মাদাগাস্কারে সেনা অভ্যুত্থান, প্রেসিডেন্ট দেশত্যাগ

আবারও অস্থিরতায় কাঁপছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার। দেশটির সেনাবাহিনী বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিদ্রোহী সেনাদের পক্ষ থেকে জাতীয় রেডিওতে দেওয়া ঘোষণায় কর্নেল মাইকেল র্যান্দ্রিয়ানিরিনা বলেন, “আমরা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সেনাবাহিনী এখন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।” তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করেছে, তবে জাতীয় সংসদ (লোয়ার হাউস) কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই সংসদে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে মোট ১৩০ জন সদস্য প্রেসিডেন্টের পদচ্যুতি সমর্থন করেন।
এর আগে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে রাজোয়েলিনা দেশত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তিনি গত রবিবার একটি ফরাসি সামরিক বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেন। জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনার পর এ যাত্রা সম্পন্ন হয়। ফরাসি সেনাবাহিনীর কাসা বিমানটি মাদাগাস্কারের সান্ত মেরি বিমানবন্দর থেকে রাজোয়েলিনাকে নিয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা অভিশংসন ভোটের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পরও এই সভা আয়োজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।”
মাদাগাস্কারে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, খাদ্যসংকট ও মৌলিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ রাজপথে নেমে আসে। পরে এই আন্দোলন ‘জেনারেশন জি’ বা জেন-জি আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংগঠিত এ আন্দোলন দ্রুত রাজোয়েলিনার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিদ্রোহে রূপ নেয়।
রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর একাংশ সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদাগাস্কারের সাম্প্রতিক এই সংকট আফ্রিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটিতে এর আগে ২০০৯ সালেও এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন।
বর্তমানে সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “অভ্যুত্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম









