প্রবাসীদের রেমিটেন্সে রেকর্ড বৃদ্ধি, বিকাশে পাঠানো টাকার আস্থা বেড়েছে

২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের প্রিয়জনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। ৪১ লাখ বিকাশ ব্যবহারকারী এই অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে, সঙ্গে সঙ্গে রেমিটেন্স পাঠানোর সুবিধা প্রদান করায় বিকাশ প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে বিশ্বাসের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।

একই বছরে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিটেন্সের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিকাশের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পৌঁছে যাওয়ায়, এটি আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে প্রবাসীরা ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন। দেশে এসে এই অর্থ ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয় এবং প্রতি হাজারে ২৫ টাকার সরকারি প্রণোদনা সমেত তা প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।

রেমিটেন্সের হিসাব রাখা আরও সহজ করতে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘রেমিটেন্স স্টেটমেন্ট’ সেবা। এর মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা তাদের অ্যাকাউন্টে আসা রেমিটেন্সের বিবরণ দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারেন, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং নয়, এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৫০০-এরও বেশি এটিএম বুথ ও স্থানীয় এজেন্ট পয়েন্ট থেকেও সহজে ক্যাশ আউট করা যায়। এটিএম বুথ থেকে প্রায় হাজারে মাত্র ৭ টাকায় গ্রাহকরা এই সুবিধা গ্রহণ করছেন।

এছাড়া, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাপ্ত রেমিটেন্স দিয়ে তারা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, শিক্ষা ফি প্রদান এবং দৈনন্দিন কেনাকাটার অর্থনৈতিক লেনদেনও করতে পারছেন, যা প্রবাসী অর্থ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং সহজতর করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নলকূপের গর্তে পড়ে নিভে গেল মিসবাহর প্রাণ

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির অবস্থা গুরুতর ছিল।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেল আনুমানিক সময় শিশু মিসবাহ খেলতে খেলতে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ ফুট। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করে। খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম জানান, গর্তটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। পরে বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে পাশ থেকে মাটি কেটে ধীরে ধীরে গর্তে পৌঁছানো হয়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ঘটনার শুরু থেকেই এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে গাছের ডাল বা কাঠ ঢুকিয়ে শিশুটিকে ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

তবে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিকল্পিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নলকূপের খোলা গর্তসহ এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত চিহ্নিত করে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক ভূমিকার আহ্বানও জানান তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেরপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, আহত শতাধিক

শেরপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ওই জামায়াত নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, দুইজন সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা মঞ্চের সামনে বসেন। কিছু সময় পর বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা সেখানে পৌঁছালে বসার স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংঘর্ষের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনটির উদ্যোগে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকায় ওই নারী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর স্বামী বুধবার বিকেলে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন চার যুবককে চিহ্নিত করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল সিকদার (২৩), মো. রাহাত হোসেন খান (১৯), মো. জহির রায়হান ব্যাপারী (২০) এবং মো. সাগর হোসেন হাওলাদার (২০)। বুধবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার যুবককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন নৃশংসতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বাহিনী–প্রশাসনের সমন্বয়ের তাগিদ সেনাপ্রধানের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব পালনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ধৈর্যশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, সামান্য অসতর্কতাও নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এমন অনেক ভোটার রয়েছেন। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

এই সফরে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বরিশাল এরিয়া, সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে আরও কার্যকর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ। তাই এই সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও তারা সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সামান্য কোনো বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে ড. ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে মতামত জানাবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ফলে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে যেন প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনের বাইরেও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ শুরু করেছে। সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. ইউনূস বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে সেই পথ সুগম করতে।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাকার মন্তব্য ও এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, বাউফলে বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এক নির্বাচনী সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে কিছু ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজাকাররা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং দেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, যাদের অতীত বা অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় সভায় উপস্থিত সমর্থকরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ভোট প্রার্থনার অংশ হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, তার রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু মানুষকে বাউফল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় তাদের আর দেখা যাবে না। নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে তাকে এখন একজন ‘নব্য রাজাকারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের অতীত টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন না। যারা ভালো কাজ করবে, দল-মত নির্বিশেষে তারা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যারা দেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বর্তমানে কার্যকর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য, মানহানিকর মন্তব্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আলোচিত এই বক্তব্য আচরণবিধির আলোকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম