আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটার অভিযোগ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারের পাড় গ্রামে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্ত মো. শহীদ ও তার সহযোগীরা বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী মো. ছালাম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বানারীপাড়া থানাকে অবহিত করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম লবণসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফয়জুল আলম অভিযুক্তদের একজন মাসুদ রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে ধান কাটতে নিষেধ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা পুনরায় ধান কেটে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।

জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে বরিশাল বানারীপাড়া সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১/২ বিধি ও ১৫১ ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে শোকজসহ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মামলায় মো. ছালাম বাদী হয়ে মো. শহীদসহ মোট ৫৫ জনকে বিবাদী করেছেন। বিরোধীয় জমির পরিমাণ প্রায় ২ একর ৫৫ শতাংশ, যা উমারের পাড় মৌজার বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগভুক্ত জমির অংশ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. ছালাম অভিযোগ করে বলেন, “বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খোলা আকাশের নিচে বেদে শিশুদের পাঠশালা, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুই বোন

বরিশালের বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুই তরুণী। খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট একটি পাঠশালা চালু করে প্রায় অর্ধশত শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার বসবাস করছে। কেউ নৌকায়, আবার কেউ বাঁশ ও পলিথিনের তৈরি ছোট ঘরে অস্থায়ীভাবে জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চিত জীবনের কারণে এসব পরিবারের অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তারা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন শিশু পাঠশালায় অংশ নিচ্ছে।

উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, “বেদে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এবং তাদের স্কুলমুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই তারাও সমাজের অন্য শিশুদের মতো পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হোক। তবে বই, খাতা ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে পাঠশালাটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ২০০ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে এখনো দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক শিশুকেই ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা ও পরিবারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়।

বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, “আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগ খুব কম। সংসারের অভাবের কারণে ছোটদেরও কাজ করতে হয়। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে আমাদের শিশুরাও পড়াশোনা করতে পারবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “বেদেরা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে এই ধরনের উদ্যোগ তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “বেদে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই তরুণীর উদ্যোগ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেদে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং একদিন তারাও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণঅধিকারসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা শতাধিক নেতাকর্মী আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য ফরম পূরণ করে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক ধারায় মানুষ আস্থা রাখছে।”

যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম হাওলাদার, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, কেদারপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান, উজিরপুরের আজমিয়া বিশ্বাস, বশির উদ্দিন ও আবু নোমান, গৌরনদীর তানজিল ইসলাম শুভ ও রবিন, মেহেন্দিগঞ্জের সুমন, মেজবাহ উদ্দিন, সাসুদ রানা, জাকারিয়া, শিফাত ও তারেক, মুলাদী-বাকেরগঞ্জের রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ছাত্রশক্তি বরিশাল সদরের তামিম, তাসিন ইসলাম আলভি, রাতুল, মৃদুল, গৌরনদীর জিদান ও শাওন সরদার, উজিরপুরের মিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বরিশাল জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ খান ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাফিসা মুসতারি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলী ও ইমরান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুগ্ম সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ সোহাগ, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, নাদিম মাহমুদ, সবুজ হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৬ অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ, নদীতে ফিরেছেন জেলেরা

বরিশালের ৬টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার জেলে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদ-নদীতে মাছ ধরতে নামেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের জেলে পল্লীগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর ও বলেশ্বর নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে জেলেদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছে।

এদিকে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা এখনো চলমান রয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার, মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেল, তেঁতুলিয়া নদী, নিম্ন পদ্মা ও কালাবদর-গজারিয়া-মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা।

সরকারি তথ্যমতে, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬৬ থেকে ৬৮ শতাংশ আসে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী ও সাগর মোহনা থেকে। গত দুই দশকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান পরিচালনার ফলে ইলিশ উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদনে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় হাজার হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বহু মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাটকা রক্ষায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫**




 এডিসি রিয়াজের অপসারণ দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) রিয়াজ হোসেন (পিপিএম)-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিচার ও অপসারণ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “এডিসি রিয়াজ হোসেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বদলি করা হোক।”

এসময় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা এডিসি রিয়াজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে এডিসি রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এসময় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স)।

শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশাল নগরীতে বাড়ছে যানভাড়া, সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জোরালো

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বরিশাল নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

বর্তমানে বরিশাল নগরীতে প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যাত্রী ভাড়ায়।

চালকদের দাবি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করলে স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পায় নগরবাসী। তবে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে আবারও সিটি বাস চালু করা হয়। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাস চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস আর চালু হয়নি।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যেতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী, চৌমাথা কিংবা নথুল্লাবাদ রুটেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় তা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ২৫ টাকা ভাড়া লাগে। সিটি বাস চালু থাকলে অনেক কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।” প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “২০১২ সালে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন একই পথে যেতে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।”

রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আগে ৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন ২০-২৫ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করা হবে। প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।” প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় শহর হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে যানভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চাকরি ছেড়ে সফল খামারি, কুরবানির হাট মাতাতে প্রস্তুত ১ টনের ‘লাল মিয়া’

চাকরি ছেড়ে গরুর খামার গড়ে সফলতার মুখ দেখেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. মামুন হোসেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি খামার। আর সেই খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন প্রায় ১ টন ওজনের শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় ‘লাল মিয়া’, যাকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী এলাকার মামুন হোসেন একসময় ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তবে চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই তিনি গরুর খামার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করা ছোট খামারটি বর্তমানে ২৬টি গরুর একটি সফল ডেইরি ফার্মে পরিণত হয়েছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রয়যোগ্য ৮টি ষাঁড় ও ৭টি দুধেল গাভী রয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে ৪ থেকে ৬টি গরু বিক্রি করা হয়। খামারটি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এবং এখানকার খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘লাল মিয়া’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১ টন ৬ কেজি বা ১০০৬ কেজি। চার বছর ধরে প্রাকৃতিক খাবার ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে গরুটিকে। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড় দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে।

খামার মালিক মামুন হোসেন বলেন, “লাল মিয়াকে আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও দেশীয় খাবার দিয়েই তাকে বড় করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চার বছর ধরে যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করেছি।”

তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া খামারের আরও সাতটি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে।

মামুন হোসেন বলেন, “চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা উদ্যোক্তা হোক এবং নিজেরা কিছু করার সাহস দেখাক।”

বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, “মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। পরিবার হিসেবে আমরা তার পাশে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ সে সফল হয়েছে। তরুণরা এমন উদ্যোগ নিলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সফলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। মামুনের খামার দেখে অনেক তরুণ এখন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

বাবুগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, “মামুন হোসেনের খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ।”

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন ‘লাল মিয়া’কে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। খামার মালিক আশা করছেন, এবারের কুরবানির হাটে ব্যাপক সাড়া ফেলবে তাদের খামারের গরুগুলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড় জবাইয়ের ঘটনায় বেকায়দায় ফরহাদ মেম্বার, স্থগিত দলীয় পদ

বরিশাল অফিস :: আল্লাহর নামে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। একই ঘটনায় শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব কামরুল আহসান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল কবির ফরহাদের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন চাঁদপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে প্রায় আট বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেন। গরুটিতে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিলও দেওয়া হয়েছিল।

সোহেল হাওলাদার দাবি করেন, গরুটি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করছিল। বর্তমানে গরুটির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ মেম্বার গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করেন এবং পরে মাত্র ৫০ হাজার টাকার আরেকটি ষাঁড় কিনে ইউনিয়নের সিল দিয়ে এলাকায় ছেড়ে দেন।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা যায় ফরহাদ মেম্বার ও তার সমর্থকদের। সেখানে দাবি করা হয়, গরুটি জবাইয়ের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ফরহাদ মেম্বার। পরে ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেওয়া ওই ষাঁড়টি জবাই করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই ফরহাদ মেম্বার দ্রুত আরেকটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফাহাদ চেয়ারম্যান নামে পরিচিত শামছুল কবির ফরহাদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরু চুরি করে জবাই, মাংস বিক্রি ও ভাগ-বণ্টনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী বন্দর থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হাওলাদার (৪০)। তিনি বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য কাউনিয়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে আল্লাহর নামে মাঠে ছেড়ে দেন। পরে এলাকাবাসীর পরিচর্যায় গরুটি বড় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন এলাকায় অবাধে বিচরণ করত। স্থানীয়দের দাবি, গরুটি প্রজনন কাজেও ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন গরুটি আর দেখা যাচ্ছে না। পরে রাজাপুর ও আট হাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে গরুটিকে অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় শোয়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে গরুটিকে বেঁধে টেনে নিয়ে মাটিতে ফেলে রাখতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে স্থানীয় কসাই রফিককে শনাক্ত করার দাবি করেন বাদী। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভাড়া করে একটি ষাঁড় গরু জবাই করার জন্য অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অভিযুক্ত কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৫ এপ্রিল রাত ৩টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অভিযুক্তরা গরুটি চুরি করে এনে জবাই করেন। পরে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করেও লাভবান হন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আব্দুল মালেক মোল্লার ছেলে শামছুল কবির ফরহাদ (৪৬), ধলু খানের ছেলে শাহিন খান (৩৮) ও শিমুল খান (৩০), ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার (৩০), মৃত মৌজে আলীর ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), হাবিব হাওলাদারের ছেলে সজিব (২৮), আব্দুল হাই মোল্লার ছেলে পারভেজ (৩২), মৃত রশিদ খার ছেলে জালাল খা (৫২), জলিল খার ছেলে মাহবুব (৩৬), কাছেম খলিফার ছেলে ইউনুচ এবং রাজেক ঘরামীর ছেলেসহ সবাই আট হাজার ও রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে কাজী জুলফিকার আলী ভুট্টো, ফিরোজ হাওলাদার, শফিক হাওলাদার, লতিফুর রহমান মানিক, রফিক হাওলাদার, কসাই সুলতান আহমেদ তালুকদার ও সুমন হাওলাদারসহ আরও অনেকের।

বাদী আদালতে উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই কাউনিয়া থানাকে বিষয়টি জানানো হলেও গুরুত্ব সহকারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে আদেশে উল্লেখ করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশের পর পুরো শায়েস্তাবাদ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফরহাদ মেম্বারকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।




বিশ্বকাপ মিসে ক্ষোভ সাকিবের, কাঠগড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

ভারতের মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম কাপ টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব বলেন, “আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। আমরা ক্রিকেটপাগল জাতি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকা সত্যিই বড় একটি মিস। আমার মতে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের বড় ভুল ছিল।”

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে এর আগে নানা আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা যায়। তবে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি হয়নি।

সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত গিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের খেলা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন সাকিব। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলতে চাইলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বিদায়ী টেস্ট খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সাকিব বলেন, “সেটা পরে দেখা যাবে। আশা করি সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্প্রতি আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, “আশা করি নির্বাচন হবে এবং তামিম সভাপতি হলে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে।”

জাতীয় দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে হয়তো একজন বা দুজন ভালো খেলত, এখন পুরো দল পারফর্ম করছে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দারুণ সম্ভাবনাময়। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভালো।”




বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলে স্বস্তি, এলপিজিতে এখনো অস্থিরতা

দেশে দীর্ঘ দুই মাসের ভোগান্তির পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আর তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।

তবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস নিয়ে এখনো ভোগান্তি কাটেনি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির এলপিজির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ভোক্তাকে আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ২৫ এপ্রিল ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে এলপিজি কিনেছেন।

রংপুরের কলেজ শিক্ষক ঝন্টু মিয়া জানান, তিনি ২৬ এপ্রিল ২ হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন। তার দাবি, কিছু ব্র্যান্ডের গ্যাসের দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। একসময় ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বাড়লে গত ৬ মার্চ সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। পরে ১৫ মার্চ সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি।

তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও কোথাও রাত কাটানোর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ট্যাগ অফিসার নিয়োগ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে।

তবে চলতি সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িচালকরা তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকদিন ধরে দেশে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। অনেক এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী একসময় প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে সেচের চাহিদাও কমে আসবে। অনেক এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং আরও কমে আসবে এবং পরিস্থিতি আগের মতো অসহনীয় থাকবে না।

**”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”**