দেশে প্রতিষ্ঠীত হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবলায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের জন্য ভিন্ন সচিবলায় প্রতিষ্ঠার  দাবি দীর্ঘ দিনের । এবার সেই কাজ শেষের পথে ।  সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এই সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হলে বিচারকাজে যুক্ত অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে। তবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত বিচারকদের বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পৃথক সচিবালয়ের আকাঙ্ক্ষা দেশের নাগরিক সমাজের মনে ২০-৩০ বছর ধরে আছে। এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অনেক রাজনৈতিক দল অনেক আশ্বাস দিয়েছে। অবশেষে এখন একটা ভালো জায়গায় আসা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ছিল। এই প্রস্তাবে ঐকমত্য কমিশনের অংশগ্রহণকারী সব দল সম্মত হয়েছে। এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদনের পর আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশের বিষয়বস্তু তুলে ধরতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, অধস্তন বা নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত মানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে তিনি এটি করেন। আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয় কাজটি করে। বিচারকদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়।

এই অধ্যাদেশ পরিপূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর আইন মন্ত্রণালয় তথা সরকারের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সম্পূর্ণভাবে এটা উচ্চ আদালত তাঁর সচিবালয়ের মাধ্যমে দেখাশোনা করবেন।




বরগুনায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানানারী নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপা আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তিনি ১ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার দরখাস্তের বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন জসিম উদ্দিন। পরে পারিবারিক চাপ তৈরির মাধ্যমে নিপাকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। পরে ২০২২ সালের ২৫ জুন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় জসিম নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম জানতে পারলে দুই পরিবারের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পুনরায় ৯১ লাখ টাকা দেনমোহরে নিপাকে বিয়ে করেন জসিম এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী বিয়েটি মেনে না নেওয়ায় পারিবারিক চাপে জসিম উদ্দিন নিপাকে তালাক দেন। এমনকি ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিপার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যার ফলে মানসিক চাপে নিপা অসুস্থ হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দেনমোহর ও খোরপোশের দাবিতে নিপা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী লাভলী আক্তার নিপা বলেন, ‘মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে মামলা করেছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নারী নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপা আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় তিনি ১ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার দরখাস্তের বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন জসিম উদ্দিন। পরে পারিবারিক চাপ তৈরির মাধ্যমে নিপাকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

পরে ২০২২ সালের ২৫ জুন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় জসিম নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম জানতে পারলে দুই পরিবারের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পুনরায় ৯১ লাখ টাকা দেনমোহরে নিপাকে বিয়ে করেন জসিম এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী বিয়েটি মেনে না নেওয়ায় পারিবারিক চাপে জসিম উদ্দিন নিপাকে তালাক দেন।

এমনকি ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিপার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যার ফলে মানসিক চাপে নিপা অসুস্থ হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দেনমোহর ও খোরপোশের দাবিতে নিপা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী লাভলী আক্তার নিপা বলেন, ‘মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে মামলা করেছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।




লালমোহনে ৫শত গ্রাম গাঁজাসহ মিজান নামের একজন আটক

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলসিকদার এলাকা থেকে মিজান নামের একজনকে ৫শত গ্রাম গাঁজাসহ আটক করেছে লালমোহন থানা পুলিশ।
বুধবার (১৯ নভেম্বর ২০২৫) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গল সিকদার তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) সম্মিত রায় পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এবিষয়ে এসআই সম্মিত রায় জানান,লালমোহন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের চায়ের দোকানের সামনের রাস্তা থেকে তাকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়।পরে তার শরীর তল্লাশি করে ৫শত গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। আটককৃত ব্যক্তি মিজানুর রহমান (৩২) তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর চাঁচড়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হাবিবুল্লাহর ছেলে।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, গাঁজাসহ আটক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন।




হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বিচারকদের হত্যার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পর তিন বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকির ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইতোমধ্যে মো. শরীফ (২০) নামে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার শরীফ ভোলার লালমোহন থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাতআনি এলাকার মো. হারুনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।




তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল

বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সব্বোর্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর ৬ বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দিয়েছেন।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

টানা ১০ দিন শুনানি শেষে দেশের সর্ব্বোচ আদালত ঐতিহাসিক এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন- তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।




দ্রুত গণভোটের রূপরেখা চায় এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোপুরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, বিশেষ করে গণভোটের রূপরেখা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

আসন্ন নির্বাচনে গণভোট পরিচালনার বিষয়টি একটি বড় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, গণভোট কীভাবে পরিচালিত হবে, এটি কবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ– প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেওয়া হয়েছে কি না নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এগুলো প্রকাশ করতে হবে।

তিনি জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এনসিপি প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনে সব সহযোগিতা দেবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বতন্ত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, যদি কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে, তাহলে এনসিপি ১০০ শতাংশ সহযোগিতা প্রদান করবে। আমরা অন্যান্য সহযোগী দলকেও কো-অপারেশন মোডে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপত্তা দিতে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইলেকশনের সময় নারীরা সাইবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে পারেন, তাই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তরুণ ভোটারদের নির্বাচনে উৎসাহিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করার পরামর্শ দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি মনে করেন, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গণতান্ত্রিক সম্মান বজায় থাকবে এবং তরুণরা ভুল পথে চালিত হবে না, যা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের জন্য সময় সীমিত। যদি প্রক্রিয়া আগে থেকে চালু করা হয়, তাহলে অংশগ্রহণ বাড়বে, যা ভোটার সংখ্যা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি নির্বাচনের প্রতীক ও প্রার্থীর স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বে জোর দেন। তার মতে, প্রতীক একজন প্রার্থীর পরিচয়, যা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রস্তাব করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য একজন অফিসার ট্যাগ করা হলে দলের উদ্বেগ ও কনসার্ন সহজভাবে জানানো সম্ভব হবে।




এক টানে মিলল ২০০ মণ ইলিশ

বঙ্গোপসাগরে এক টানে ২০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে একটি ট্রলার। এসব মাছ সোমবার (১৭ নভেম্বর) কুয়াকাটা থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর ) সকালে বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সাইফ ফিশ নামের আড়তে এসব মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে উঠানো হয়। ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে ২০০ মন ইলিশ বিক্রি হয় ৫২ লাখ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এফবি রাইসা নামের মাছ ধরার ট্রলারটি গত ১৪ নভেম্বর পাথরঘাটা থেকে ১৭ জন জেলে নিয়ে সমুদ্রে ফিশিং করতে যায়। ১৭ নভেম্বর বিকালে গভীর সমুদ্রে মাছগুলো ধরা পড়েছে। ৩-৪শ গ্রামের মাছগুলো ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে মোট ৫২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

ট্রলারের মাঝি মাসুদ বলেন, ১৪ নভেম্বর আমরা মাছ ধরার জন্য সাগরে যাই। তিন-চার দিনে মাত্র ৪০০ টি মাছ পাই। ১৭ নভেম্বর বিকালে জাল ফেলে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর জাল টান দিতে গিয়ে দেখি ইলিশ আর ইলিশ। ওই এক টানেই আনুমানিক প্রায় ১৮ হাজার ইলিশ ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন মাছ না পেয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন চলছিল আমাদের। হঠাৎ এত বেশি মাছ পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

ট্রলারের মালিক রুবেল বলেন, অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এই মাছ বিক্রি করে আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

আড়ৎদার মোস্তফা আলম বলেন, আমার আড়তে এই মাছ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে অন্য একটি ট্রলারের প্রায় ১৫০ মন মাছ বিক্রি করি। জেলেরা মাছ পাচ্ছে শুনে খুব খুশি লাগছে।




বরগুনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ!

বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী এলাকার তাফালবাড়িয়া নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ তৈরির কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তদন্ত করে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী বালু ও সিমেন্টের সঠিক অনুপাত বজায় না রেখে নিম্নমানের জিও ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৩০বছর ধরে তাফালবাড়িয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত উত্তর সোনাখালী এলাকার মানুষের জীবনযাপন। প্রতি বছর বন্যা ও জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

২০২২ সালে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঠিকাদারি কাজের অনিয়মের কারণে দুই বছরের মধ্যেই ব্যাগ সরে গিয়ে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছরের জুনে জরুরি ভিত্তিতে ১২০ মিটার এলাকায় পুনরায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদার পটুয়াখালী জেলা কৃষকদল আহবায়ক ও মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান টিটুকে। কিন্তু শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, প্রাক্কলনে ১ হাজার ৮৯৫টি জিও ব্যাগ তৈরির কথা থাকলেও ঠিকাদার ইতোমধ্যে তৈরি করেন ৪৯৫টি ব্যাগ। এর মধ্যে ১৩৮টি ব্যাগে কোনো সিমেন্টই দেওয়া হয়নি, আর বাকি ব্যাগগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ছয় ফারা বালুর সঙ্গে এক বস্তা সিমেন্ট মেশানোর কথা, সেখানে এক বস্তা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৫টি ব্যাগ। চুক্তি অনুযায়ী পাইলিংয়ের কথা থাকলেও নিম্নমানের ড্রাম সিট ও গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।

এমনকি ঠিকাদার ভাঙনস্থল নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ইউনুস হাওলাদার বলেন, ৪৯৫টি ব্যাগের মধ্যে ১৩৮টিতে কোনো সিমেন্ট নেই। বাকিগুলোতেও সঠিক নিয়মে সিমেন্ট দেওয়া হয়নি। কাজের মান খুবই খারাপ। আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাফর জানান, আমরা অভিযোগ করার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে অনিয়ম দেখতে পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মনিরুজ্জামান টিটু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

আমি সঠিকভাবে তদারকি করতে না পারায় এমন অনিয়ম হতে পারে। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় জিও ব্যাগ তৈরির কাজ বন্ধ করা হয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যে সব অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কোনো বিচারের আগে যদি শর্ত থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত বেঁধে দিয়ে কখনো বিচারকে আটকে ফেলার চেষ্টা ভালো পরিণতি নিয়ে আসে না।

শেখ হাসিনার রায়ে দেশের জনণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এই রায়টির ঘিরে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা মন্তব্য দেখতে পাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা পর্যবেক্ষণ দেখছি। ডেভিড বার্গম্যান যিনি খুবই সোচ্ছার ছিলেন হাসিনার শাসনামলে।

তিনিও হাসিনার রায় ঘিরে তার লেখা আর্টিকেলে বলেছেন, প্রসিকিউশনের হাতে শক্ত প্রমাণ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে বিচারের দৃশ্যমানতাই একমাত্র শর্ত নয়। আমরা দেখলাম বিচারের দৃশ্যমানতার পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, গণভোট আগে হওয়া। এ রকম নানান রকম শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ নয় জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের শর্ত এসেছে। এসব দাবি মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা না হলে জামায়াতসহ যারা এই দাবিটা তুলেছে তারা নির্বাচনে আসবে কি না এটা একটা বড় প্রশ্ন।’ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




বিজয় দিবস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যেও কোনো শঙ্কা নেই।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এমন কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরেও কোনো রকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসে কোনো অস্থিরতার সম্ভাবনা নেই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। বরং আরও বেশি হবে। তবে গতবারের ন্যায় এবারও প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া মঙ্গলবার রাতে ডিবি পরিচয়ে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পরে ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি বিষয়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবো। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।