীর কিছু ব্যক্তি আশকারা দিচ্ছে। তাদেরই ইন্ধনে আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমাকে লক্ষ্য করে মাথায় আঘাত করা হয়, যা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আমার ব্রেইনেও আঘাত লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। তবে জাপার কিছু কর্মী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। ঘটনাটির পেছনে সেনাবাহিনীর এক কমান্ডিং অফিসারও জড়িত ছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নুর দাবি করেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখানো ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। তার ভাষায়, “আমার ওপর হামলা করে তারা বোঝাতে চায়, রিফাইন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা এখন সক্রিয়।”

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি আরও জানান, তদন্ত কমিশন তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। নুর আশা প্রকাশ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে হামলাকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারের নতুন নীতিতে পাঁচ শর্তে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির অনুমোদন

দেশের রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির (Deemed Export) অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি ৯ অক্টোবর জারি করা হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রকৃত রপ্তানিকারকের কাছে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করেন, তাহলে সেটি “মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২” এর ধারা ২(৬২) অনুযায়ী প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দেশের অভ্যন্তরেই পণ্য বা সেবা সরবরাহ করে রপ্তানি সুবিধা ও প্রণোদনার আওতায় আসতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সরবরাহকারীদের অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে।
প্রথমত, সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবাটি অবশ্যই অনুমোদিত স্বত্বাধিকারক বা প্রকৃত রপ্তানিকারকের জন্য হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পণ্য বা সেবার মূল্য লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে অর্থ লেনদেন স্বচ্ছ থাকে।
তৃতীয়ত, সরবরাহের আগে স্বত্বাধিকারক বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে লিখিত চুক্তি থাকতে হবে।
চতুর্থত, প্রতিটি সরবরাহের জন্য সিস্টেমভুক্ত ইনভয়েস থাকতে হবে।
পঞ্চমত, সরবরাহ সংক্রান্ত লেনদেনের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে, যাতে সরকার সহজে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি নীতিমালা কার্যকর হলে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি, রপ্তানি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও কর সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে—এই নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) রপ্তানি সুবিধার আওতায় আসবেন, যা তাদের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং ডিজিটাল ভ্যাট সিস্টেমে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হালাল পণ্যের বিশাল বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বে হালাল পণ্যের বাজারের পরিমাণ এখন প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, অথচ বাংলাদেশ সেই বাজারে অংশ নিচ্ছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। হালাল শিল্পে কাঠামোগত ঘাটতি, স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি এবং আধুনিক ইকোসিস্টেম না থাকায় বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাময় খাতে পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের হালাল শিল্পখাতের উন্নয়ন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই কৃষি ও খাদ্যভিত্তিক। অথচ বৈশ্বিক বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজারের পরিমাণ ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখা, পরীক্ষাগার সংকট, সনদ প্রদানের জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশের এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিসিসিআই নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই উভয় প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ প্রদান করায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডিং এবং একটি স্বতন্ত্র নীতিনির্ধারক সংস্থা গঠন করা জরুরি।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বিডা’র মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আরিফুল হক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার, বিএসটিআইর উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এসএম আবু সাইদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, বেঙ্গল মিটের এজিএম সায়েদুল হক ভূঁইয়া, মেটামরফোসিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিক এম আলম এবং প্যারাগন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার (এক্সপোর্ট) মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

বেঙ্গল মিটের প্রতিনিধি সায়েদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশু থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার বলেন, “হালালের বৈশ্বিক বাজার প্রতি বছর প্রায় ১২.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয়।”

এছাড়া বিডা মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক জানান, এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে হালাল ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য সরকার একটি বিশেষ হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ যদি সময়মতো হালাল খাতের সার্টিফিকেশন, ব্র্যান্ডিং এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানুষের ভালোবাসায় বিএনপি বারবার ক্ষমতায় — এবিএম মোশাররফ

“বিএনপি কখনো দখলের রাজনীতি করে না, মানুষের মন জয় করেই রাজনীতি করে,”— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মুসুল্লিয়াবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। কলাপাড়া, মহিপুর ও কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এই সভায় অংশ নেন।

এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “মানুষ সুযোগ পেলেই বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে। কারণ, বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করেছে। দেশের সম্পদ লুটে বিদেশে পাচার করেছে এবং মানুষকে বাকরুদ্ধ করে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমি কুয়াকাটায় পাঁচবার রাজনৈতিক সভায় অংশ নিতে এসে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। তবুও আমরা জনগণের অধিকার আদায়ে দৃঢ়ভাবে মাঠে আছি। জনগণের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লীসহ অনেক নেতাকর্মীকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে রক্তাক্ত করেছে। তখন আমরা কথা বলার সুযোগ পাইনি, কিন্তু আজ সময় বদলেছে। বিএনপি জনগণের শক্তিতেই আবারও রাজপথে ফিরেছে।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন শিকদার, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মুসুল্লী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল হাওলাদার, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি, মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মতিউর রহমান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হাওলাদার।

সভাস্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও স্লোগানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বক্তারা আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংক-ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব — আলী রেজা ইফতেখার

দেশে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয় বাড়লে রিটেল গ্যাসের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধি কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখার।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত “বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা” শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ডলার ফ্লাকচুয়েশন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা রিটেল কনজুমারের ওপর হঠাৎ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ব্যাংক এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।”

আলী রেজা ইফতেখার আরও বলেন, “রিটেল গ্যাস খাত ইতোমধ্যে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে—প্রতি বছর প্রায় ২০ শতাংশ হারে। ব্যাংক যদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাইস নির্ধারণ ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টে কাজ করে, তাহলে সাধারণ ভোক্তার ওপর দাম বৃদ্ধির ধাক্কা কমবে।”

তিনি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন—
১️⃣ ডলার ফ্লাকচুয়েশন: আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দামও বেড়ে যায়।
২️⃣ সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা: ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব।
৩️⃣ আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা: ফ্রেট খরচ ও বৈদেশিক চাপ ব্যাংকিং প্রিমিয়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক দামে পরিবর্তন এলে আগেভাগেই ফিক্সড প্রাইসে বুকিং দিলে স্থানীয় বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ

 

আল-আমিন

 




মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পর সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে কর্মরত এবং একজন অবসর-উত্তর ছুটিতে (এলপিআর) আছেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। তার সন্ধান পেতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের নির্দেশ মান্য করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৮ অক্টোবর আদালত এই নির্দেশ দেন এবং আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ ঘটনায় সেনা সদর জানায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএনপি একক নয়, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে আগ্রহী: মুনির হোসেন

বাউফলে এক গণসংযোগ ও পথসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন বলেছেন, বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি এককভাবে নয় বরং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চায়।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৌখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশ চরম দুর্নীতির কবলে পড়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষ আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা। ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়েছি।”

মুনির হোসেন আরও বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়। ৩১ দফা ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নতুন কাঠামো গঠন করে একটি আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান মাস্টার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবদুল জব্বার মৃধা, সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গনি সিকদার, সদস্য আবুল কালাম মৃধা, সাবেক যুবদলের সদস্য সচিব বশির পঞ্চাইত এবং সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল সিকদার ও ইঞ্জিনিয়ার মনির হোসেন। এসময় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বাবুল মৃধা, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মাসুদ শিকদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হক সন্যামত, সহ-সভাপতি কালাম প্যাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ হাওলাদার, মাসুদ মৃধা সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মঞ্চে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনই হতে পারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ। তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম