বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন যুগের সূচনা, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিজিএমইএ-এনপিওর চুক্তি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর এনপিও কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন বিজিএমইএ পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং এনপিও সভাপতি মো. নুরুল আলম। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় পোশাক খাতকে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ যুগের উপযোগী করে তুলতে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘5S’, ‘Kaizen’ এবং ‘Lean Manufacturing’-এর মতো আধুনিক আন্তর্জাতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিবছর তিনটি তৈরি পোশাক কারখানাকে “মডেল এন্টারপ্রাইজ” হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। এসব কারখানায় এনপিওর কারিগরি সহায়তায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অন্যান্য কারখানাও এই মডেল অনুসরণ করে দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে উভয় সংস্থা এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (APO)-এর সহায়তায় গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে টেকসই এবং উদ্ভাবনী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : ১১ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরোনো ভবনেই রোগীর ঠাঁই নেই

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ প্রতিনিধি বলেন, “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই সময়ে শুধুমাত্র কম খরচ নয়, বরং গুণগত মান, গতি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ই শিল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”

বিজিএমইএ পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে রূপান্তর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইনোভেশন ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) সংযুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খেলাপি ঋণ বেড়ে চাপে ব্যাংক খাত, রিজার্ভ ব্যবহারে আইএমএফের উদ্বেগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিন দিন। আগামী বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বাস্তবে চিত্রটা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) গঠন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধি দল এসব বিষয়ে তাদের আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রো ইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, এবং নির্বাহী পরিচালক ড. এজাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

আইএমএফ প্রতিনিধি দল জানায়, রিজার্ভ থেকে ইডিএফ তহবিল গঠন ও পুনঃঅর্থায়ন নীতিমালা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। এই তহবিলের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করে তারা। একই সঙ্গে মুদ্রানীতির কাঠামো, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট নিয়েও বিস্তারিত তথ্য নেয় প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার ৪০ শতাংশ, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি

এ অবস্থাকে দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্তের কারণে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা আরও বলেছে, রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন তহবিল গঠন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।

আরো পড়ুন : ১১ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরোনো ভবনেই রোগীর ঠাঁই নেই

তবে আইএমএফ মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় প্রশংসা করলেও, অতিরিক্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কিনা—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধি দল ব্যাংক খাতের প্রভিশন ঘাটতি, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পুনঃমূলধন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও সবুজ অর্থায়ন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের আমলে গোপন রাখা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সংস্থাটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আইএমএফের পঞ্চম রিভিউ মিশন নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা সুদের হার নির্ধারণ, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ কমাতে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন: অক্টোবরের ২৯ দিনে দেশে এসেছে ২৪৩ কোটি ডলার

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা প্রতিদিন গড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশের বেশি

শুধু ২৯ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট এসেছে ১ হাজার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এসেছে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। ধারাবাহিক এ প্রবৃদ্ধি প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোয় সরকারি প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। তারা বলছেন, এই গতি অব্যাহত থাকলে বছর শেষে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বাংলাদেশ।

আল-আমিন



১১ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরোনো ভবনেই রোগীর ঠাঁই নেই

পটুয়াখালীর মানুষের আধুনিক চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা ছিল পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলার ৮ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বরগুনার কয়েকটি উপজেলার মানুষও ভরসা রেখেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের ওপর। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পরও হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, ফলে আধুনিক চিকিৎসা সেবার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

কাগজে-কলমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও এখনো সব কার্যক্রম চলছে পুরোনো ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই। যেখানে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি, প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের অনেককেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝে, করিডোর এমনকি বারান্দায়ও।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের ৪০ শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে ২০০ শিশু। একই চিত্র সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডেও। টাইফয়েড আক্রান্ত ইউসুফ হাওলাদার বলেন, “ভেতরে জায়গা নেই, তাই বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে বাতি-ফ্যান কিছুই নেই, রোদ-বৃষ্টিতে কষ্টে থাকতে হয়।”

শিশুর মা মুক্তা বেগম বলেন, “ছেলের জ্বর সর্দি নিয়ে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু কোনো বেড খালি নেই, তাই ফ্লোরেই আছি।”

এ অবস্থায় রোগীরা বলছেন, নতুন হাসপাতাল ভবন চালু হলে হয়তো একটু স্বস্তি মিলত।

২০১৪ সালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৬ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে ৬৫১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। কিন্তু ভূমি জটিলতা, করোনা মহামারি ও ধীর অগ্রগতির কারণে এখন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন মাস

প্রকল্প পরিচালক ডা. এস. এম. কবির হাসান বলেন, “২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৫০০-৭০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে—এটা সত্যিই অমানবিক। যদি আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে নতুন ভবনে যেতে পারি, তাহলে ভোগান্তি অনেক কমবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “গণপূর্ত বিভাগের ধীরগতির কারণে কাজ বারবার পিছিয়েছে। এখনো হাসপাতাল ভবনের প্লাস্টার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নতুন ভবন চালু করা যায়নি।”

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল ও একাডেমিক ভবনের কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি। সংযোগ পেলে দ্রুতই ভবন চালু করা হবে।”

পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষ বলছেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় আমরা বঞ্চিত হচ্ছি উন্নত চিকিৎসা থেকে। প্রশাসন যদি দ্রুত উদ্যোগ নেয়, তাহলে অনেক ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে মতৈক্য না এলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন ড. ইউনূস: আসিফ নজরুল

জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না এলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। খুব দ্রুতই এর ফয়সালা হবে।”

আসিফ নজরুল বলেন, “এই সরকার ঐক্যমতের সরকার। এখানে প্রতিটি সদস্য নিয়োগে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছিল। আমাদের কাজ অনেক সহজ হতো, যদি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা ফ্যাসিস্ট শক্তি ও হত্যাকারীদের উৎখাত করেছিল, তারা আজও সেইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকত। তাহলে মানুষের মধ্যে এত উদ্বেগ বা অনিশ্চয়তা থাকত না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা কী করছে মানুষ দেখছে। সব দায় সরকারের ওপর চাপানো সমাধান নয়।”

আইন উপদেষ্টা জানান, টানা ২৭০ দিন ধরে আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হওয়া হতাশাজনক। আগে বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধ থাকলেও এখন গণভোট নিয়েই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। “দলগুলো এখন উত্তেজিত আচরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি চলছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে। তাদের কিছু শেখানোর নেই। বরং আমরা ভেবেছিলাম, তাদের ঐক্য থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু থাকবে। কিছু ক্ষেত্রে তারা সফল হলেও, কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে যাই বলুক, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কার শুধু আমাদের দায়িত্ব নয়। নির্বাচিত সরকারও চাইলে সংসদে সংস্কার চালিয়ে যেতে পারবে। আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হলো ‘শাপলা কলি’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ইসি।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর সংশোধনী যুক্ত করেছে।”
নতুন সংশোধন অনুসারে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এখন থেকে বিদ্যমান তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর পাশাপাশি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকও বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দীর্ঘদিন ধরে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কয়েক দফা চিঠি আদানপ্রদান ও বৈঠক হয়।
গত ৭ অক্টোবর এনসিপি কমিশনের কাছে শাপলা প্রতীকসহ সাতটি নমুনাচিত্র পাঠালেও, তখন ইসি তা অনুমোদন দেয়নি। পরবর্তীতে কমিশন জানায়, নির্ধারিত তালিকা থেকেই প্রতীক বেছে নিতে হবে, অন্যথায় কমিশন নিজ সিদ্ধান্তে প্রতীক বরাদ্দ করবে।

গত ১৯ অক্টোবর ছিল প্রতীক পছন্দের শেষ সময়সীমা। তবে এনসিপি তখনও জানায়, তারা শাপলা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করবে না।
অবশেষে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার ইসি প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা যাবে।

এ বিষয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমাদের দীর্ঘ দাবির পর অবশেষে নির্বাচন কমিশন ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অনুমোদন দিয়েছে। আমরা এই প্রতীক নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারের ঐকমত্য প্রস্তাব জাতির সঙ্গে প্রতারণা: ফখরুল

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ফলাফলকে ‘একপেশে, জবরদস্তিমূলক ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের প্রস্তাব পুরোপুরি একপেশে এবং পরিকল্পিতভাবে অর্থহীন করে তোলা হয়েছে। তার দাবি, সরকারের প্রস্তাবিত ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ সংবিধান, সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে টানানোর বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হলেও, তা সনদের চূড়ান্ত কপিতে রাখা হয়নি। একইভাবে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের (পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল) বিলুপ্তির প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা ঐতিহাসিক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু সনদের চূড়ান্ত কপি আর আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।”

ফখরুলের দাবি, সরকার এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নামে একটি আদেশ জারি করতে যাচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী। “সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘আদেশ’ আইনের মর্যাদাসম্পন্ন এবং সেটি জারি করার এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রপতির। সরকার নিজে থেকে এটি জারি করলে তা হবে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ,” বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনে ৪৮টি দফা গণভোটে তোলার প্রস্তাব থাকলেও, সেখানে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তার ভাষায়, “এক বছরের আলোচনার পর যা সামনে এসেছে, তা গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মেট্রোরেল চলাচল আংশিক বন্ধ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রাজধানীতে মেট্রোরেলের  গত রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট স্টেশনের ঠিক পশ্চিম পাশের পিলার ও উড়ালপথের সংযোগে থাকা বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় আবুল কালাম নামের এক যুবক মারা গেছেন। এরপর মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বেলা তিনটার দিকে প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মতিঝিল থেকে শাহবাগ অংশে মেট্রোরেল চালু করা হয়। বিয়ারিং প্যাড স্থাপন করার পর পুরো পথে মেট্রোরেল চালু করা হয় সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে।

মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে শাহবাগ অংশে আবার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিয়ারিং প্যাড পড়ে গিয়ে ফার্মগেটের যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে কিছুটা কম্পন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ জন্য নিরাপত্তার স্বার্থে রাত সোয়া নয়টা থেকে আগারগাঁও থেকে শাহবাগ অংশে মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে মতিঝিল থেকে শাহবাগ এবং উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা জাহিদুল ইসলাম।

অবশ্য পুরো পথে মেট্রোরেল চালু হলেও ফার্মগেটে দুর্ঘটনাস্থলে তিন দিন ধরে ধীরগতিতে চলেছে মেট্রোরেল। সতর্কতার অংশ হিসেবেই দুর্ঘটনাস্থলে গতি কমিয়ে চালানো হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির সূত্র বলছে, আজ ফার্মগেটে দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেন চলার সময় কিছুটা কম্পন অনুভব করেন চালক। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপরই এই অংশে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সময়সূচি অনুসারে, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে রাতে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশনের দিকে ছেড়ে যায় ১০টা ১০ মিনিটে। ফলে আজ আগারগাঁও-শাহবাগ অংশে মেট্রোরেল চালুর সম্ভাবনা নেই বলে ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে।




ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেজানা যাবে ভোটের দিনক্ষন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার,(২৯ অক্টোবর ২০২৫) যমুনায় প্রথম সমন্বয় সভা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচালে ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়, বড় শক্তির কাছ থেকে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড় আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।’

সভা শেষে বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে সভার আলোচ্য বিষয়গুলো জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বলেছে যে তারা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারিখ জানাবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের হঠাৎ আক্রমণের আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘এই আক্রমণ বলতে শুধু শারীরিক আক্রমণ নয়, বরং সাইবার অ্যাটাক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজ ইনফরমেশন (অপতথ্য) ছড়ানোকেও বোঝানো হচ্ছে। যারা পতিত স্বৈরাচার এবং তার দোসর, তারা দেশে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, তা চাইবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’




জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার না হওয়া অবদি নির্বাচন নয়: নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বুধবার সন্ধ্যায় (২৯ অক্টোবর) রংপুর নগরীর পর্যটন মেট্রোর হলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম   এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই যেন নির্বাচন হয়। এ জন্য সব পক্ষকেই কাজ করতে হবে। পতিত শক্তি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। যদি ক্ষমতার লোভে কোনো দল কিংবা কোনো শক্তি যদি মনে করে তারা এককভাবেই সব কিছু করবে বা জাতীয় ঐক্য ভেঙে দেবে বা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়াবে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে। তারা সংসদ টেকাতে পারবে না। সংসদ টেকাতে তাদের কষ্ট হবে এবং জনগণের আস্থা তারা পাবে না। তাই সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান করব, সংস্কারের পক্ষে থাকার।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি দলীয় প্রস্তাব নয়, এটি জনগণের মুক্তির দলিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এই দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না। আমরা শুনেছি, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ দেওয়া হবে। আমরা চাই যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বা কমিশন যেসব বিষয়কে সংবিধান সংস্কারের জন্য লিপিবদ্ধ করেছে, সেসব বিষয় গণভোটে যাক। জনগণই রায় দেবে, কী থাকবে আর কী বদলাবে।

তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট বলে কিছু থাকবে না। সংস্কারের রূপরেখা জনগণের হাতে যাবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। গণভোট ছাড়া কোনো সনদ বাস্তবায়নের অর্থ জনগণের মতামত উপেক্ষা করা।

নাহিদ আরও বলেন, গণহত্যার বিচার না হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কোনো অর্থ নেই। এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা, কাগজের সাইন, যার মূল্য কেবলই কাগজে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও দেখেছি, ত্রিদলীয় রূপরেখা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। জনগণের রক্তের ত্যাগ ভুলে যাওয়া হয়েছে। আমরা সেই ভুল আর করব না।

তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট বলে কিছু থাকবে না। সংস্কারের রূপরেখা জনগণের হাতে যাবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। গণভোট ছাড়া কোনো সনদ বাস্তবায়নের অর্থ জনগণের মতামত উপেক্ষা করা।