৪০ বছরেও আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া পায়নি নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কিংবা উন্নত অবকাঠামোর ছোঁয়া পায়নি।

নলছিটি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও অবকাঠামোগত সংকট ও প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে কলেজে রূপান্তরের জন্য আবেদন করে এবং ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনুমতি পায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় “নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ”। কিন্তু এরপরও শিক্ষার পরিবেশে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে পাঠ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই কোনো পাকা ভবন, নেই উপযুক্ত টয়লেট বা আধুনিক ল্যাবরেটরি। বৃষ্টির দিনে টিনশেড ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়, ফলে ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারিকা আক্তার বলেন, “ভালো ভবন নেই, রাস্তাও খারাপ। যাতায়াতে কষ্ট হয়। পাকা টয়লেটের অভাবেও আমরা ভোগান্তিতে আছি।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত জানায়, “আমাদের যদি একটি ডিজিটাল ল্যাব থাকত, তাহলে কম্পিউটার শেখা সম্ভব হতো। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে।”

অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো হয়নি। এতে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমাদের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী আছে। ভবন ও ডিজিটাল ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় তারা সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি আজ ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনে প্রধান সড়ক হকার ও যানবাহনের দখলে, চরম ভোগান্তিতে জনতা

ভোলার চরফ্যাশন পৌর শহরের প্রধান সড়কটি বর্তমানে হকার ও যানবাহনের দখলে পরিণত হয়েছে। সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে দিনভর তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগী ও সাধারণ জনগণ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা পরিষদ মার্কেট থেকে আধুনিক হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে অবৈধভাবে পার্ক করা হয়েছে অটোরিকশা ও সিএনজি। ফুটপাত তো বটেই, রাস্তায়ও বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। কেউ ফল বিক্রি করছে, কেউ চা বা খাবারের দোকান বসিয়েছে। ফলে যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হকাররা জানান, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় জীবিকার তাগিদে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, পৌরসভা যেন একটি নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি করে দেয়, যাতে তারা সড়কের জায়গা দখল না করে ব্যবসা চালাতে পারেন।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না, শিক্ষার্থীরাও স্কুলে দেরি করে পৌঁছায়। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট গাড়ি দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, “হকারদের কারণে দোকানের সামনের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে পারে না, ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”

অটোরিকশা চালক ইব্রাহিম জানান, “আমাদের জন্য নির্ধারিত পার্কিং স্পট থাকলেও যাত্রী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাজারের মধ্যে গাড়ি পার্ক করি।”

পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন ইতোপূর্বে যানজট নিরসনে অভিযান পরিচালনা করলেও বর্তমানে তা থেমে গেছে। নির্ধারিত স্থানে যানবাহন পার্ক না করা এবং হকারদের পুনরায় সড়ক দখল করায় পরিস্থিতি আবারও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “প্রধান সড়কের দুই পাশ হকার ও যানবাহনের দখলে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যানজট নিরসনে আবারও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, হকার ও যানবাহনের জন্য নির্ধারিত স্থানে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শহরের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ৯০ বছরের মায়ের আশ্রয় এখন গোয়াল ঘরে

ভোলার চরফ্যাশনের এক বৃদ্ধা মায়ের জীবন এখন দুঃখের প্রতীক। বয়স ৯০ বছর, নাম ফজলেতুন নেসা। এক সময় ছিলেন সংসারের আলো, এখন আশ্রয় নিয়েছেন গরু রাখার গোয়াল ঘরে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তানদের ঘরে তার ঠাঁই হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসতলা গ্রামে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী খলিল মোকাম্মেলের মৃত্যুর পর নিজের নামে থাকা প্রায় তিন শতাংশ জমি তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন ফজলেতুন নেসা। কিন্তু সেই দলিলের পর থেকেই শুরু হয় তার দুর্ভোগের জীবন। একে একে ছেলেদের ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন একটি গোয়াল ঘরে।

প্রতিবেশীরা জানান, এখন ফজলেতুন নেসা হাঁটাচলাও করতে পারেন না। দিনের বেলায় রোদে পুড়েন, রাতে ঠাণ্ডায় কাঁপেন। অথচ পাশের ঘরেই তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছেন। গ্রামের যুবক আরিফ বলেন, “আমরা বারবার ছেলেদের বলেছি মাকে অন্তত একটু জায়গা দিতে, কিন্তু কেউই রাজি হয়নি। এখন গ্রামের মানুষই তাকে মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে সাহায্য করে।”

এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু ফয়েজ জানান,“এভাবে কোনো মা যদি নিজের সন্তানদের ঘরে ঠাঁই না পান, তাহলে সমাজে মানবিকতা কোথায় টিকবে? আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজনে সমাজসেবা অফিসেও জানানো হবে।”

বর্তমানে গোয়াল ঘরের এক কোণে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গায় দিন কাটছে ফজলেতুন নেসার। মাথার ওপর ফুটো টিন, নিচে ভেজা মাটি। জীবনের এই কঠিন সময়েও তিনি কারও প্রতি অভিযোগ না করে চুপচাপ সহ্য করছেন সব কিছু।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই অসহায় মায়ের জন্য একটি মানবিক আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৮৩ পদে নিয়োগ

সরকারি চাকরির প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যালয়সহ বরিশাল সার্কিট হাউসে ৮৩টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সব পদই ২০তম গ্রেডভুক্ত। আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩০ অক্টোবর এবং চলবে ২৯ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

প্রার্থীদের শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ডাকযোগে বা সরাসরি জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদ ও যোগ্যতা:
১️⃣ অফিস সহায়ক: পদসংখ্যা ৩৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস।

২️⃣ নিরাপত্তা প্রহরী: পদসংখ্যা ২৬টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস এবং শারীরিকভাবে সুস্থ।

৩️⃣ পরিচ্ছন্নতা কর্মী: পদসংখ্যা ১৬টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস। এই পদের ৮০% কোটা জাত হরিজন প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

৪️⃣ মালি: পদসংখ্যা ১টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস।

৫️⃣ বেয়ারা (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস।

৬️⃣ বাবুর্চি (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ১টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস এবং রান্নায় অন্তত ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৭️⃣ নিরাপত্তা প্রহরী (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।

বয়সসীমা:
১৮ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

বেতনস্কেল:
সকল পদে বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

আবেদনের নিয়ম:
আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবেদন ফি ৫০ টাকা এবং টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ মোট ৫৬ টাকা আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

সময়সীমা:
🟢 আবেদন শুরু: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সকাল ১০টা
🔴 আবেদন শেষ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকেল ৫টা

এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বরিশাল অঞ্চলের তরুণদের জন্য সরকারি চাকরির একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুর ঘিরে বিতর্ক

বরিশাল নগরীর হৃদয়ে অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যের জলাশয় ‘বিবির পুকুর’। একসময় শহরের প্রাণবায়ু হিসেবে পরিচিত এই পুকুরটি এখন নানা কারণে হারিয়েছে আগের সৌন্দর্য। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে পুকুরে ফোয়ারা স্থাপনের কাজ চলছে। তবে এর দক্ষিণ পাশে লোহার গ্রিল ও নেট বসানোয় শহরজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিবির পুকুরের চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গ্রিল-নেট স্থাপন পুকুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খোলা আকাশের দৃশ্যকে বন্দি করে ফেলবে। শহরের নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, এটি বরিশালের ঐতিহ্যের ওপর এক নতুন আঘাত।

তাদের দাবি, আগেও বেলস পার্ক লেক ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে নাগরিকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর সেই কাজ স্থগিত হয়েছিল। এবার বিবির পুকুর ঘিরে যেন আবারও সেই পুরোনো বিতর্ক ফিরে এসেছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পুকুরটি ১৯০৮ সালে জিন্নাত বিবি নামে এক মুসলিম নারী খনন করেছিলেন, যাকে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরি পর্তুগিজ দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন। মানুষের কল্যাণে নিজের জমিতে পুকুর খনন করে তিনি শহরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতেন। তার নামেই জলাশয়টির নামকরণ হয় ‘বিবির পুকুর’।

প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮৫০ ফুট প্রস্থের এই জলাশয়টি একসময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে খালযোগে সংযুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই খাল হারিয়ে গেছে, এখন পুকুরটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কবি ও ইতিহাসবিদ হেনরি স্বপন বলেন,“বিবির পুকুর একসময় শহরের গর্ব ছিল। এখন এটি অবহেলা আর দখলের শিকার। যে শহর নিজের জলাশয়কে রক্ষা করতে পারে না, সে তার ঐতিহ্যও টিকিয়ে রাখতে পারে না।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন,“কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছিলেন, তাই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান,“ফোয়ারার কাজ প্রায় শেষ। এটি চালু হলে বিবির পুকুর তার পুরনো সৌন্দর্য ফিরে পাবে। পুকুরে ময়লা না পড়তে পারে, এজন্যই গ্রিল ও নেট বসানো হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখার পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি

পটুয়াখালীর দুমকিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের ফেরি বিভাগের অধীনে থাকা কোটি টাকার দুটি ফেরি আজ পরিণত হয়েছে লোহার স্তূপে। একসময় নদীপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ফেরিগুলো এখন অযত্ন, অবহেলা আর তদারকির অভাবে পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে—ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্ষমতা ও মূল্য।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর পায়রা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্দেশে ফেরি দুটি তার নিজ এলাকার পায়রা নদীর বাহেরচর ঘাটে সরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেখানেই অচল অবস্থায় বছরের পর বছর পড়ে থেকে এখন ফেরিগুলো প্রায় ভাঙার অবস্থায় পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিগুলোর ওপর এখন ঘন ধুলো, মরিচা আর আবর্জনার স্তূপ। নীচের অংশ পানিতে ডুবে থাকায় লোহা ক্ষয়ে গেছে, আর ভেতরের বেশ কিছু যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি হয়ে গেছে। আশেপাশে কোনো কর্মচারী বা পাহারাদার না থাকায় পুরো এলাকা জুড়ে আগাছায় ঢেকে গেছে ফেরিগুলোর চত্বর।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “সরকারি কোটি টাকার সম্পদ এইভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—এটা জাতির ক্ষতি। যদি এগুলো সংস্কার করে কাজে লাগানো না যায়, তবে অন্তত নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বাড়ানো যেতে পারে।”

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. শাহিন বলেন, “এগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। দ্রুত সংস্কার করলে বা বিক্রির উদ্যোগ নিলে সরকারের আয় বাড়বে এবং জনসেবার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার বলেন, “বাহেরচর এলাকায় ফেরি দুটি পড়ে আছে বিষয়টি আমাদের জানা আছে। এগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ফেরিগুলো সরকারের সম্পদের প্রতি চরম উদাসীনতার উদাহরণ। তারা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এসব ফেরি সরকারের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ফেরিগুলোর আর কোনো ব্যবহারযোগ্যতা অবশিষ্ট থাকবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণভোট ছাড়া নির্বাচন নয়, সরাসরি দাবি ডা. তাহেরের

জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, “গণভোটের বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো জটিলতা চাই না, সরলভাবে বলতে চাই—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হতেই হবে।”

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের জানান, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেশ কিছু সময় ধরে বৈঠক করে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় ৮০টিরও বেশি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা চাই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে সরকার একটি বিশেষ আদেশ জারি করুক। তবে এই ঘোষণাটি যেন প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে নয়, প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমেই দেওয়া হয়। কারণ, বর্তমান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।”

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, “বিএনপি শুরুতে গণভোটের ব্যাপারে অনীহা দেখালেও জনমতের চাপে তারা রাজি হয়েছে। কিন্তু এখন তারা একদিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিচ্ছে, যা সাংবিধানিক ও বাস্তবিকভাবে অযৌক্তিক। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। গণভোটে জনগণ দেশের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে, আর জাতীয় নির্বাচনে জনগণ সরকার নির্বাচন করবে। তাই আগে গণভোট হতে হবে, তারপর নির্বাচন।”

তিনি আরও বলেন, “নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট আয়োজন সম্ভব। এরপর আড়াই মাস সময় থাকবে জাতীয় নির্বাচনের জন্য। এতে সময় বা ব্যয়ের কোনো সমস্যা হবে না, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে।”

ডা. তাহের অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে একক দলের প্রভাব স্পষ্ট। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন। এটি পরিবর্তন না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানান প্রশাসন, সচিবালয়, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনে লটারি পদ্ধতিতে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের ব্যবস্থা করতে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএনপি হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।

ডা. তাহের বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিন। কারণ, জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আসছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের পর এবার বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাবনা যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশনে (পে কমিশন)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) জানিয়েছে, তারা বেসরকারি খাতের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবনা তৈরি করছে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান,

“আমরা প্রস্তাবনাটি প্রস্তুত করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা বেতন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। সার্বিকভাবে আমাদের প্রস্তাব থাকবে—বেসরকারি খাতে সর্বনিম্ন বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যের ন্যূনতম জীবনযাত্রা বজায় রাখতে যে পরিমাণ আয়ের প্রয়োজন, সেটিই হওয়া উচিত একটি ‘মানবিক বেতন’।

“প্রাইভেট সেক্টর সবসময় চায় কম খরচে বেশি উৎপাদন। কিন্তু একজন কর্মীরও তো মানবিক মর্যাদা আছে। তার পরিবারের খাবার, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় বিবেচনা করে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই মহাসচিব আরও বলেন,

“বিদেশি কর্পোরেট সেক্টরে কর্মীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তবে অর্থনৈতিকভাবে আমরা যত উন্নত হব, তত বৈষম্য কমে আসবে।”

তিনি মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে বলেন,

“যদি কারও বেতন ২০ হাজার টাকা হয় এবং মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে প্রকৃত আয় কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকায়। তাই বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হবে, প্রতিবছর এই সমন্বয় করা গেলে।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন,

“আমরা চাই সরকার ও বেসরকারি খাত আলাদা না দেখে নাগরিকের মানবিক মর্যাদার দিকটা বিবেচনা করুক। একটি মানুষ যেন তার ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। অন্যথায় বৈষম্য ও দুর্নীতি বাড়বে।”

বর্তমান শ্রমবাজারের অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই মহাসচিব।

“চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বেতন বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একজনকে চাকরিতে না নেয়, তখন অন্যজন সেখানে যোগ দেয়। শ্রমবাজারে জনবল থাকলেও ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা নেই। এটা আধুনিক যুগের এক ধরনের শোষণ,” বলেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে অডিট না হওয়াও বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার একটি বড় কারণ। সময় এসেছে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য সুষ্ঠু বেতন কাঠামো তৈরির, যাতে কর্মীদের জীবনমান উন্নত হয় এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালের লাল শাপলার বিল: প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন পর্যটকদের কাছে এক নয়নাভিরাম গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা যাকে ‘লাল শাপলার বিল’ নামে চেনেন, সেখানে প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার লাল শাপলা ফুল ফুটে দর্শনার্থীদের মন মোহিত করে।

প্রায় ১০ হাজার একর বিস্তীর্ণ এই জলাভূমি দূর থেকে যেন সবুজ পাতার উপর লাল-গোলাপি রঙের চাদরের ভাসমান সমারোহ। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে পর্যটকরা বিলের মাঝ দিয়ে ঘুরে বেড়ান, ছবি ও সেলফিতে মুহূর্তগুলো ধরে রাখেন। ভোরের আলোতে বিলের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়, আর বিভিন্ন পাখির কূজন পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

সাতলার বিলে পর্যটকদের পদচারণা প্রায় এক দশক ধরে চলছে। বিলের জলে ভাসতে থাকা শাপলা দেখতে বিশেষ করে ভোর এবং সূর্যোদয়ের সময় পর্যটকেরা ভিড় করেন। এই বিল ঘিরে স্থানীয়রা নৌকা ও আবাসনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করেছেন।

তবে পর্যটকরা নৌকা ভাড়ার অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। আগে ২০০-৩০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নেওয়া হতো, এখন ৫০০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে নৌকা চালকেরা বলছেন, এটি তাদের জীবিকার অন্যতম উৎস, বিশেষ করে ক্ষেত-খামারে কাজ না থাকায়।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আলী সুজা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শাপলার বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার এবং ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনও জানিয়েছেন, বিলের নিরাপদ ও সহজ প্রবেশসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

লাল শাপলার বিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ ও স্থানীয় সচেতনতা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মানুষের জন্য স্বপনের অমলীন নেতৃত্ব

গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার মানুষের নেতৃত্ব ও স্বপ্নের প্রতীক এম জহির উদ্দিন স্বপন দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক।

সদর উপজেলার শরিকল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা স্বপন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির মিডিয়া সেল, কমিউনিকেশন সেল এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনআরসি)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা স্বপন দলের নির্দেশনা অনুসারে তার নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার নেতা কর্মীদের সুসংগঠিত রাখতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্বপন বলেন, “ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের ঘটনাসহ স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হবে না। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হামলা চালিয়ে যারা সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ বিচারের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও জানান, “জাতির মুক্তির জন্য প্রয়োজন পলাতক হাসিনা ও সকল হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

এছাড়া তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের সংস্কারের ৩১ দফা দাবির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য দলের সকল নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫