ঝালকাঠিতে সড়ক অবরোধের অভিযোগে দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে গাবখান ব্রিজের পশ্চিম ঢাল এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।

আটককৃতরা হলেন—ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের টিপু হাওলাদার, যিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পারদেশীপুর ইউনিয়নের ওলি যিনি বাকেরগঞ্জ পারদেশীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ৪ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় এসে টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সড়কে আগুন দেওয়ার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, আটক টিপু হাওলাদার ও ওলি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিব মাহমুদ অপু ও সদস্য দিপুসহ তাদের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি, বাড়িতে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ওলিকে স্থানীয়ভাবে “ভাড়াটিয়া খুনি” হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সিসার কারবার

আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ মাদক সিসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে চক্রের হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আব্দুল আলিম ওয়াসিফ ও আশিকুর রহমান সামি। রোববার রাজধানীর বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি সিসা, যা সাম্প্রতিক কালের সর্বোচ্চ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মাদক পাচারের বিষয়ে নজরদারি করে আসছে। এই তৎপরতায় বিভিন্ন সময় বেশকিছু চালান জব্দ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ডিএনসির কাছে গোপন তথ্য ছিল যে একটি চক্র ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী সিসা সরবরাহ করছে। এর ভিত্তিতে রোববার ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ক্রেতা সেজে অভিযান চালায়। প্রথমে চক্রের ডেলিভারিম্যান আশিকুর রহমান সামির সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতিরঝিল এলাকায় পণ্য ডেলিভারির সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। রোববার রাত ১১টায় হাতিরঝিল মহানগর প্রকল্প এলাকায় সামি সিসার জারভর্তি ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হলে ডিএনসি দল তাকে আটক করে। তার স্কুলব্যাগ তল্লাশিতে ২ কেজি সিসা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে সামি জানায়, সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন অর্ডার অনুযায়ী সিসা সরবরাহ করে। এ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক আব্দুল আলিম ওয়াসিফ। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে ডিএনসি দল দ্রুত উত্তর বাড্ডার বিটিআই প্রিমিয়াম প্লাজায় অবস্থিত ‌‘ইনোভেট’ দোকানটিকে চিহ্নিত করে। সেদিন রাতেই দোকানে প্রবেশ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিশ্চিত হলে দোকানের মালিক ওয়াসিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে স্টোর রুম তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় আরও ১৬ কেজি সিসা (১৬ জার), ৩টি হুক্কা সেট, ২টি পাইপ, চারকোল ১০ প্যাকেট,    আইফোন–১৩, ৫টি ওয়াইফাই সিসিটিভি ক্যামেরা।

ওয়াসিফ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিসা সরবরাহ করতেন এবং সামি তার হয়ে ডেলিভারি দিতেন।

ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে; শিগগিরই আরও অভিযান চালানো হবে।




বরিশালে অপসো স্যালাইনের শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সড়ক অবরোধ

বরিশালে অপসো স্যালাইন (ওএসএল) ফার্মা লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের একটি পক্ষ চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। অপর একটি পক্ষ কাজে যোগ দিতে অবস্থান নিয়েছে।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বগুড়া রোডে সড়ক অবরোধ করে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা। পরে সেখানে মালিক পক্ষ থেকে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিন্দ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকপক্ষ জানায়, শ্রম আইন মেনে অপসো স্যালাইনের স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ জন শ্রমিককে অবসান দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ শ্রমিক তাদের পাওনা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু কিছু শ্রমিক ও বহিরাগতরা অন্য বিভাগের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা প্রদান করছেন। তারা জানান, এতে করে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে সামনে সংকট দেখা দিতে পারে। কাজে যোগ দিতে আসা আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কোম্পানিতে ঢুকতে গেলে তাদের ওপর বাধা দেওয়া হয়। যাদের চাকরি রয়েছে তারা যেন কাজ করার সুযোগ পান সেই দাবি জানান তারা। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বলেন, চাকরি পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বগুড়া রোড ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।




কূটনৈতিক পত্র প্রস্তুত হাসিনাকে কি ফেরাত আনা যাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  হাসিনা , একটি আতংকের নাম এক রক্তপিপাসু হায়েনার নাম যিনি মানবতার কলংকএবং জুলাই হত্যাকান্ডের মুল হোতা ।এবার  জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। আগামী দু–এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ‘কূটনৈতিক পত্র’ ভারতের হাতে পৌঁছে দিতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেস্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে ‘নোট ভারবাল’ (কূটনৈতিক পত্র) পাঠানো হবে। আজ–কালের মধ্যে সেটি পাঠানোর কথা।

এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হতে পারে। গত বছরের আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এরপর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে।’

পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

 




প্রবাসি বাংলাদেশী ভোটাররা ভোট দেয়ার নিবন্ধনের জন্য ৫ দিন সময় পাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিডেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি তারা বছরের পর বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ডলার আয় করে দেশে পাঠায় কিন্তু তারা দেশের কোন নির্বাচনে ভোট দিতেপারে না ।এটা নিতান্তই অমানবিক তাই প্রবাসীরা দীর্ঘ দিন ভোট দেয়ার জন্যে দাবী করে আসছিল অবশেষে এবার  প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হলো। বিশ্বের ১৪৩টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভোটের আওতায় এলো। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপসের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার সুযোগ করে দেয়া হলো।আর এ কাজ টি করল অর্ন্তবর্তি কালীন সরকার ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করে তারা এই ভোটদানের সুযোগ পাবেন। ভোটের দু’ থেকে আড়াই সপ্তাহ আগেই তারা এই ভোট প্রদান করবেন। তারা নিবন্ধনের সময় পাবে পাঁচ দিন বলে জানান ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোস্টাল ভোট বিডি নামের অ্যাপস উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এই কাজ হলো দুঃসাহসিক একটি কর্মযজ্ঞ।




আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কিনছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কেনা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈঠকের পরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আনসারদের অস্ত্রগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।’

তিনি আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ‘৪০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা’ কেনা হচ্ছে না। বরং ‘যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে দেওয়া হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কেনা হবে। ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা করে ঠিক করবে।’

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, চাহিদা থাকায় ‘এক কোটি ই-পাসপোর্টের বই’ কেনার জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া টিকার সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে ‘ইপিআই টিকা’ কেনা হবে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রোজার আগে চাল ও গম আমদানি করা হবে।




পাকিস্তানের নির্দেশে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড : শুভেন্দু

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের কাছে তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় পাকিস্তানের নির্দেশে দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এটা পাকিস্তানের নির্দেশেই করা হয়েছে। এটা কার্যকর হবে না। শেখ হাসিনা অন্য দেশের হলেও তিনি বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন প্রগতিশীল মুসলমান। শেখ হাসিনা কখনো চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।’

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় লক্ষ করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করব।’




অতি দ্রুত শেখ হাসিনাকে এনে রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম  বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।

নাহিদ বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম খুনি-রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনা পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে শেখ হাসিনার বিচার শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে যত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসক রয়েছেন, তার বিচার এর এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। খুনি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তাঁর দল স্বাগত জানাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের হাজারো শহীদ এবং কয়েক হাজার আহত যোদ্ধার ওপর যে জুলুম করা হয়েছিল, সেই জুলুমের রায় আজকে হয়েছে।

এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘তবে যেদিন এ রায় কার্যকর হবে, সেদিনই আমরা সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হব। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারা শান্তি পাবে।’

রায় কার্যকরের জন্য অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এর জন্য সরকারকে যথাযথ ভূমিকা ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত সফর করছেন। আমরা দাবি জানাব, তিনি শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন।’




শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ের বিষয়ে ভারত অবগত হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।’

দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ‘ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে’ বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে গুরুতর দণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—মামলার অভিযোগগুলোতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণাদি বিবেচনায় এনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত জানায়—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে; যার মধ্যে দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত অঙ্গন ছিল জনাকীর্ণ। নিহতদের পরিবার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ উপস্থিত ছিলেন জুলাই–অগাস্টের সহিংস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বহু মানুষ। আদালত বলেন—গণঅভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সহযোদ্ধা, শহীদ আনাসের বাবা পলাস এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যও মামলার ভিত্তি মজবুত করে।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগসমূহ

প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেছিল। সেগুলো হলো—
১) ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য;
২) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ;
৩) রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;
৪) চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা;
৫) আশুলিয়ায় আগুন দিয়ে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

অভিযোগ গঠনের পর সাবেক আইজিপি মামুন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী হয়ে দাঁড়ানোর আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোনো সাজা দাবি না করে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানায়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে ১২–২৩ অক্টোবর শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন ও মামলার প্রক্রিয়া

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলার শুনানি হিসেবে গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয় এবং সেদিনই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে আসামি করা হয়। এ বছরের ১ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হয়।

পক্ষ–বিপক্ষের সব যুক্তি, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত জানায়—উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। আদালতের রায়ে বলা হয়, “মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিই ন্যায়বিচারের স্বার্থ নিশ্চিত করে।”


মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম