লোহালিয়ায় সাক্ষী হত্যা: বিএনপি নেতা নিহত, পুলিশ আহত

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নে ধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়ার কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা মফিজুল মৃধাকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করার সময় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার পালপাড়া বাজারে, গত ৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে। নিহত মফিজুল স্থানীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

মফিজুল সম্প্রতি এলাকার এক ধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষ সোহাগ মাঝি ও তার সহযোগীরা রাতের বেলায় বাজার এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। এতে আহত হন এএসআই জহির, এসআই আবদুর রহমান, কনস্টেবল মহিবুল্লাহ, রানা ও সাইফুল ইসলাম। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মফিজুলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে টানা ২০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের বক্তব্য:

  • স্ত্রী রাবেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল বলেই ওরা তাকে হত্যা করেছে। ওর কোনো দোষ ছিল না। আমার দুই মেয়ে মিম আর ফাতিমা এখন কাকে বাবা বলবে?”
  • বোন সোনিয়া আক্তার বলেন, “ভাইকে আগেও হুমকি দিয়েছিল তারা। পুলিশকে জানালেও কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আজ আমার ভাই নেই।”
  • মা আকলিমা বেগম বলেন, “ছেলেকে মানুষ করেছি সৎ পথে চলার জন্য। ন্যায়ের পাশে থাকায় আজ তার প্রাণ গেল।”

পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমিনুল হক চৌধুরী (৪৫), পলাশ হাওলাদার (২৫) ও রমজান আলী (৬৫) নামে তিনজনকে আটক করেছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার কারণে এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিশ্বের পাঁচ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আনছে বাংলাদেশ

দেশের কৃষিখাতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, সারগুলোর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার। এছাড়া ২০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯২.৩৩ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা

এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকেও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। একই দরে সার সরবরাহের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯২ কোটি টাকারও বেশি

বাংলাদেশের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৮০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৫৬.২৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুটি ধাপে এই সার আসবে—প্রতিটি ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৪৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অন্যদিকে ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফসফরিক এসিড কেনারও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই (ইউএই) থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানি করা হবে। এই ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি, যেখানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৭৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকার আগেভাগেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি (Government to Government) চুক্তির মাধ্যমে সার আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা মোকাবিলা করে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে আগাম মৌসুমে সার ঘাটতির কোনো আশঙ্কা থাকবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৪ ঘণ্টায় আবারও কমলো সোনার দাম, চার দফায় ভরিতে কমেছে ২৩ হাজার টাকার বেশি

দেশের বাজারে টানা চতুর্থ দফায় কমলো সোনার দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমানো হয়েছে আরও ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। ফলে এখন এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে টানা তিন দফায় ২৪ অক্টোবর, ২৭ অক্টোবর ও ২৮ অক্টোবর সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সেই হিসাবে চার দফায় ২২ ক্যারেটের এক ভরিতে দাম কমলো মোট ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা

বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী—

  • ২২ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ১০,৪৭৪ টাকা কমে এখন ১,৯৩,৮০৯ টাকা
  • ২১ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ৯,৯৯৬ টাকা কমে এখন ১,৮৫,০০৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ৮,৫৭৩ টাকা কমে এখন ১,৫৮,৫৭২ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির সোনা: ভরিতে ৭,৩১৪ টাকা কমে এখন ১,৩১,৬২৮ টাকা

তবে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪,২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪,০৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩,৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ২,৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা ও ডলারের মান কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দর নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।


আল-আমিন

 




ইতালিতে রেসিডেন্স পারমিটে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

ইতালিতে বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পাওয়া দেশের তালিকায় বাংলাদেশিরা এখন শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৫৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কারিতাস-মিগ্রান্তেস ফাউন্ডেশনের অভিবাসন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

রোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশই বিদেশি, যা দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মক্ষেত্রে বিদেশিদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য—মোট কর্মশক্তির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।

রোমানিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, ইউক্রেন ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে ইতালিতে বিদেশিদের প্রধান উৎস দেশ হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি প্রদেশে নতুন রেসিডেন্স পারমিটপ্রাপ্ত নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে বসবাসরত বেশিরভাগ বিদেশি দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থান করছেন। তবে অনিয়মিত অভিবাসীরা ছড়িয়ে আছেন দক্ষিণের গ্রাম থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের শহর পর্যন্ত। তাদের আবাসন পরিস্থিতি অনেক অনিশ্চিত, যা বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বাড়িয়ে তুলছে।

কারিতাস ও মিগ্রান্তেসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ইতালিতে এখন আবাসন সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিদেশিরা বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপে পড়ছেন, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইতালিতে জনসংখ্যা হ্রাসের মাঝেও অভিবাসীরা জন্মহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্ম নেয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার শিশুর মধ্যে ২১ শতাংশের বেশি শিশুর অন্তত একজন অভিভাবক বিদেশি। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২ লাখ ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসী ইতালির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, যা দেশের জনসংখ্যা কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

এ বছর ইতালিতে কর্মরত মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ, যার মধ্যে ২৫ লাখের বেশি বিদেশি কর্মী। অর্থাৎ দেশটির মোট কর্মশক্তির ১০ শতাংশেরও বেশি অংশ বিদেশিদের। কর্মসংস্থানে বিদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বৈষম্য রয়ে গেছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে ইতালীয়দের মধ্যে এটি ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

তবুও ২০২৪ সালে বিদেশিদের জন্য নতুন চাকরির চুক্তি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি, যেখানে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ২১ শতাংশের বেশি। দক্ষিণাঞ্চলেও এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত (১৩ দশমিক ৬ শতাংশ)।

শিক্ষাক্ষেত্রেও বিদেশিদের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালিতে ৯ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা এখন ইতালির সমাজে আরও গভীরভাবে মিশে যাচ্ছে—তাদের অনেকেই ইতালিতে জন্ম নিয়েছে, বড় হচ্ছে ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে।

এই পরিবর্তনগুলো শুধু ইতালির জনসংখ্যা নয়, বরং অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের এই উত্থান এখন ইতালিতে অভিবাসন প্রবণতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে ‘শক্তিশালী হামলা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেন তিনি। নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র সংগঠন হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করায় গাজায় ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর’ সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাস তাদের হাতে থাকা জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দিতে বিলম্ব করছে এবং এভাবে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল নিজেই মরদেহ উদ্ধারে বাধা দিচ্ছে এবং অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজার রাফা এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, রাফায় ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়, এরপরই টানা গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার হামাস এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহের অংশ ইসরায়েলের হাতে হস্তান্তর করে। এর আগেই ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যক্তির দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করেছিল ইসরায়েলি সেনারা। তবে নতুন জিম্মির মরদেহ না ফেরানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েল, যা তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হিসেবে দাবি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসেন নেতানিয়াহু এবং বৈঠক শেষে গাজায় ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

গাজার সাধারণ মানুষ বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ হামলার ফলে আবারও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাকিস্তানি সামরিক প্রতিনিধিদলের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান (সিজেসিসি) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা-এর নেতৃত্বে আগত এক সামরিক প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেনাসদরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সামরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয়পক্ষ।

বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল উভয়েই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।

এর আগে, গত ২৫ অক্টোবর রাতে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সে সময় তারা বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল মামলার চূড়ান্ত শুনানি চতুর্থ দিনে

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানির চতুর্থ দিন চলছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

আজ আদালতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার-এর পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির যুক্তি উপস্থাপন করছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ধারাবাহিক তিনদিন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন। একই মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে অংশ নেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক এবং শেষ দিনে বক্তব্য দেন শিশির মনির

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাথমিক শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

২০০৪ সালের ৪ আগস্ট, হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করে দেন। পরে ২০০৫ সালে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ৩০ জুন, জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়।

পরবর্তীতে, সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট, রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান

এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৬ অক্টোবর পৃথকভাবে একটি পুনর্বিবেচনা আবেদন করেন।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই দাবিতে পৃথক আবেদন দাখিল করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সব দলের ঐক্য জরুরি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর করার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণ অধিকার পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জনগণের সাংবিধানিক ক্ষমতা গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাই জাতীয় সংসদ সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়। সবকিছুই সবার ঐক্যের ভিত্তিতে করা প্রয়োজন।”

তিনি জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রতি বলেন, “বাস্তবতার আলোকে কথা বলতে হবে। এমন কোনো প্রস্তাব বা আদেশ দেওয়া যাবে না যা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধ ও স্থায়ী ভিত্তিতে রচনা করতে হবে, যেন ১০-১৫ বছর পরও কেউ আদালতে যেতে না পারে।”

সালাহউদ্দিন আরও জানান, এনসিপিসহ কিছু দলের স্বাক্ষর না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করা যায়, সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে তারা সনদে স্বাক্ষর করবেন। এই সনদ বাস্তবায়ন হলে তা রাজনীতিতে সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তিনি যোগ করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সুনির্দিষ্ট ফোরাম। নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত সনদ অনুযায়ী জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, যাতে কোনো সংসদ সদস্য বা দল সেখান থেকে সরতে না পারে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনেকে আবেগের বশে দাবি করেন যে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী বৈপ্লবিক আদেশ জারি করা যায়। এগুলো আবেগপূর্ণ বক্তব্য। সংবিধানের আশ্রয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র এখনও সাংবিধানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি সবাইকে ‘ফ্যাসিবাদের’ প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, মুখপাত্র ফারুক হাসান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাগপা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এনডিপি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

 

আল-আমিন



নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই: ইসি সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আখতার আহমেদ বলেন, “ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক নয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয়ে সমন্বয় করতে হয়। কিছু কাজ আগেই শেষ হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময় অনুযায়ী সব কিছু নির্দিষ্ট দিনক্ষণে করা সব সময় সম্ভব হয় না।”

তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করা হবে।

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা পর্যালোচনা করছি। ইনশাআল্লাহ এই সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “সবকিছু শতভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা সব সময় সম্ভব নয়। বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় সামঞ্জস্য করতে হয়। এখন পর্যন্ত কোনো রকম আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমার মনে হয় না এখন এমন কোনো অবস্থা এসেছে যে তা নিয়ে কেউ উদ্বিগ্ন হবে।”

বিএনপি কর্তৃক আরপিও সংশোধন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে পাঠানো চিঠি সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি চিঠি দিয়েছে। কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রাথমিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাংবাদিকদের বেতন বাড়াতে নির্দেশ, মিডিয়ার জন্য সুবিধা বাড়াবে সরকার

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, সংবাদপত্র ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য সরকারি সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে মিডিয়ার মালিকপক্ষকেও সাংবাদিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

উপদেষ্টা বলেন, “সরকার সাংবাদিকদের প্রবেশ পদে একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে চায়। যেসব প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন প্রদান করবে না, তারা কোনো সরকারি সুবিধা পাবে না।”

তিনি আরও জানান, বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কোন টেলিভিশন চ্যানেল কতজন দর্শক পাচ্ছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। দর্শকসংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বণ্টনের সুযোগ তৈরি হলে ভালো পারফরম্যান্স করা চ্যানেলগুলোর আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নীতিমালা মেনে নতুন টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দিচ্ছে যাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয় এবং মিডিয়া খাতে গুণগত মান বাড়ে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত ২৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “নীতিমালা প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।”

তথ্য উপদেষ্টা জানান, ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ ইতোমধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে তা উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মী আইন এবং বেসরকারি টেলিভিশনের জন্য নতুন নীতিমালাও প্রণয়নাধীন।

অনলাইন মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “যেসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রচার করে আয় হয়, সেগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে। অনলাইন মিডিয়া এখন বিশাল পরিসরে বিস্তৃত, তাই এটি একটি কাঠামোর আওতায় আনা অপরিহার্য।”

পত্রিকার প্রচারসংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক মনিটরিংয়ে দেখা গেছে অনেক পত্রিকা প্রতিদিন মাত্র ৫০০ থেকে ১,০০০ কপি ছাপায়।” তিনি আরও জানান, “সঠিক প্রচারসংখ্যা নির্ধারণ করে বিজ্ঞাপন হার দ্বিগুণ করা হবে, তবে মিথ্যা তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন সংস্থার কার্যপরিধি পুনর্নির্ধারণের কাজ চলছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ী কমিশন গঠন সম্ভব নয়।”

গুজব প্রতিরোধে তিনি সকল মিডিয়াকে নিজেদের ফ্যাক্ট-চেকিং টিম গঠন করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, “সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় রাখতে হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে অনেক ওয়েবসাইট কপিরাইট লঙ্ঘন করে অন্যদের সংবাদ প্রচার করছে, যা বন্ধ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল
এসময় প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম