দুই মৃত জিম্মির বদলে ৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ইসরায়েল

যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে দখলদার ইসরায়েল শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আরও ৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজার খান ইউনিসের আল নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়েছে। রেডক্রস এ মরদেহগুলো হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হামাস দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত পাঠায়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, একজন জিম্মির মরদেহ ফেরত দিলে ইসরায়েল ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেবে। তাই হামাসের দুই মৃত জিম্মি ফেরতের ভিত্তিতে ইসরায়েল ৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে।

আল নাসের হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বার্তাসংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, “বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ ইসরায়েল থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।” যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল মোট ২২৫ জনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে। তবে এখনও তাদের কাছে অনেক ফিলিস্তিনির মরদেহ অবশিষ্ট আছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনই হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ২০ জন জীবিত জিম্মি ফেরত দেয়। এরপর ধীরে ধীরে মৃত জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়। হামাস জানিয়েছে, মৃত জিম্মিদের মরদেহ কিছু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকায় সেগুলো উদ্ধার করতে সময় লাগছে।

এদিকে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালিয়ে নতুন করে প্রায় ১৬০ জনকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে একরাতে ১০৪ জন নিহত হয়েছেন।

 

আল-আমিন



গায়ের জোরে জুলাই সনদ সংশোধন, প্রতারণা হয়েছে: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, “সনদ সইয়ের পর সংশোধনের অধিকার সরকারকে কেউ দেয়নি। গায়ের জোরে মূর্খের মতো সনদ সংশোধন করা হয়েছে।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-এ গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মান্না জানান, জুলাই মাসে তৈরি সনদ থেকে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি, তার কথায়, একটি প্রতারণা। সনদ স্বাক্ষরের দিনই ৫ নম্বর দফা পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সনদে পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের সুযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু স্বাক্ষরের পর সেটি পরিবর্তনের অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।

মান্না আরও উল্লেখ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংস্কার প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি এলোমেলো করে ফেলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। যারা পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) চান, তারা বাহ্যিকভাবে শান্ত মনে হলেও ভেতরে তুষের আগুন পুষে রেখেছেন।

তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও সনদ সংশোধন নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক নীতি ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সমস্যা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্রামীণ নারীরা পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গ্রামীণ নারীরা হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল পালন করে শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছেন না, বরং দেশজুড়ে ডিম, দুধ ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করছেন। এ কারণে দেশের পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের অবদান অপরিসীম।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মিলনায়তনেজলবায়ু অভিযোজনে গ্রামীণ নারী” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

উপদেষ্টা আরও বলেন, মাইক্রো লেভেলে পুষ্টির অধিকাংশ অবদানই গ্রামীণ নারীদের। যদি তারা এই প্রাণী পালন না করতেন, বাংলাদেশ কখনও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতো না। তিনি জানান, নারীরা ঠিকই আছেন, কিন্তু তাদের অবদান দৃশ্যমান করা হয় না। সামান্য উৎসাহ ও সহায়তা পেলে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জেলেদের ন্যায্য মজুরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দাদন প্রক্রিয়ার কারণে জেলেরা যথাযথ মজুরি পাচ্ছেন না। এই প্রথার অবসান জরুরি। এজন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলে পরিবারের নারীদের স্বীকৃতি দেওয়াও সমানভাবে জরুরি।

উপদেষ্টা বাল্যবিয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধ না করতে পারলে গ্রামীণ নারীরা সম্পূর্ণভাবে শক্তিশালী হতে পারবেন না। তাই জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা জরুরি এবং নারীদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন:

  • ড. মো. হযরত আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক
  • ক্যাথারিনা কোয়েনিগ, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের উপদলনেতা
  • রেহানা খান, সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও লিঙ্গ সমতা)
  • মেহের নিগার ভূঁইয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের “স্থিতিস্থাপক জীবিকা কর্মসূচি”–এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার

সেমিনারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম স্বাগত বক্তৃতা দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প কর্মকর্তা (ক্যাম্পেইন ও যোগাযোগ) তাজওয়ার মাহমিদ

বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতায় নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সমাজে ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রায়ই অদৃশ্য থেকে যায়। তারা নারী-সংবেদনশীল কৃষি ও জলবায়ু নীতি প্রণয়ন, ভূমি, অর্থ ও প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী কৃষক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জা ফখরুলের সরাসরি আহ্বান: জনগণের কাছে যেতে ব্যবস্থা করুন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন—“যা হওয়ার হয়েছে, সমস্যাগুলো সমাধান করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলুন। জনগণের কাছে যেতে যেন পারি, সেই ব্যবস্থা করুন।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণসংহতি আন্দোলনের সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি ও সংকট থেকে উত্তরণের পথ সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিরের প্রতি ব্যক্তিগত মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

“জোনায়েদ সাকিরের সঙ্গে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাই। তার দৃঢ়তা দেখে বুঝলাম, সে সত্যিই পরিবর্তন আনতে চায়।”

এই ব্যক্তিগত মন্তব্যের পর তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বারোপ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন,

“দেশের মানুষ পরাজয় বরণ করে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তৈরি সংকট কাটিয়ে যাবে।”

তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান—মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন,

“সব রাজনৈতিক দলকে মনে রাখতে হবে, সবার আগে বাংলাদেশ। সরকারকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, এই সংকট থেকে বের হওয়ার দায়িত্ব তাদের। অতীতেও আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সামনেও থাকব। কিন্তু যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা থেকে আপনাদেরই বের হয়ে আসতে হবে।”

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিএনপির অবস্থান—দেশের সংকট মোকাবিলা ও জনগণের কাছে পৌঁছানোই এখন প্রাধান্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খাদ্য নিরাপত্তা: বর্তমান সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ

খাদ্য নিরাপত্তা আজকের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়। এর মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যকে জীববৈজ্ঞানিক, রাসায়নিক বা ভৌত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা এবং অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি প্রতিরোধ করা। আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, বিশ্বায়নের দ্রুততা এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা এখন এক জটিল চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বায়নের ফলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা অনেক জটিল ও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, দ্রুত নগরায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাদ্য উৎপাদন খাদ্য নিরাপত্তার উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া, খাদ্যবাহিত রোগ, দূষণ এবং মানহীন খাদ্যের কারণে প্রতি বছর লাখো মানুষ অসুস্থ হয় এবং অনেকে মারা যায়। তাই খাদ্য নিরাপত্তা শুধু স্বাস্থ্য বা বিজ্ঞান বিষয় নয়—এটি একটি বহুমাত্রিক জননীতি ও প্রশাসনিক বিষয়, যেখানে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হন এবং প্রায় ৪২০,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে বিশ্বব্যাপী ৩৩ মিলিয়ন ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার (DALYs) হারানো হয়, যা মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে।

একবিংশ শতাব্দীতে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নতুন রূপে এসেছে। উদীয়মান ঝুঁকি যেমন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করছে। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যিক ও আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

ঐতিহ্যিক খাদ্য নিরাপত্তা ছিল প্রতিক্রিয়াশীল—কোনো দূষণ বা রোগ প্রাদুর্ভাব ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আধুনিক যুগে খাদ্য নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিরোধমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আচরণনির্ভর। প্রযুক্তিগত, নিয়ন্ত্রক এবং শিক্ষামূলক কৌশল একত্রিত করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক আচরণ, সাংস্কৃতিক অভ্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার মান নির্ধারণে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস (Codex Alimentarius) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে Food Safety Management System (FSMS) প্রণয়ন করতে হয়, যা ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ধারণ করে। HACCP এবং GMP পদ্ধতি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আইন, মানদণ্ড ও নির্দেশিকা প্রণয়নের মাধ্যমে উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়। খাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবেশক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও তাদের দায়িত্ব। WHO-র Global Strategy for Food Safety 2022–2030 দলিলে বলা হয়েছে: “দক্ষ কর্তৃপক্ষকে খাদ্য নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা ও যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”

আদর্শ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় Behaviour-Based Safety Management গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি মানবকেন্দ্রিক সাংগঠনিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেয়, যেখানে কর্মীদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়। Risk-Based Food Safety Strategy বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পদ ও হস্তক্ষেপের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

Farm-to-Fork বা “ক্ষেত থেকে টেবিল” ধারণার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিটি ধাপে—উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ভোগ—নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সরকার ইতিমধ্যে Bangladesh Food Safety Authority (BFSA) গঠন করেছে। তবে কার্যকর প্রয়োগ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ভোক্তা সচেতনতার ঘাটতি এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র এক দেশের দায়িত্ব নয়। এটি একটি বৈশ্বিক নৈতিক ও নীতিগত দায়বদ্ধতা। বিজ্ঞাননির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মানবকেন্দ্রিক সংগঠন সংস্কৃতি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। খাদ্য নিরাপত্তা এখন শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাকির নায়েককে ভারতের কাছে তুলে দেবে বাংলাদেশ: আশা মোদী সরকারের

বিশ্বখ্যাত ইসলামিক বক্তা ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের হাতে হস্তান্তর করার বিষয়ে আশাবাদী নরেন্দ্র মোদী সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ নভেম্বর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরণের অবস্থান জানানো হলো। জাকির নায়েক দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাকির নায়েক ভারতে ওয়ান্টেড পলাতক আসামি। “নয়াদিল্লি আশা করে যে, যে কোনো দেশেই তিনি থাকুন না কেন, সেখানকার সরকার তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।”

বাংলাদেশ সফরের আয়োজন করছে স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার আলী রাজ জানান, ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ঢাকায় ডা. জাকির নায়েকের প্রথম প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র ঢাকায় নয়, রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডা. জাকির নায়েক ২০১৬ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের রোষানলে পড়ে দেশ ত্যাগ করেন। সেই বছর তার ‘পিস টিভি’ চ্যানেল বন্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মোদী সরকার তার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনে এবং তার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করে।

২০১৬ সালের গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার পর শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে জাকির নায়েকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, হামলায় জড়িত কিছু তরুণ নায়েকের বক্তব্যে প্রভাবিত ছিল। তবে গত বছর সরকারি নীতি পরিবর্তনের পর এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাবান্ধা দিয়ে নেপালে রপ্তানি ১,৪০৭ টন আলু

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে এক দিনে রপ্তানি করা হয়েছে ১,৪০৭ টন আলু। এই রপ্তানি কার্যক্রমে এস্টারিক্সসহ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আলু সংযুক্ত ছিল।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নুর হাসান জানিয়েছেন, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৭টি ট্রাকে আলু নেপালের বাজারে পাঠানো হয়। এসব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ফার্ম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাছাই করার পর রপ্তানি করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার ২৮ ট্রাকে করে ৫৮৮ টন আলু নেপালে পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৩৯,০৩৯ টন আলু রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে দেশের আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকদের আয়ের উৎসে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং নেপালের বাজারে স্বচ্ছন্দে আলু সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাবান্ধা বন্দরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামীদিনেও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও নিয়মিত করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত আলু বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং দুই দেশের মধ্যে খাদ্যপণ্য ব্যবসার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা জোট চুক্তি

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত আগামী ১০ বছরের জন্য নতুন এক প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “এই চুক্তি শুধু আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

চুক্তিটি এমন সময় সম্পাদিত হলো যখন দুই দেশই দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজনাথ সিং এক্সে লিখেছেন, “এই চুক্তি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঐকমত্যের প্রতিফলন। এটি অংশীদারিত্বের নতুন যুগ সূচনা করবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মুক্ত, অবাধ ও নীতিনির্ভর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক প্রমিত পাল চৌধুরী বিবিসিকে জানান, এই চুক্তিটি আসলে জুলাই-আগস্টের মধ্যেই স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে এটি কিছুটা বিলম্বিত হয়। তার মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির অংশ, যা দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিনিময়কে আরও সহজ করবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রতিরক্ষা খাতই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। সে সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনবে, যা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য আধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রাপ্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে।

আরো পড়ুন : ৪ নভেম্বর থেকে কুয়াকাটা সৈকতে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

তবে ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি এবং প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করেছিল। বর্তমানে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলেও দিল্লি এখন ধীরে ধীরে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও ঝুঁকছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও আরও দৃঢ় করবে। আসছে নভেম্বরের মধ্যেই দুই দেশ একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসলামী ব্যাংকের মুনাফায় বড় পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চলতি ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে মুনাফা হারিয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের হিসাবে ব্যাংকটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৬২ পয়সা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৬ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের আয় কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা বা প্রায় ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকের অবস্থান কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে ২০ পয়সায়, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৫ পয়সা লোকসানের বিপরীতে ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।

ব্যাংকের নগদ পরিচালন প্রবাহেও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪৪ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ঋণাত্মক ৩ টাকা ২ পয়সা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ৩২ লাখ টাকার সেতু দুই বছরেও ব্যবহারের অনুপযোগী, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ

অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪৫ টাকা ৩৭ পয়সার তুলনায় সামান্য কম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংকের আমানত প্রবাহ, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক মন্দার চাপ এ মুনাফা হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আমানত পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বাড়লে মুনাফার হার কিছুটা উন্নত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে কয়েদিরাও ভোট দিতে পারবেন: নির্বাচন কমিশনার

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা কয়েদিদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে সকালে তিনি “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিতে পটুয়াখালী আসেন। শনিবার সকালে কুয়াকাটার সিওডিইসি ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ওই কর্মশালায়ও তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে আমরা সারা দেশে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি, যাতে তারা দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ হতে পারেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাদের মাঝে কিছুটা দ্বিধা ও আশঙ্কা কাজ করছে, তবে আমরা আশাবাদী—সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নীতিমালা, আসনবিন্যাসসহ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও ইসির সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে।

গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইসির কাছে আসেনি। সরকার যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, জনগণ অবশ্যই তা জানতে পারবে।”

এ সময় কমিশনার আরও জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। “বর্তমানে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, যা আছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব,” বলেন তিনি।

প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কিছু পুরোনো প্রতীক বাদ দিয়ে আরও সুন্দর ও সহজবোধ্য প্রতীক নির্ধারণ করেছি, যাতে ভোটাররা সহজে চিনতে পারেন।”

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান মুন্সি, জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাক্ষাৎকার শেষে কমিশনার কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম