না ভোট চালু ও প্রার্থীর দেশি-বিদেশি আয়ের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । বৈঠকে  গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন   করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আরপিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।

বৃহস্পতিবারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরপিও সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আরপিওতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হলো-ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত বিধান বাতিল করা। পাশাপাশি ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্বাচনী আসনে কেবল একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার সুযোগ পান।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই বিধান আনা হয়েছে। একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা যদি তাকে পছন্দ না করেন, ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। তখন সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে।

নতুন সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জেলাভিত্তিক নির্বাচন অফিসগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে আয় ও সম্পত্তির বিবরণ হলফনামায় দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। জনগণ যেন সহজেই জানতে পারেন তাদের প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা কী।

সংশোধনীর মধ্যে আরো রয়েছে, নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলকে ৫০০ টাকার বেশি অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং অনুদানদাতার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ডাক ভোটে ভোট দিতে পারবেন। ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা জানান, জোটের প্রার্থীদের প্রতীক ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে বিধান যোগ করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারেন-কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল সংঘর্ষ: চার শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ২১ শিক্ষার্থীকে মুচলেকা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২১ শিক্ষার্থীকে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরিত আদেশে জানা যায়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন:

  • তরিকুল ইসলাম নয়ন (অ্যাকাউন্টিং, ২০২২-২৩)
  • শাহারিয়ার শাওন (মার্কেটিং, ২০২০-২১)
  • মো. শাওন শেখ (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ২০২২-২৩)
  • সাজ্জাদ হোসেন (২০২৩-২৪)

নয়নকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ অথবা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, শাহারিয়ার শাওনকে বহিষ্কারাদেশ অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা। শাওন শেখ ও সাজ্জাদ হোসেনকে ছয় মাস বা এক সেমিস্টারের বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগের ১০ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১১ শিক্ষার্থীকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সামনে মুচলেকা দিতে হবে।

ঘটনার পটভূমি:
১২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিটাক ভবনের বালুর মাঠে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উপাচার্যসহ ১৪ শিক্ষার্থী আহত হন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশ গড়তে শুধু নেতা নয়, নীতি বদলাতে হবে: মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ও জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, নীতিরও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, “নেতৃত্ব যদি পরিবর্তন হয় কিন্তু নীতি-আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি আগের মতোই থাকে— তবে দেশের মানুষের ভাগ্য কখনোই বদলাবে না। আমাদের প্রয়োজন এমন নীতি, যা জনগণের স্বার্থে নিবেদিত, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত, এবং ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত।”

তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালীতে আয়োজিত এক মতনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, গত ১৫ বছর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড আমাদের প্রোগ্রাম বাধাগ্রস্ত করেছে। কোরআনের প্রোগ্রাম এবং রমজানের ইফতারের আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি; ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলাও হয়েছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কিছু দলের কর্মকাণ্ড মিলে যাচ্ছে, ফলে জনগণের থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদ পছন্দ করে না।

তিনি আরও বলেন, একজন ভালো নেতা তখনই সফল হন, যখন তিনি ভালো নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইতিহাস প্রমাণ করে— যেখানে নীতি সঠিক, সেখানে নেতৃত্ব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়; যেখানে নীতি বিকৃত, সেখানে নেতৃত্বও দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী হয়।

মাসুদ সাঈদী বলেন, “আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় ঘাটতি নেতৃত্বের নয়, নীতির। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নীতির পরিবর্তন। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতি-নৈতিকতার বিকাশে নিহিত।”

তিনি সমাবেশে শ্লোগান দেন—
“চাও যদি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ, তবে প্রথমে বদলাও নীতি— তাহলেই বদলাবে বাংলাদেশ।”

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পিরোজপুর জেলা শাখার নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সকাল থেকে মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপথ পরিদর্শন করেন এবং বেকুটিয়া ব্রিজ সংলগ্ন সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাথরঘাটা দুঃখে ভরা জীবন: সুভাষিণীর সংগ্রাম ও আশা

পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের সুভাষিণী রাণী। স্বামী দীর্ঘ বছর ধরে শয্যাশায়ী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে এক মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী, আরেকটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কাজ করতে না পারায় সংসারে নেমে এসেছে কঠিন সময়। সংসারের সব দায়িত্ব পড়ে সুভাষিণীর কাঁধে।

সুভাষিণী বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন। ধান চাষ, সবজি চাষ ও গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি তিনি বাঁশ শিল্পে যুক্ত। তিনি তৈরি করেন মাছ ধরার চাই, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি, মাথাল সহ কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী। এসব পণ্য পাথরঘাটা বাজারের নারীদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে বিক্রি করেন।

সুভাষিণীর লক্ষ্য হলো প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো। তিনি বেসরকারি সংস্থা রূপান্তরের সঙ্গে কাজ করে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সচেষ্ট।

তিনি বলেন, “৩ মেয়ে, ১ ছেলে। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ। তিন মেয়ের মধ্যে দুই প্রতিবন্ধী। সংসারের হাল ধরে রাখতে আমার উপার্জন একমাত্র পথ। জীবন চালাতে তো কাজ করতেই হবে।”

সুভাষিণী প্রতিদিন মাঠে-ঘাটে, ঘরের আঙিনায়, বাঁশ দিয়ে সাজি, ঝুড়িসহ নানা পণ্য তৈরি করে সংসার চালান। হাতে-বুকে ব্যথা হলেও তিনি থেমে থাকেন না।

তিনি আরও বলেন, “কৃষিকাজে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাই, বাঁশ শিল্পে মান বাড়াতে চাই। বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির এনগেজ প্রকল্পের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে।”

প্রকল্প সমন্বয়কারী অভিজিৎ মজুমদার রতন বলেন, “সুভাষিণী রাণী গ্রামে একজন উদাহরণ। কৃষিকাজ ও বাঁশ শিল্পে তার দক্ষতা এবং উদ্যোগ অন্যান্যদের জন্য প্রেরণা। তার সংগ্রাম ও মনোবল প্রশংসনীয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী উদ্ভাবন: পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম

আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ আমিরুল ইসলাম পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম তৈরি করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তার উদ্ভাবিত কলম ব্যবহারের পর মাটিতে ফেললে গাছের চারা জন্মায়, যা পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্য আয়ের পথও খুলে দেবে।

আমিরুল ইসলাম সেকান্দারখালী গ্রামের মোঃ মনিরুল ইসলামের ছেলে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরির উদ্যোগ নেন। দুই মাসের চেষ্টার পর, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সফলভাবে কাগজের কলম তৈরি করেন। কলমটির মধ্যে বিভিন্ন গাছের বীজ ভরা থাকে, যা মাটিতে ফেললে চারা জন্মায়।

এই কলমের বিশেষত্ব হলো এটি প্লাস্টিকের কলমের মতো পরিবেশ দূষণ করে না। ব্যবহার শেষে মাটিতে ফেলে দিলে কলমটি মিশে যায় এবং গাছের চারা জন্মায়, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। বর্তমানে, এই কলমটি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে এবং আমতলী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর চাহিদা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিরুলের উদ্যোগ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।

আমিরুলের বড় ভাই জহিরুল জানান, তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে আমিরুলকে সহযোগিতা করছেন এবং সরকারকে সহায়তার আহবান জানিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্র ও পরিবেশকর্মী রেজাউল করিম বলেন, “কাগজের কলম পরিবেশ রক্ষায় একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি ব্যবহার বৃদ্ধিতে পরিবেশের উপকার হবে এবং প্লাস্টিক বর্জনও কমবে।”

উদ্যোক্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, “দুই মাস চেষ্টার পরে প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে কাগজের পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করেছি। কলম ব্যবহার শেষে মাটিতে ফেললে ফলদ গাছের চারা জন্মাবে। সরকারের আর্থিক সহায়তা পেলে দেশের সর্বত্র বাজারজাত করা সম্ভব হবে।”

আমিরুলের বাবা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে। তার সফলতা হলো পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম।”

এ বিষয়ে আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. এ. হান্নান বলেন, “আমিরুলের এই উদ্ভাবন পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিক সাশ্রয়ও নিশ্চিত করবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “আমিরুলের উদ্যোগকে প্রসারিত করতে সকল ধরনের সহায়তা করা হবে। এটি একটি অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্ভাবন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ভারী বৃষ্টিতে ধসে পড়ল লোহার সেতু, যোগাযোগ ব্যাহত

বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী গ্রামে ভারী বৃষ্টির কারণে ধসে পড়েছে একটি লোহার সেতু। এতে কয়েক হাজার মানুষ যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল নয়টার দিকে ভারী বৃষ্টির সময় সেতুটি ধসে খালে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকার নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এলাকাবাসী প্রভাষক ফারুক আহমেদ বলেন, “এই সেতুটি দিয়ে আগাপাড়া ও ছোনবুনিয়া গ্রামের মানুষজন বরগুনা সদরসহ অন্যান্য বাজারে যাতায়াত করত। সেতু ধসে পড়ায় পালের বালিয়াতলী সরকারি বিদ্যালয় এবং রাখাইন পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, “লোহার সেতু ধসে পড়ার বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, যানজট ও দুর্ঘটনার ‘মরণফাঁদ’

বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কের বেতাগী বাসস্ট্যান্ড থেকে নিয়ামতি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশ এখন সাধারণ পথ নয়, বরং যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। চার বছর আগে সারাই করা সড়কটি ফের খানাখন্দে ভরপুর, এবং বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। নামমাত্র মেরামতের কারণে জনসাধারণের চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শতাধিক বড় ছোট গর্ত এবং উঠে যাওয়া কার্পেটিংয়ের কারণে সড়কটি কাদাপানির নদীতে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে গভীরতা বোঝা যায় না, ফলে ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। বড় ট্রাক ও বাসও হেলেদুলে চলাচল করছে। এতে যাত্রী ও চালকদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।

বেতাগী পৌরসভার বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, “এটাকে মহাসড়ক বলা মজার ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। দ্রুত নতুন নির্মাণ না হলে দুর্ভোগের অবসান হবে না।”
মাহিন্দ্রা চালক মাইনুল ইসলাম যোগ করেন, “বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তা চালানো অসম্ভব। গর্তে পানি থাকায় গভীরতা বোঝা যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই, গাড়ির মেরামতে অনেক খরচ হয়।”

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে দ্রুত ভাঙতে শুরু করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নামমাত্র সংস্কার হলেও তা টেকসই হয়নি। এর পর থেকে গত ৪-৫ বছর কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি, ফলে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

বেতাগী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী শেখ তৌফিক আজিজ জানিয়েছেন, “জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য আমরা সড়কটির স্থায়ী সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শীঘ্রই অর্থ বরাদ্দ পেলে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটায় হাইওয়ে থানার দাবী

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও শত শত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত। বরগুনা জেলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই রুটে বর্তমানে কোনো হাইওয়ে থানা না থাকায় যাত্রী ও চালকদের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সড়কটি নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রায়ই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, কিন্তু দ্রুত উদ্ধার বা চিকিৎসার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানি ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক, যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই রুটে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানার দাবি উঠেছে। হাইওয়ে থানা স্থাপন হলে স্পিডগান, উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার ও পর্যাপ্ত যানবাহনসহ জরুরি সেবাগুলো সহজলভ্য হবে। এর ফলে অপরাধ দমন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই পদক্ষেপ দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের আওতাভুক্ত। এই জোনে ১,৬০৩.৯৪ কিমি সড়ক রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি জাতীয়, ৭টি আঞ্চলিক ও ৬১টি জেলা মহাসড়ক অন্তর্ভুক্ত। তবে এত বড় রুটের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটার সড়কই হাইওয়ে পুলিশের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী থেকে আমতলী পর্যন্ত ৩৭ কিমি এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৪৭ কিমি সড়কে নেই কোনো হাইওয়ে থানা, পর্যাপ্ত গাড়ি, রেকার বা দ্রুত পৌঁছানোর মতো যানবাহন। ফলে প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির বাইরে রয়েছে।

বরিশাল বিভাগে দুটি সড়ক সার্কেল রয়েছে—বরিশাল সার্কেল ও পটুয়াখালী সার্কেল। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা মিলে বরিশাল সার্কেল এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা মিলে পটুয়াখালী সার্কেল গঠিত। দুটি সার্কেলের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১২৭.৯৮ কিমি, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০.৯ কিমি এবং জেলা মহাসড়ক ১,১৮৫.৯১ কিমি।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৬ কোটি টাকা ব্যয়েও সংযোগহীন, ব্যবহারের অযোগ্য সেতু

বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সীমান্তে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখন জনগণের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৬ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গার্ডার সেতু দুই বছর ধরে সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

২০২১-২২ অর্থবছরে জলিশাবাজার সংলগ্ন বেড়েরধন নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ‘এনায়েত এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেতুটি পরিণত হয়েছে ‘শূন্যে ঝুলন্ত স্থাপনায়’।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৩ ফুট উঁচুতে নির্মিত এবং এক প্রান্ত গিয়ে ঠেকেছে একটি বাড়ির ছাদের সঙ্গে। এর ফলে স্থানীয়রা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ একটি পুরোনো কাঠের সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী যানবাহনও এই সাঁকোর মাধ্যমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, “এই ব্রিজ আমাদের কোনো কাজে আসছে না, কেবল কাগজে-কলমে আছে। এখন এটি এলাকার হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্কুলছাত্রীরাও অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে গিয়ে তাদের দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকতে হয়।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ফরাজী বলেন, “প্রয়োজনীয় এই সেতু অকেজো হয়ে পড়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তবুও কোনো অগ্রগতি হয়নি।”

মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তবে দুই বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা ব্যয়ের অতিরিক্ত দায় কে নেবে—এ বিষয়ে এলজিইডি সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, “জনগণের অর্থের এই অপচয়ের দায় কে নেবে? আর কতকাল একটি শূন্যে ঝুলে থাকা সেতুর বোঝা আমাদের বয়ে নিতে হবে?”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ার চর এলাকায় সুন্দরী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলনমেলা “শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত” আজ অস্তিত্ব সংকটে। ঝিরঝিরে বাতাসে দোল খাওয়া সবুজ ঝাউবন এবং দীর্ঘ বালুময় সৈকত এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সৈকতের সৌন্দর্য ধ্বংসের পথে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াস এবং জাওয়াদের কারণে সৈকতের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝাউবন রক্ষার চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৫ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; শুধুমাত্র আম্পানে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার গাছের।

টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বনভূমির অংশ এই ঝাউবনের প্রস্থ প্রায় ৫০ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। একসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সৈকত ও ঝাউবন দেখতে আসতেন। জোছনার রাতে আয়োজিত হতো উপমহাদেশের বৃহত্তম জোছনা উৎসব, যা লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ জানান, “সৈকতের মূল সৌন্দর্য ছিল ঝাউবন। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং ঝাউবন হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।” এছাড়া সৈকতের পাশে নির্মাণাধীন ৩৬০ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বালু উত্তোলনও পাড় ভাঙনের একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় এলাকার জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন ও সৈকতের ধ্বংস হলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫