অচল সিসিটিভিতে বরিশালের নিরাপত্তা হুমকিতে

বরিশাল নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান অবলম্বন হিসেবে স্থাপিত শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ১০ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহরের ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ক্যামেরাই বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭০টিরও বেশি ক্যামেরা চুরি হয়েছে—ক্যাবলসহ সম্পূর্ণ ইউনিট উধাও। অথচ কেন এগুলো সংস্কার বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, “রাস্তায় চলাচল করতে এখন ভয় লাগে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সকালে বা সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে।”

সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ক্যামেরা না থাকায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় না, অপরাধীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “বেশিরভাগ ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ক্যামেরা স্থাপন বা পুরনোগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে।”

সিটি করপোরেশনের অচল ক্যামেরার ঘাটতি পূরণে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ গত পাঁচ বছরে ২০০টির বেশি স্থানে ২৬০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। তবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব হয়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে। তবে নগরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না হলে অপরাধ দমন কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা শুধু অপরাধ দমন নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে নগরীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




একজনের পরিচয় মেলেনি ১৫ মাসেও; বরিশালের দুই হত্যা রহস্য অবঘটিত

শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া দুইটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও উদ্ঘাটন হয়নি। মামুন রাঢ়ীর হত্যা ও আরেক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ-ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপরতা বজায় রাখলেও, নিস্পত্তি আনতে পারেনি।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট রাতে—গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দর থেকে ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হন বামরাইল ইউনিয়নের উত্তর মোড়াকাঠীর আব্দুস সালাম রাঢ়ীর ছেলে মামুন রাঢ়ী। সাত দিন পর (২৬ আগস্ট) মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী খালে তার গলাকাটা, ক্ষতবিক্ষত লাশ ভেসে ওঠে। নিহতের বাবা ওইদিনেই গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্লু না পেতে মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়; পরে মামলা তদন্তের নির্দেশ পেয়েছে জেলা সিআইডি।

পরবর্তী কয়েকদফা সিআইডি অভিযান, ঘটনাস্থল ও নিহতের গ্রাম পরিদর্শন, সন্দেহভাজনদের কথা-ক করা সত্ত্বেও আজও মামুনের ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা যায়নি এবং হত্যার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহত মামুনের বড় ভাই সোহেল রানা ও পরিবার চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; মা রাশিদা বেগম বারবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

অপরদিকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকালে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবক। তার গায়ে নেভি ব্লু টি-শার্ট ও জলপাই রঙের গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ছিল। মৃতদেহের গায়ে মাথায় আঘাতের চিহ্ন, শরীরে ফোস্কা ও পচন দেখা গেছে; বিশেষ করে দুই পায়ের হাঁটুর নিচে গোড়ালির ওপর মাংসপেশি বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেছে—মেডিক্যাল রিপোর্টে হত্যার নীরস প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ আছে। ঘটনার পর মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

মেডিক্যাল ও তদন্ত নথি অনুযায়ী ওই অজ্ঞাতনামা লাশটি ২০২৪ সালের ১৭ থেকে ২০ জুলাই মধ্যবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছে—পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় টিঁকে আছে তদন্তের বড় বাধা; প্রকাশিত সময় থেকে প্রায় ১৫ মাস পার হতে চললেও ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি, যার কারণে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এখনো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও নিহত পরিবার দুটি ঘটনার যথাযথ, দ্রুত ও পারদর্শী তদন্ত দাবি করে বলেছেন—নির্বাহিত তদন্তে কারণভিত্তিক গবেষণা ও গোয়েন্দা তৎপরতা না বাড়ালেই ভুলু হয়ে যাবে সুবিচারের দাবি। তারা আশা করেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অভিযোগকারীদের আশা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে এ জাতীয় গোমরার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়ালো অন্তর্বর্তী সরকার

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে তাদের দাবি আংশিক পূরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষকদের মূল বেতনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরারের সভাপতিত্বে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে প্রথম ধাপে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ি ভাতা কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক নেতা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ পেলাম। বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, “আজকের দিনটি শিক্ষা পরিবারের জন্য ঐতিহাসিক। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্মানিত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ন্যায্য ভাতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এটি কোনো একক সাফল্য নয়—এটি যৌথ প্রয়াসের ফল।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছে। আমরা চেয়েছি একটি স্থায়ী সমাধান, যেখানে সম্মান, সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তি হবে। শিক্ষকদের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা শিখিয়েছে। এখন সময় শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর।”

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি পূরণ করা শুধু আর্থিক বিষয় নয়, এটি শিক্ষা খাতের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।”

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় ক্লাস শুরু হলে শিক্ষার্থীরাও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন অভিভাবকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: প্রেমিকার পরিকল্পনায় জড়িত প্রথম প্রেমিক মাহির

রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বেরিয়ে এসেছে তার ছাত্রী ও প্রেমিকা বারজিসস সাবনাম বর্ষার নাম। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেন বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহির।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস. এন. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যেতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বর্ষা একই সময়ে তার গৃহশিক্ষক জোবায়েদ এবং প্রথম প্রেমিক মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। ত্রিভুজ প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় সংকট তৈরি হলে বর্ষা নিজেই জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা তার প্রেমিক মাহির ও তার বন্ধু ফারদিন আইলানকে হত্যার কাজে যুক্ত করেন। ১৯ অক্টোবর বর্ষা জোবায়েদকে ডেকে বাসায় নিয়ে আসেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির ও আইলান সেখানে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে সিঁড়ির কক্ষে তর্কবিতর্কের সময় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।”

তিনি আরও জানান, হত্যার পর বাসার সিঁড়ি থেকে তিনতলা পর্যন্ত রক্তের দাগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে জোবায়েদ উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

গ্রেফতার হওয়া তিনজন—বর্ষা, মাহির ও আইলান—বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে আছেন।

জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বর্ষার বাসার তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, যা পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।


আল-আমিন




তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল চেয়ে আপিল শুনানি শুরু

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দাখিল করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে আজ। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা করার অনুমতি দেন আপিল বিভাগ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক পৃথকভাবে আপিল দাখিল করেন।

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। তবে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল হয়। এরপর একই বছর জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী।

তবে নতুন সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই বিষয়ে পৃথক আবেদন করেন।
এ ছাড়া নওগাঁর রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন জানান।

আইনজীবীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার শুনানিতে দেশের নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা মিলবে।


আল-আমিন




ড. ইউনূসের প্রতি ছয় মানবাধিকার সংস্থার খোলা চিঠি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা। চিঠিতে তারা সরকার কর্তৃক সাম্প্রতিক মানবাধিকার উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

রোববার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে আরও পাঁচটি সংস্থা— সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), ফর্টিফাই রাইটস, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস, এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট

চিঠিতে ছয় সংস্থা বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য আরও কার্যকর ও টেকসই সংস্কার অপরিহার্য। তারা সরকারের প্রতি ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।
  • র‍্যাব বিলুপ্তি ও নিরাপত্তা খাতের সার্বিক সংস্কার।
  • গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনভুক্ত করা।
  • জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্যারিস প্রিন্সিপল অনুযায়ী স্বাধীন ও কার্যকর করা।
  • সাইবার নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও মানহানি ধারা আন্তর্জাতিক মানে সংশোধন করা।
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা বজায় রাখা।

চিঠিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি। সংস্থাগুলোর মতে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছর জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১০ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের চিঠিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা বাতিল, এবং এনজিও ব্যুরো সংস্কারসহ বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পরামর্শ দেয়।

এছাড়া, তারা রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ, তাদের স্বাধীন চলাচল, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) রোহিঙ্গা নিপীড়ন মামলায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানায় এবং অভিযুক্তদের হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এই চিঠি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। তারা বলছেন, এই চিঠি দেশের মানবাধিকার ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অক্টোবরের প্রথমার্ধে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন, দেশে এসেছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা

চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনেই দেশের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সে দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা টাকায় প্রায় ১৯ হাজার ২০৩ কোটি টাকা

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় বেড়েছে প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এর আগে, গত অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ এক মাসের হিসাবে রেকর্ড ছুঁয়েছিল — ৩২৯ কোটি ডলার, যা ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ আয় ছিল।

পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে।


আল-আমিন




জাতীয় নাগরিক পার্টির লক্ষ্য ১৫০ আসনে জয়

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ় প্রত্যয়ে ভোটের মাঠে নেমেছে। নবগঠিত এই রাজনৈতিক দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে বিজয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবার সরাসরি সরকার গঠনের লক্ষ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “এনসিপি এবার ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে, আমরা ১৫০ আসনে জয়ী হব—এ ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।” তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই লক্ষ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ সরকার গঠনের জন্য ১৫১টি আসনে জয়লাভের প্রয়োজন হয়। ফলে দলটির নির্ধারিত লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি।

এনসিপি নেতারা জানান, তারা এখনো গণপরিষদ নির্বাচন, বিচার ও সাংবিধানিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে অনড় রয়েছেন। তবে নির্বাচনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা এবং প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলে সারজিস আলম পঞ্চগড়ে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসুদ গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানী ঢাকায়ও এনসিপির তৎপরতা বেড়েছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদপুর-৫ বা ঢাকার যে কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ বা বরিশাল-৪ আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এছাড়া ডা. তাসনীম জারা ঢাকা-১৭, আকরাম হুসাইন ঢাকা-১৩, এস এম শাহরিয়ার ঢাকা-৫, জাবেদ রাসিন ঢাকা-৯, রাসেল আহমেদ ঢাকা-১, আবদুল্লাহ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ, আলী নাছের খান গাজীপুর-১, সামান্তা শারমিন ভোলা-১ বা ঢাকা-৯, মাহবুব আলম মাহি লক্ষ্মীপুর-১, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, অনিক রায় সুনামগঞ্জ-২, জয়নাল আবেদীন শিশির কুমিল্লা-১০ এবং প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এছাড়া পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, ঝালকাঠি-১ এ আরিফুর রহমান তুহিন, টাঙ্গাইল-১ এ ড. আতিক মুজাহিদ, চট্টগ্রাম-১৬ এ মীর আরশাদুল হক, কক্সবাজারে আবু সাঈদ সুজাউদ্দীন, টাঙ্গাইল-৩ এ সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর-৩ এ মেজর (অব.) আবদুল্লাহ মাহমুদ খান, নীলফামারী-৩ এ আবু সাঈদ লিওন, বরিশাল-৫ এ ডা. মাহমুদা মিতু, ভোলা-৪ এ আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সালসহ একাধিক নেতা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সিলেট, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রামেও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। দলটির নির্বাহী সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং হাসান আলীও নিজ নিজ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিটি দলই নির্বাচনে বড় লক্ষ্য নিয়েই অংশ নেয়, আমরাও ব্যতিক্রম নই।”

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, তারা সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন, যাতে ভোটের মাঠে এনসিপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটে ৮ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনের আগে ও পরে মোট আট দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন বাহিনী। সোমবার (২০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে এ প্রস্তাব আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইসি সচিব এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “আগে ভোটের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন বাহিনী রাখার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বৈঠকে আট দিন রাখার প্রস্তাব এসেছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। সব বাহিনীই সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ভর করবে বাজেট বরাদ্দের ওপর, যা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং ড্রোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। পুলিশের সদস্যদের জন্য থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যাতে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

আখতার আহমেদ বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে সর্বাধিক—প্রায় পাঁচ লাখ বা তারও বেশি। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত হবেন।”

তিনি আরও জানান, সশস্ত্র বাহিনী “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার” এর অধীনে নাকি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিয়োজিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশোধিত আরপিও প্রাপ্তির পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত মাহিরকে থানায় নিয়ে গেলেন তার মা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাহির রহমানকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোরে অভিযুক্ত মাহিরের মা নিজেই তাকে নিয়ে এসে ঢাকার বংশাল থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, জোবায়েদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই মাহিরকে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনাটি ঘটার প্রায় একদিন পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আরমানিটোলায় টিউশনি করতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির ‘রওশন ভিলা’ নামের একটি ভবনের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দুই তরুণকে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও, তাদের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, “আমরা পাঁচজনকে আসামি করতে চেয়েছিলাম—শিক্ষার্থী বর্ষা, তার বাবা-মা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু নাফিসকে। কিন্তু বংশাল থানার ওসি প্রথমে মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আমরা কেবল পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই।”

এ বিষয়ে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবার যাদের আসামি করতে চায়, তাদের নামেই মামলা নেওয়া হবে। শুধু পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।”

ঘটনার পর শিক্ষার্থী বর্ষাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিবার রাতেই তাকে থানায় এনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্ন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সূত্র।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তাঁতিবাজার মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং সাময়িকভাবে সড়কও অবরোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে দুই দিনের শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আগামী ২২ অক্টোবর নির্ধারিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের’ সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসজুড়ে এখন শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। সহপাঠীরা জোবায়েদের হত্যার বিচার চেয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম