শিক্ষকদের ঢল শহীদ মিনারে, ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি আজ

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন হাজারো শিক্ষক। ‘২০ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ মেডিকেল ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে’ তারা সচিবালয় অভিমুখে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে শিক্ষকরা শহীদ মিনারের দিকে আসতে থাকেন। কারও হাতে ব্যানার, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। সবার একটাই দাবি—বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে অবিলম্বে।

জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের যুগ্ম সদস্য সচিব শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষকরা আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করব, তবে আমাদের উপর আবার হামলা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার একেবারেই ‘অবাস্তব ও অপর্যাপ্ত’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অনড় রয়েছেন।

শিক্ষকরা বলেন, “আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবেন না, পাঠদানও হবে না। এই আন্দোলন চলবে প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত।”

এর আগে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেদিন থেকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানার মাথার নিচে রেখে রাত কাটাচ্ছেন।

রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তারা শ্রেণিকক্ষে যাচ্ছেন না, বরং স্কুল আঙিনায়, অফিস কক্ষ বা শিক্ষক লাউঞ্জে বসেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আন্দোলনের ঢেউ। ফেসবুকে শিক্ষকরা ঢাকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিচ্ছেন। অনেকেই লিখছেন—“শিক্ষকের ন্যায্য দাবিতে আজ রাজপথ উত্তাল, প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা। কারণ শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর, তাদের প্রতি অবহেলা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচার।

দেশজুড়ে যখন স্কুল–কলেজের পাঠদান বন্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, এই আন্দোলন শিক্ষকদের জীবিকার টিকে থাকার লড়াই, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তারা আশা করছেন, সরকার দ্রুত ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং আন্দোলন স্থগিত করতে পারবেন সম্মানের সঙ্গে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্ত আবদুল্লাহ আবু রাফে: ‘আমরা ছিলাম কসাইখানায়’

ইসরায়েলের ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিক আবদুল্লাহ আবু রাফে নিজের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতাকে ‘দুর্দান্ত অনুভূতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,

“আমরা ছিলাম কসাইখানায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটির নাম ছিল ওফার কারাগার।”

সোমবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তির পর তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক তরুণ ওই কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সেখানে জীবনযাপনের পরিবেশ ছিল নরকের মতো—না ছিল বিছানা, না ছিল পর্যাপ্ত খাবার। প্রতিটি দিন পার করতে হতো ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে।

ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় আটক ১ হাজার ৯৬৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বন্দীদের ইতোমধ্যে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত আরেক বন্দী ইয়াসিন আবু আমরা বলেন,

“ইসরায়েলি কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। খাবার, পানি, নির্যাতন—সব কিছুতেই ছিল সীমাহীন কষ্ট। আমাকে চার দিন কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। এখানে এসে যখন দুটি মিষ্টি পেয়েছি, তখন বুঝেছি আমি সত্যিই মুক্ত।”

আরেক বন্দী সাঈদ শুবাইর বলেন,

“এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শিকলবিহীন সূর্যের আলো দেখা এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতা অমূল্য।”

ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রায় ২৫০ জন আজীবন ও দীর্ঘমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং ১ হাজার ৭১৮ জন গাজা যুদ্ধের সময় আটককৃত ফিলিস্তিনি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই দ্বিতীয় দলটিকে পূর্বে ‘বলপূর্বক নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

মুক্তি পাওয়া বন্দীদের চোখে অশ্রু, মুখে হাসি—তারা বলছেন, এই মুক্তি কেবল কারামুক্তি নয়, এটি এক জাতির বেঁচে থাকার প্রতীক।


সূত্র : আল-জাজিরা

(আল-আমিন)

 




আবার বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :ব্যবসায়ীরা এবার ঘোষণা দিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়েছে  এ ছাড়া প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৩ টাকা করে। ৩ টাকা বাড়নো হয়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম।

সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত আগস্টে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মাত্র এক টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকে জানাননি।

তবে নতুন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ




তামিম ফিরছেন বিপিএলে, বরিশালের জার্সিতেই মাঠে নামার সম্ভাবনা

আগামী ডিসেম্বরেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এবারের আসরকে ঘিরে শুরু হয়েছে দল গঠন ও প্রস্তুতি কার্যক্রম। তবে ফরচুন বরিশালের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটতে শুরু করেছে।

দলটির মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বরিশাল বিপিএলে অংশ নিলে তামিম ইকবালই মাঠে নামবেন তাদের হয়ে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তামিম বিপিএলে খেলবেন না। তিনি যে ক্রিকেট বয়কটের কথা বলেছেন, সেটা সম্ভবত সাধারণ ম্যাচের প্রসঙ্গে। বিপিএল হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে খেলতে অনুরোধ করব। আমার বিশ্বাস, বরিশাল অংশ নিলে তামিম অবশ্যই খেলবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এরপর থেকেই গুঞ্জন ওঠে তিনি হয়তো বিপিএলেও অংশ নেবেন না। তবে মালিকপক্ষের মন্তব্যে ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অন্যদিকে, ফরচুন বরিশাল জানিয়েছে, সময়ের স্বল্পতার কারণে দল গঠন ও প্রস্তুতি নিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা। এজন্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে দলটি।

গভর্নিং কাউন্সিলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবারের বিপিএলে মোট পাঁচটি দল অংশ নেবে এবং টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। বরিশালের দাবি, টুর্নামেন্টের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দিলে দলগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিতে পারবে, যা বিপিএলের মান ও প্রতিযোগিতা উভয়কেই আরও সমৃদ্ধ করবে।

এদিকে ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন—তামিম কি সত্যিই বিপিএলে মাঠে নামবেন, নাকি এবারও তাকে দেখা যাবে না বরিশালের রঙে!

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে প্রথমবার জাতীয়ভাবে উদযাপিত আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

‘সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিরোধ করি দুর্যোগ’ এই প্রতিপাদ্যে সারা দেশের সঙ্গে বরিশালেও প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৫। উপকূলীয় এই জেলাকে কেন্দ্র করেই সরকারের এ বছরের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউস চত্বরে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়, যেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও ফায়ার সার্ভিসের মাঠ মহড়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক-ই-আজম। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার

বীর প্রতীক ফারুক-ই-আজম বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি ও পুনর্বাসন সবক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক বিবেচনায় পূর্বে কিছু স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে অনিয়ম হয়েছিল, যা সরকারি অর্থ অপচয়ের কারণ হয়েছে। এসব অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেওয়ানুর রহমান, বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বিএমপির কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ও পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন

বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় সিডর, রেমাল, মোখা, সিত্রাংসহ একাধিক ঘূর্ণিঝড়ে এ অঞ্চলের মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র, ব্রিজ-কালভার্ট, ও উচ্চভূমি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছে, যা উপকূলীয় সুরক্ষায় বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের এসব উদ্যোগ ও সাফল্য তুলে ধরতেই এবারের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস জাতীয়ভাবে বরিশালে আয়োজন করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন’ বাস্তবায়নের দাবি

রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে সোমবার সকালে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে এসে জড়ো হয়। এরপর তারা অবস্থান নেয় এবং সরকার দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না করা পর্যন্ত সেখান থেকে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেয় এবং সচিবালয় অভিমুখী সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে দেন যাতে শিক্ষার্থীরা সামনে যেতে না পারে।

অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। তারা একযোগে স্লোগান দেন— “অধ্যাদেশ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না”, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”, “শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য চলবে না চলবে না”।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার আমাদের সাত কলেজকে নিয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি করার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু এখনো আইন জারি হয়নি। আজই অধ্যাদেশ দিতে হবে, না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।”

অন্যদিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম বলেন, “প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে। আমরা আর অপেক্ষা করবো না। আইন বাস্তবায়ন না হলে রাজধানী অচল করে দেবো।”

এসময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেনি, তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ানো হয় পুলিশের টহল।

চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবিত নাম ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। এতে অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে হবে, যাতে তারা একাডেমিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পান। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচদফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী’র নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু ও জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ পাঁচদফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে সারাদেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দাবি আদায়ে জনগণের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে—জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান দেশবাসীর সমর্থন পাচ্ছে।

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “১ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত গণসংযোগ, ১০ অক্টোবর বিভাগীয় শহরে গণমিছিল এবং ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণে আমরা উৎসাহিত। সরকার যদি জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তবে আমরা রাজপথে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও জানান, “সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা। না হলে জনগণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করবে।”

ঘোষিত পাঁচদফা দাবি:

১️⃣ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে গণভোটের মাধ্যমে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন।
২️⃣ জাতীয় নির্বাচনে উভয়কক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন।
৩️⃣ অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
৪️⃣ বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দৃশ্যমান করা।
৫️⃣ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

তৃতীয় দফা কর্মসূচি:

🔹 ১৪ অক্টোবর – রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে মানববন্ধন।
🔹 ১৫ অক্টোবর – দেশের সব জেলা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে মৎস্য ভবন হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ মহানগরীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে দলটি।


আল-আমিন

 




অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৯৮ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার সমান। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ৯৮ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ১১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ২৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ৬৮ কোটি ৪ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠাতে নানা প্রণোদনা এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তালেবান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতে নতুন কৌশলগত বাস্তবতা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান সীমান্ত সংঘাত। শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র আইএসপিআর জানায়, আফগান ভূখণ্ড থেকে তালেবান এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—যাদের তারা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে অভিহিত করেছে—তাদের হামলার জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালায়। আইএসপিআর দাবি করেছে, এতে ২০০-রও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় আফগান সীমান্তের একাধিক ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

অন্যদিকে, আফগান সরকারের দাবি—তাদের পাল্টা হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে আফগানিস্তান আপাতত অভিযান “অস্থায়ীভাবে স্থগিত” রেখেছে বলে জানিয়েছেন আফগান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।

মুত্তাকি বলেন, “আমরা আমাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি। তবে কাতার ও সৌদি আরবের আহ্বানে আপাতত সংঘাত বন্ধ রেখেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের ভূখণ্ডে কোনো পাকিস্তানি তালেবান ঘাঁটি নেই; বরং অতীতে পাকিস্তানই এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক বিষয় নয়, বরং কৌশলগত পুনর্গঠনের প্রতিফলন। তালেবান সরকার এখন পাকিস্তানের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গঠনের পথে হাঁটছে। তারা চীন, কাতার, ইরান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে—যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী প্রভাববলয়ে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কও দিন দিন উষ্ণ হচ্ছে। সম্প্রতি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নয়াদিল্লি সফর দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আফগানিস্তানের খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া ইরানের চাবাহার বন্দর ও আফগান-ভারত ওয়াঘা সীমান্ত পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা করেন।

তালেবান সরকারের এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের “কৌশলগত গভীরতা” নীতির অবসান ঘটছে। একসময় আফগান ভূখণ্ডকে ভারতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাফার হিসেবে ব্যবহার করলেও এখন কাবুল সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ভারতমুখী কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমে ভারত কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন তারা বাস্তববাদী কূটনীতি অবলম্বন করছে। মানবিক সহায়তা, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এবার তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সেই সম্পর্কের রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আস্থার সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালেবানও বুঝতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিহার্য। কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের সাম্প্রতিক নীরবতা সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এই ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠনের ফলে পাকিস্তান একদিকে নিরাপত্তাজনিত অস্বস্তিতে পড়েছে, অন্যদিকে ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার প্রান্তে আফগানিস্তানের এই অবস্থান ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাহীদের লক্ষ্য করে হ্যাকারদের চাঁদাবাজি ইমেইল অভিযান

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, একদল হ্যাকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজি ইমেইল পাঠাচ্ছে। এসব বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, হ্যাকাররা ওরাকলের ই-বিজনেস সুইট থেকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করেছে এবং তা ফেরত পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ প্রদান করতে হবে।

গুগল জানিয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ক্লপ থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ক্লপ গোষ্ঠী পূর্বেও বিশ্বব্যাপী বড় বড় প্রতিষ্ঠান হ্যাক করে তথ্য চুরি এবং মুক্তিপণ দাবি করার জন্য পরিচিত। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণের জন্যও তাদের দায়ী করা হয়েছিল।

গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এই ইমেইল অভিযান শুরু হয়েছিল গত জুন মাসে এবং এখন তা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। হ্যাকাররা হারানো বা চুরি হওয়া তৃতীয় পক্ষের ইমেইল ব্যবহার করে বার্তা পাঠাচ্ছে। বার্তাগুলোতে বলা হচ্ছে যে, ভুক্তভোগীদের সংবেদনশীল ব্যবসায়িক ও গ্রাহক তথ্য তাদের হাতে আছে এবং সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, যোগাযোগ ঠিকানাগুলো ক্লপ গোষ্ঠীর পরিচিত তথ্য ফাঁস সাইটের সঙ্গে মিলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এসব ইমেইলে ব্যাকরণগত ভুল ও দুর্বল ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, যা আসল করপোরেট ইমেইল থেকে সহজে আলাদা করা যায়।

ওরাকল সম্প্রতি একাধিকবার সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে একটি বড় ধরনের হ্যাকিং ঘটনার মাধ্যমে গ্রাহক লগইন তথ্য চুরি হয়। এ সময় তদন্তে যুক্ত হয়েছিল এফবিআই এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পূর্বের দুর্বলতাকেই হ্যাকাররা নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করছে।

গুগল জানিয়েছে, তারা ঘটনার যথাযথ অনুসন্ধান চালাচ্ছে তবে এখনই দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে “উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার প্রচারণা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কিছু সতর্কতা পরামর্শ দিয়েছেন:

  • অচেনা প্রেরকের ইমেইলে ক্লিক না করা।
  • সন্দেহজনক ইমেইল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইটি বিভাগকে জানানো।
  • প্রতিষ্ঠানজুড়ে কর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
  • মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এই ধরনের চাঁদাবাজি অভিযান শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং তথ্য নিরাপত্তাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোতে যদি এই ধরনের আক্রমণ সফল হয়, তবে কোটি কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যও হুমকির মুখে পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম