মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

মধ্যরাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে গাড়িযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর রাতেই তাঁকে ভর্তি করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক রোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ফিরে যান। এরপরও অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডিঅধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে দলের শীর্ষ নেতারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১% মাশুল বৃদ্ধি, দামে আগুন লাগার আশঙ্কা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্তে রাতারাতি বেড়ে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দরের সেবা খরচ। গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত থেকে বন্দরটির সব সেবা খাতে গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি মাশুল কার্যকর করা হয়েছে। ফলে উৎপাদনমুখী শিল্প, ভোগ্যপণ্য ও বাণিজ্যিক আমদানি–রপ্তানি খাতে একযোগে চাপ বেড়েছে, যার চূড়ান্ত বোঝা পড়বে সাধারণ মানুষের কাঁধে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের এই মাশুল বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। কারণ অতিরিক্ত খরচ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা তাদের বিলের সঙ্গে যোগ করবেন, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে দামের উর্ধ্বগতি ঘটাবে।

টি কে গ্রুপের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ শফিউল আতহার তসলিম বলেন, “বন্দরের এই মাশুল শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই গিয়ে পড়বে। কারণ এটি বাড়লে কোম্পানিগুলোর অপারেটিং খরচ বেড়ে যায়, যা পণ্যের দামে সমন্বয় করতে হয়।”

১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বন্দরের ৫২টি সেবা খাতের মধ্যে ২৩টিতে সরাসরি নতুন মাশুল প্রযোজ্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে কনটেইনার পরিবহনে—প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারের মাশুল ১১,৮৪৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,২৪৩ টাকা, অর্থাৎ গড়ে ৩৭ শতাংশ বেশি। ফলে আমদানিকারকদের প্রতি কনটেইনারে গুনতে হচ্ছে ৫,৭২০ টাকা বেশি, আর রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে বাড়তি ৩,০৪৫ টাকা

এইচকেসি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “এ সিদ্ধান্তে পোশাক খাত নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের কারণে আমাদের রপ্তানি ইতিমধ্যেই চাপে আছে, এর মধ্যে বন্দরের খরচ বাড়ানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

দেশে আমদানিনির্ভর পণ্যের মধ্যে ভোগ্যতেল, চিনি, গম, ডাল ও সারসহ বহু পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই আসে। এই খাতে মাশুল বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সরাসরি বাজারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।

বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, “আমরা বছরে দেড় মিলিয়ন টন প্লাস্টিক কাঁচামাল আমদানি করি, যার ৯৯ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। নতুন মাশুলের ফলে আমাদের খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। একবার আমদানিতে, আবার রপ্তানিতে বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে আমরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা হারানোর ঝুঁকিতে আছি।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু রপ্তানিই নয়, দেশের উৎপাদন খাতেও স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ব্যাহত হবে, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে দাম আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে—বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই নতুন মাশুল কার্যকর করা হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারের উচিত ছিল বাণিজ্যবান্ধব নীতি গ্রহণ করা, কিন্তু এখন বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল বন্দরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিদেশি অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষায় ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। মাশুল বৃদ্ধির নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি।”

বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন এক গভীর সংকটে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, কোনো ছাড় নয় — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর সময়সূচি বা পদ্ধতি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, এবং সেই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েই আমরা এগোবো—এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, “উৎসবমুখরভাবে ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবে। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে এখানেই কাজের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা চাই এই সনদটি শুধু দলিল হিসেবে নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলুক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদে যে ঐক্যমত তৈরি হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। এই ঐকমত্য জাতিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, এই সনদ ও আলোচনাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য তা বই, ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। “আমাদের দায়িত্ব এটি জনগণের ভাষায় প্রচার করা, যাতে সবাই বুঝতে পারে কেন আমরা একমত হয়েছি,” যোগ করেন ড. ইউনূস।

তার ভাষায়, “আজকে যেই পয়েন্টে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি, তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের বিষয়।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রশাসনের নীরবতায় হারাচ্ছে ভোলার ঐতিহ্যবাহী জলাশয়

ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুই শতাধিক বছরের পুরোনো বাংলা স্কুল পুকুর আজ দখলদারদের কবলে। ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টি একসময় ছিল শহরের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির প্রতীক, কিন্তু এখন সেটি পরিণত হয়েছে কংক্রিটের জঙ্গলে। গত দুই দশক ধরে নাগরিক সমাজের আন্দোলন ও অভিযোগের পরও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে পুকুরটি।

সর্বশেষ গত বছরের ৫ আগস্টের পরও বেআইনিভাবে পুকুরের তীর ভরাট করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই পুকুরের পানি শহরের মানুষ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় এখান থেকেই পানি সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু অবৈধ দখল ও ভরাটের ফলে জলাশয়টি এখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।

ভোলা পৌর ভূমি কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে চরজংলা মৌজার ১৬৪ নম্বর খতিয়ানে পুকুরটির আয়তন ছিল ১ একর ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭০ শতাংশে। অর্থাৎ গত কয়েক দশকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা হারিয়ে গেছে দখল ও ভরাটের কারণে।

স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালে ‘আমেনা প্লাজা’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দখলের ইতিহাস। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় পুকুর ঘিরে গড়ে ওঠে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়, স্কাউটস ভবন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, চেম্বার অব কমার্স, আমেনা প্লাজা, গোলদার প্লাজা ও আরও অনেক স্থাপনা। এর বেশিরভাগই নির্মিত হয়েছে পুকুরের তীর দখল করে।

বাংলা স্কুলের সাবেক ছাত্র মো. মশিউর রহমান বলেন, “এই পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, ভোলার সংস্কৃতি, স্মৃতি আর শৈশবের প্রতীক। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় তা হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।”

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস. এম. বাহাউদ্দিন বলেন, “২০০৪ সাল থেকে আন্দোলন করছি। মানববন্ধন, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন—সবই করেছি। কিন্তু প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “এখনই উদ্যোগ না নিলে পুকুরটি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।”

পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, গত ৩০ বছরে ভোলা শহরের শতাধিক পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। এখন মাত্র তিনটি সরকারি পুকুর টিকে আছে—বাংলা স্কুল, জেলা পরিষদ ও সরকারি স্কুল পুকুর। এগুলোও রক্ষা না পেলে শহরে জলাবদ্ধতা, পানির সংকট ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়বে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “সরকারি জলাশয় দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসি ল্যান্ড ও ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুকুরটি দখলমুক্ত করা হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চাচার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল ৬ বছরের তাননুর

বরগুনার তালতলীতে চাচার লাঠির আঘাতে তাননু নামের ছয় বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটি ইদুপাড়া এলাকার জেলে মো. দুলাল খানের মেয়ে ও লালুপাড়া আইডিয়াল স্কুলের কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২০২৫) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শিশু তাননু স্থানীয় ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন একটি মুদি দোকানে রুটি কিনতে গেলে তার চাচা মো. হাবিব ওরফে হাবিল খান (২৮) পিছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে সে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শিশুটি পথেই মারা যায়।

পরিবারের সদস্যরা মরদেহ তালতলী থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত শিশুর বাবা দুলাল খান জানান, “আমার ছোট ভাই হাবিল ২০১৫ সালে আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছিল। ১০ বছর কারাভোগ শেষে বেরিয়ে এসে এবার আমার ছোট মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি ঘাতক হাবিলের ফাঁসি চাই।”

ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া দিলে সে পালিয়ে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, “ঘাতক হাবিল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।”

এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গুদামে আটকে ত্রাণ, অনাহারে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

নদীভিত্তিক জীবনযাপন করা বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় আবারও পড়েছে চরম খাদ্যসংকটে। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণ চাল গুদামে থাকা সত্ত্বেও এখনো বিতরণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ দিন আগে শেষ হলেও জেলা প্রশাসনের সময় না পাওয়ায় চাল গুদামেই পড়ে আছে, আর ক্ষুধায় কাতর মানুষ অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা। কিন্তু তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের জাল ফেলা বন্ধ। ফলে তারা এখন আয়-রোজগারহীন, খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ৩১৬টি পরিবারকে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, বরাদ্দকৃত ১১০ বস্তা চাল এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি। ইউনিয়ন পর্যায়ে সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও প্রশাসনিক জটিলতায় বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের গাফিলতি ও বিলম্ব তাদের আরও বিপদে ফেলেছে। লাহারহাট এলাকার মান্তা নারী মমতাজ বেগম, মালেকা বেগম ও হাজেরা বেগমরা বলেন, “আমরা নদীতে ভাসি, পেটে ভাতও ভাসে। চাল গুদামে উঠেছে, কিন্তু আমাদের পেটে যায়নি।”

৭ অক্টোবর মুলাদীতে শতাধিক মান্তা নারী-পুরুষ ত্রাণ বিতরণে দেরির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। ঝালকাঠির রাজাপুরের ১৫০টি মান্তা পরিবার ক্ষোভে এলাকা ছেড়ে গিয়েছিলেন, পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরে আসেন।

টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিল চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুঙ্গীবাড়িয়ার ১১০টি পরিবারের। কিন্তু এই ত্রাণ এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে ডাল ও তেল বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিলম্ব হচ্ছে।”

এদিকে প্রশাসনিক এই জটিলতার কারণে মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। তারা দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে নড়াচড়া শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিসিয়াল বার্তায় বলা হয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৈষম্যে ভোগা শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তাদের দাবি। তাই এবার তারা ‘প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না’ বলে ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন না জারি হলে শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দেন তারা, যা পরে বাস্তবায়ন করা হয়।

পুলিশ প্রথমে শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এই সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে—“প্রজ্ঞাপন চাই, প্রতিশ্রুতি নয়।”

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🔹 ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি,
🔹 দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ,
🔹 কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীতকরণ।

প্রায় চার দিন ধরে লাগাতার এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষকরা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—সরকার কথা দিলেও বারবার তা বাস্তবায়ন করছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।

তারা আরও বলেন, শিক্ষা খাতে যারা কাজ করছেন, তাদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর তুলনায় অনেক কম। সরকার চাইলে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু তা না করে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের দাবি পূরণ করে, তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষক সমাজ পুনরায় আস্থার জায়গায় ফিরে আসবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়”—গড়েয়ায় ফখরুলের আহ্বান

ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “পিআর আমি নিজেই বুঝি না, কিন্তু দেশটাকে বাঁচাতে হবে—বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। গণভোট আর পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, “যারা নানা দাবি-দাওয়া তুলে মিছিল করছে, তারা আসলে নির্বাচন পণ্ড করতে চায়। পিআর নিয়ে বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হবে সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত হবে, আর বাকি মতের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন—দেশের অস্তিত্ব বাঁচাতে এখন এটাই প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আর হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু-মুসলিম বিভেদ নয়, সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই। অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম, তাই সরকার পরিচালনা করতে জানি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে, কৃষকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।”

নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফখরুল বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এটাই গণতন্ত্র। বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে আর ক্ষতি করবেন না। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। ভুলে যাবেন না, মার্কাটা ধানের শীষ।”

সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান নুরুল হকের

রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠন করা হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর চৌরাস্তায় জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা যে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই, তা রাতারাতি সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং আমলাতন্ত্রের চরিত্রের রূপান্তর না ঘটলে কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। যদি রাজনৈতিক ঐক্য ও সমঝোতার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন করা যায়, তাহলে সেই সরকারই পারে দেশকে পাঁচ বছরের মধ্যে স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে।”

নুরুল হক নুর সতর্ক করে বলেন, “যদি রাজনৈতিক বিভাজন ও অনৈক্য অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দেবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে—এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিরাপদ থাকবে না। তাই এখনই সব রাজনৈতিক দলের উচিত সংলাপের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “একদিকে আমরা আশাবাদী যে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অন্যদিকে নির্বাচনের আকাশে কালো মেঘ জমছে। সরকারের সমালোচকরা দমন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সামনে সকলের জন্যই কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।”

নুরুল হক নুর সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কেও মন্তব্য করেন, “বর্তমান সরকার সকলের জন্য হলেও জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করছে না। এর ফলে জনপ্রিয়তা কমছে। কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মুজিব কোটের আধিপত্যের দিন শেষ—এবার মানুষ স্বতঃসিদ্ধভাবে এর প্রভাব নিচ্ছে না, বরং ভয়ের কারণে কেউ এতে সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছে না।”

সভায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। নুরুল হক নুর বক্তব্যে সরকারের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন প্রজন্মের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৫ বছর পর চবি ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ, প্রস্তুত চাকসু নির্বাচন

৩৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। বহু বছর পর ছাত্র-ছাত্রীদের সরব উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

চাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং পরিবহন সুবিধা।

ভোট অনুষ্ঠিত হবে সমাজ বিজ্ঞান, কলা ও মানববিদ্যা, ব্যবসায় প্রশাসন, আইটি ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের ১৫টি কেন্দ্রে। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স, যেখানে চারটি চাকসুর জন্য ও একটি হল সংসদের জন্য নির্ধারিত। প্রতিটি কক্ষে ভোট দেবেন ৫০০ জন শিক্ষার্থী, একজন ভোটার চাকসু ও হল মিলে মোট ৪০টি ভোট দিতে পারবেন।

চাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। শুধু ভিপি পদেই লড়ছেন ২৩ জন, জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন নির্বাহী সদস্য পদে, সংখ্যা ৮৫ জন।

ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৮৪ জন এবং ছাত্রী ১১ হাজার ৩২৯ জন। মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই অনাবাসিক, যারা শহরে অবস্থান করছেন। তাদের যাতায়াত সহজ করতে অতিরিক্ত শাটল ট্রেন ও ১৫টি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ভোটকেন্দ্র। তাদের ভোট প্রদানে সহায়তার জন্য থাকবেন দুইজন নির্বাচন কমিশনার।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ হাজার ২০০ সদস্যের পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির ১২০ সদস্য ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি অনুষদ ভবনে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাশাপাশি চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে।”

ভোট গণনা হবে আধুনিক ওএমআর পদ্ধতিতে, যা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে। কমিশন জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এদিকে ক্যাম্পাসের ৭০ শতাংশ ভোটার শহরে অবস্থান করায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। তবে কমিশন আশাবাদী—চাকসু নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক।

চাকসুর ইতিহাসে এটি সপ্তম নির্বাচন। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে, আর সর্বশেষটি ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতার পর এবার নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন গণতান্ত্রিক চর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন শুধু একটাই স্লোগান—
“গণতন্ত্রের সূর্যোদয়, চবিতে আবার ভোটের হাওয়া বইছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম