চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটেই চাঁদাবাজদের বিদায়: নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতির শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা বাজবে।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার নাগরিক সংকট, উন্নয়ন ঘাটতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ। মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।

ভোটারদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যাকে ভোট দেবেন, ভেবেচিন্তে দেবেন। কোনো লোভ, সুবিধা কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে ভোট দেওয়া উচিত নয়। যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচন করাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট শুধু একটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, এটি পুরো দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচারণার শেষাংশে তিনি ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্যারোলে মুক্তির খবর ভুয়া, জানাল জেলা প্রশাসন

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু হয়, যার মধ্যে প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যানের দাবিও ছিল।

তবে জেলা প্রশাসন জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে জুয়েলের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে মরদেহ কারা ফটকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা একটি চিঠি ও বন্দি অবস্থায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিঠি ও ছবির সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ‘আবেদন করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি।

বিষয়টি পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনমনে ভুল বার্তা না যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সব বিতর্ক পেরিয়ে দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলে ফিরছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে আগামীর সব হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকে ঘিরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখন থেকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে দলে নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে তার ফিটনেসই হবে প্রধান শর্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে পারলেও সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান।

বিসিবি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি তাকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জনরোষ ও বিক্ষোভের শঙ্কা তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশের দর্শকদের সামনে খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চান। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ফেরানোর দাবি জোরালো হতে থাকে।

সবশেষে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ডও সাকিবের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে এখনো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ফিট থাকলে আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডারকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতার বিরোধীদের ক্ষমতায় আনলে বাংলাদেশ টিকবে না: মির্জা ফখরুল

যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাঁদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস হলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলা কোনো চুরি বা অপরাধের জন্য নয়, বরং ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকার কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। এসব নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, জনগণকে ফেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চলে গেছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। যারা তখন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল—তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজ অনেকেই সুন্দর কথায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা একবারও স্বীকার করে না যে ১৯৭১ সালে তারা ভুল পথে ছিল। সেই সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্মম হামলা হয়েছিল, তা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাই মিলে এই দেশ গড়েছে এবং আগামীতেও সবাইকে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কার্যকর বিকল্প নেই। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের একমাত্র পথ হচ্ছে অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এই ভোটের অধিকারের জন্যই বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যালটে যে প্রতীকটি বেছে নিতে হবে, সেটি হচ্ছে ধানের শীষ।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিন শর্তে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনটি মৌলিক শর্তের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী, যেখানে কোনো একক দল নয়, জনগণের প্রতিনিধিরাই হবে মূল চালিকাশক্তি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা—এই তিন শর্ত মানলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, কিছু ধুরন্ধর গোষ্ঠীর কারণে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে আছে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের বড় কেন্দ্র হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বেকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান নয়, বরং বেকার যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরকে এক একটি উৎপাদনমুখী কেন্দ্রে পরিণত করা হবে, যাতে মানুষ নিজের ঘর থেকেই আয়ের সুযোগ পায়।

এর আগে সূচি অনুযায়ী শুক্রবার তিনি ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসভায় অংশ নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভা করার কথা রয়েছে তার। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা-৫, ৬ ও ৭ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুছাব্বির হত্যায় আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক ধাপ এগোল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যা মামলার তদন্তে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে আগামী দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিন্নাতকে, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মধ্যে পেশাদার শুটারও ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ প্রশাসন বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে: ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক হ্রাস পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম