বিশ্বকাপ র‌্যাঙ্কিংয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ: হাতছাড়া হয়েছে বড় সুযোগ

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য বাংলাদেশকে র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তত নয় নম্বরে থাকতে হবে। কিন্তু মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিততে না পারায় এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ৭৪ রানের জয়ে দারুণ শুরু করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সুপার ওভারে ১ রানে হেরে যাওয়ায় রেটিংয়ে উন্নতি হয়নি। সিরিজে ১-১ ব্যবধানের ফলে শেষ ম্যাচের ফলেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিংয়ের ভবিষ্যৎ।

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল যথেষ্ট রানের, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্য সরকারের ৪৫ ও মিরাজের ৩২ রানের ধীর ইনিংস দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজও লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছিল, কিন্তু অধিনায়ক শাই হোপ ৬৭ বলে ৫৩ রান করে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন।

সুপার ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করে বাংলাদেশকে ১ রানে হারায়। ফলে শুধুমাত্র ম্যাচ নয়, র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুযোগও শেষ হয়ে যায়।

আগামীকালের সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জয় পেলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে ৭৬ হবে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কমে ৭৯। পরিত্যক্ত বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় হলে বাংলাদেশের রেটিং কমে ৭৩-এ নেমে যাবে।

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য বাংলাদেশের সামনে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই একমাত্র পথ। নয় নম্বরের নিচে থাকলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলতে হবে, যেখানে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের মতো দলও অংশ নেবে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও আশাব্যঞ্জক নয়-সর্বশেষ ১২ ম্যাচে জয় মাত্র একটি। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটি মনোবল ফেরানোর ও র‌্যাঙ্কিং পার্থক্য কমানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছিল, যা এখন শেষ ম্যাচে নির্ধারিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা-১: আওয়ামীলীগ দুর্গ রক্ষায় মরিয়া বিএনপি ও জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-১ আসনে (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসংযোগে ব্যস্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা সক্রিয় না হলেও বিএনপি ও জামায়াত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গ্রাম, হাট ও বাজারে সভা সমাবেশ করছেন। বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার, অধ্যাপক অ্যাডভোকেট মজিদ মল্লিক, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম গাজী, অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ তালুকদার অন্যতম। তবে মজিদ মল্লিক ও মজিদ তালুকদার ছাড়া বাকি প্রার্থীরা মাঠে গণসংযোগ করছেন।

বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তালতলী উপজেলা বিএনপির শক্তকেন্দ্র। আমতলী উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ভোট সমানভাবে রয়েছে, তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলেরও ভোট রয়েছে। জামায়াতের ভোট কম। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪।

বিএনপির জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ও দলীয় নেতারা আশা করছেন, যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ সম্ভব হবে। তবে পায়রা নদীর দুই পাড়ে ভোটার বিভাজন এবং উপজেলা অনুযায়ী ভোটের দিক বিবেচনায় মনোনয়ন না দিলে বিএনপি বিজয় অর্জন কঠিন হবে।

তরুণ নেতা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগের জন্য দীর্ঘ সময় দমন-নিপীড়নের শিকার হয়েও দলের পক্ষে কাজ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে বরগুনা জেলাকে মডেল জেলায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নারী মনোনয়ন প্রত্যাশী আসমা আজিজ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হবে এবং আশা রাখছি মনোনয়ন পাব।

সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন, পূর্বে আমতলী ও তালতলীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে জয়লাভ করে বরগুনার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠিতে সুপারির বাজারে চাষি-ক্রেতা মুখরিত, দাম কমে হতাশা

ঝালকাঠির প্রতিটি গ্রামে সুপারির চাষ হলেও এবছর ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও দাম কম থাকার কারণে চাষিরা হতাশ। জেলার চারটি উপজেলা ও ৩২টি ইউনিয়নের ৪৭১টি গ্রামে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি ক্রয়-বিক্রয় হয়।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কুড়ি (২১০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। যদিও উৎপাদন বেশি, দাম কম থাকায় চাষিরা তৃপ্তি পাচ্ছেন না।

ঝালকাঠির ছত্রকান্দা, সিএন্ডবি বাজার, রাজাপুরের বাগড়ি, লেবুবুনিয়া, বাদুরতলা, নাপিতেরহাট, নলছিটির ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, চাকলার বাজার, মানপাশা, মোল্লারহাট, কাঁঠালিয়ার কৈখালী, সাতানি বাজার, আমুসহ জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সুপারি লেনদেন হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন চাষিরা।

চাষিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে ঝুঁকি কম এবং উৎপাদন খরচও কম। রোগ-বালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হওয়ায় দিন দিন সুপারি চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাইকাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপারি সরবরাহ করছেন।

ক্রেতারা বলছেন, এ বছর বেশি উৎপাদনের কারণে কম দামে সুপারি কেনা সম্ভব হচ্ছে এবং ভালো লাভের আশা করা যাচ্ছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “আমরা চাষিদের সুপরিকল্পিত সুপারি চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি, যাতে এই ফসল অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখতে পারে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“৮৮ বছরের রইস উদ্দিনের জীবনযুদ্ধ: গ্রামে ফেরিওয়ালার ব্যথা ও সংগ্রাম”

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী রইস উদ্দিন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গ্রামে পায়ে হেঁটে কাপড় বিক্রি করছেন। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীর, ক্লান্তি ও ঘামে ভিজা হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি থেমে থাকেননি।

রইস উদ্দিনের জীবনযাত্রা কঠিন। স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান আমলে তিনি তরকারি ব্যবসা করতেন, পরে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বাধীনতার পর থেকে ফেরিওয়ালার কাজে নিয়োজিত। বর্তমানে ১ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গ্রামে ঘুরে নতুন ও পুরাতন কাপড় বিক্রি করছেন। অসুস্থ বা বৃষ্টিতে ঘরবন্দী হতে হয়, খাবারও ঠিকমতো জোগাড় হয় না।

তার স্ত্রী আদর বানু (৬০) জানান, “দুঃখ আর কষ্ট আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। বয়স্ক ভাতা পাওয়ার পরও সংসার চালানো কঠিন।” রইস উদ্দিন বলেন, “শক্তি থাকলে ভিক্ষা করবো না। কিন্তু কাজ ছাড়া দেখবে কে আমাদের?”

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যদি সরকারি ও সমাজের সহায়তা আসে, তবে শেষ জীবনের সংগ্রামে কিছু স্বস্তি পেতে পারেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, “বৃদ্ধ রইস উদ্দিনের জীবন যুদ্ধ আমাদের কষ্ট দিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবো। সমাজের মানুষ এগিয়ে আসলে তাঁর জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“দুই গুম ও এক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই গুম ও একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগে দায়ের দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে। এছাড়া, রামপুরায় গত বছরের ১৮ ও ১৯ জুলাই গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে আনার পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় রাখা হবে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সকালে ৭টা ১৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান।

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার ও কর্নেল কেএম আজাদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“আবরাহার নকল কাবা: রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার করুণ পরিণতি”

ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবের একটি ঘটনাই মুসলমানদের জন্য এক চিরন্তন স্মৃতি। ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইয়েমেনে আবিসিনিয়ার শাসক আবরাহা ‘নতুন কাবা’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি মক্কার কাবাকে প্রতিস্থাপন করে ইয়েমেনকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

আবরাহা সানা শহরে ‘আল-কালিস’ নামে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করেন। এটি অত্যন্ত বিলাসবহুল ও উঁচু, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও আরব উপজাতি ও কুরাইশরা একেবারেই প্রত্যাখ্যান করে। কুরাইশদের একজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে গির্জাটিকে অপবিত্র করেন। আবরাহা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মক্কার দিকে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন।

কোরআনে সূরা ফিল-এ বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, আল্লাহতায়ালা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সিজ্জিল (পোড়া মাটির পাথর) দিয়ে আবরাহার সেনাকে ধ্বংস করেন। আবরাহা নিজেও আহত হয়ে খাত’আম অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা ঘটেছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে, মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম বর্ষে, যাকে ‘আম আল-ফিল’ বলা হয়।

আজ আবরাহার গৌরবময় উপাসনালয় আর নেই। সানা শহরে এর ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের রূপে সংরক্ষিত। এটি আবরাহার ব্যর্থতার প্রতীক, যেখানে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসবহুল নির্মাণ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে জয় করতে পারেনি। বিপরীতে, মক্কার কাবা প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমানকে আকর্ষণ করছে, যা সত্যিকারের ইমান ও আল্লাহর সুরক্ষার প্রমাণ।

ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা বিলাসবহুল নির্মাণ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সত্যিকারের ইমান অটুট থাকলেই কোনো শত্রু সফল হতে পারে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“সিইসি ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ কোনো চাপের কাছে নত হবেন না”

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় ম্যাজিস্ট্রেটরা কোনো চাপের কাছে নত করবেন না এবং কমিশনও আইন অনুযায়ী কাজ করে বেআইনি নির্দেশনা দেবে না। তিনি মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থার মূল কারণ আইনের প্রতি অনীহা—এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা নেওয়া। তিনি এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও বেআপত্তি সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রশাসনিক ও ম্যাজিস্ট্রেটিক কর্মকর্তা-ম্যান্ডেটরা যেন কোনো অবৈধতায় জড়াতে না পারেন, সেজন্য কঠোর দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার প্রতি সতর্ক থাকা, কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মনোভাব থাকা অপরিহার্য। ভোটগ্রহণকালে ভোট বাক্স দখলের মতো আইনের পরিপন্থী কাজ করা যাবে না এবং কেউ মাঠে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না—এ ধরনের কোনো অবস্থা মেনে নেওয়া হবে না।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসন, নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিইসি এসব কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কমিশন প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে নেবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সিইসির এই নির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নিরপেক্ষ, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি: আইন উপদেষ্টা”

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি। দলটির দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে ড. নজরুল জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও অনৈক্য থাকায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে এই সংশয় দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনপ্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় প্রধান উপদেষ্টা নিজেই নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন।

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, এই বিষয়ে সকল সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাদের সাবজেলে রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনকে অর্থবহ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে নিতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২5




“এক পা হারিয়েও সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই ছোরাফের”

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানো পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে ছোরাফ, জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অগভীর সমুদ্রে নামেন। ভোরের অন্ধকারে, বৈরি আবহাওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে তিনি এক পা নিয়েই জাল ভরা নৌকায় উঠেন।

ছোরাফের পাশে থাকে ছোট ভাই, কখনো বড় ছেলে। ঋণ নিয়ে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে এতে যুক্ত করেছেন শ্যালো ইঞ্জিন। কখনো সাগরে মাছ না ধরা গেলে ছোট ছেলের চায়ের দোকানই সংসারের ভরসা। তিনি বলেন, “আমি যদি ঘরে বসে থাকি, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা খাবে কী?”

ছোরাফের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, ঝড়ের রাতে স্বামীকে নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকে, তবে সকালে জালভরা মাছ নিয়ে ফিরলে আনন্দে অশ্রু ঝরে। পরিবারে তিন সন্তান, বড় ছেলে চায়ের দোকান চালিয়ে বাবাকে সাহায্য করে, ছোট ছেলে মাঝে মধ্যেই সাগরে যায়।

স্থানীয় প্রবীণ জেলে মান্নান হাওলাদার বলেন, “সমুদ্রের মতো মন ওর। পা নাই তো কী হয়েছে? ঝড়ে সাগরে মাছ পড়ে, তখনও জীবন বাজি রেখে ছোরাফ নামেন।”

ছোরাফের বাবা কালাম মাঝি জানান, “আমি আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। সংসারের সব দায়িত্ব ছোরাফের কাঁধে।” সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ছোট্ট ঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন ছোরাফ, একজোড়া ক্র্যাচ আর কৃত্রিম পা-ই তাঁর ভরসা।

ছোরাফ বলেন, “জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে নামি। স্রোতের বিপরীতে লড়াই অভ্যাস হয়ে গেছে। চাই সরকার একটু সাহায্য করুক। সন্তানদের মুখে হাসি থাকলেই আমার জয়।”

কলাপাড়ার পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, “ছোরাফ কুয়াকাটার হাজারো সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রের বুক যেখানে ভয় দেখায়, সেখানেই তিনি প্রমাণ করেছেন—হাল না ছাড়ার নামই আসল লড়াই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৫ বছর ভাঙা ব্রীজে চরম দূর্ভোগ, দুই উপজেলার মানুষ সমস্যায়”

মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ডোমরাবাদ এলাকায় ধানবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় ‘ডোমরাবাদ-জলিশা সংযোগ ব্রীজ’ ভেঙে পড়ে গত পাঁচ বছর ধরে নদে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।

সম্প্রতি নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে ভাঙা সেতুর পশ্চিমাংশে গাছ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। নেট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীও বসানো হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর কারণে এখনও জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়ের জন্য ১০–১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুরিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল নির্মিত ব্রীজটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভেঙে পড়ে। ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে বেতাগীর জলিশা, পূর্ব পাড়ে মির্জাগঞ্জের ডোমরাবাদ গ্রাম। ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার মানুষ যাতায়াত, কৃষি আবাদ ও হাট-বাজারে সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘ চার বছর শিক্ষার্থীরা নৌকা ভাড়া দিয়ে পারাপার হতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইউসুফ মিয়া জানান, ব্রীজ ভাঙার পর তার মেয়ে ও ভাতিজারা নিরাপত্তার কারণে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছেন। ডোমরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফিরোজ আলম জানান, ব্রীজ ভাঙার কারণে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ভাঙা ব্রীজের সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ শুরু করা হবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান, দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে এবং কৃষকরা ফসল বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫