জাতিসংঘকে সময়ের সঙ্গে বিকশিত হতে হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল বাস্তবতায় জাতিসংঘকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘকে আরও গতিশীল ও আধুনিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হওয়া প্রয়োজন।

(২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘যদি জাতিসংঘ মানবজাতির শান্তি ও সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সত্যিকারের ভূমিকা রাখতে চায়, তবে তাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের অভিযোজিত করতে হবে। আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যা হবে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়োপযোগী।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে আমরা অঙ্গীকার করছি যে জাতিসংঘ সনদে কল্পিত শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে বাংলাদেশ তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখবে।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ও অংশীদারদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনটি ভয় ও অভাবমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার পুনর্নবায়নের একটি সুযোগ। জাতিসংঘের সহযোগিতা ও ঐকমত্যের যে চেতনা, সেটিই মানবতার প্রকৃত ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, গত আট দশকে জাতিসংঘ তার কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে যোগদানের পর বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও অবদানশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তির সংস্কৃতির পতাকা হাতে নিয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে অংশ নিয়েছে। আমাদের বহু সাহসী শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই হোক—বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নতি করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে একতরফা সিদ্ধান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈষম্যের কারণে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বাড়ছে।’

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্ব গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। চরম জাতীয়তাবাদ এবং মানবিকতার প্রতি উদাসীনতা বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।’

গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আজ বিশ্ববাসী গাজার এক ভয়াবহ গণহত্যার দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করছে। একইভাবে আমাদের নিজস্ব অঞ্চলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকারবঞ্চনা ও নির্যাতন চলছে। এসব ঘটনার মূল কারণ সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি। এ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে মনোযোগ আশা করছি।’

জাতিসংঘ দিবসের এই বিশেষ বার্তায় ড. ইউনূসের আহ্বান— মানবতা, শান্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক পৃথিবী গড়ে তুলতে জাতিসংঘকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসিকতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিমানবন্দরের আগুনে তদন্তে ৪ দেশের বিশেষজ্ঞ দল আনছে সরকার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা তদন্তে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের আগুনের কারণ নির্ণয়ে অস্ট্রেলিয়া, চীন, ইংল্যান্ড ও তুর্কি থেকে বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করবে—আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, কোনো অব্যবস্থাপনা বা নাশকতা ছিল কি না, এবং দায়ীদের চিহ্নিত করবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। পরবর্তীতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বিপুল পরিমাণ আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর থেকে সীমিত আকারে পণ্য খালাসের কাজ চলছে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) দাবি করেছে, এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ী সমাজে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের সকল ফায়ার ও নিরাপত্তা ইউনিটকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্গো ভিলেজে অগ্নি-নির্বাপণ ও পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতি হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রাসমেলা ও রাসপূর্ণিমা উৎসব। ইতোমধ্যে এই উৎসবকে ঘিরে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির জোয়ারে মুখর পুরো কুয়াকাটা পর্যটন শহর।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও মা লক্ষ্মীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর কুয়াকাটায় এই উৎসব পালিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও পর্যটন উৎসবে রূপ নিয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারও দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রী সমবেত হন।

গত ১৮ অক্টোবর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল বরন দাস জানান, রাসমেলা আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রতিদিনই থাকবে গঙ্গাস্নান, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, “এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি কুয়াকাটার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাসমেলা এখন এমন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ অংশ নেয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনতা সবাই মিলে এটিকে উৎসবের শহরে পরিণত করে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাস উৎসবের সময় পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।

স্থানীয় দোকানদার আবদুর রহমান বলেন, “রাসমেলার সময় কুয়াকাটায় ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মেলার সময় দোকানে ভিড় থাকে, বিক্রিও ভালো হয়। এটি আমাদের জন্য উৎসবের সময়।”

উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো গঙ্গাস্নান, যা অনুষ্ঠিত হবে রাসপূর্ণিমার সকালে। ভোরে হাজারও ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রী সমুদ্রের পবিত্র জলে পুণ্যস্নান করেন। পরে দিনভর চলে পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা ধর্মীয় আচার।

রাসমেলাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতজুড়ে চলছে অস্থায়ী দোকান, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা নির্মাণের কাজ। হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে বুকিংয়ের ধুম, আর পর্যটন শহরটি যেন এখন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, রাসমেলা কুয়াকাটার ঐতিহ্যের প্রাণ; এটি ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জোট গঠনের আলোচনা চলছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশে্ এখন নির্বাচনের হাওয়া বইছে আর তাই  আসন্ন জাতীয় সংসদ  নির্বাচনকে  সামনে রেখে জোট গঠনের জন্য আলাপ-আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত জোট কোন দিকে গিয়ে দাঁড়াবে, তা দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।”জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলটির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তবে জোটবদ্ধ হব কি হব না, তারা হবে কি হবে না—রাজনীতির মাঠে কোনো কিছুই আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।”  শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে আসন ছাড় প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে। যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরও অন্যভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শরিক ও গণতন্ত্রপন্থি অন্যান্য শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করবে বিএনপি। জোট ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”




কনের বয়স কম, তাই বিয়ে দাওয়াতে না খেয়ে ফিরে গেলেন ইউএনও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী গ্রামে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে কনের বয়স কম জানার পর দাওয়াত না খেয়ে ফিরে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় কাজীও বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকেন, ফলে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, কনের বয়স ১৬ বছর, যা বয়সসীমা অনুযায়ী কম। সে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী মো. ইসহাক আলী বলেন,“প্রথমে আমাকে জানানো হয়েছিল মেয়ের বয়স ১৮ বছর। পরে প্রকৃত বয়স ১৬ জানার পর আমি বিয়ে পড়াইনি। ইউএনও সাহেবও বিষয়টি জানার পর দাওয়াতে না খেয়ে চলে যান।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, বিয়ে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কিন্তু কনের বয়স কম জানার পর ইউএনও সপরিবারে চলে যাওয়ায় এবং কাজী বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকায় বিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।

ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অনুরোধে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। কনের বয়স কম জানার পর আইনগত ও নৈতিক দিক বিবেচনায় দাওয়াত না খেয়ে ফিরে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, বিয়েটি আর হয়নি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা পায়রা নদীতে ৩৫ ট্রলার আটক, জেলেদের দাবি অহেতুক জরিমানা

বরগুনার পায়রা নদী থেকে মহিপুর অভিমুখে যাওয়ার পথে ৩৫টি মাছ ধরার ট্রলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ও অর্থদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জেলেদের দাবি, তারা ইলিশ শিকারে না গিয়ে খালি ট্রলার নিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ প্রশাসন অহেতুকভাবে ট্রলারগুলো আটক করে জরিমানা করেছে।

তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল আটক ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বরগুনার পায়রা নদীতে যৌথ অভিযান চালানো হয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে। মা ইলিশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার জেলেরা থেকে আসা ৩৫টি ট্রলার ও প্রায় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিটি ট্রলারকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয় এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়। আটক ট্রলারগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

আটক জেলেরা অভিযোগ করেছেন,“আমরা কেউই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিনি। মাছ ধরার জাল বা সরঞ্জাম আমাদের সঙ্গে ছিল না। শুধু খালি ট্রলার নিয়ে মহিপুর যাচ্ছিলাম খাবার, বরফ ও জাল মেরামতের জন্য। অনেক ট্রলারে চুলা বা গ্যাস ছিল না, রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক প্রতিটি ট্রলারে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রলারগুলো স্থান ত্যাগে নিষিদ্ধ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উন্মুখ: রহমাতুল্লাহ

বরিশালের চরমোনাইয়ে অনুষ্ঠিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতিসূচক মনোভাব দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন,“তরুণ প্রজন্ম জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন দেখতে চায় না। তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে। যারা জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, তরুণরা সে ষড়যন্ত্রে অংশ নেবে না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং তারা পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন বলেন,“আগামীর নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা।”

ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকরা আনন্দ উদযাপন করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলুপ্তির পথে দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি, রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো বাজপাই জমিদারবাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বাড়ি একসময় এলাকায় বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায়ের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এটি বিলুপ্তির পথে।

স্থাপনার ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার ছিলেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা ‘লালা বাবু’ নামে চেনে। তিনি ছিলেন কালীপ্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দেশ বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়ি বহু অংশে ভেঙে পড়া, ছাদ ধসে যাওয়া ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বাড়ির ভেতরের নাগ মন্দির, শয়নকক্ষ, সভাকক্ষ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ব্রিটিশ আমলের কাচারি ঘর, পুকুর এবং অন্যান্য স্থাপনা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, যদি সরকার সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এই জমিদারবাড়ি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে এবং পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্য দুইই লাভবান হবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “লালা বাবু এখানে বিচার সালিশি করতেন, খাজনা আদায় হতো। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত। সরকার রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

স্থানীয় শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা জানান,“এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো, যাত্রাপালা হতো। তবে এখন সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার সংস্কার করলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে, এবং এলাকার উন্নয়নও সম্ভব।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাড়িতে কাচারি ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আছে। ব্রিটিশ আমলে খাজনা আদায় ও বিচার-সালিশ হতো। অযত্ন-অবহেলায় এটি ভঙ্গুর হয়ে গেছে। আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই সমাধান হবে।”

স্থানীয়রা দাবি করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে বাজপাই জমিদারবাড়িকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ হয়ে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নদীতে ফের জেলেদের সরব উপস্থিতি, প্রস্তুত তিন লাখ মৎস্যজীবী

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জীবন ফিরে পাচ্ছে ভোলার নদ-নদীগুলো। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নামবেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে। এরইমধ্যে জেলেপল্লিগুলোতে চলছে নৌকা, ট্রলার ও জাল মেরামতের ব্যস্ততা। বহু কষ্টের পর ইলিশ শিকারে নামতে পেরে আনন্দে মুখর তারা।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ পুরোনো নৌকায় নতুন করে রঙ করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় জেলে সুমন মাঝিসোহেল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা আবার নদীতে নামব। ধারদেনা করে নতুন জাল কিনেছি। আশা করছি, এবার পর্যাপ্ত ইলিশ পাব এবং ঋণ শোধ করতে পারব।”

অন্যদিকে খলিল মাঝিজাকির মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন, তবে বাকিটা নিজেরাই সামলাতে হয়েছে। তারা বলেন, “এই সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। এখন নদীতে ভালো মাছ পেলে সব দুঃখ কেটে যাবে।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে, আর জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ভোলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দুই শতাধিক জেলেকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক জেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

জেলেরা এখন আশা করছেন—এই মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে নামতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিধন্য বাড়ি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও জাদুঘর অবশেষে নবজীবন পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে নতুন করে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

শান্ত ও ইতিহাসঘেরা এই গ্রামেই জন্মেছিলেন বাংলাদেশের এক গৌরবোজ্জ্বল সন্তান, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্মৃতি ধারণ করা বাড়ি, গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর অবহেলার কারণে ভগ্নদশায় পড়ে ছিল। ২০০৮ সালে বরিশাল জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল; ছিল না বিদ্যুৎ, পানি বা পরিচর্যার ব্যবস্থাও।

তবে সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে সংস্কার অভিযান। গত ১৬ অক্টোবর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার জাহাঙ্গীরনগর পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইউএনও ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে সংস্কার কাজ শুরু হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ভিআইপি গেস্টরুম, লাইব্রেরি ও ওয়াশরুম সংস্কার এবং পুরো ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম চলছে। জঙ্গল পরিষ্কার, ভবনের ছাদ ও চারপাশের ঝোপঝাড় অপসারণসহ পুরো এলাকাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন কেউ যত্ন না নেওয়ায় বাড়ি ও জাদুঘর পরিত্যক্ত হয়ে ছিল। এখন নতুনভাবে সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে মানুষ কাছ থেকে বীরশ্রেষ্ঠকে জানতে ও তাঁর জীবনাদর্শকে ধারণ করতে পারে।”

সংস্কার ব্যয় উপজেলা প্রশাসন বহন করছে, আর ভবন সংস্কার ও কেয়ারটেকার নিয়োগের দায়িত্ব নিয়েছে জেলা পরিষদ। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর তীরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। তাঁর জন্মস্থান রহিমগঞ্জ বর্তমানে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন নামে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা,এই সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতি আবারও নতুন আলোয় উজ্জ্বল হবে, হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের এক অনন্ত প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫