দেশেই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চলবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বেশ জটিল পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুসসহ অন্য সমস্যাগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। তাঁকে ঢাকায় রেখেই চিকিৎসা করা হবে। প্রতিদিনই তাঁর ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে।

এদিকে খালেদা জিয়াকে দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান প্রতিদিনই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার তদারকি করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার দেখভাল করছেন।’

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসকেরা এখনো খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তাঁর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থায় স্থায়ী উন্নতি আসা কঠিন।




বরিশালের কোনো আসন ছাড়ছে না বিএনপি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনই নিজেদের দখলে রাখতে চায় বিএনপি। শরিক কিংবা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরিশালের একটিও আসন ছাড়বে না—দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম দফায় জেলার ১৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তখন ধারণা করা হয়েছিল, বাকি পাঁচটি আসন শরিক ও সমমনাদের কাছে যেতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘোষিত দ্বিতীয় তালিকায় ওই পাঁচটির তিনটিতেই বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে। বাকি দুটিতেও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ারই পক্ষেই ঝুঁকছে দলটি।

বরিশাল-৩: ফুয়াদের বদলে জয়নাল

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনটি এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা ছিল কয়েক সপ্তাহ। স্থানীয় নেতারা বলছিলেন, নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। অবশেষে বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে মনোনয়ন দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।

ঝালকাঠি-১: শরিককে বাদ দিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল

ঝালকাঠি-১ এ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এলাকায় প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নিজেদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালকে গুরুত্ব দিয়েছে। সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে স্থানীয় বিএনপি, তবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডা. ইরান।

পটুয়াখালী-২: জামায়াত–এনসিপির বাইরে, ধানের শীষেই শহিদুল আলম

বাউফল আসনে জামায়াত বা এনসিপিকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি। এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় এখানে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী করেছে দলটি।

শেষ দুই আসনও হাতে রাখছে বিএনপি

পিরোজপুর-১ আসনটি জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা বলছেন, দলটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীই দেবে।

পটুয়াখালী-৩ এ এখনও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ইতোমধ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এই আসন চাইতে পারেন—এমন আলোচনা থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, এ আসনটিও ছাড়বে না দলটি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা—জেতার সম্ভাবনাই সর্বোচ্চ বিবেচ্য

এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, “যে আসনে শরিক দলগুলোর নিজস্ব ভোটব্যাংক নেই বা জেতার সম্ভাবনা কম—সেসব আসন দিতে রাজি নয় বিএনপি। লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি আসনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকা এবং সম্ভব হলে জয় নিশ্চিত করা।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নাব্য সংকট চরমে, বাড়ছে ঝুঁকি ও ভোগান্তি

শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোতে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি কমে যাওয়ায় একের পর এক জেগে উঠছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট নৌযান পর্যন্ত পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে, বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মাস্টাররা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাঁদপুর-পটুয়াখালী রুটের বহু স্থানে ভাটার সময় পানি নেমে আসছে মাত্র দেড় মিটার বা তারও কমে। এতে প্রায় প্রতিদিনই লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান নদীর তলদেশে আটকে যাচ্ছে।

এমভি শুভরাজের মাস্টার বেলাল জানান, “গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে আটকে গিয়েছিল। যাত্রী নিয়ে চলাচল করাটাই এখন চরম ঝুঁকির।”

বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌরুটেও নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাহেরচর ও ভাসানচর রুট এ বছরই বন্ধ হয়েছে। এর আগে নাব্য সংকট ও নৌপথের অবনতি কারণে গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটা, লালমোহন, চরদুয়ানী, বোরহানউদ্দিনসহ অন্তত ১২টির বেশি রুট থেকে এমএল সাইজের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি রুটেই ছোট লঞ্চ চলাচল অব্যাহত আছে, তবে তাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিজ্ঞ যাত্রী আবদুল জব্বার জানান, “আগে বরিশাল থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ চলত। এখন মাত্র ৩০-৩৫টা দেখা যায়। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আর নৌভ্রমণও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”

রাতের লঞ্চযাত্রায় ধাক্কা, থেমে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার ভোগান্তি এখন নিয়মিত অভিযোগ। ঢাকাগামী যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন, “ঘুমের মধ্যে ধাক্কা লেগে জেগে উঠলাম। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। আধা ঘণ্টা আটকে থেকে আবার চলতে পারি। প্রতিদিনই এমন হয়।”

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “নদীর তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত বালি জমা, অস্বাভাবিক ড্রেজিং এবং সঠিক নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না করলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ অচল হয়ে যাবে।”

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান, “ঢাকা-বরিশালসহ পটুয়াখালী রুটের বেশকিছু পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ড্রেজিং করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতি বছরই এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।




বরিশালে সেতুর নামকরণ নিয়ে উত্তেজনা, ভাঙচুরে পণ্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় পণ্ড হয়ে গেছে নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নামসংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয়দের ক্ষোভের জেরে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাচিরচর এলাকায় স্থাপিত উদ্বোধনী প্যান্ডেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত ঘোষণায় সেতুটি অনলাইনে উদ্বোধন করার কথা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা প্যান্ডেলে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির অধীনে নির্মিত ৬১৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নাম আগে ‘সৌহার্দ্য সেতু’ হিসেবে প্রচারিত ছিল। তবে স্থানীয়দের না জানিয়ে তা পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামকরণ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ ছাড়া সেতুর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অন্তর্ভুক্ত না করাও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত জনতার হামলার কারণে আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তন করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তির কথা আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় উদ্বোধন আর সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর নামকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।




‘শান্তির দূত’ বলা হল ট্রাম্পকে: ফিফা শান্তি পুরস্কার

বিশ্বের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA–র নতুন শান্তি পুরস্কার প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ছিল ২০২৬ সালের 2026 FIFA World Cup–এর গ্রুপ ড্র-এর সময়, যা করা হয় ওয়াশিংটন ডিসির John F. Kennedy Center for the Performing Arts–এ।

পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পের উপর “বিশ্বব্যাপী শান্তি ও ঐক্য বাড়ানোর” অবদানের স্বীকৃতিতে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পান একটি সোনালি ট্রফি, একটি পদক এবং একটি সার্টিফিকেট। পুরস্কার গ্রহণের সময় ট্রাম্প বলেন, এটি তার জীবনের “একটি মহান সম্মান”।

FIFA–র প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা এমন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে নতুন এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে ভূ­মিকা, উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গার জন্য সম্মান জানিয়েছেন।

কিন্তু প্রতি বিভাজন ছিলই। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন ওঠেছে—যে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তার দাবি করা “সংঘাত নিরসন” কতটা বাস্তব। বিশেষ করে গাজা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাত, এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির প্রেক্ষিতে অনেকের মতে, এই পুরস্কার বিতর্কিত।

বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত কেবল ফুটবল বা খেলাধুলার বেশিবার্দ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, কূটনীতিতে এবং বিশ্ব শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক–নব আলোড়নও তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ ঘোষণা আইএসপিআর-এর

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে দেশের সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অবস্থান। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এবার সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক বিস্তৃত সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এই কঠোর মন্তব্য করেন, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ইমরান খান এমন এক অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন যেখানে তিনি মনে করছেন রাষ্ট্র, নীতি, আইন—সবকিছুই তার চারপাশে আবর্তিত হয়। সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে তৈরি করা নানা বক্তব্য, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা এখন দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেনারেল চৌধুরীর দাবি, ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আইএসপিআর প্রধান অভিযোগ করেন, ইমরান খান সংঘটিত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রলিং-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ‘পরিকল্পিত প্রচার’ চালাচ্ছেন। তার দাবি, ইমরানের বক্তব্য বিদেশি কিছু গণমাধ্যম, বিশেষ করে ভারত ও আফগানিস্তানের মিডিয়া, সংগঠিতভাবে প্রচার করছে। তিনি বলেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত অহংকার তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যেকোনো আক্রমণ দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রের নীতি উপেক্ষা করে বারবার সেনাবাহিনীকে টার্গেট করা হলে দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যায়। জেনারেল চৌধুরীর দাবি, আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে প্রতিবার সাক্ষাতের পর পিটিআই নেতারা নতুন নতুন সেনাবাহিনী-বিরোধী বর্ণনা প্রচার করছেন।

তিনি ইমরান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, ইমরান এমন মন্তব্য করেছেন যাতে বোঝা যায়—পাকিস্তান রাষ্ট্র বা তার শক্তি কাঠামো তার বাইরে অচল। এমন মানসিকতা বিপজ্জনক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন আইএসপিআর প্রধান।

আইএসপিআর প্রধান উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তান প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পুলিশ প্রাণ দিচ্ছে, অথচ ইমরান খান গোয়েন্দা অভিযান ‘বন্ধ রাখার’ মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “যদি ভারত হামলা করত, ইমরান হয়তো ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানাতেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সেনাবাহিনী সরকার ও সংবিধানের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো প্রচার সহ্য করা হবে না। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোকে ‘বুনিয়ান-উন-মারসুস’—এক অটল দেয়াল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পাকিস্তান থাকবে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীও থাকবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে 움직ে উঠেছে বিমানবন্দর ও কূটনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি এবং মেডিকেল বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর তাঁর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং দলের নেতারা উচ্চমাত্রার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানি থেকে একটি নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ওই দিন সন্ধ্যা বা রাতে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দেবে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি।

ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ নিশ্চিত করেছেন যে, কাতারের ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জার্মানি থেকে ঢাকায় আসছে। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সে শয্যাসহ নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা, বিশেষ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জাম থাকে, যা গুরুতর অসুস্থ যাত্রীদের দূরপাল্লার যাত্রা নিরাপদ করতে সাহায্য করে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জার্মানির প্রাইভেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি এফএআই রেন্ট-এ-জেট জিএমবিএইচ-এর চ্যালেঞ্জার ৬০০ সিরিজের সিএল৬০ জেট দিয়ে খালেদা জিয়াকে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। বিমানটি ঢাকায় নামার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে দ্রুত লন্ডনের পথে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতিও চলবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইটটি ঢাকায় থেকে জর্জিয়ার তিবলিসি হয়ে সরাসরি লন্ডনে যাবে।

এর আগে কাতার রাজপরিবারের ব্যবহৃত আরেকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বাতিল হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আমিরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাতার সরকার দ্রুত বিকল্প এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। তাঁর দাবি, যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি এখন আসছে, এটি কাতারের ব্যবস্থাপনায় হলেও এর নির্মাতা জার্মান কোম্পানি। মূল বিষয় হলো—দ্রুত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

দলের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় যাত্রার বিষয়টি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ম্যাডামের শরীর ভ্রমণের উপযুক্ত হলে এবং বিশেষজ্ঞরা অনুমোদন দিলে সম্ভবত ৭ ডিসেম্বর (রোববার) তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। যাত্রার প্রতিটি ধাপেই চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পরিচর্যার অধীনে রাখা হয়। গত রোববার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ড কয়েক দফা বৈঠক করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করে। পরিবারের সদস্যরা ও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।

দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, বারবার সংক্রমণ এবং গুরুতর জটিলতার কারণে নিয়মিত হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আগমন, চিকিৎসকের অনুমোদন, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ব্যবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রাকে ঘিরে এখন নানা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সমস্ত প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বহুল আলোচিত যাত্রা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন তারিখ নিয়ে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘিরে দেশজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও এসব তথ্যকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন বা ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে প্রকাশিত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলেই গণ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের মতো করে তারিখ ছড়িয়ে দেয়, তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত নয়। এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত ধারণা, অনুমান বা দায়বদ্ধতা থেকে বলা হতে পারে; তাই সেগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই। সচিব আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদ মাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আবার কোনো কোনো বিশ্লেষক ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এসব নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও নির্বাচন কমিশন জানায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যকে গ্রহণযোগ্য ধরা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

নাগরিকদের কাছে নির্বাচন কমিশনের বার্তা—তফসিল বা ভোটের তারিখ সম্পর্কে যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানা যাবে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্যকে গুজব বা অনুমান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ দেশে আসছেন ডা.জুবাইদা রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশনেএী বেগম খালেদা ‍জিয়া এখন জীবন ও মৃত্যুর দোলাচলে,তাই এখন আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়া কে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হবে।

আর তাকে সাথে নিয়ে যেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান  আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে   দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

তাকে রিসিভ করার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গাড়ি বহর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গাড়িবহরে থাকা বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিমান আসতে এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে ডা. জোবাইদা রহমান ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।




জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে নভেম্বরের সেরা জেলা পটুয়াখালী

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পটুয়াখালী নভেম্বর ২০২৫ মাসে শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুই সূচকের সমন্বিত মূল্যায়নে জেলাটির অর্জন দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সরকারি তথ্যানুসারে, নভেম্বর মাসে পটুয়াখালীতে জন্মের এক বছরের মধ্যে যে সংখ্যক জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে তা ২ হাজার ৩১১টি, যেখানে সম্ভাব্য জন্ম নির্ধারিত ছিল ২ হাজার ৬৯২টি। এতে জন্ম নিবন্ধনের হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশ। একই মাসে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৩০টি; বিপরীতে নিবন্ধিত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২১টি, যা ১৪০ শতাংশ অর্জন হার নির্দেশ করে। দুই সূচক মিলিয়ে জেলাটি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।

বরিশাল বিভাগের অন্য দুই জেলা ভোলা ও বরগুনা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভোলা জন্ম নিবন্ধনে অর্জন করেছে ৯৭ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ১১০ শতাংশ, গড় ১০৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে বরগুনা জন্মে ৯৩ শতাংশ ও মৃত্যুর নিবন্ধনে ১০৫ শতাংশ পেয়ে অর্জন করেছে মোট গড় ৯৯ শতাংশ।

পটুয়াখালীর ধারাবাহিক এ অর্জনকে ‘উদাহরণযোগ্য’ উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা বলেন,
“জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী এখন দেশের সামনে একটি কার্যকর মডেল। মাঠপর্যায়ে ইউপি, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিসংখ্যান দপ্তরের সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে জেলা প্রশাসন নিবন্ধন সেবাকে আরও গতিশীল করছে। বিশেষ করে মৃত্যু নিবন্ধনে ১৪০ শতাংশ অর্জন প্রমাণ করে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ে পটুয়াখালীর দক্ষতা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু নভেম্বর নয়, ২০২৪ সালজুড়েই জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী দেশের মধ্যে তৃতীয় এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রেখেছিল। বহু মাস জেলাটি সেরা দশের তালিকাতেও ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, মাঠপর্যায়ে সেবা সহজীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের উদ্যোগ আরও উন্নত করা হলে পটুয়াখালী আগামী দিনেও দেশের নেতৃত্ব বজায় রাখতে পারবে।


আল-আমিন