পটুয়াখালীর বিএনপি প্রার্থীদের গুলশান ডাক: আজ তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোচ্ছে। এবার পটুয়াখালীর চারটি আসনের আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে ( ভিডিও কনফারেন্স)  এর মাধ্যমে সরাসরি কথা বলবেন তারেক রহমান। এই বৈঠককে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রার্থীরা চূড়ান্ত মনোনয়নের সবুজ সংকেত পাবেন।

পটুয়াখালী জেলা থেকে গুলশান বৈঠকে ডাকা হয়েছে—

পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকী-মির্জাগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদারকে।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এবং

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ও কলাপাড়া বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনিরকে।

বাউফল আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মুনির হোসেন বলেন,
“আমাদের সোমবার বিকেল ৪টায় গুলশান অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তবে কে মনোনয়ন পাবেন বা কবে চূড়ান্ত হবে—এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।”

একই কথা বলেন সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। তাদের ভাষ্য, বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন,
“এটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিএনপির মতো বড় দলে প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। সবাই মনোনয়ন পাবেন না, দলীয় পদ্ধতিই চূড়ান্ত করবে যোগ্য প্রার্থীকে।”

তিনি আরও বলেন,
“বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এমপি হওয়াই শেষ কথা নয়—ধানের শীষের বিজয়ই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

দলীয় একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে শুধুমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান ও নির্বাচনী সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এরপরেই মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বৈঠক আসন্ন নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চল—বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলায় প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১৩% পোশাক শ্রমিক এখনো পাচ্ছেন না বর্ধিত মজুরি!

দেশের তৈরি পোশাক খাতে সরকারের ঘোষিত সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রমিকদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো পুরোপুরি বর্ধিত মজুরি পাচ্ছেন না। কেউ আংশিকভাবে পাচ্ছেন, আবার কেউ সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়েছেন।

২০২৫ সালের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার ৬০টি পোশাক কারখানায় ২৪০ জন শ্রমিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন: অবস্থা ও প্রভাব’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আওয়াজ ফাউন্ডেশন, মন্ডিয়াল এফএনভির সহায়তায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার

২০২৩ সালে সরকার পোশাক খাতের প্রবেশ পর্যায়ের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, ৮৭ শতাংশ শ্রমিক নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাচ্ছেন, তবে বাকি ১৩ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশ আংশিক এবং ৫ শতাংশ এখনো পুরনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন থাকা কারখানাগুলিতে মজুরি বাস্তবায়নের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু অনেক শ্রমিকই অভিযোগ করেছেন যে, বেতন সময়মতো মিলছে না, অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) টাকা ১-১০ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে—
৫২ শতাংশ শ্রমিক কাজের চাপ ও উৎপাদন টার্গেট বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়ছেন,
২২ শতাংশ চাকরির অনিশ্চয়তায় ভুগছেন,
১৪ শতাংশ অনিয়মিত বেতন পান,
এবং ১১ শতাংশ গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে বিভ্রান্ত।

এছাড়া, ১৪ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা বার্ষিক ৯% ইনক্রিমেন্ট সম্পর্কে জানেন না। অন্যদিকে, দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, তবে ১৩ শতাংশ এখনো পাননি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা এখন মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।”
তবে তিনি গবেষণায় উল্লেখিত ১৩ শতাংশ কারখানার বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

অন্যদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাদের কোনো সদস্য কারখানা বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়নি। তবে কিছু কারখানায় আংশিক বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি নীরান রামজুথন বলেন, “সময়ে ও পূর্ণ বেতন প্রদান শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার। বেতন না দেওয়া শুধু শ্রমিকদের নয়, শিল্প খাতের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ঝুঁকি।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিদর্শন ও তদারকি জোরদার করা, ফলাফল প্রকাশ এবং ক্রেতাদের দায়িত্বশীল ক্রয়নীতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “মজুরি গেজেটে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবেই অনেক মালিক ইচ্ছামতো গ্রেড নির্ধারণ করছেন, ফলে শ্রমিকরা বৈধ বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ছোট কারখানাগুলো ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে, তবে বড় কারখানাগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ফলে রপ্তানি আয়ও ক্রমশ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশে গ্রাহকের মোটা অঙ্কের ডলার খরচ, ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিধি থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক সেই সীমা লঙ্ঘন করে বিদেশে বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করেছেন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি অর্থ বিদেশে খরচ করেছেন, যা স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানলেও গোপন রেখেছে এবং অনিয়মের সুযোগ দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ সম্প্রতি ব্যাংকটির দুটি রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব পরিদর্শন করে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেখানে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার জমা হয় এবং পরে সেই অর্থ বিদেশে খরচ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, এক গ্রাহক ফারহানা করিম পুরোনো ভ্রমণ তারিখ দেখিয়ে একই দিনে একাধিকবার ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা দেন। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বিদেশে অবস্থানকালেও দেশের ভেতর থেকে তার নামে ডলার জমা হয়েছে, যা স্পষ্টতই বেআইনি। এভাবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয় তার হিসাবে, যা পরে বিদেশে ব্যয় করা হয়।

অন্যদিকে, আলায়না চৌধুরী নামে আরেক গ্রাহক বিদেশে থাকাকালীন তার পক্ষে অন্য একজন ব্যাংকে গিয়ে ৬৮ হাজার ডলার জমা দেন। পরে সেই অর্থও বিদেশে ব্যবহার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লেনদেন “সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী”। দেশীয় কার্ব মার্কেট থেকে সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে খরচ করা, যা ব্যাংকের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

এই অনিয়মের দায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর কে হুসেইন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে যখন আমি এমডি ছিলাম না। তবে যতটুকু জানি, দুই গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিয়মের অতিরিক্ত অর্থ জমা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী ঘোষণা ছাড়া ডলার গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের জরিমানা করেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অনিয়ম শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের আরএফসিডি হিসাবের ওপর আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব ব্যাংকের আরএফসিডি হিসাব ও কার্ড লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নভেম্বরে বন্ধ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম: তথ্য উপদেষ্টা

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নভেম্বরের শেষ নাগাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রোববার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত “মিট দ্য রিপোর্টার্স” অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আভাস দেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে মোট ২৩টি বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। এর মধ্যে ১৩টি প্রস্তাব ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তবে নভেম্বরে ক্যাবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে, তাই যা করার আগামী মাসের মধ্যেই শেষ করতে চাই।”

তিনি জানান, অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয় না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ‘ওয়ান হাউজ, ওয়ান মিডিয়া পলিসি’ এবং ‘সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন’ শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “অতীতে বেশিরভাগ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে। তারা এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ধরে রেখেছেন এবং বিদেশে বসে মুনাফা তুলছেন।”

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, “কনটেন্ট নির্মাণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশনা আইসিটি বিভাগের অধীনে যাবে। ইউটিউবসহ অনলাইন কনটেন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথভাবে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।”

এ সময় তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সাংবাদিকদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে, যা সরকারি নবম গ্রেডের কাছাকাছি হতে পারে। তিনি বলেন, “যেসব পত্রিকা মালিক ন্যূনতম বেতন দিতে পারবেন না, তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বিজ্ঞাপনের হারও কমিয়ে দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ন্যায্য বেতনের কোনো বিকল্প নেই। কিছু সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতার ভূমিকা হতাশাজনক। যারা নৈতিক সাংবাদিকতা করেন না, তাদের কারণে পুরো পেশার মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো নিউজ পোর্টাল গজিয়ে উঠেছে। অনেকেই অন্যের লেখা চুরি করে সংবাদ প্রকাশ করছে। যখন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন বলা হয় সরকার গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করছে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন গণমাধ্যম টিকবে না।

দেশের গণমাধ্যম খাতে বর্তমানে যেভাবে নীতিমালা সংস্কার, বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও নৈতিক সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী জুড়ে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের রাজত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। জেলায় দিন দিন গজিয়ে উঠছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু এর বড় একটি অংশই পরিচালিত হচ্ছে সরকারি অনুমোদন বা নবায়ন ছাড়াই। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পটুয়াখালীতে বর্তমানে ২৪০টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮১টির লাইসেন্স বৈধ। বাকি ১৫৯টি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধিকাংশই সরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক চালিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট।

সরকারি হাসপাতালে রোগীরা গেলে, অনেক চিকিৎসক নানা অজুহাতে তাদের নিজেদের ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা বা সিজার অপারেশনের নামে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় “পটুয়াখালী ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল” নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিন বছর ধরে চোখের অপারেশন করছে। মাসে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর চোখের সার্জারি করা হয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শহরের বাধঘাট এলাকায় অবস্থিত “পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকলেও একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী নারী রোগী দেখছেন, প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও লিখছেন। ল্যাব টেকনিশিয়ান বা টেকনোলজিস্টও সেখানে স্থায়ীভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুমন বলেন, “আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা করছি। আত্মীয় এমবিবিএস পাশ করেছে, তাকে বসাবো শিগগিরই।”

গলাচিপা উপজেলা হাসপাতাল রোডে “নিউ লাইফ ক্লিনিক” নামের প্রতিষ্ঠানের ভবনের সামনে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমা সংলগ্ন পুকুর রয়েছে। পাশাপাশি এটির অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত অর্থবছরে।

রোগী হামিদা বেগম বলেন, “বাধঘাটের পপুলার ডায়াগনস্টিকে রক্ত পরীক্ষা করাই, রিপোর্ট ভুল আসায় ঢাকায় গিয়ে দেখি সেটি ভুয়া। এতে আমি বিপাকে পড়েছি।”

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদনহীনভাবে রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা আইন লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমান মিয়া জানান, “আমরা ইতোমধ্যে চারটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। বাকিগুলোর কাজ শেষ করেই অভিযানে নামবো। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জুড়ে এভাবে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ আজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে স্বাস্থ্যসেবা খাত পুরোপুরি অরাজকতায় নেমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেসবুকে ভুয়া চাকরির ফাঁদে নতুন প্রতারণা

ফেসবুকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নতুন এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সাইবার অপরাধীরা। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের ফেসবুক লগইন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাবলাইম সিকিউরিটি

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হ্যাকরেড জানায়, প্রতারকরা এখন কেএফসি, রেড বুল ও ফেরারির মতো নামকরা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নামে চাকরির বিজ্ঞাপন ছড়াচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে আসল চাকরির বিজ্ঞাপনের মতো হলেও, বাস্তবে এগুলো সম্পূর্ণ ফিশিং ফাঁদ।

প্রথমে ভুক্তভোগীদের ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। ইমেইলে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। সেখানে একটি লিংক দেওয়া থাকে, যেখানে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়া হয় নকল নিরাপত্তা যাচাই পেজে। পরে সেটি রিডিরেক্ট করে এমন ওয়েবসাইটে পাঠানো হয় যা দেখতে চাকরির আসল প্ল্যাটফর্মের মতোই।

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ব্যবহারকারীকে বলা হয় ফেসবুক বা ইমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করতে। ফেসবুক লগইন অপশন বেছে নিলে দেখা যায় একটি লোডিং বার চলছে, কিন্তু শেষ হয় না কখনোই। এই সময়েই প্রতারকরা গোপনে ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে নেয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা চেনার সহজ উপায় হলো—
অচেনা ইমেইল ঠিকানা থেকে আসা বার্তা, অস্বাভাবিক ওয়েবসাইট লিংক, এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সঙ্গে নাম বা ঠিকানায় অমিল। বিশেষ করে চাকরির বিজ্ঞাপনে দেওয়া লিংক যাচাই না করে লগইন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এর আগেও মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে একই কৌশলে প্রতারণা চালানো হয়েছিল। সেখানে গুগলের নামে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন—অচেনা ইমেইল বা লিংক থেকে প্রাপ্ত চাকরির বিজ্ঞাপন সরাসরি বিশ্বাস না করে প্রথমে কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করা উচিত। এছাড়া টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখলে অ্যাকাউন্ট অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফের রাজনীতির ময়দানে ফেরার ইঙ্গিত কমালা হ্যারিসের

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও, তিনি জানিয়েছেন— তার রাজনৈতিক যাত্রা এখানেই শেষ নয়।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কমালা হ্যারিস বলেন, “আমি এখনো শেষ হয়ে যাইনি। আমার রাজনৈতিক জীবনের গল্প এখানেই থেমে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “একদিন আমি বা অন্য কোনো নারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন, সেই বিশ্বাস আমি রাখি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমালা হ্যারিসের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের ভারসাম্যের কারণে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে কমালা বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে ট্রাম্প সম্পর্কে যা বলেছিলাম, আজ তা প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি বিচার বিভাগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মূলত প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। তবে শেষ মুহূর্তে দলের চাপের মুখে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি। এরপর ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন কমালা হ্যারিস। দলীয় অনেক নেতা মনে করেন, বাইডেনের দেরিতে সরে দাঁড়ানোই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।

এদিকে, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন— কমালা হ্যারিস গত নির্বাচনে যথেষ্ট কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারেননি এবং ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আমি শেষ হয়ে যাইনি। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য— সেটি আমি সারাজীবন করব।”

তার এই বক্তব্য নতুন করে মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, কমালা হ্যারিস হয়তো ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আইএমএফের প্রশংসা

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীকই নয়, বরং আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণের দিকেও বড় একটি অগ্রগতি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপ-পরিচালক থমাস হেলব্লিং বলেন, “রিজার্ভের সঞ্চয় আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ এখনো পেমেন্ট ভারসাম্যের চাপে রয়েছে, তাই এই রিজার্ভ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট ভারসাম্যের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রচেষ্টা ও সফলতাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”

হেলব্লিং জানান, চলতি মাসেই ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের দল বাংলাদেশ সফর করবে। দলটি মাঠপর্যায়ে মূল্যায়নসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে এবং দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপগুলো ঘোষিত বিনিময় হার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।

আইএমএফের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রা বিনিময় নীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এতে দেশীয় অর্থনীতিতে আস্থা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি আইএমএফ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় পৌরসভার ৩ গাড়িতে আগুন, ১৫ জন আহত

ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে পৌরসভার তিনটি ময়লা ও মালামাল পরিবহনের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

এই ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকালে পৌরসভার কর্মীরা নতুন বাজার চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের পাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে মালামাল তোলার সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন। বাগবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উচ্ছেদ অভিযানের কর্মী আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনটি গাড়িতে আগুন ধরা হয়েছে। আগুন দেওয়া এলাকায় কোনো একজনকেও যেতে দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই গাড়িগুলোর বডি ও ইঞ্জিনসহ অনেকাংশ পুড়ে যায়।

ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা তিনটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলছে। তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোলা মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাছনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযানে আগে থেকে পুলিশ চাওয়া হয়নি, তবে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দাবি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের মনোনয়নপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে পতিত সরকারের সময়ে বিএনপি ও দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ নানা অন্যায়, অবিচার, খুন ও গুমের শিকার হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে এই দীর্ঘ কষ্টের সুফল ভোগ করতে হবে।

বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে অংশগ্রহণকারী আবদুস সোবহান আরও বলেন, “যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, দেশ ততবারই উন্নয়ন করেছে। তবে পতিত সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষকে জয়ী করতে হবে।”

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের গুপ্তেরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সোবহান বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশকে মুক্তির পথে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত স্বৈরাচার ক্ষমতা বৈধ করার চেষ্টা করলেও খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থানের কারণে অবৈধ সংসদ টিকে উঠতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়ার আপোষহীনতার কারণে বারবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, তবুও তিনি জনগণকে আন্দোলনের জন্য প্রেরণা দিয়েছেন।

পথসবার পূর্বে আবদুস সোবহান গুপ্তের হাট জামে মসজিদে আছর নামাজ আদায় করেন এবং বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান সহ পরিবারের সুস্থতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মিলাদে অংশ নেন।

এরপর গুপ্তেরহাট বাজারে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। ভ্যানযোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করে তারা গৈলা বাজার, রথখোলা বাজার, বড়বাড়ি বাজার, দরগাহ বাড়ি বাজারে গণসংযোগ চালান।

পথসভায় আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লোকমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন, যুবদলের আহবায়ক শোভন রহমান মনিরসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫