২০২৪ সালে ভাইরাল ১০টি সংলাপ, যা মাতিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া

বিদায়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে ২০২৪। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৫। শোবিজ থেকে রাজনীতি—এ বছরও বিভিন্ন সংলাপ এবং ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষের মন মাতিয়েছে। চলতি বছরের এমনই ১০টি ভাইরাল সংলাপ তুলে ধরা হলো।

১. হাউন আঙ্কেল
শিশু তারকা সিমরিন লুবাবার একটি সাক্ষাৎকারে দেওয়া ‘হাউন’ উচ্চারণ ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এটি নিয়ে ব্যাপক ট্রল করেন।

২. উহু মুরুব্বি
মাওলানা মোস্তাক ফয়েজীর একটি ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেন, “উহু উহু, বসো মুরুব্বি”, নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

৩. আপনি প্লিজ উত্তেজিত হবেন না
টকশো ‘মেট্রো টু দ্য পয়েন্ট’-এ উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী ও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিতর্কের সময় দীপ্তির বলা এই সংলাপটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

৪. এই ওয়েট ওয়েট
কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ফারজানা সিঁথির একটি ভিডিও, যেখানে তিনি বলেন “এই ওয়েট ওয়েট, ইটস মাই টার্ন”, ভাইরাল হয়ে যায়।

৫. শেখ হাসিনা পালায় না
রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার দেওয়া এই সংলাপ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

৬. পালাব না, কোথায় পালাব
ওবায়দুল কাদেরের ‘পালাব না, কোথায় পালাব’ ডায়ালগও নেটিজেনদের মাঝে হাস্যরস তৈরি করে।

৭. প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেও
গ্রামের এক শিশুর আবেগঘন ডায়ালগটি ডিজে গানের অংশ হয়ে ওঠে।

৮. আমার আবেগ কাজ করেছে, বিবেক কাজ করেনি
একটি খুনের মামলার আসামির স্বীকারোক্তি নেটপাড়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।

৯. এই মেয়ে চুপ করো
খালেদা জিয়ার ভিডিওর এই সংলাপ টিকটকে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।

১০. নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাক্টিভ
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের এই মন্তব্য ছিল বছরের আলোচিত সংলাপগুলোর মধ্যে অন্যতম।

২০২৪ সালে এই সংলাপগুলো শুধু বিনোদন জুগিয়েছে তা-ই নয়, সমাজে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




নিজেকে ভালো রাখুন: নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করুন

নিজেকে ভালো রাখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ আপনি ভালো থাকলে তবেই অন্যদের ভালো রাখা সম্ভব। তাই নিজেকে ভালো রাখাকে কখনো স্বার্থপরতা ভাবা উচিত নয়; বরং এটি স্মার্টনেসের পরিচায়ক। এমন মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকা জরুরি, যারা সম্মান, সহানুভূতি বা সমর্থন দেখায় না। নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

যে মানুষগুলোকে এড়িয়ে চলা উচিত:

প্রথমত, যারা বুলিং করে।
এ ধরনের মানুষেরা শারীরিক, মানসিক বা মৌখিকভাবে আপনাকে আঘাত করবে। তারা ছোট করে কথা বলবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবে। যারা আপনাকে অপমান করে আনন্দ পায়, তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, অহেতুক সমালোচনাকারী।
এই মানুষগুলো আপনার স্বপ্ন ও ব্যক্তিত্বে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তারা আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। এদের পাশাপাশি থাকলে আপনিও নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারেন। তাই এদের এড়িয়ে চলুন।

তৃতীয়ত, যারা দোষ ধরে বেড়ায়।
এ ধরনের মানুষেরা নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না। তারা সব সময় অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং আপনাকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে। তাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলা আপনার জন্য মঙ্গলজনক।

সবশেষে, পরচর্চাকারী।
যারা অন্যদের সম্পর্কে আপনার সামনে পরচর্চা করে, তারা আপনার সম্পর্কে অন্যদের কাছেও একই কাজ করে। এ ধরনের মানুষ নেতিবাচকতা ছড়ায়। তাই এদের আড্ডা এড়িয়ে ইতিবাচক মানুষদের সঙ্গ গ্রহণ করুন।

নিজের মানসিক শান্তি এবং জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন। ইতিবাচক এবং সমর্থনমূলক মানুষের সঙ্গ আপনাকে ভালো থাকার পথে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে চোরাই গরু উদ্ধারে গিয়ে হামলায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত

বরিশালের হিজলা উপজেলার চুনারচর গ্রামে চোরাই গরু ও ছাগল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছে কাজিরহাট থানার এসআই আলমগীর হোসেন, হিজলা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, পিএসআই আব্দুর রহিম এবং কনস্টেবল মো. শাহীন।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চুনারচর এলাকায় চোরাই গরু উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় গ্রামবাসী দেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এর পর খবর পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যসহ পাশের মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন।

ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, চুনারচর মেঘনা নদী বেষ্টিত একটি দুর্গম এলাকা। এই এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা গরু, মহিষ ও ছাগল মজুদ করা হত। ৫ আগস্ট থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ পশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চুরি হওয়া পশু অনেকটা ওই গ্রামে মজুদ রয়েছে।

অভিযানে জড়িত ব্যক্তি রুবেল নামে এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। ওই রাতে পুলিশ ১১ সদস্যের একটি টিম নিয়ে অভিযান চালায়। হামলায় আহত চার পুলিশ সদস্যকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি আবুল কালাম আজাদ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুই বছরে বরিশালে ৪১২ পুলিশ সদস্যকে শাস্তি

গত দুই বছরে বরিশাল জেলা ও নগর পুলিশের ৪১২ জন সদস্যকে বিভিন্ন অপরাধের কারণে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ১৯৩ জন সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০১ জন কনস্টেবল। এই শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭৩ জন নগর পুলিশের এবং ২৩৯ জন জেলা পুলিশের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পুলিশ বাহিনীকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে বিভাগীয় শাস্তি প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইন অমান্য করে দায়িত্ব পালনে কোনো পুলিশ সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না, এমন কথা জানিয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।

বরিশাল পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে বা সম্ভাবনা থাকলে ওই বিষয়ে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য খালাস পাবেন। অন্যথায়, তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলের শহীদ আমিন: মায়ের কান্নায় ভারী আকাশ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভরিপাশা গ্রামের সেলিনা বেগমের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। একমাত্র সন্তান আমিনুল ইসলাম আমিনকে হারানোর বেদনায় তিনি দিন কাটাচ্ছেন। ২১ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ির দনিয়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় ১৬ বছরের কিশোর আমিন।

সাধারণ পরিবারের ছেলে আমিন। অটোরিকশাচালক বাবা ওবায়দুল ইসলাম এবং মা সেলিনা বেগমের একমাত্র সন্তান। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও অভাবের তাড়নায় কাজ শুরু করে একটি কারখানায়। মাসে আট হাজার টাকা বেতনে চাকরি করত সে।

শেষ দিনের গল্প
মৃত্যুর দিন সকালে মাকে জানিয়েছিল, শরীর ভালো না, কাজে যাবে না। সারাদিন ঘরে থাকার পর বিকেলে নাস্তার কথা বলে বের হয়। মা জানতেন না, সে যাচ্ছিল আন্দোলনে। সেখানে পুলিশের গুলিতে আহত হয় আমিন।

অপরিচিত দুই ছাত্র গুরুতর আহত আমিনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। রিকশায় ওঠানোর সময় চালক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমিনের বাবা। সন্তানকে এমন অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মায়ের আর্তনাদ
আমিনের মা বলেন, “আমার ছেলে ফুটবল খেলত। অনেক পুরস্কার আনত। এখন সব স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। আমি শতকোটি টাকা চাই না। আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”

একটি পরিবারের শোক
আমিনের প্রতিবেশীরা জানায়, সে সবসময় বলত, “মৃত্যু হলে শহীদ হব।” কিন্তু সেই কথা এখন বাস্তব। বাবা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আমার কলিজা খালি হয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে হুকুমের আসামি করে বিচার চাই।”

আমিনকে তার দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। সেখানে জানাজায় অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৭৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ২৩ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৭৬ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় আসামি হয়েছেন মহিববুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। ফাতেমার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১১টি ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর অবৈধ সম্পদ থেকে ফাতেমা সম্পদশালী হয়েছেন।

দুদকের মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালীজুড়ে আলোচনা চলছে। এই মামলাগুলোকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুগলের সার্চ ট্রেন্ডে ২০২৪ সালের জনপ্রিয় ঘটনা ও ব্যক্তি

২০২৪ সাল শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন বছরের দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৫। বিদায়ী বছরটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গুগল সম্প্রতি তাদের সার্চ ট্রেন্ডিং তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে উঠে এসেছে বছরের আলোচিত ইভেন্ট ও ব্যক্তিদের তথ্য।

গুগলের ইয়ার ইন সার্চ অনুযায়ী, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য। এ তালিকায় আরও ছিল আইফোন-১৬ রিলিজ, ব্লকবাস্টার সিনেমা, টিকটক ট্রেন্ড এবং ফ্যাশন-স্টাইল সংক্রান্ত বিষয়।

এ বছর ক্রীড়া ইভেন্টে সার্চ ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে ছিল কোপা আমেরিকা, এরপর ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ (উয়েফা) ও আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এছাড়া প্যারিস অলিম্পিক গেমস, ভারত-ইংল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ এবং প্রয়াত গায়ক লিয়াম পেইন সম্পর্কিত তথ্যও তালিকায় ছিল।

সার্চে শীর্ষ ব্যক্তিরা
এ বছরের সবচেয়ে বেশি খোঁজা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমেই আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর রয়েছেন ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অফ ওয়েলস; কমলা হ্যারিস; ইমান খলিফ এবং জো বাইডেন।

নিউজ ও শব্দ অনুসন্ধান
গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা সংবাদের মধ্যে শীর্ষে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, অতিরিক্ত তাপদাহ, প্যারিস অলিম্পিক এবং হারিকেন মিল্টন। সার্চ করা শব্দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সংক্রান্ত খবর এবং নিউ ইয়র্কের বাস্কেটবল দল ‘নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিস’ উল্লেখযোগ্য।

মৃত ব্যক্তির তালিকা
প্রয়াত ব্যক্তিদের মধ্যে সার্চ ট্রেন্ডে শীর্ষে ছিলেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী লিয়াম পেইন। এরপর রয়েছেন টবি কিথ, ওজে সিম্পসন, শ্যানেন ডোহার্টি এবং জাপানি মাঙ্গা শিল্পী আকিরা তোরিয়ামা।

২০২৪ সালে গুগলের সার্চ ট্রেন্ড বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন দিয়েছে। নতুন বছরে এই তালিকা আরও নতুন এবং আকর্ষণীয় বিষয় নিয়ে আসবে, সেটাই সবার প্রত্যাশা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আন্দোলনে চোখ হারানো পটুয়াখালীর সাইদুলের জীবনে নতুন আশার আলো

পটুয়াখালীর দশমিনার সেই যুবক মো. সাইদুল ইসলাম, যিনি আন্দোলনে চোখ হারানোর পর মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, সম্প্রতি একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার পেয়েছেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায় তাকে আশার আলো দেখিয়েছে।

জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে গুলির আঘাতে সাইদুলের বাম চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার জীবনের দুঃখ-দুর্দশা চরমে পৌঁছায়। ঘটনার পর তার স্ত্রী পান্না আক্তার তাকে তালাক দিয়ে দেড় বছরের সন্তানসহ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ অবস্থায় সাইদুল পটুয়াখালীর বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফিরে যান এবং অভাব-অনটনের মুখোমুখি হন।

সংবাদমাধ্যমে সাইদুলের কষ্টের কাহিনি প্রকাশিত হলে ঢাকার কয়েকজন হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন। তাদের আর্থিক সহায়তায় সাইদুলের জন্য একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কেনা হয়। সোমবার পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন রিকশাটি সাইদুলের হাতে তুলে দেন।

রিকশা পাওয়ার পর সাইদুল বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ। যেসব হৃদয়বান ব্যক্তি আমাকে এই রিকশা দিয়েছেন, তাদের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ। সাংবাদিকরা আমার কথা তুলে ধরেছেন বলেই আমি আজ নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েছি। এখন এই রিকশা চালিয়ে আমি জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।”

আন্দোলনের সময় ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন সাইদুল। কিন্তু চোখ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। নতুন রিকশাটি তার জীবন সংগ্রামের পথ আরও সুগম করবে বলে আশা করছেন তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্দি বিনিময় চুক্তিতে হাসিনাকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এক্সট্রা অডিশন করার জন্য, এটি প্রক্রিয়াধীন।

বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ৩
কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে।

সম্প্রতি ৬০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুমাসে নয় বরং গত দেড়-দুই বছরে দেশে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমরা রোহিঙ্গাদের আর কোনো অবস্থাতেই প্রবেশ করতে দেব না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার (সীমান্ত) আছে সেটি পুরোটাই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। এখন আমাদের বিজিবির সঙ্গে তাদের কথা বলার অবস্থা নেই। তাদের (আরাকান আর্মি) সঙ্গে এখন আনঅফিশিয়ালি কথা বলা গেলেও অফিশিয়াল কথা বলার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি ডিটেইলস (বিস্তারিত) বলতে পারবো না, আপনারা (সাংবাদিক) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন তারা ভালো বলতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি। আমরা ভবিষ্যতে একটা ভালো ফল পাবো।




গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩ বসতঘর পুড়ে ছাই

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া ছনখলা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরগুলোর মালিক আলী হাওলাদারের দুই ছেলে সাগর (৩৫) ও সাদ্দাম (৩৮), এবং রুস্তম হাওলাদারের ছেলে আনিস হাওলাদার (৪০)। পরিবারের সদস্যরা পেশায় শ্রমজীবী এবং ঘটনার সময় তারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে থাকা তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও স্ত্রীরা অল্পের জন্য রক্ষা পান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সাগরের স্ত্রী রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ফায়ার সার্ভিস দলটি দূরত্বের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। তবে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় আরও তিনটি ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। আগুনে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রেফাবুল্লা ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তাদের ঘর নির্মাণে টিন সরবরাহ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম