বরিশালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, পালিয়ে গেলেন চিকিৎসক-নার্স

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাথি আক্তার পরী নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়েছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোড় এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরী উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।

পরীর শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুত্রবধূর প্রসববেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে ৫ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) অন্যত্র সিজার করার কথা বললে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরী। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর পরীকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়- ক্লিনিকে কোনো অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি আরও বলেন, পরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি।

এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লিনিকের সব স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরী মারা গেছে। কোন চিকিৎসক সিজার করেছে জানতে চাইলে তিনি সিজারকারী চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি।

তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরীর সিজার অপারেশন করেছে। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরও ওই ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে জাতীয় গ্রিডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভূ-কম্পনের তীব্রতা কিছু স্থানে এতটাই ছিল যে, তা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। ফলে হঠাৎ করেই গ্রিড ট্রিপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকেই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জরুরি মেরামত ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দ্রুত অবস্থার মূল্যায়ন করছেন এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত কাজ করছেন।

পিডিবির তথ্যমতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ঘোড়াশাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের অভিঘাতে হঠাৎ গ্রিড ট্রিপ করায় পুরো কেন্দ্রের উৎপাদনে ধাক্কা লাগে। শুধু তাই নয়, বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট আগেই বন্ধ ছিল—এরপর ভূমিকম্পে গ্রিড অচল হয়ে যাওয়ায় অন্য ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়ে।

এদিকে সিলেটের বিবিয়ানা এলাকায় ইউনাইটেডের একটি ইউনিটও ভূমিকম্প-উৎপন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎপাদন উৎসগুলো থেকে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, ভূমিকম্পের প্রভাব সাময়িক হলেও পুরো গ্রিড সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সমন্বিত প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিশেষজ্ঞরা সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব এলাকায় লোডশেডিং দেখা গেছে সেগুলোও জরুরি ভিত্তিতে পুনঃসংযোগের আওতায় আনা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভা শেষে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তেজনা এবং অস্থির পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি কাজ করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিনির্ভর অবস্থান এবং নতুন প্রস্তাবগুলো অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁর কথায়, কেউ নিম্নকক্ষের পিআর না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, কেউ গণভোটের দাবি তুলছে—আবার কেউ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলছে। এসবই জনমানসে সন্দেহ তৈরি করছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কিছু ব্যক্তি সরকারে না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা হারানোর ভয় থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন শর্ত তোলার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—রাষ্ট্র কি সত্যিই আগামী নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে কাজ করেছেন। দলে তাঁর অবস্থান ও রাজনীতি পুরোপুরি নেতাকর্মীদের মতামতের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “তাদের সিদ্ধান্তই হবে আমার সিদ্ধান্ত। নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে দেখতে চান, আমার রাজনৈতিক পথচলা সেভাবেই নির্ধারিত হবে।”

তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে এ জনসভা আয়োজন করে পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মুন্সিসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভায় পানিশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা মিছিল করে অংশ নেন। উপস্থিত নেতারা দাবি করেন—জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের জন্য দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাসার সানশেড ভেঙে পড়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু

ছুটির দিন সকালে তিন সন্তানের সঙ্গে বাসাতেই ছিলেন দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৩৮)। হঠাৎ ভূমিকম্পে সব কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে সন্তানদের হাত ধরে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বাসার সানশেড ভেঙে তাদের মাথায় পড়ে। এতে প্রাণ হারান উজ্জ্বল ও তার ছোট ছেলে ওমর আলী (১০)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই মেয়ে।

শুক্রবার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামে। তিনি নরসিংদীতে জুট করপোরেশনে চাকরি করেন। সেই সুবাদে গাবতলি এলাকায় ভাড়া বাসার নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। উজ্জ্বলের ছেলে ওমর স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। মেয়ে উষা (১৭) ও তবুফা (১৪) নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উষা এবার এসএসসি পাস করেছে। তবুফা নবম শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় উজ্জ্বলের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন উজ্জ্বল। ঠিক এই সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে তাদের বসতবাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাসার সানশেড ভেঙে উজ্জ্বল, তার ছেলে ও দুই মেয়ে আহত হয়। স্থানীয়রা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুপুরে সেখানে নেওয়ার পর ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। উজ্জ্বলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ও প্রতিবেশী তারিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, উজ্জ্বল প্রায় ১০ বছর ধরে নরসিংদীতে চাকরি করছিলেন। স্ত্রী-সন্তান থাকত গ্রামের বাড়িতে। বছর চারেক আগে তাদের নরসিংদীতে নিয়ে আসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভালোই ছিলেন উজ্জ্বল। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। বাবা-ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারা আরও বলেন, দুই মেয়েকে বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তাদের মা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সারাজীবন এই ভয়াবহ শোকের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, বাবা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে নরসিংদীতে আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা গেছেন পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিবপুর উপজেলার আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ বছরের নাসির উদ্দিন। তিনি কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।




পুরান ঢাকায় অপরিকল্পিত ভবন, আতঙ্কে মানুষ

রাজধানীর পুরান ঢাকার বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। মানা হয়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা। ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।

গতকাল শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালি, বংশাল, লালবাগসহ এলাকার অধিকাংশ ভবন। মসজিদে দেওয়া হয় আজান, মন্দিরে বেজে ওঠে ঘণ্টা। এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। পরিবার-স্বজন নিয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে নিচে নেমে আসেন ভবনের বাসিন্দারা।

সূত্রাপুরের চায়ের দোকানি জোনায়েদ ঘরামী বলেন, অন্য দিনের মতো পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা করতে বসেছিলাম। হঠাৎ জিনিসপত্র এদিক-সেদিক পড়ে যাচ্ছিল। শুরুতে সেভাবে না বুঝলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারি ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। দ্রুত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নেমে দেখি নিরাপদ স্থানের আশায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু আশপাশে কোনো খালি জায়গা নেই। পুরো এলাকাতেই রয়েছে পুরোনো ও গাদাগাদি ভবন।

ঢাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষা আরও আতঙ্ক বাড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশির ভাগ নির্মাণ করা হয়েছে নিয়ম না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

‎ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা ভবনগুলোর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবন ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নির্মিত। অনেক জায়গায় রড-সিমেন্টের মান নিয়ন্ত্রণ হয়নি। আবার কোথাও অতিরিক্ত ভবন তৈরি করা হয়েছে অনুমোদিত নকশার বাইরে। ফলে সামান্য কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সরেজমিন সূত্রাপুর এলাকার পাতলাখান লেনে চোখে পড়ে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। তবে স্থানীয়রা অনেকেই বলছেন, এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যাদের রাজউকের ছাড়পত্র নেই।
ওই এলাকার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে কথা হয় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ সাহার সঙ্গে। তিনি জানান, মেসের বাসায় ছিলেন তিনি। ভূমিকম্পের পর তাঁর মেসের দেয়ালে ফাটল ধরায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। শুধু ভূমিকম্প নয়, আগুন ধরলে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নেই তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এ ছাড়া কাঁচা-পাকা বাড়িতে সয়লাব সূত্রাপুরের অধিকাংশ ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন পার করছেন। এই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ সালেকুজ্জামান বলেন, কতগুলো রাজউকের নিয়ম মানছে? ছয় তলার অনুমোদন থাকলেও ১০ তলা বাড়ি করছেন মালিকরা। এতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

এরপর বংশালের আরমানিটোলায় যান এই প্রতিবেদক। যেখানে বাড়ির রেলিং পড়ে মারা গেছেন তিনজন। এরপর বিখ্যাত তারা মসজিদ হয়ে মাহুতটুলী দিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের দিকে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ি খুপরির মতো। গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন বিপজ্জনক অবস্থায়।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড ঘটলে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় ফায়ার সার্ভিস। শুকলাল সাহা নামে ওই এলাকার একজন জানান, তাঁর ৫৩ বছর বয়সে ভবনে এত বড় ঝাঁকুনি কখনও দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আমগো মহল্লার পোলাপাইনডি চিক্কুর মারতাছিল, আমরা বইয়া আছিলাম। বিল্ডিংডি এমুন কইরা লাড়াচাড়া দিল, আমাওরা যে যেইহানে আছিলাম দৌড় দিয়া পালাইছি। তবে একখান খালি মাঠ-মুঠ থাকলে ওইহানে যাইবার পারতাম।’

বিকেলে নবাবপুরে গিয়ে দেখা যায়, শত শত তারের আবরণে বেষ্টিত একেকটি ভবন। কোনোটি দ্বিতল, কোনোটি বহুতল। কোনোটি আবার ভেঙেচুরে পড়ার মতো অবস্থা। ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ ও গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয় থেকে লোহারপুল হয়ে কাঠেরপুল মোড় পর্যন্ত চোখে পড়ে অনেক ভবন। তবে কোনোটির উচ্চতা ১০ তলা আবার কোনোটি ৫-৭ তলা। এসব ভবন একটা থেকে আরেকটার দূরত্ব খুব সামান্য।

কথা বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী রিয়াল ইবনে আরহামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন পুরান ঢাকায়। তবে গতকালের মতো ভূমিকম্প আগে দেখেননি।




উৎপত্তিস্থলে তীব্রতা ছিল বেশি, ফেটে গেছে মাটি-সড়ক

‘এক ভয়ংকর সময়। এমন ঝাঁকুনি আর দেখিনি। ঘরের দেয়াল কয়েক স্থানে ফেটে গেছে। বাইরে বের হতে গিয়ে স্বামী গুরুতর আহত হয়েছে। এখনও মনে হলে শরীর কাঁপে।’ এসব কথা বলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ওয়াপদা গেট এলাকার গৃহবধূ সামসুন নাহার মলি। গতকাল শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এই জেলা।

দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস বলছে, কেন্দ্রস্থল নরসিংদী সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে।

গুগল ম্যাপ অনুযায়ী, কেন্দ্রস্থল পলাশ উপজেলার ডাংগা গ্রাম। স্থানটি শীতলক্ষ্যা নদীর পারে। এটি পলাশ উপজেলার অধীন ঘোড়াশাল পৌর শহরের কাছাকাছি। মাধবদীও পলাশ উপজেলার পাশে।
গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, ভূমিকম্পে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কাছাকাছি একটি গরুর খামারের মাটি ফাঁকা হয়ে গেছে। অনেক ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। হেলে পড়েছে বহুতল ভবন। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। আগুনও ধরেছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরোনো রেলসেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন।

ডাংগা-কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের মাঝি সুবাদ ভৌমিক জানান, ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। ভয় পেয়েছিলাম। অনেকক্ষণ পর বুঝতে পেরেছি, ভূমিকম্প হয়েছে। তবে আমার জীবনে এমন কম্পন এটাই প্রথম।

ডাংগা প্রাণ-আরএফএল কারখানার পাশে ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, বাইরে কোনো ভারী লরি যাচ্ছে। পরে দেখি পাশের কারখানার সব ভবন কাঁপছে। শ্রমিকরা মুহূর্তে বাইরে বের হয়ে আসেন। তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভয়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’

পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের দোকানদার ফজলু মিয়া বলেন, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মাটিসহ সব কাঁপতে থাকে। কিছুক্ষণ পরই কলেজের গেটের ভেতর মাটি সরে গিয়ে ফাটল দেখতে পাই। এমন ঘটনা আর কোনোদিন দেখিনি।

ওয়াপদা গেট-সংলগ্ন নূর নবী সানির স্ত্রী তামান্না বলেন– বলে বোঝানো যাবে না, কেমন ছিল ওই সময়টা। বাচ্চাদের নিয়ে নিচে নামার সুযোগ পাইনি। শুধু আল্লাহকে ডেকেছি। এ সময় আমার ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভিসহ ঘরের আসবাব ভেঙে যায়।

শিশু আয়ান জানায়, সে খুব ভয় পেয়েছে। এখনও ভয় পাচ্ছে– যদি আবার এমন হয়!
ঘোড়াশাল মিয়াপাড়া গ্রামের প্লে শ্রেণিপড়ুয়া মুনতাসির আয়াত বলে, আমি ভয়ে কেঁদেছি। ঘরের ভেতর বই-খাতাসহ সবকিছু নিচে পড়ে গিয়েছিল। মা-বাবা আমাকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে বের হয়েছিল।
ঘোড়াশাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানের তাকে রাখা মালপত্র নিচে পড়ে আছে। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। জুতা দোকানি আলম মিয়া বলেন, আমার দোকানে জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের মালপত্র ছিল। ভূমিকম্প শুরু হলে সবকিছু পড়ে গিয়ে আসবাব ভেঙে গেছে।

এই বাজারের মুদি দোকানদার আসলাম মিয়া বলেন, কাচের মালপত্র সব ভেঙে গেছে। প্রথমে মনে হয়েছে, কেউ হামলা করেছে। পরক্ষণে বুঝতে পেরেছি, এটি হামলা নয়; ভূমিকম্প। বেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছি।

বাজার ঈদগাহ সড়কে মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সালাউদ্দিন আনসারী বলেন, আমাদের ছয়তলা ভবনের চার-পাঁচ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়েছে; আতঙ্কিত ছিল।

এ ভবনের মালিক আমানউল্লাহ বলেন, ভূমিকম্পে আমার ভবনে কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দোকানপাট বন্ধ। কেউ ভয়ে দোকান খুলছে না।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা ভবনের এসএ প্লাজার নিচতলার মোবাইলের দোকানদার মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, হঠাৎ সব কাঁপাকাঁপি শুরু করে। মনে হলো, সব ভেঙে পড়ছে। আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে পড়ি। তিনি আরও বলেন, মার্কেটের ওপরতলা থেকে নারী-পুরুষ দৌড়াদৌড়ি করে নিচে নামার সময় অনেকে সিঁড়িতে পড়ে যান। কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে অনেককে।

বাজারের আল জিলানী মার্কেটের তিনতলার রেলিং ভেঙে পড়ে পাশের মুরগির খাদ্যের দোকানের ওপর। দোকানি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো দেয়ালটা আমার দোকানের ওপর পড়ে। দোকানটা তছনছ হয়ে যায়। আমি কীভাবে বেঁচে গেলাম, এক আল্লাহ জানে। কাঁপুনি ও ঝাঁকুনি ছিল ভয়াবহ।’
আরটিভির জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম রনি জানান, তিনি সকালে পলাশের বাসায় ছিলেন। হঠাৎ কাঁপুনি শুরু হলে দোতলা থেকে বাচ্চাকে নিয়ে বের হওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে মুখে আঘাত পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পলাশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা পরিদর্শন করেছি। সরকারি খাদ্যগুদামের ভেতরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত চাল স্থানান্তর করতে হবে। ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য আমরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।




ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা কতো?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : যখন বিপদ ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলে তখন আমরা এর ভয়াবহতা টের পাই তাই  ভূমিকম্প অথবা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই আলোচনায় আসে রাজধানী ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়। মানুষের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নড়েচড়ে বসলেও কিছুদিন পরই আবার আলোচনার বাইরে চলে যায় বিষয়টি।

ঢাকায় ঠিক কতগুলো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, এর প্রকৃত হিসাবও নেই কারো কাছে। সঠিক তালিকা না থাকলেও রাজউকের তথ্য মতে, শহরের ৭৪ শতাংশ ভবন গড়ে উঠেছে নকশাবহির্ভূতভাবে।

অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা ধরে ভেঙে ফেলার নির্দেশনা থাকলেও সেটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সম্প্রতি সেফটি অ্যাওয়্যারনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে জানানো হয়, রাজউকের নিয়ম-নীতি না মানায় ঢাকায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এসব ভবন ভূমিকম্পে হতে পারে মৃত্যুপুরি।

স্থপতি ও নগরবিদ মো. ইকবাল হাবিব বলেন, ‘ঢাকার ১৩ শতাংশ জায়গায় কোনো ধরনের ভবন বানানো যাবে না, কিন্তু ভবন বানানো হচ্ছে।এতে ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বাড়ছে। এসব ভবন অপসারণ না করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ঢাকায় বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিস এর তথ্যমতে আরমানিটোলার কসাইটুলিতে একটি বহুতল ভবনে পলেস্তারার কিছু আলগা অংশ ও কিছু ইট খসে পড়েছে। খিলগাঁওয়ে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে ইট পড়ে পাশের ভবনের একজন আহত হয়েছে। সূত্রাপুর ও কলাবাগানে দুটি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, মোকাররম ভবন, ফজলুল হক হলসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ে। পুরান ঢাকার কেপি ঘোষ স্ট্রিটে একটি পাঁচতলা ভবন থেকে রেলিং পড়ে যায়। সূত্রাপুরের স্বামীবাগে আটতলা একটি ভবন অন্য একটি ভবনের দিকে হেলে পড়ে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাজধানীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করে। এতে দুই হাজার ৬০৩টি অগ্নিঝুঁকি ভবন চিহ্নিত করা হয়। ৫৮টি বিপণিবিতানের সব কটিই কমবেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া যায় ৯টি।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সারা দেশে ২৫২টি সরকারি এবং ৯২৯টি বেসরকারি মিলিয়ে এক হাজার ১৮১টি বহুতল ভবন (ছয়তলার ওপরে) পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস। ওই সময় ৩৬৭টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৪টিকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভবন মালিকসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশ পাঠানো হলেও কেউ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয় না।

 গত বছরের ২১ এপ্রিল ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প : রাজউক অংশ’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা অঞ্চলের ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এগুলোর তালিকাও প্রকাশ করে। এসব ভবনের সামনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রেণিকক্ষসংকট ও পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার অজুহাতে বেশির ভাগ ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজউক গত এক দশকে যতগুলো ভবন ভাঙার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে তার চার ভাগের এক ভাগও ভাঙা হয়নি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবি নজরুল কলেজের একটি ছয়তলা ভবন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ভবন।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজের পাশে একটি দোতলা ভবনসহ বেশ কয়েকটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজউক চিঠি দিয়েছিল। তবে বছর পার হলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। এভাবে হাজারো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছে লাখো মানুষ।

‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প : রাজউক অংশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ঢাকা মহানগর উন্নয়ন প্রকল্প (ডিএমডিপি) এলাকার সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার সুপারিশ করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবন ৪৪টি।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্দেশনার পরও নানা কারণে ভবনগুলো ভাঙা হয়নি। অথচ আমরা বারবার নোটিশ দিয়েছি। আগামীকাল (আজ) সকালে রাজউকের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সবাই উদ্যোগী হবে বলে আশা করছি।’

 

 




বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের দুর্দীনের নেতাকর্মীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ক্লিন ইমেজের নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে নির্বাচনী এলাকার বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের বৃহত অংশের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী ও পুরুষ অংশগ্রহন করেন।

মানববন্ধন চলাকালীন সময় বক্তারা বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসরা তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে চরম বিষোধগার করেছেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ওইসময় এ আসনের অসংখ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষকে জীবন রক্ষা করতে রামশীলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তাকে পূণরায় এ আসনে মনোনয়ন দেয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। পাশাপাশি বিগত পতিত সরকারের সময়ে তাকে রাজপথে কোন আন্দোলন সংগ্রামে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান দীর্ঘদিন থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার হামলা, অসংখ্য মামলায় কারাভোগ করেছেন। এছাড়াও কারাভোগ করা দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ অর্থে তিনি (সোবহান) জামিনে মুক্ত করিয়েছেন। দলের চরম দুর্দীনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে এবং এ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে সবার কাছে আস্থা অর্জন করেছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষ নিশ্চিন্তে বাড়ি ঘরে থাকার জন্য অতিদ্রুত বরিশাল-১ আসনে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তা বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি করেন।

মানববন্ধন চলাকালীন অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন-রবীন্দ্রনাথ গাইন, দীলিপ ঘটক, বিধান সরকার, হরিপদ বাড়ৈ, হাসি মধু, শিখা রাণী, প্রমিলা মধুসহ অন্যান্যরা।

এসময় আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ন সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও তার সকল সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করা হয়।

কর্মসূচিতে বরিশাল-১ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।




বরিশালে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস শ্লোগানে বরিশালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, রক্তদান ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রজন্ম জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দরা।

প্রধান অতিথি হিসেবে রক্তদান ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধণ করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।

আলোচনা সভায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বরিশাল মহানগর শাখার আহবায়ক নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক আক্কাস, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসরাইল পন্ডিতসহ বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বিসিসির উচ্চবিলাসী প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : নাগরিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন না করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) উচ্চ বিলাসী প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলার সমন্বয়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় রিসোর্ট তৈরির লক্ষ্যে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৩২ শতক জমি ক্রয় করেছে।

ইতোমধ্যে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বায়না দলিল সম্পন্ন করেছে। অথচ আমরা জানি বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ৩৮৪ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। এরমধ্যে ঠিকাদাররা পাবে তিনশ’ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ পাবে ৬৪ কোটি টাকা আর ২০ কোটি টাকা পাবে চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরি হারানো নিন্ম বেতনভুক্ত কর্মচারীরা। বর্তমানে কর্মরতদের মাঝেও রয়েছে বেতন বৈষম্যের অসন্তোষ।

তিনি আরও বলেন-বরিশাল সিটি করপোরেশন নানা সমস্যায় নিমজ্জিত। যারমধ্যে অন্যতম নগরীর বর্জ-ব্যবস্থাপনা, নগর পরিবহনের ব্যবস্থার বেহাল দশা, ড্রেনেজ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার খারাপ অবস্থা। মশক নিধণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা। বর্জ্য অপসারনে নিযুক্ত কর্মচারীরা সম্পূর্ন অনিরাপদ পরিবেশ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবস্থা নেই। যা তাদের ও পরিবারকে ভীষন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।

এছাড়াও নগরবাসীর সুপেয় পানির জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দুটি এখনো চালু করা যায়নি। একইসাথে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ আরো কিছু এলাকা এখনো সামান্য জোয়ারেই ডুবে যায়। এজন্য নেই কোন পরিকল্পনা। এহেন দশার মধ্যে সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে রিসোর্ট তৈরির মতো বিলাসবহুল প্রকল্প গ্রহণকে আমরা উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে মনে করছি।

দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু আরও বলেন-এ প্রকল্প বাতিলের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হলে আদালত গত ১৭ নভেম্বর বিষয়টি আমলে নিয়ে সিটি করপোরেশনের এ প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয়ের ওপর আগামি ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিসিসির এ উচ্চবিলাসী প্রকল্প বাতিলের জন্য তিনি জোর দাবি করেন।