মানসম্মত পরিসংখ্যান উন্নয়নের চালিকাশক্তি: প্রধান উপদেষ্টা

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে মানসম্মত পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ড্রাইভিং চেঞ্জ উইথ কোয়ালিটি স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড ডাটা ফর এভরিওয়ান’— যা সময়োপযোগী এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করবে।”

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “মানসম্মত পরিসংখ্যান কেবল সরকারের জন্য নয়, বরং জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে প্রতিটি নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, গবেষক ও তথ্য ব্যবহারকারীর জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-কে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংস্কার ও আধুনিকীকরণের নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মানসম্মত ও সর্বজনীন তথ্যপ্রবাহ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং উন্নয়নকে আরও জনমুখী করবে। আমাদের লক্ষ্য—‘সবার জন্য মানসম্মত উপাত্ত’ নিশ্চিত করা।”

বাণীর শেষে তিনি বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শাপলা প্রতীক বরাদ্দ সম্ভব নয় : নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সাংবিধানিক আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রতীকের তালিকায় “শাপলা” না থাকায় এটি কোনো দলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।

রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে সিলেট পুলিশ লাইনসে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রতীক থেকেই বরাদ্দ দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—তাই আইন মেনে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই ‘শাপলা’ প্রতীক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। অনেক কিছুই মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে, তবে তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। আমরা আশা করছি, রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে না। বিতর্কিত কেউ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন পদ্ধতি একটি রাজনৈতিক বিষয়। সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান এবং সিটিএসবি (ডিসি) আফজল হোসেন প্রমুখ।

 

আল-আমিন

 




৫ শতাংশ বাড়িভাতা প্রত্যাখ্যান, ভুখা মিছিলের ঘোষণা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের ঘোষিত পাঁচ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি—এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা পেশার মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় শহীদ মিনারে অষ্টম দিনের মতো অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে দুপুর বারোটায় শিক্ষাভবন অভিমুখে ভুখা মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শিক্ষকরা বলেন, বাড়িভাড়া ভাতা ন্যূনতম ২০ শতাংশ, মেডিকেল ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ না করা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত হবে না। তাদের অভিযোগ, সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অবহেলা চলে আসছে। একজন শিক্ষক যখন নিজ পরিবারকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন, তখন শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

এর আগে রোববার সকালে অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে এবং সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। উপসচিব মিতু মরিয়ম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভাতা প্রদানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যৎ জাতীয় বেতনস্কেলের সঙ্গে সমন্বয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’ অনুযায়ী নিয়োগের শর্ত অনুসরণ এবং কোনো অবস্থাতেই বকেয়া দাবি তোলা যাবে না।

তবে শিক্ষক নেতারা এই প্রজ্ঞাপনকে “প্রহসনমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, সামান্য পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি কোনোভাবেই ন্যায্য সমাধান নয়। বাড়ি ভাড়া, দ্রব্যমূল্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছি, অথচ নিজেদের জীবনে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নেই। বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। এখন খালি থালা হাতে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এটি শুধুই প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, এটি আমাদের বঞ্চনার কান্না।”

তিনি আরও বলেন, “এই দাবিগুলো শুধু শিক্ষকদের ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের শিক্ষার মান, সমতা এবং মর্যাদা রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সরকার চাইলে আজই এই সংকটের অবসান ঘটাতে পারে। শিক্ষক সমাজ করুণা নয়, প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন চায়।”

দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ন্যায্য ভাতা ও সুবিধাবঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। যদিও এর আগে একাধিকবার সরকার বাড়িভাতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এবারের আন্দোলনে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে খোলা জায়গায় প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে, তবে দৃঢ় প্রচেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ৮ নম্বর গেইটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুজন ফায়ার ফাইটার এবং আনসারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে, এখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা শুধু নির্বাপণ কাজ করছি।”

মহাপরিচালক আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো এলাকার কোনো অংশ থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়, যা পরে বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলটি প্রায় ৪০০ গজ বাই ৪০০ গজের বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রচণ্ড বাতাস ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কার্গো কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ: জনগণকে আশ্বস্ত করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনগণের উদ্বেগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়ে জনগণের উদ্বেগের বিষয়টি সরকার অবগত। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নাশকতা বা উস্কানির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনজীবন বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে উদ্দেশ্য থাকে ভয় সৃষ্টি বা বিভাজন ঘটানো, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন জনগণ নিজেরাই ভয়কে বিবেক ও ঐক্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতোই ঐক্য, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করবে। বিবৃতিতে শেষে বলা হয়, “আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং ভয়কেই ভয় করতে হবে।”


আল-আমিন



জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই সাইট বন্ধ করে দেবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সর্বনাশা এক ব্যধির নাম অনলাইন জুয়া । আর তাই এবার অনলাইন জুয়া নিয়ে সরকার কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে। কোনো সাইট জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলে আগামীকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকেই তা বন্ধ করে দেবে সরকার। আজ শনিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কথা জানিয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে জুয়া খেলা, প্রচার উৎসাহ প্রদানকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, যদি কোনো সংবাদপত্র (অনলাইন ভার্সনসহ), নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বা ওয়েবসাইটে জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফিসম্পর্কিত কনটেন্ট প্রচারিত হয়, তবে বিনা নোটিশে সেই সাইট ব্লক করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লিখেছেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সাইটে একাধিক জুয়ার বিজ্ঞাপন তিনি নিজে দেখতে পেয়েছেন। তিনি শেষবারের মতো এসব বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় আপনাদের সাইটগুলো বিনা নোটিশে ব্লক হয়ে যাবে। আমরা আর কোনো নোটিশ দেব না।

আজ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের সতর্কতার পর এরই মধ্যে ক্রিকইনফো, জনকণ্ঠ, ঢাকা পোস্টসহ আরও বেশ কয়েকটি পত্রিকা তাদের অ্যাডসেন্স পরিবর্তন করেছে। সরকার তাদের ধন্যবাদও দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার দেশের সাইবারজগৎকে নিরাপদ, নৈতিক প্রজন্মবান্ধব রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যৌথভাবে কাজ করছে।




শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৩০ ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তাহলা বিন জসিম। তিনি জানান, “বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের ৩০টি ইউনিট কাজ করছে, আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।”

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট এবং নৌবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। এছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও আগুন নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রী টার্মিনালের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো ভিলেজের একটি গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আগুনের ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাহিদ ইসলাম

আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এতে জনগণের চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো আইনি ভিত্তি তৈরি হয়নি। তাই আইনি ভিত্তি ছাড়া এই সনদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে তাদের প্রতি আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা হয়তো আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে এতে যুক্ত হয়েছেন। তবে আমরা দাবি জানাচ্ছি— এই সনদকে অবিলম্বে আইনি ভিত্তি দিতে হবে, যাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রাজস্ব আয়ের রেকর্ড!

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তিন মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণের রেকর্ড।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৪ হাজার কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ এই খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ১৮.২৬ শতাংশ

অন্যদিকে, আমদানি ও রফতানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা, যা গত তিন অর্থবছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এনবিআর জানায়, এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১১.৭৪ শতাংশ

স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকেও এসেছে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব — ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আদায় ছিল ২৬ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা, ফলে এ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯.৭৪ শতাংশ

এনবিআর বলছে, তিনটি প্রধান খাত — আয়কর ও ভ্রমণ কর, মূসক এবং আমদানি-রফতানি — প্রত্যেকটিতেই এবার নতুন রেকর্ড গড়া হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়,

  • ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা
  • ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৭৬ হাজার ৬৮ কোটি টাকা,
  • আর ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৬৮ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা

অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসেই গত বছরের তুলনায় ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এনবিআরের হিসেবে এটি ২০.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

বিশ্লেষকরা বলছেন, কর প্রশাসনের সংস্কার, রাজস্ব আহরণে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি ফেরায় এই ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা: সারজিস আলম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দাবি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হতে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দায়সারা মনোভাব একদিন এই দেশের ইতিহাস থেকে আন্দোলনের সত্যতাকেও মুছে ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত টুনিরহাট জুনিয়র ফুটবল একাডেমি আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যেভাবে জুলাই সনদকে গুরুত্বহীন করে ফেলা হচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করছি — একসময় দেখা যাবে, অভ্যুত্থানটাই যেন ইতিহাসে আর নেই। পরে হয়তো দেখা যাবে, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হচ্ছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি কারণ আমাদের অন্যতম দাবি ছিল সনদটির আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেই দাবিকে আমলে নেয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে, সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায়, যেখানে আন্দোলনের মূল নায়কেরা—জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা—পেছনের সারিতেই থেকেছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দায়সারা মনোভাব আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারা শুধু স্বাক্ষর করাকে লক্ষ্য বানিয়েছে, বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা রাখেনি। এতে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মতোই নতুন করে আন্দোলনের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

সারজিস আলম বলেন, “যদি এইভাবে ইতিহাসের সঙ্গে ছলচাতুরি করা হয়, তাহলে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও একই পথ অনুসরণ করবে। আমাদের সেই জায়গাটা এখনই স্পষ্ট করা দরকার—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।”

এ সময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যেন আন্দোলনের ইতিহাস ও বীর যোদ্ধাদের ত্যাগ কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম