পরিবর্তন চাইলে আমাকে একবার সুযোগ দিন

বরিশাল-৫ আসন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ, ভুল–বোঝাবুঝি ও ক্ষমতার পালাবদলের নানা স্মৃতি এই আসনের রাজনীতিকে এখনো প্রভাবিত করছে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম

তিনি জানান, একসঙ্গে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত আত্মবিশ্বাসের চেয়ে দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া। দলের মূল্যায়নে এই দুই আসনের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন। পরবর্তী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে ভোট বর্জনের পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তির প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বারবার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যদি পরিবর্তন চান, তাহলে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল ঘটনা, যা তখনই স্বীকার করা হয়েছিল। ভুলের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবুও সেই ঘটনার জের ধরে তাঁদের কারাবরণ করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মাহফিলে পুরোনো সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলাকে কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বলে দাবি করেন ফয়জুল করীম। তাঁর ভাষায়, ভুল হলে তা লুকানোর নয়, বরং স্বীকার করার শিক্ষা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো দলের নেতাকর্মীর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা বা হয়রানি করেননি।

ভোটের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা দল নয়, যোগ্যতা ও চরিত্র দেখে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের ভোট টানার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তাঁদের অবস্থান।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সমীকরণ নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলায়, জোট ভাঙে ও গড়ে। তবে এসব সমীকরণের বাইরে সাধারণ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি হবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের বরিশাল সফর ৪ ফেব্রুয়ারি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশালে নির্বাচনী সফরের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশাল সফরে আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওইদিন বেলা ১২টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

শিরিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক সফরের শিডিউল সমন্বয়কারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন তারিখ নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির তারিখই চূড়ান্ত। ওইদিন তারেক রহমান যশোর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। আকাশপথে তাঁর যাতায়াতের সম্ভাবনা থাকলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিভাগীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ সাংগঠনিক আট জেলার নেতাদের বিষয়টি অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গত ২৬ জানুয়ারি তারেক রহমানের বরিশাল সফরের কথা থাকলেও তা একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে তারিখ পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও পরে সেটিও স্থগিত করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা করে বিএনপি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সর্বশেষ বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার তিন আসনে এগিয়ে বিএনপি জোট, জমজমাট নির্বাচনী লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলার চারটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি। চায়ের দোকান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে ভোটই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। কে জিতবে, কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং কে সংসদে গেলে ভোলাবাসীর সমস্যা-দুর্দশার কথা বলবে—এসব নিয়েই চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। স্থানীয় জনমত বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

ভোলা-১ (সদর উপজেলা):
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান।
দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জোটের সব নেতাকর্মী এখন গরুর গাড়ি প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আন্দালিব রহমান পার্থই এগিয়ে থাকতে পারেন। ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন):
এই আসনে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রভাবশালী। এবারের নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ এগিয়ে রাখছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও এলাকায় সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম সাংগঠনিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নারী ভোটার ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। অতীতে একাধিকবার এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। স্থানীয় ভোটারদের মতে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটার সমর্থনের বিচারে ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনই এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত বিডিপির প্রার্থী মো. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি প্রতীক) তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোলা-৪ (চরফ্যাসন-মনপুরা):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এখানে লড়াই তুলনামূলকভাবে জমলেও বিএনপি প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে স্থানীয় ভোটারদের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব-নিকাশই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পোস্টারবিহীন নির্বাচন, বিপাকে বরিশালের ছাপাখানা ব্যবসায়ীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভরা মৌসুমেও বরিশালের ছাপাখানাগুলোতে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। ফলে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ছাপাখানার মালিক ও শ্রমিকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর ফকির বাড়ি রোড এলাকার বিভিন্ন ছাপাখানা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় নির্বাচন মৌসুমে দিনরাত ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। অনেক ছাপাখানায় শ্রমিকসংখ্যা থাকলেও কাজ নেই বললেই চলে।

ছাপাখানা মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ পোস্টার ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ছাপাখানা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এলেই এসব ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত। কিন্তু এবার পোস্টার ছাপার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ ছাপাখানা কার্যত বন্ধের পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউ আর্ট প্রেসের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, পোস্টারবিহীন নির্বাচনের কারণে তিনি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য বই-খাতা ছাপার কাজও কমে গেছে। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ছাপাখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সাধারণত লাখ লাখ পোস্টারের অর্ডার পাওয়া যেত। এখন কেবল ভিজিটিং কার্ড ও রসিদের মতো ছোটখাটো কাজ হচ্ছে, যা দিয়ে একটি ছাপাখানা চালানো সম্ভব নয়। পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম হতাশাজনক। নিউ আর্ট প্রেসের শ্রমিক শাহিন বলেন, আগে নির্বাচন এলেই দিনরাত কাজ করে বাড়তি আয় হতো। এখন কাজ না থাকায় অনেকেই বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।

মানহা অফসেট প্রেসের শ্রমিক ছাব্বির বলেন, আগে নির্বাচন মৌসুমে বিশ্রামের সময়ই পাওয়া যেত না। এখন উল্টো কাজ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে—মালিক কতদিন বেতন দিতে পারবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বরিশাল ছাপাখানা মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ছাপাখানার ব্যবসা মূলত পোস্টারকেন্দ্রিক। নির্বাচন মৌসুমে পোস্টার ছাপিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই বছরের অনেক খরচ মেটানো যেত। এখন লাভ তো দূরের কথা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স, দোকান ও গোডাউন ভাড়া, শ্রমিকদের বেতন—সব মিলিয়ে ছাপাখানা মালিকরা চরম চাপে আছেন। ডিজিটাল প্রচারণার প্রভাবের পাশাপাশি পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এই খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা কারাগারে

সাইবার আইনে দায়ের করা মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল, সাইবার মাধ্যমে হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে অফিস কক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগও মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ওঠায় জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে: মেজর হাফিজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতায় থেকে একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশ অন্তত দেড় দশক পিছিয়ে পড়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর হাফিজ উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, ধর্মের নামে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে লালমোহন ও তজুমদ্দিন এলাকায় কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করলে জনগণ তাঁর কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করতে পারবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশ ফাঁড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকছে সদস্যরা: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রহমতপুর বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি এমন সব এলাকায় গণসংযোগ করছেন, যেখানে আগে কোনো প্রার্থী পৌঁছাননি। ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন—তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রার্থী সরাসরি এসেছেন। এভাবেই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। তারা জানতে চাইছে—ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কি না এবং ভোট দেওয়ার পর এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী নয়; বরং হাইব্রিড অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে বিপদের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, মুলাদীর একাধিক এলাকায় তাঁর জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, এলাকা ছাড়া করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানো চক্রের সদস্যদের নাম ও ছবি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেআইনি তৎপরতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদীর বাটামারা ও ছবিপুর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফাঁড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এসব এলাকায় নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনের অনেক ভোটকেন্দ্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের নতুন যুগ শুরু: বিএসইসি-ইউএনডিপির সমঝোতা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে নতুন ধাপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ড বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বন্ডের বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের ইস্যুর আগে ও পরে কারিগরি সহায়তা, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া ইউএনডিপি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বন্ড রিপোর্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রভাব পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তন এবং তৃতীয় পক্ষীয় সত্যায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিন, সোশ্যাল, ক্লাইমেট, এসডিজি ও অন্যান্য থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে।

থিম্যাটিক বন্ড হলো একটি বিশেষ ধরনের বন্ড, যার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • গ্রিন বন্ড: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেমন সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  • সোশ্যাল বন্ড: স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
  • সাসটেইনেবিলিটি বন্ড: গ্রিন ও সোশ্যাল প্রকল্প উভয়ের জন্য।
  • ক্লাইমেট বন্ড: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন।
  • এসডিজি বন্ড: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বাজার ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা। থিম্যাটিক বন্ডের বিকাশ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।”

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মালিহা মুজাম্মিল, কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারে এবং বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজম জে চৌধুরীর দাবি: বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের মতামত নিচ্ছে না

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিওদের সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সরকার কোনো বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করেনি। যেহেতু সরকারে থাকা কর্মকর্তারা এনজিও থেকে এসেছেন, তারা সারাদেশ পরিচালনার জন্য এনজিওগুলোর মাধ্যমেই কাজ করছেন।

আজম জে চৌধুরী আরও বলেন, দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। জমির মিউটেশন করার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে যে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পূর্বে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

সেমিনারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানা। তিনি যুক্ত করেন, আইএমএ’র বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনৈতিক সংস্কার দেখা যায়নি। বন্দরে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া এখনও সময়সাপেক্ষ; অনেক ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও দেড় মাস পর্যন্ত মালামাল আটক থাকে।

আজম জে চৌধুরী বলেন, মাইক্রো লেভেলে যে ভোগান্তি ব্যবসায়ীদের হয়, তা ম্যাক্রো লেভেলের অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ নয়। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর নীতি প্রয়োজন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে সমন্বয় না করায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না, কোনো নীতি-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল ইসলাম, ইআরএফের সাবেক প্রেসিডেন্ট শামসুল হক জাহিদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন, এবং ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম