আজকের জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশের সূচনা: প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ”জুলাই জাতীয় সনদ ” স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিন আমাদের জন্য এক নবজন্ম। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।” তিনি একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান যারা সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন।

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও যোগ দেন এবং সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষর থেকে সরে আসে। তারা জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।




জুলাই সনদের ৫ নম্বর দফায় সংশোধন: শহীদ পরিবার ও আহত বীরদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করবে সরকার

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর অঙ্গীকারনামার ৫ নম্বর দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জুলাই বীর যোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সংশোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশে এসব তথ্য জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সনদের ৫ নম্বর দফায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। এটি এখন আরও স্পষ্ট ও মানবিক।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া, এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ অঙ্গীকারনামার সংশোধিত ৫ নম্বর দফার ভাষ্যটি পাঠ করে শোনান। এতে বলা হয়েছে—

“গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার হবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহত বীর যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চয়তা পাবে।”

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, “আমরা এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করব। এই বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও কমিশনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।”

এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে জানানো হয়েছে, সংশোধিত সনদের খসড়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে এবং এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করবে।

প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদ স্বাক্ষরে প্রস্তুত সরকার, সামান্য বিলম্ব হতে পারে অনুষ্ঠানে

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান শুরু হতে কয়েক মিনিট দেরি হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, “ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রস্তুত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি কয়েক মিনিট দেরিতে শুরু হতে পারে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে এবং কিছু অতিথি ইতোমধ্যে ভেন্যুতে এসে পৌঁছেছেন। আমাদের ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।”

আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই জুলাই সনদ। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আহতদের ‘জুলাই বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদে তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তারা অবস্থান বজায় রাখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সবশেষ পাওয়া তথ্যমতে, স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং অতিথিরা ধীরে ধীরে ভেন্যুতে প্রবেশ করছেন।

প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে শহীদ পরিবার রাস্তায় নামায় লজ্জার: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনে শহীদ পরিবারগুলোকে রাস্তায় নামতে হওয়া দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাই জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০-এর সেনপাড়া পর্বতা ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কষ্ট, তাদের পরিবারের বেদনা এবং মজলুমদের আর্তনাদ আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝি।

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি।” বরং দলটি সব সময় দেশ, ইসলাম ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করে আসছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তাদের অধিকার নিশ্চিত না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস জয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।

জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির বিজয়ী হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনজুড়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের নির্বাচনে ২৩টি পদে ২৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫ পদে মোট ৫৯৭ প্রার্থী এবং সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নারী হলগুলোতে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাকসু কার্যক্রম নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কোনো মাস্টারমাইন্ড ছিল না: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কোনো ‘প্রধান’ বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন বিকেল ৩টার পর ট্রাইব্যুনালে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে অবশিষ্ট জবানবন্দি প্রদান করেন আসিফ মাহমুদ। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভির এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, “গত বছরের ৫ জুন কোটাপ্রথা পুনর্বহালের রায়ের পর আমরা ৫৮ জন সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়ক মিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করি। এতে কোনো রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ছিল না, কোনো প্রধানও ছিল না। সমন্বয়কদের সবার মর্যাদা সমান ছিল।”

যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যোগাযোগের জন্য ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতাম।”

আইনজীবী অভির প্রশ্নে তিনি আরও জানান, “আমিসহ আমাদের অনেকের বিরুদ্ধেই শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছিল।”

এক দফা আন্দোলনের পেছনে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার পেছনে কোনো বিদেশি ইন্ধন ছিল না। আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আন্দোলনের খরচও অংশগ্রহণকারীরাই নিজেদের ফান্ড থেকে বহন করেছেন।”

চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তখন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ছিলাম।” তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “এত দূর থেকেও ঘটনাটি স্পষ্ট দেখা সম্ভব ছিল।”

এর আগে ৯ অক্টোবর একই মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পটভূমি এবং চানখাঁরপুলে সংঘটিত নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তখন তিনি অভিযোগ করেন, ডিবি পরিচয়ে রাতে তাকে গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল।

সেদিনের জবানবন্দিতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করেন বলেও ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে শুক্রবার স্বাক্ষর না করলেও পরে সুযোগ থাকবে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

‘জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫’-এ শুক্রবার কোনো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর না করলেও তারা পরবর্তীতেও সনদে স্বাক্ষর করতে পারবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামীকাল শুক্রবার সব রাজনৈতিক দলই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সনদে স্বাক্ষর করবে। মতভিন্নতা থাকলেও ঐক্যের স্বার্থে সবাই এগিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

তিনি আরও বলেন, “সনদ বাস্তবায়নের জন্য কমিশন সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে। আমাদের মেয়াদকালেই সরকার সনদ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে আইনি ভিত্তি দিতে কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তাব তৈরি করেছে। তাঁর মতে, “এই সনদকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তা অনুসরণে বাধ্য থাকে।”

তিনি বলেন, “আগামীকালের অনুষ্ঠানে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলো, পরে কমিশনের সদস্যরা এবং সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন। সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে।”

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে এবং বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মরা বলেশ্বরে কচুরিপানার দখল, দূষিত পানি ব্যবহারে চরম দুর্ভোগে ৭ গ্রামের মানুষ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মরা বলেশ্বর নদ এখন কচুরিপানার দখলে। নদীর পানি ঘন কচুরিপানায় পচে গিয়ে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষ এখন তীব্র দুর্ভোগে ভুগছেন। গৃহস্থালি, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে এই দূষিত পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম প্রজেক্ট–২’-এর অধীনে মরা বলেশ্বর নদে গোগে এলাকায় একটি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। কিন্তু অভয়াশ্রম হওয়ার পর থেকে নদীতে কচুরিপানা স্থায়ীভাবে জমে থেকে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে তারাবুনিয়া, বরইবুনিয়া, সামান্তগাতী, চর মাটিভাঙ্গা, চিলমারীর ডাকাতিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার এমন ঘনত্ব যে কোথাও কোথাও পানি দেখা যায় না। নৌ-চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাতের কারণে।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় এই নদীতে স্রোতের তোড়ে চলত স্টিমার, লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গো। মানুষ যাতায়াত করত, কৃষিপণ্য পরিবহন হতো সহজেই। কিন্তু এখন নদী মৃতপ্রায়—স্রোত নেই, পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিকভাবে ওঠা-নামা করছে না, ফলে সেচ সংকটে পড়েছে হাজারো কৃষক। একসময় ‘সোনার জমি’ হিসেবে পরিচিত ছিল বলেশ্বর তীরের কৃষিজমি—যেখানে ধান, গম, সূর্যমুখী, বাদামসহ নানা ফসল বছরে তিন-চারবার ফলত। কিন্তু এখন সেই জমিগুলোও চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় জেলে নিয়াজ শেখ ও বাশার শেখ বলেন, “অভয়াশ্রমের কারণে নদীতে কেউ নামতে পারে না। ফলে কচুরিপানা জমে থেকে স্থায়ী হয়ে গেছে। অভয়াশ্রমের নামে সরকারি টাকা লুট হয়েছে, এখন কচুরিপানা ও দুর্গন্ধের শিকার আমরা।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইনজামুল হক অনিক জানান, নদীর প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। “এই পানি ব্যবহার করে চর্মরোগ ছড়াচ্ছে। গভীর নলকূপ কাজ করছে না, ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে এই দূষিত পানি ব্যবহার করছে,” বলেন তিনি।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া সাহনাজ তমা বলেন, “মরা বলেশ্বর নদে কচুরিপানার কারণে এলাকাবাসী যে সমস্যায় পড়েছে, তা আমরা অবগত আছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, নদীটি দ্রুত খনন ও কচুরিপানা অপসারণ না হলে শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিষখালী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন : বিলীন হচ্ছে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রাম

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বিষখালী নদীর ভাঙন। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রামের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি। নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের সব চিহ্ন, অথচ এখনো কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের সুন্দর গ্রামটি এখন প্রায় পুরোপুরি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। একসময় ঘরবাড়ি, ফসলের জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সমৃদ্ধ এই গ্রামটি আজ কেবল একটি বাড়ি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নাপিতেরহাট ফকিরবাড়ি এলাকার বহু মানুষ ইতোমধ্যে গৃহহীন হয়ে আত্মীয়ের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। গত কয়েকদিনে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ—যে কোনো মুহূর্তে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনকে বারবার জানালেও এখনো জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের পুরো গ্রামই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নদীভাঙনে জমি-ঘর সব গেছে, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব জানি না। যদি সরকার দ্রুত কিছু না করে, তাহলে হয়তো আগামী বর্ষার আগেই পুরো মানকি গ্রাম নদীতে তলিয়ে যাবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং পরিবেশবিদরা বলছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে নদী রক্ষা প্রকল্প হাতে না নিলে রাজাপুর উপজেলার এই জনবসতিগুলো চিরতরে বিষখালীর গর্ভে বিলীন হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫