বরগুনায় যত্রতত্র পেট্রোল বিক্রি, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে

বরগুনা জেলায় রাস্তার পাশে অবাধে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। চলতি মাসের ১১ নভেম্বর সরকার পেট্রোল বিক্রির উপর প্রজ্ঞাপন জারি করলেও জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর প্রায় ৪ শতাধিক দোকানে তা কার্যকর হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট ও জনবহুল বাজারে পানির বোতল, ভোজ্যতেলের বোতল, প্লাস্টিকের গ্যালন বা রাসায়নিক পাত্রে দাহ্য জ্বালানি রাখা হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশনা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার বিপুল চন্দ্র, আমতলী উপজেলার পারভেজ হোসেন ও তালতলী উপজেলার শাহীন সাইরাজ জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এসব দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই মাসে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফেরিঘাটে দাহ্য জ্বালানি ব্যবহার করে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন।

রাস্তার পাশে থাকা একাধিক পেট্রোল বিক্রেতা স্বীকার করেছেন, তারা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানেন, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিক্রি বন্ধ করতে পারছেন না। তালতলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকার হারুন ফরাজি জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন কিছুটা তৎপর হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই।

বরগুনার শিক্ষক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমের অভাবের কারণে অনুমোদনবিহীন দোকানগুলোতে পেট্রোল বিক্রি চলতে থাকলে বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা বা নাশকতা ঘটতে পারে।

বরগুনার নবাগত জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সমন্বয় সভায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কুয়াকাটায় অবৈধ হাঙর শিকারের অদৃশ্য অর্থনীতি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুর চরে অবৈধ হাঙর শিকার ও শুঁটকি তৈরির চিত্র নজরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ট্রলারে ধরা হাঙরগুলো লেম্বুরচরের বাঁশের মাচায় শুকানো হয়। নিষিদ্ধ হাঙরগুলোকে ‘গোছা’ নামে পরিচিত করে চট্টগ্রামে পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

জেলেরা শিকারকৃত হাঙর ধরার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। একজন জেলে বলেন, “সাগর যা দেয়, তাই তো আনতে হয়। না আনলে পরিবার চলবে কেমনে।” ধরা হাঙরের পাখনা, পেট ইত্যাদি ছুরি দিয়ে আলাদা করে মাচায় রাখা হয়, শুঁটকি প্রস্তুতির জন্য।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, লেম্বুরচরের বিভিন্ন মাচায় দিনে হাজারের বেশি হাঙর শুকানো হয়। চারজন শ্রমিক পলিথিনে ভরে পাইকারদের কাছে পাঠান। এছাড়া ‘কালো হাঙর’ নামের হাঙরও রাখা হয় চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ। ২০১২ সালে ১৮ প্রজাতি, পরে ২০২১ সালে আরও ১০ প্রজাতি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধ বাণিজ্য চলমান। বড় বাজার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল, পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু হাঙর প্রজাতি বছরে ৭-১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৩-৪ বছর লাগে। অতিরিক্ত শিকারে প্রজাতি টিকে থাকা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

বরিশাল বিভাগীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানান, জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক চাহিদা থাকায় শিকার ঠেকানো কঠিন। বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ মিলিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম টাস্কফোর্স’ গঠন এবং বিকল্প জীবিকা—যেমন কাঁকড়া চাষ ও ইকো ট্যুরিজম—প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, তিনি নিজে লেম্বুরচরে গিয়ে হাঙর শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলীন হবার পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন উপকূলীয় ভাঙন ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিলুপ্তির পথে। কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি, শত শত কোটি টাকার বনসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কার্যকর ভাঙনরোধের পদক্ষেপ না নিলে বনের অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ১৯৬০ সালের ঘোষণায় টেংরাগিরি বন সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩,৬৪৭ একর।

বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী; পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা; উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল; এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। বনের ভিতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যাচ্ছে। বনদস্যুদের অবৈধ চক্রও গাছ কেটে পাচার করছে।

২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ঘূর্ণিঝড়ে বন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির গাছ নষ্ট হয়েছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো বনের ভিতরে রাখা হচ্ছে। তবে অসাধু ব্যক্তিদের বন উজাড়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনের পুনর্গঠনের জন্য ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উপর ইতিমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা টেংরাগিরি বনকে রক্ষা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“দেশের মানুষ নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ দেখতে চায় না”: চরমোনাই পীর

বরিশালের চরমোনাই মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা অতীতে দুর্নীতির রেকর্ড রেখেছে, তারা আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ “নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ” দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন আসা অনিবার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হইনি, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নেই। তারপরও আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া। ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে, যদি আমরা তা কাজে লাগাতে না পারি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার দেবে।”

মাহফিলে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন বলেন, চরমোনাই পীরের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঐকান্তিক উদ্যোগে উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে কেউ ইসলাম অবমাননা করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমাদের দেশে ধর্মের প্রতি অবমাননা কেউ করতে পারবে না।”

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও কেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ভোলার ১৩ জেলে

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে ১৩ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ১৫ দিন পার হলেও এখনও তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে আছেন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকন মাঝি, মো. সাব্বির মাঝি, মো. হেলাল মাঝি, মাকসুদুর রহমান মাঝি, মো. শামিম মাঝি, মো. সজিব মাঝি, নাছির মাঝি, মো. জাহাঙ্গীর মাঝি এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাকসুদ মাঝি, ফারুক মাঝি, আব্দুল মালেক, ফারুক মাঝি ও মো. আলম মাঝি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ নভেম্বর ফারুক মাঝির নেতৃত্বে তারা চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে ৫ থেকে ৬ দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কথা ছিল কয়েক দিনের মধ্যে তারা ফিরে আসবেন, কিন্তু ১১ নভেম্বরের পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ জেলে মো. খোকন মাঝির স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, “আমার স্বামী সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেল, এখনও কোনো খবর নেই। আমরা চিন্তায় আছি।” নিখোঁজ জেলে সাব্বির মাঝির স্ত্রী সিমা বেগম জানান, “আমাদের বিয়ে মাত্র ৪ মাস হলো। স্বামী কখনো জেলের কাজ করেননি, হঠাৎ বেশি আয়ের আশায় প্রথমবার সাগরে গিয়েছিলেন। এখন তার কোনো খোঁজ নেই।”

নিখোঁজদের পরিবার আশাবাদী, জেলেরা এখনও বেঁচে আছেন এবং সরকারের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যদি জেলেদের বোট সাগরে নষ্ট হয়ে যায় বা তারা দিক হারিয়ে অন্য কোনো দেশের দিকে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তাদের নিরাপদভাবে উদ্ধার ও পরিবারে ফেরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, “কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কাজ করছে। পরিবারের সদস্যরাও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। আমরা সম্ভাব্য সব দিকে খোঁজ নিচ্ছি, জেলেরা ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছে কি না বা অন্য কোনো দেশে চলে গেছে কি না তা দেখছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরের শতবর্ষী বৈঠাকাটা ভাসমান হাট

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার ভাসমান হাট শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ভোরের আলো ফুটার আগেই বেলুয়া নদীর মোহনায় শত শত নৌকা জমে ওঠে, যেখানে সবজি, চারা, নাস্তা ও নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়। এই ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র নয়, বরং নদীবর্তী মানুষের জীবিকা ও পর্যটনের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নৌকায় তুলে হাটে নিয়ে আসে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নৌকায় বেচাকেনা চলে। দূর থেকে হাটের দৃশ্য মনে করায় থাইল্যান্ডের ভাসমান বাজারের। নাজিরপুরের আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা ও ট্রলারে কৃষিপণ্য এখানে আসে।

ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে আসেন। ভাসমান হাটে সকালের নাস্তা, চা-বিস্কিট এবং ভাসমান ভাতের হোটেলের সুবিধাও আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিদেশি পর্যটকও আসে। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে তাদের নানা সমস্যা হয়। প্রশাসন পর্যটক বিষয়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে হাটটি আরও পরিচিতি পেতে পারে।

সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, “এই বাজার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শশা, জিঙ্গা, পটল, মিষ্টি কুমড়া সহ সব ধরনের সবজি এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “মৌসুমের পণ্যগুলো নৌকায় বিক্রি হয়। ছোটকাল থেকেই আমরা এখানে ব্যবসা করি। সড়ক পথে যাতায়াত কম, তাই সবই নৌকাতে।”
নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, “এখান থেকে নারিকেল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আশেপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীরাও নৌকায় পণ্য নিয়ে আসে।”
সবজি ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, “৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। যদি সড়ক পথ ভালো থাকতো, আরও বেশি লাভ হতো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “ভাসমান হাটে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররাও কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে নিয়ে যায়। পর্যটকরা ঘুরতে আসে, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। নৌকা ও ট্রলারে ক্রয়-বিক্রয় চলে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলুপ্তির পথে পিরোজপুরের দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি

পিরোজপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে কঁচা নদীর তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরনো বাজপাই জমিদারবাড়ি। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর জমিদারবাড়ি’ নামে পরিচিত। একসময় এখান থেকেই এলাকার বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায় করা হতো। তবে আজ সংরক্ষণের অভাবে এটি ধ্বংসের মুখে।

জমিদার সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা লালা বাবু নামে চেনে, ছিলেন কালী প্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত পাড়েরহাট বন্দরের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই কাচারিবাড়ি।

প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িতে কাচারি ঘর, সভাকক্ষ, শয়নকক্ষ এবং নাগ মন্দির ছিল। বর্তমানে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছাদ ধসে পড়া, ইটের গাঁথুনি খসে যাওয়া এবং লতাপাতায় ঢেকে থাকা দেওয়ালই কেবল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

জমিদারবাড়ির সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই। এটি বর্তমানে রাজলক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পর বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর ফিরে আসে নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জমিদারবাড়ি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। ব্যক্তিগত দখলের চেষ্টা সম্পর্কেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করেন, এটি সংস্কার করে নদীবন্দর কেন্দ্রিক একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা গেলে পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পেতে পারে এবং সরকারও রাজস্ব অর্জন করতে পারবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “সরকার যদি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।”
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, “বাড়িটি সংস্কার করা হলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার উন্নতিতেও সহায়ক হবে।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী জানান, “ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটিতে খাজনা আদায় হতো এবং বিচার-সালিশি অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এটি প্রায় ভঙ্গুর হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অচিরেই সমাধান হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল-৬ আসন: বিএনপি মরিয়া, ইসলামি দল ও জাতীয় পার্টি আশাবাদী

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজত্ব থাকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

বিএনপি এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। দলীয় নেতৃত্বের প্রাথমিক অনুমোদন অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, “বর্তমান সময়ে আমাদের দল মাঠে সক্রিয়, তাই শুধুমাত্র বরিশাল-৬ নয়, দেশের সব আসন থেকেই জয়লাভ হবে। আমি মানুষের সেবা করার সুযোগ আবারও পাবো ইনশাআল্লাহ।”

অপরদিকে, ইসলামি দলগুলোও থেমে নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “এবার ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে, জয় আমাদের হবে ইনশাআল্লাহ।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ মিজানুর রহমানও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির কেউ প্রার্থী হতে পারেন, যদি কোনো বাধা না থাকে।

এ আসনের তরুণ ভোটাররা নির্বাচনে উৎসাহিত। হাবিবুর রহমান বলেন, “ভোটারদের মন জয় করতে হবে। যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই বেছে নেবে জনগণ।” প্রিন্স হাওলাদার বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে।”

বাকেরগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি চারবার এবং আওয়ামী লীগ তিনবার বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে এই আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ৬৮০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একনেকের অনুমোদিত ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৩ দশমিক ২১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর মান কম, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন এসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমভিবি ও এমটি আই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্ধারিত মানের ১ দশমিক ৫০ এফএম বালুর বদলে ১ দশমিক ৩৭ এওএম বালু ব্যবহার করেছে, যা টাক্সফোর্স বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১৭টির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় নদীর গভীর অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে না। চর ভাটারাকান্দার বাসিন্দা জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, “জিও ব্যাগে বালুর পরিমাণ কম থাকায় পূর্বেও ৪০০ বস্তা বালু বাতিল করা হয়েছে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, “লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সময়মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

প্রকল্পের পিডি (প্রোজেক্ট ডিরেক্টর) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

প্রকল্পে ব্যবহৃত কম মানের সামগ্রী ও ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫