৪০ বছরেও আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া পায়নি নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কিংবা উন্নত অবকাঠামোর ছোঁয়া পায়নি।
নলছিটি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও অবকাঠামোগত সংকট ও প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে কলেজে রূপান্তরের জন্য আবেদন করে এবং ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনুমতি পায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় “নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ”। কিন্তু এরপরও শিক্ষার পরিবেশে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে পাঠ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই কোনো পাকা ভবন, নেই উপযুক্ত টয়লেট বা আধুনিক ল্যাবরেটরি। বৃষ্টির দিনে টিনশেড ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়, ফলে ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারিকা আক্তার বলেন, “ভালো ভবন নেই, রাস্তাও খারাপ। যাতায়াতে কষ্ট হয়। পাকা টয়লেটের অভাবেও আমরা ভোগান্তিতে আছি।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত জানায়, “আমাদের যদি একটি ডিজিটাল ল্যাব থাকত, তাহলে কম্পিউটার শেখা সম্ভব হতো। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে।”
অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো হয়নি। এতে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমাদের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী আছে। ভবন ও ডিজিটাল ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় তারা সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি আজ ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫










