কলাপাড়ায় ১০৯ পরিবার পেল দুর্যোগ সহনশীল নতুন ঘর

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা ১০৯টি পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে নবনির্মিত দুর্যোগ সহনশীল বসতবাড়ি। সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব ঘরের দলিল তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং হীড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে নির্মিত এসব ঘর জলবায়ু ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হীড বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিপি’র সহকারী পরিচালক আছাদ উজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান।

হীড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি বসতবাড়িতে বসতভিটা উঁচুকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক, সোলার প্যানেল এবং পরিবেশবান্ধব বন্ধুচুলা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এসব পরিবার শুধু নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জীবনযাপনের সুযোগও পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হীড বাংলাদেশ বহু বছর ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রকল্প।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো এ ১০৯টি পরিবার নতুন পাকা ঘর পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে উদ্বেলিত। তারা জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়াতে হবে না। ঘরগুলো ৩ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে সক্ষম হওয়ায় তারা নিজেদের জীবনকে আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ মনে করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা—সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। দেশের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অংশ নিচ্ছেন না।

সকাল ১০টার পরও গলাচিপা শহরের পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা খাতা–প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে পরীক্ষাকক্ষজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের হৈচৈ, ছোটাছুটি—কেউ প্রশ্ন না বুঝে চুপ করে বসে আছে, আর কেউ দিশেহারা হয়ে সহায়তা খুঁজছে। কারণ—পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তার জন্য কোনো সহকারী শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না; তারা অফিসকক্ষে বসে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহারুল ইসলাম জানান, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, বেতনভাতা সমন্বয় ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের হামলার পর দেশব্যাপী সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় ধারণা করা হচ্ছে কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।

এদিকে, অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। গলাচিপার অভিভাবক রুমা আক্তার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি মানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করা। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা না হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক না থাকায় একা পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

তবে পুরো পরিস্থিতি অস্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর। তার দাবি—উপজেলার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসাররাও দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসংখ্য বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৬টি, সহকারী শিক্ষক ৯১৫ জন, শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ হাজার। ফলে কর্মবিরতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি—১৩তম গ্রেড বাতিল করে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়—তা নির্ধারণ করবে গলাচিপাসহ সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণের ভরিতে আবারো দাম বৃদ্ধি

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকায়, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

স্বর্ণের বাজারে এ পরিবর্তন এলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ভরিপ্রতি ২ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভরিপ্রতি ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ায় বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের চাপ স্বর্ণের দামে ওঠানামা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

দেশের নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না— সরকার নিজ দায়িত্বে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু জামায়াত শুধু আশ্বাস নয়— বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চায়। একই ভাষা, একই জাতি হিসেবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থান্ধ আচরণ ও ভুল সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র অগ্রসর হতে পারছে না। তাই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে দেশের সম্ভাবনা আরও অনেক বড়।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়বে, শিক্ষক তার দিকনির্দেশনা দেবেন— এমন শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের। তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট— প্রত্যেক শিশুকে সক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। আগামী প্রজন্ম বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হবে।”

আইন ও বিচার ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় গেলে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারে যাওয়া না গেলেও জনগণের সেবায় কিছু কাজ আগে থেকেই করছে জামায়াত। তাদের পক্ষ থেকে দেশের ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুলনায় আদালত ফটকে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা আদালত এলাকায় দিনের আলোতেই সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ দু’টি হত্যাকাণ্ড। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত দুইজনই সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। তাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ফজলে রাব্বি রাজন এবং হাসিব। তারা সেদিন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সামনেও শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি যে নিছক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা পরিষ্কার। হামলাকারীদের ধরতে এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আদালত চত্বরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই আদালত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরোনো দ্বন্দ্ব কিংবা মামলাজনিত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আদালত ফটকের মতো নিরাপদ মেনে নেওয়া স্থানেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সংকট কাটেনি

পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যেও শনিবার সকালে সামান্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক ডায়ালাইসিসের চাপে শরীর কিছুটা সাড়া দিতে শুরু করায় চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এরপরও তাঁর সামগ্রিক অবস্থা এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকা পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে শনিবার সকালে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। আগের তিন দিন তিনি প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর ফুসফুসও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে টানা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়, যা প্রতিদিনই চলছে।

অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছে।

মেডিকেল বোর্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে— খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডন ক্লিনিক অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো বিমানযাত্রার চাপ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি— ভিসা, নথিপত্র, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স— সবই আগেই সম্পন্ন রাখা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই তাঁকে দেশে নাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ গণমোনাজাত করছেন, কেউবা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন। এতে হাসপাতালের আশপাশে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব অনুরোধ করে বলেন,
“দয়া করে হাসপাতালের সামনে ভিড় তৈরি করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

শনিবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জমজমাট উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালীর বাউফলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই শহিদ স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই বাউফল ঐতিহাসিক পাবলিক মাঠে স্থানীয় মানুষ, ক্রীড়াপ্রেমী ও আগত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। মাঠের চারপাশে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, করতালি আর প্রাণচাঞ্চল্যে দিনভর বিরাজ করেছে আনন্দঘন পরিবেশ।

এ আয়োজনটি করেছে বাউফল উন্নয়ন ফোরামজামায়াতে ইসলামী, যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি এবং বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়, তেমনি তাদের মানসিক দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দেশের দুই তারকা ক্রীড়াবিদ—বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট, এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কাউসার হামিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, যিনি তরুণদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বজায় রাখতে স্থানীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাউফল পৌরসভা ফুটবল দলবাউফল ইউনিয়ন ফুটবল দল। মাত্র ৩০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়রা গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কেউই জালের দেখা পায়নি। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলে সিদ্ধান্ত যায় উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে। রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের সেই পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত বাউফল ইউনিয়ন ফুটবল দল জয় ছিনিয়ে নেয়। মাঠজুড়ে তখন ঢেউ তোলে দর্শকদের উল্লাস—যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও স্মারক মেডেল তুলে দেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে অতিথিদের সঙ্গে একাধিকবার দর্শকরাও করতালি দিয়ে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সন্ধ্যায় শুরু হয় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পীদের গান, নাচ ও মনোজ্ঞ পরিবেশনায় পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে। শিল্পীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাউফলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় শিল্পী সমাজের বিকাশমান প্রতিভা। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রমাণ—বাউফলবাসী এমন আয়োজনকে কতটা উপভোগ করে থাকে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, বহুদিন পর বাউফলে এমন বড় পরিসরের আয়োজন দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের আশা—এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং বাউফলের ক্রীড়া অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাব বাড়ছে

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন সাগর এলাকাজুড়ে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ায় বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ‘ডিটওয়াহ’ বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। দুপুর ১২টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৯৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৮৮৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১৮২০ কিলোমিটার ও পায়রা বন্দর থেকে ১৮২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের বিরামহীন বেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির নিকটবর্তী এলাকায় সাগর এখনও অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে, ফলে সাগরগামী সব ধরনের নৌযানের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে—‘ডিটওয়াহ’ আরও ঘনীভূত হয়ে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উপকূলজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা বন্দরে জেলেদের তীরে ফিরতে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াকাটা, কলাপাড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাজার, মৎস্যঘাট ও বাঁধ এলাকা গুলোতে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। জেলেরা বলছেন—হঠাৎ উত্তাল সাগর ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে বহু মাছ ধরার নৌকা তড়িঘড়ি করে তীরে ফিরছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাস, উচ্চ জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণ সৃষ্টি করে। তাই উপকূলজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সতর্কবার্তা প্রচার করছে। স্থানীয় প্রশাসনও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা পেয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থার আপডেট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেশের মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং সাগরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উপকূলের জন্য এটি আরেকটি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ বিষয়ে সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য জানতে নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন: তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল জানিয়েছে। তবে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বেগম জিয়ার এ নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মায়ের সংকটজনক স্বাস্থ্য অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। তিনি বলেন—দেশনেত্রীর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে।

তারেক রহমান আরও লিখেন, ড. ইউনূস যে সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করছেন—তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংকটের এই সময়ে তাঁর মানবিক অবস্থান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর প্রতি তাঁর আশু সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট তিনি নিজেই যাচাই করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. ইউনূস আরও মন্তব্য করেন—জাতির জন্য তিনি অনুপ্রেরণা, আর তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে দোয়া ও শুভকামনার ঢল।

এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তাঁর জটিল রোগসমূহের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি এক ধরনের অশনি সংকেত তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংকট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে তাঁর সুস্থতা কামনায় দল, পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রত্যাশা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, পুলিশ দুইকে আটক

বরিশালে ঘুরতে আসা এক প্রেমিক যুগলকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে দুই যুবককে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমাথা লেকের পাড় এলাকায়।

আটককৃতরা হলেন, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মো. হাসিবুর রহমান (২৭) এবং পার্শ্ববর্তী বেলতলা এলাকার সায়েম সিকদার (২৬)।

ভুক্তভোগী যুগল জানান, বিকেলে তারা চৌমাথা লেকের পাড়ে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি তোলে। পরে নিউজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তারা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ এসে দুজনকে আটক করলেও বাকি তিনজন পালিয়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চাঁদাবাজির ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে নামধারী এবং ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভুক্তভোগীরা লিখিত এজাহার দিয়েছেন। বাকি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫