হাসনাত আব্দুল্লাহ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দিতে হবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “যদি এই আদেশ ‘চুপ্পুর কাছ থেকে’ নিতে হয়, তবে তা হবে বিপ্লবের কফিনে শেষ পেরেক।”

রবিবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা তিনশ’ আসনেই সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছি। গুণগত ও কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচন কমিশন ও প্রতীকের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শাপলা প্রতীক কেন দেওয়া হবে না—এর কোনো ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন দেয়নি। এতে কমিশনকে ঘিরে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হয়, তারা কি তার ব্যাখ্যা দেবে—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সভার সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা

সভায় জেলা ও মহানগর নেতারা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। জেলা সদর ছাড়িয়ে এখন উপজেলাগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। স্থানীয়রা বলছেন, মশা নিধন কার্যক্রমে প্রশাসনের অবহেলা ও মনোযোগের ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।

বিশেষ করে পাথরঘাটা উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ৮৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২ জন, তবে স্থানীয় সূত্রে এই সংখ্যা ৯ জন বলে জানা গেছে।

রোগীরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। সেখানে কোনো আইসিইউ বেড নেই, ফলে গুরুতর রোগীদের বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতিদিন নতুন রোগী বাড়ছে। সময়মতো মশা নিধন না হওয়ায় পুরো এলাকা এখন ডেঙ্গুর কবলে।”

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো বা ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম খুবই সীমিত। প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করলে হয়তো এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মশার প্রজনন বেড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন শীতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উজিরপুর সেতু, বালুর বস্তায় ঠেকিয়ে চলছে যানচলাচল

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল উজিরপুরের সেতুটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। সেতুর নিচের তিনটি গার্ডারের মধ্যে দুটি গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেল সেতুটি পারাপার হচ্ছে। ফাটল ধরা গার্ডারগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ভ্যানচালক জুলহাস বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি। এখন নিচের মাটি সরে গেছে, পাশে বড় গর্ত হয়েছে। ছোট গাড়ি গেলেও সেতু কেঁপে ওঠে।”

আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এই রুটে ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। আমরা আতঙ্কে আছি।”

সওজ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান। পরে তারা গার্ডারের নিচে বালুর বস্তা ফেলে সেতুটি সাময়িকভাবে সচল রাখেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহীন খান বলেন, “সেতুর দুই পাশের মাটি নদীর স্রোতে ক্ষয় হয়ে গেছে। ফলে গার্ডারে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আপাতত বালুর বস্তা দিয়ে সেতুটি সচল রাখা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে সেতুটি ধসে পড়লে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুনরায় জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কার্যকালের জন্য আবারও ‘আমির’ নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে তিনি দলটির নেতৃত্বে থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।

রোববার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দফতর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের সদস্য (রুকন) পর্যায়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গণনা শেষে শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে সর্বাধিক ভোট পেয়ে ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় আমির নির্বাচিত হন।

ডা. শফিকুর রহমান এর আগে ২০২২-২০২৫ মেয়াদেও দলটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


আল-আমিন

 




নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে তিন বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটের দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “গত দেড় বছরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে তিন বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা জানান, ভোটের সময় মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর প্রায় ৯০ হাজার সদস্য, নৌবাহিনীর আড়াই হাজার এবং বিমানবাহিনীর একটি অংশ দায়িত্বে থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি করে সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া, বৈঠকের শেষাংশে আগামী ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা।


আল-আমিন



নিজ দলের কর্মীদের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ আন্দালিব পার্থ

নিজ দলের কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

শনিবার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

পার্থ জানান, ভোলা সদরে বিজেপির একটি বৃহৎ নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর জোহরের নামাজের আগে অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। ঠিক তখনই ঈর্ষান্বিত হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন বিএনপি নেতাকর্মী হঠাৎ করে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর করে।

তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। এমন আচরণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

পার্থ আরও সতর্ক করে বলেন, “এভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”

এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কেনিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে ১৩ জনের মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রিফট ভ্যালি অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে প্রবল বর্ষণের পর আকস্মিকভাবে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

কেনিয়ার এলগেয়ো-মারাকওয়েট কাউন্টির পুলিশ কমান্ডার পিটার মুলিঙ্গে জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুমবা মুরকোমেন এক বিবৃতিতে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সামরিক ও পুলিশ হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

কেনিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও পাহাড়ি এলাকায় বন ধ্বংসের কারণে ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে কয়েকগুণ।

গত বছর কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ কাদা ধস ও আকস্মিক বন্যায় ৬১ জন প্রাণ হারান। একই সময় প্রতিবেশী উগান্ডার পূর্বাঞ্চলেও চলতি সপ্তাহে ভূমিধসে ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে উগান্ডা রেড ক্রস।

মানবিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে আরও বড় দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দেশে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের বাজারে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা।
এছাড়া—

  • ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬ টাকা,
  • ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮১ টাকা,
  • এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা দরে।

বাজুস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ বার বেড়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে

স্বর্ণের বাজারে এই ধারাবাহিক উত্থান নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“আমরা বিএনপি নই, জামায়াতও নই; আমরা মধ্যপন্থায় আছি” — হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের কেউ বিএনপি বলে, কেউ আবার জামায়াত বলে— এর মানে আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা কোনো দলের অনুসারী নই, আমরা নিজেদের আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা বিএনপি নই, জামায়াতও নই; আমরা মধ্যপন্থায় অবস্থান করছি।”

শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “কেউ কেউ বিপ্লবের সার্টিফিকেট নিতে চায় ‘চুপ্পুর’ কাছ থেকে। এটা যেন ছোট হাসিনার কাছ থেকে বড় সার্টিফিকেট নেওয়ার মতো ব্যাপার। কিন্তু একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনোই এমন সার্টিফিকেট নিতে রাজি হবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কখনোই আমাদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে যাইনি। সংস্কার, তথ্যপ্রবাহ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, আমরা তাদের সঙ্গেই নতুন বাংলাদেশ গড়ব।”

এসময় তিনি বলেন, “অনেকে এখন এমন সনদে সই করছেন যেটি আমরা আগেই সমালোচনা করেছিলাম। আমরা তখন বলেছিলাম— আগে দেখাতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। এখন তারাই আমাদের অবস্থানে ফিরে আসছে।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম মুসা

এছাড়াও সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আল-আমিন



সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত: নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম

সরকার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “সরকার এবং নির্বাচন কমিশন—দুই পক্ষই সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর।”

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কোডেক ট্রেনিং সেন্টারের সভাকক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বর্তমান নির্বাচনী আইন (আরপিও)-এ সংশোধন আনা হয়েছে। এখন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার ক্ষমতা রাখবেন।” তিনি আরও বলেন, “কোনো ভয় নয়, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন।”

প্রসঙ্গত, কর্মশালাটি আয়োজন করে পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিস। এতে জেলার আট উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-প্রধান মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান।

কর্মশালায় বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

আল-আমিন