মাদাগাস্কারে সেনা অভ্যুত্থান, প্রেসিডেন্ট দেশত্যাগ

আবারও অস্থিরতায় কাঁপছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার। দেশটির সেনাবাহিনী বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিদ্রোহী সেনাদের পক্ষ থেকে জাতীয় রেডিওতে দেওয়া ঘোষণায় কর্নেল মাইকেল র‍্যান্দ্রিয়ানিরিনা বলেন, “আমরা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সেনাবাহিনী এখন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।” তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করেছে, তবে জাতীয় সংসদ (লোয়ার হাউস) কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই সংসদে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে মোট ১৩০ জন সদস্য প্রেসিডেন্টের পদচ্যুতি সমর্থন করেন।

এর আগে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে রাজোয়েলিনা দেশত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তিনি গত রবিবার একটি ফরাসি সামরিক বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেন। জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনার পর এ যাত্রা সম্পন্ন হয়। ফরাসি সেনাবাহিনীর কাসা বিমানটি মাদাগাস্কারের সান্ত মেরি বিমানবন্দর থেকে রাজোয়েলিনাকে নিয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা অভিশংসন ভোটের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পরও এই সভা আয়োজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।”

মাদাগাস্কারে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, খাদ্যসংকট ও মৌলিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ রাজপথে নেমে আসে। পরে এই আন্দোলন ‘জেনারেশন জি’ বা জেন-জি আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংগঠিত এ আন্দোলন দ্রুত রাজোয়েলিনার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিদ্রোহে রূপ নেয়।

রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর একাংশ সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদাগাস্কারের সাম্প্রতিক এই সংকট আফ্রিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটিতে এর আগে ২০০৯ সালেও এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন।

বর্তমানে সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “অভ্যুত্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জমি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন স্বামী

রাজধানীর কলাবাগানে এক নারীকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবার বাড়ির জমি স্বামীর নামে লিখে না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহত তাসলিমা আক্তারের ভাই নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

নাজমুল হোসেন জানান, তার বোনের স্বামী নজরুল ইসলাম আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন, পরে ব্যবসা ছেড়ে বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তিনি বারবার গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় তাসলিমার নামে থাকা ১০ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় নজরুল তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাজি ছিলাম না জমি পুরোটা নজরুলের নামে দিতে। শুধু আমার বোন ও ভাগ্নিদের জন্য কিছু অংশ দিতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি সে আমার বাবা-মাকে ফোন দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় আসতে বলে। পরে ক্ষমা চেয়ে আবারও জমি চায়।”

নিহতের ভাই আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে নজরুল তার দুই মেয়েকে জানায়, তাদের মা নাকি অন্য কারও সঙ্গে পালিয়ে গেছে। মেয়েরা খুঁজতে গিয়ে তার রুমে রক্ত দেখতে পায়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্রিজের ভেতর থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই নাঈম হোসেন কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। তাদের তিন কন্যা রয়েছে— নাজনীন আক্তার (১৯), নাজিফা ইসলাম (১৪) ও নিশাত আনজুম (৫)। গত কয়েক বছর ধরে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।

নাঈম জানান, নজরুল নিয়মিত তার বোনকে মারধর করত এবং যোগাযোগ বন্ধ করে রাখত। এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহারেরও অনুমতি দিত না। ঘর থেকে বের হলে বাইরে থেকে দরজা লক করে রাখত।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আসামি নজরুল ইসলাম ঘটনার পর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পরিবারের দাবি, নজরুল ইসলামের লোভ আর নিষ্ঠুরতার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।


আল-আমিন




আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার গড়বে বিএনপি — আলতাফ হোসেন চৌধুরী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলা মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে মুরাদিয়া ইউনিয়নের জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভারতের তাবেদার আওয়ামী লীগ জনগণকে দমন করে রেখেছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সেই ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রতিহত করেছি। এখন সময় এসেছে একটি গণতান্ত্রিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার।” তিনি আরও বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে প্রস্তুত। সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে, এবং তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাকসুদ আহম্মেদ বায়েজীদ (পান্না), জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিসেস জেসমিন জাফর এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ লুতফর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লাল মিয়া, দুমকি ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন শরীফ ও দুমকি বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান সুমন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মতিউর রহমান দিপু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও বিএনপি নেতা মোঃ শাহীন চৌধুরী, তার ব্যক্তিগত প্রেস সেক্রেটারি মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পবিপ্রবি’র আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা আল আমিন সুজন, বাপ্পি এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণ আজ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি সব সময় মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তারা প্রত্যাশা করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে বরিশাল নগরী

বরিশাল শহরে অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে এগুলো মানুষের যাতায়াত সহজ করলেও বর্তমানে শহরের শৃঙ্খলা ও বিদ্যুতের উপর চাপ বাড়িয়েছে।

নগরের ব্যস্ত সড়কে অবৈধ তিন চাকার বাহনগুলো দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। শুধুমাত্র অলিগলি নয়, মহাসড়ক এবং ভিআইপি সড়কও এদের দখলে। দ্রুতগ্রামী এই যানগুলো হুটহাট মোড় নেওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সতর্কতা নিলেও চালকরা প্রায়ই চড়াও হয়।

বরিশালে বৈধ প্যাডেল রিকশার সংখ্যা ১২ হাজার থেকে দেড়শ’ এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশার সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই যানগুলো থেকে সিটি করপোরেশন বা সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০ চাঁদাবাজ প্রতিদিন এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে

নগরীর ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটো বাবদও কোনো রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। গ্যারেজ প্রতি চাঁদা দিয়ে এগুলো প্রকাশ্যে চলছে। প্যাডেল রিকশাচালকরা ইঞ্জিন রিকশা বন্ধের দাবিতে কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার সময় এসব তথ্য সামনে আসে।

পুলিশ ও বিআরটিএ জানিয়েছে, এসব অবৈধ যান হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে সদররোড ও আমতলা থেকে জিলা স্কুল পর্যন্ত কিছু সীমিত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম কর্নকাঠি এলাকায় অবৈধ হলুদ অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক যুবক, যিনি পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাড়ি তৈরি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে নগরীকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশামুক্ত করতে বিসিসি, পুলিশ, প্রশাসন ও বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান অপরিহার্য। এতে চাঁদাবাজদের দমন এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, নগরীতে প্রতি রিকশা বাবদ ৫০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা আদায় হয়, যা মাসে ৩০ লাখ টাকা এবং বছরে তিন কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজরা পুলিশকেও ম্যানেজ করে চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




লড়েও জেতা হলো না, এশিয়ান কাপের স্বপ্ন প্রায় শেষ জামাল-হামজাদের

বাংলাদেশ ফুটবল দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের মাঠে হারের ব্যর্থতায় হতাশ। মঙ্গলবার কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছে। তবে এই সমতা বাংলাদেশ দলের জন্য তৃপ্তিদায়ক হয়নি।

ফিরতি লেগে ঢাকায় হংকংয়ের কাছে ৩-৪ গোলে হারের পর, এই ড্র বাংলাদেশকে বাছাইপর্বে টিকে থাকার সম্ভাবনা থেকে প্রায় দূরে ঠেলে দিয়েছে।

ম্যাচে শুরুতে রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। জায়ান আহমেদ, শমিত সোম ও তপু বর্মনকে নিয়ে সাজানো ডিফেন্স দৃঢ় ছিল। প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে হংকংয়ের ফের্নান্দো পেরেইরার পেনাল্টি গোলের ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হোস্টরা।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আক্রমণে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ৭৫তম মিনিটে হংকং ডিফেন্ডার অলিভার গারবিগ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়েন, সংখ্যা সংখ্যায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮৩তম মিনিটে ফয়সাল ফাহিমের ক্রসে ফাহামিদুল ইসলাম হেড পাস দেন রাকিব হোসেনের পায়ে, রাকিব নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফিরিয়ে আনেন — ১-১।

শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ কিছু সুযোগ পায়, কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হয়। এই ড্রয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে মাত্র ২। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং। হামজা চৌধুরা ও জামাল ভূঁইয়ারা আর্থিকভাবে বাছাইপর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই সীমিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় মানবেতর জীবনযাপন: বরাদ্দ আসেনি অনেকের হাতে

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য প্রতিজনকে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও অনেকের হাতে বরাদ্দ পৌঁছায়নি। ফলে পরিবারগুলো অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে দেখা যায়, চাচাতো দুই ভাই জয়নাল ও রাজ্জাক ঘরে বসে ছেঁড়া জাল ঠিক করছেন। তাদের অভিযোগ, “মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার ২২ দিন নদীতে নামায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু খাদ্য সহায়তা পাইনি। বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা আসেনি।”

স্থানীয় সূত্র বলছে, বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন মাছ শিকারে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কোনো উপার্জন না থাকা পরিবারগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এছাড়া ভারতীয় জেলেরা দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরছে, কিন্তু বাংলাদেশের জেলেরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডালসহ অন্যান্য সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পেও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মজুত কম থাকায় অন্তত ১ লাখ জেলে বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ ছাড়া অনিবন্ধিত আরও লাখো জেলে পুরোপুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ: বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের আশা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি সমস্যার সমাধানে এবার সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে যুক্ত হওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। এটি চালু হলে এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে, যা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোলা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ এবং অতিরিক্ত সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) কেএম আলী রেজার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দুটি প্রযুক্তিগত রুট বিবেচনা করা হয়। একটি হলো তজুমুদ্দিন উপজেলা থেকে চরকলাতলী হয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মনপুরায় সংযোগ স্থাপন, অপরটি চরফ্যাশন থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে সরাসরি সংযোগ।

অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ অন্ধকারে না থাকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মনপুরা উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। উপজেলা সদর হাজীরহাটসহ আশপাশের এলাকার ৯৬৬ গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন ৪ মেগাওয়াট। তবে স্থানীয় উৎপাদন মাত্র ৪২০ কিলোওয়াট, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। বর্তমানে তিনটি জেনারেটর রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিকল, বাকি দুটিও দীর্ঘদিনের পুরোনো ও সার্বক্ষণিক চলার অনুপযুক্ত।

মনপুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী কেএম ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা সদরে ৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম সোলার বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণাধীন। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে মনপুরাবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মনপুরাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মনপুরা সাগর মোহনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।




বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন, নতুন ঘর পাচ্ছেন করিম ফকির পরিবার

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে করিম ফকির দম্পতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবারটি নতুন ঘর পাবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ৫নং ওয়ার্ড নয়াকান্দা এলাকায় সরেজমিনে ওই ঝুপড়ি ঘরে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। তিনি পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।

করিম ফকির ও তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ শতক জমিতে খড় ও পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। তাদের সংসারে রয়েছে ছয় সন্তান। জেলাপেশায় কম আয়ের কারণে সংসার চলাচ্ছে খুব সীমিত অর্থে। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল ভিজে যায়, কাদা জমে যায়, আর শিশু ও অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি রাজিব আহসানকে অবগত করলে, তিনি তা তারেক রহমানের নজরে আনার ব্যবস্থা করেন। পরে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসানের সহযোগিতায় পরিবারটি এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন ঘর পাবে বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন আকন।

প্রতিবেশি রিয়াজ হোসেন জানান, অর্থের অভাবে পরিবারটি মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকে। চিকিৎসার সুযোগও কম। মানবেতর জীবন দেখে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসান ছুটে এসেছেন এবং নতুন ঘরের আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিল্পী বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

করিম ফকির বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। দিনে একবেলা খাই, কখনো না খেয়েও থাকতে হয়। নতুন ঘর পেয়ে আমরা আনন্দিত। তারেক রহমান ও রাজিব আহসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

রাজিব আহসান বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল অসহায় ও গরীব মানুষদের প্রতি নজর রাখছেন। মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। করিম ফকির পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়া সেই ধারাবাহিকতার অংশ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সংস্কারের অভাবে নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিরোজপুরের নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খেলাধুলার মাঠে চলছে গরু-ছাগলের চারণ, গ্যালারিতে ফাটল, ভবনে শেওলা আর ময়লার স্তূপ। ফলে নাজিরপুরের ক্রীড়াঙ্গন আজ ধুঁকছে অবহেলার ভারে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম একসময় নাজিরপুরের তরুণদের ক্রীড়াকেন্দ্র ছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে থাকা এ মিনি স্টেডিয়ামে ২০১২ সালের পর থেকে আর কোনো সংস্কার হয়নি। তখন একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবন, শৌচাগার ও কয়েকটি বসার বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর রোডের পাশে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি এখন চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। নেই কোনো নামফলক বা সাইনবোর্ড। মাঠজুড়ে উঁচু ঘাস, জায়গায় জায়গায় গর্ত আর জলাবদ্ধতা। ভবনের দেয়ালে ফাটল, ছাদে শেওলা, ভেতরে আবর্জনার স্তূপ। পথচারীরা ব্যবহার করছেন শৌচাগারটি।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী যুবক সাইদুর রহমান বলেন,
“এখানে আগে প্রতিদিন বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ নানা খেলা হতো। এখন মাঠে গরু ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। বৃষ্টিতে জল জমে খেলা বন্ধ থাকে মাসের পর মাস।”

খেলোয়াড়রা জানান, মাঠের ঘাস বড় হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, নেই নিরাপত্তাও।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়াম এলাকায় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। আনসার-ভিডিপি অফিসের পাশে ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়মিতই এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, নাজিরপুরে এটি একমাত্র স্টেডিয়াম। অথচ সংস্কারের অভাবে এর অস্তিত্ব আজ বিলীন হতে বসেছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি আবারও যুব সমাজের ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান,
“মিনি স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, শৌচাগার ও মাঠ সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণেরও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

নাজিরপুরবাসীর আশা— দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও খেলাধুলার হাসি ফিরবে এ স্টেডিয়ামে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষিকা রঞ্জিতা রানী, আজ অসহায়তার সঙ্গী

ঝালকাঠির সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা রঞ্জিতা রানী পাল (৭৫) আজ দারিদ্র্যের কবলে। দীর্ঘ ৩৫ বছর শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি হাজারো ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজেই চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাচ্ছেন না।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার দারখি গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ বসুর কন্যা রঞ্জিতা রানী, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। চামটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ১৯৭২ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। একই বছর তিনি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

প্রায় ৩৫ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০০৭ সালে তিনি অবসর নেন। পেনশন হিসেবে হাতে পান ৭ লাখ টাকা। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই চিকিৎসা ও সংসারের খরচের কারণে সেই অর্থ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে শহরের আমতলা রোডের একটি ছোট, জরাজীর্ণ বাড়িতে ছেলে তাপস পাল ও পুত্রবধূর সঙ্গে বসবাস করছেন। স্বামী বিমল কৃষ্ণ পাল গত বছর মৃত্যুবরণ করেছেন। তার এক মেয়ে, সম্পা রানী দাস, বরিশালে সংসার করছেন।

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন রঞ্জিতা রানী। নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন থাকলেও তার কাছে তা কেনার সক্ষমতা নেই। শিক্ষকতার সময় তিনি ছিলেন ছাত্রীদের প্রিয়তম শিক্ষকদের একজন। কঠিন পাঠও সহজভাবে বোঝাতেন, পড়াশোনা ছাড়াও চরিত্র গঠনের শিক্ষায় ছাত্রীরা সমৃদ্ধ হতো।

তার গড়া ছাত্রীরা আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তার মধ্যে কেউ প্রশাসনে, কেউ চিকিৎসক, কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা। সাবেক ছাত্রী চিকিৎসক বৈশাখী বড়াল বলেন, “আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছে রঞ্জিতা ম্যাডাম। আমি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছি, কিন্তু এর পেছনে তার বিশাল অবদান রয়েছে। এত বড় একজন মানুষ আজ অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র তার প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উচিত।”

সাবেক ছাত্রী বদরুন্নেছা, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, বলেন, “রঞ্জিতা ম্যাডাম ছিলেন আদর্শের এক মূর্ত প্রতীক। তার শিক্ষা ও নৈতিক দিক আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।”

বর্তমান সহকারী শিক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম তারিক ও সাবেক সহকর্মী তৌহিদ হোসেন খান উভয়ই রঞ্জিতা রানীকে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সমাজের জন্য অবদানশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।

আজ রঞ্জিতা রানী পালের মতো শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সমাজের দায়িত্ব, যাতে তারা কেবল শ্রদ্ধারূপে স্মৃতিতে না থাকে, বাস্তব সাহায্যেরও দাবিদার হন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫