সরিষা ফুলে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে প্রকৃতির অলংকার হয়ে উঠেছে হলুদ সরিষার ফুল। চারদিকে তাকালে শুধু হলুদ আর হলুদ। ফুলের এই সমারোহ দু-চোখ জুড়িয়ে দেয়। আর ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা।

উপজেলার জাঙালিয়া, চরফরাদী, এগারসিন্দুর, বুরুদিয়া, পাটুয়াভাঙা, হোসেন্দী, নারান্দী, চণ্ডিপাশা, সুখিয়া এবং পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরিষা ফুলের সমারোহে হেসে ওঠে চারদিক। এ যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। আর এর মাঝে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য রোপা আমন এবং বোরো ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে এই সরিষা আবাদ করে কৃষক সহজে লাভবান হতে পারে। পাশাপাশি দেশে তেল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারবে। সে লক্ষ্যে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো জমি পতিত না রেখে সরিষা আবাদ করে। এ বছর উপজেলায় ৪৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। এ কারণে তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।

উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের জুয়েল মিয়া জানান, তিনি প্রথমবারের মতো চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এতে খরচ মিটিয়ে তিনি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

কৃষক জুয়েল রানা, মামুন ও সুরুজ আলী একই সুরে জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর খালি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। কম পুঁজিতে সরিষা চাষে লাভও দ্বিগুণ পাওয়ার আশা করছেন।

কলাদিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদন করা যায়। বাজারে মণ প্রতি সরিষার দাম ১০-১২ হাজার টাকার মতো। এতে খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হন। পতিত জমিতে দিন দিন সরিষা আবাদ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই আলম জানান, সরিষার আবাদ করলে একদিকে যেমন ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি পায়, অপর দিকে মাটির স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হয়। বর্তমানে সরিষা আবাদে উন্নত জাত থাকায় মাত্র ৮০ থেকে ৮৫ দিনে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১.৫ টন সরিষা উৎপাদন হচ্ছে। সরিষার জমিতে বিভিন্ন উপকারী পোকা যেমন লেডিবার্ড বিটল, ক্যারাবিট বিটল, ড্রাগন ফ্লাই, ড্যামসেল ফ্লাই পোকার প্রচুর আগমন ঘটে। ফলে যে জমিতে সরিষা চাষ হয়, বোরো মৌসুমে ওই জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি সরিষার মূলের রসে এলোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্য থাকায় মাটিবাহিত রোগ জীবাণু কম থাকে। ফলে সার্বিকভাবে মাটির স্বাস্থ্যের গুণগত পরিবর্তন হয়।

কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, সরিষা উৎপাদনের জন্য জমি তৈরির সময় চাষের কারণে মাটিতে বাতাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে মাটির বুনট ফসল উৎপাদনের জন্য সহায়ক হয়। ফলে বোরো মৌসুমে জমিতে কম চাষের প্রয়োজন হয়। কাজেই সরিষা চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব শুধু তেল উৎপাদনেই নয়, কৃষি পরিবেশ উন্নয়নেও এর ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া সরিষার জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য প্রচুর মৌমাছির আগমন ঘটে। ফলে প্রকৃতিতে অন্যান্য ফসলের পরাগায়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সরিষা চাষে কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

নারীদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। এই দল ১৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেট বোর্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বকাপ আসরটি মালয়েশিয়ার ক্লাংয়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং সব ম্যাচ বায়োমাস ক্রিকেট ওভালে অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্বাগতিক মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশসহ ১৬টি দল অংশ নেবে। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে থাকবেন সুমাইয়া আক্তার, যিনি সম্প্রতি নারীদের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের রানার্সআপ দলের সদস্য ছিলেন।

এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকে দুটি পরিবর্তন করা হয়েছে। মাহারুন নেছা ও আরভিন তানি দলে জায়গা পাননি, তাদের পরিবর্তে যোগ হয়েছেন লাকি খাতুন এবং সাদিয়া ইসলাম। এছাড়া স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রয়েছেন মাহারুন নেছা ও আরভিন তানি।

বাংলাদেশ দল ডি-গ্রুপে অবস্থান করছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নেপাল এবং স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপের আগে, বাঘিনীরা ৩-৯ জানুয়ারি শ্রীলংকার বিপক্ষে চারটি টি-২০ ম্যাচ খেলবে। খেলোয়াড়রা ২ জানুয়ারি কলম্বোর উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করবেন।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল:
– সুমাইয়া আক্তার (অধিনায়ক)
– আফিয়া আশিমা ইরা
– ফাহমিদা ছোঁয়া
– ফারিয়া আক্তার
– হাবিবা ইসলাম পিংকি
– জান্নাতুল ইসলাম মাওয়া
– জুয়াইরিয়া ফেরদৌস
– লাকি খাতুন
– আনিসা আক্তার সোবা
– মোসাম্মৎ ইভা
– ফারজানা ইয়াসমিন
– সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা
– নিশিতা আক্তার নিশি
– সাদিয়া আক্তার
– সাদিয়া ইসলাম

স্ট্যান্ডবাই:
– আশরাফি ইয়াসমিন অর্থি
– লেকি চাকমা
– আরভিন তানি
– মেহেরুন নেসা




সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে সাগরে আটকা ৭১ পর্যটক

সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্রিন লাইন’ নামের একটি পর্যটকবাহী জাহাজ সাগরে বিকল হয়ে পড়েছে। এতে ৭১ জন পর্যটক আটকা পড়ে। পরে জাহাজটি কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সৈকতে ভেড়ে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। গ্রিন লাইন জাহাজের ম্যানেজার সুলতান আহমদ জানান, বিকেল ৪টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে ৭১ জন পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলার পর সাগরের ঢেউয়ের পানির কারণে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে জাহাজটি কক্সবাজার যেতে না পেরে মেরিন ড্রাইভের বড় ডেইলের সৈকতে ভিড়তে সক্ষম হয়।

বিষয়টি জানার পরই কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ এবং টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন জানান, শর্টসার্কিটের কারণে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকা পড়েছে। বর্তমানে দুটি বাসের মাধ্যমে জাহাজে থাকা সব পর্যটককে নিরাপদে কক্সবাজার শহরে নিয়ে আসার কাজ চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সচিবালয়ে আগুন, ৫ মন্ত্রণালয়ের নথি পুড়ে ছাই : আসিফ মাহমুদ

রাজধানীর সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় সেগুলো উদ্ধার সম্ভব। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পুড়ে যাওয়া নথি পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আগুনে ধ্বংস হয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই অগ্নিকাণ্ড সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে সিনিয়র সচিব, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, সশস্ত্র বাহিনীর ফায়ার বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের তিনজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

সচিবালয়ের এই আগুনে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও উঠে এসেছে। জরুরি সভায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির ফলে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে উল্লেখ করেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তদন্ত শেষে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় শিক্ষকের ধান কেটে নিলেন বিএনপি নেতা

বরগুনার আমতলীর ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বাবুল হাওলাদারের জমির ধান রাতের আঁধারে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষক এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে তার বাবা-মায়ের ৪ দশমিক ৮৮ একর জমির ধান ২০-২৫ জনের একটি দল কেটে নিয়ে গেছে। এই দলের নেতৃত্ব দেন ডালিম হাওলাদার ও জুয়েল মাতুব্বর, এবং তাদের সাথে ছিলেন বিএনপি নেতা মো. তুহিন মৃধা।

শিক্ষক মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, “এই জমি আমি ও আমার তিন ভাই ভোগদখল করে আসছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ধান কেটে নেওয়ার পরেও অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, ফলে তিনি পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডালিম হাওলাদার বলেন, “আমরা কোনো ধান কেটে নি। বরং মনিরুজ্জামান বাবুল ও তার লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, মনিরুজ্জামান বাবুল নিজেই ধান কেটে নিয়েছেন এবং এর প্রমাণ রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে, তবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

এদিকে, আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপদেষ্টা আসিফ, নাহিদ ও মাহফুজকে ‘বিপ্লবী’ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে বিপ্লবী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা ক্ষমতার সুবিধাভোগী ছিল, তাদের মধ্যে আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রশাসনের ওপর ভর করেই শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন।”

সারজিস আরও উল্লেখ করেন, “যখনই দেশের বিপ্লবীরা দুর্নীতি, লুটপাট ও অপশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে, তখনই প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাভোগীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংসের অপচেষ্টা করেছে। সচিবালয়ের সাম্প্রতিক আগুনের ঘটনাও সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হতে পারে।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকে নির্মূল করা। এখন আর অপেক্ষার সময় নেই।”

নাহিদ, আসিফ এবং মাহফুজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা বিপ্লবী ভূমিকা গ্রহণ করুন। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের পাশে রয়েছে।”

সারজিস আলমের এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচিবালয়ের আগুন নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তদন্তের দাবি ওঠেছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফুটপাতের দেড় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করেন। এই অভিযানে দেড় শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

ইউএনও মো. শাহ আজিজ বলেন, ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট নির্মাণের কারণে পৌরশহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে, দোকান মালিকদের নোটিশ দিয়ে এবং মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছিল, তবে তারা ফুটপাত ছাড়েননি। এ কারণে দেড় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিগগিরই এসব স্থানে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শুরু হবে এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।

উচ্ছেদ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফিরোজ কবির, লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরের গর্ব বিষমুক্ত শুঁটকি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় উৎপাদন শুরু হয়েছে বিষমুক্ত শুঁটকি মাছের। উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসংলগ্ন কচা নদীর পাশের চরে উৎপাদিত হচ্ছে এই বিষমুক্ত শুঁটকি মাছ, যা বর্তমানে বাজারে ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে।

এ শুঁটকিতে কোনো ধরনের বিষ বা রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করা হয় না, যা এর সুনাম এবং চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। অন্যান্য শুঁটকিপল্লীতে মাছের খাদ্য তৈরির শুঁটকি উৎপাদিত হলেও পাড়েরহাটে শুধুমাত্র মানুষের খাওয়ার জন্য উপযুক্ত শুঁটকি তৈরি করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিয়া, কোরাল, হাইতা, ফাইসা, ফেসসা, ডেলা, মধু ফেসসা, মরমা, বেজি, ছুরি, লইট্যা ও ডুম্বুরা মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

শুঁটকি উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে ৬ নভেম্বর ২০২৪ থেকে, এবং এটি চলবে মার্চ মাস পর্যন্ত। পাড়েরহাট, পাথরঘাটা, আমুয়া ও বাগেরহাট মৎস্যবন্দর থেকে সংগৃহীত বাছাই করা মাছ থেকে শুঁটকি তৈরি করা হয়।

পাড়েরহাটের বাদুরা এলাকার বাসিন্দা আকিজুল বেপারী আট বছর আগে এক একর জমির ওপর শুঁটকিপল্লী স্থাপন করেন। তার শুঁটকিপল্লীতে প্রথম দিকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আকিজুলের দেখাদেখি বর্তমানে পাড়েরহাটে আরও ছয়জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে শুঁটকিপল্লীতে ৫০ জন শ্রমিক শুঁটকি উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত আছেন। আকিজুল বেপারী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে শুঁটকির দাম কমেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়নি, ফলে শুঁটকির বাজার মন্দা যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীর মালিক আলী সর্দার বলেন, তারা আড়ত থেকে মাছ কিনে এনে ভালোভাবে কেটে ধুয়ে, লবণপানিতে একদিন ভিজিয়ে রাখেন। এরপর বাঁশের তৈরি মাচা ও বেড়ায় মাছ শুকাতে দেওয়া হয়। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কাঁচা মাছ শুঁটকিতে পরিণত হয়। তারা ইতোমধ্যে শুঁটকির দুটি চালান কক্সবাজারে বিক্রির জন্য পাঠিয়েছেন এবং বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মন শুঁটকি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরের না‌জিরপুরে ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক

পিরোজপুরের না‌জিরপুর উপজেলায় দুই রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে না‌জিরপুর থানা পুলিশ। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পিরোজপুর-ঢাকা মহাসড়কের চিথলিয়া এলাকা থেকে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন ,কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জি-ক্যাম্প ১৪ ট্যাংকখালী হাকিম পাড়া এলাকার আনোয়ার আলীর ছেলে মনির আলম (৪০) এবং একই ক্যাম্পের জাহিদ হোসেনের ছেলে মো. শফিক (২১)।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আটকরা কি উদ্দেশ্যে আসছিল কিংবা তাদের কারা এখানে এনেছে, সে বিষয়ে এখনও কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আমরা খতিয়ে দেখছি কাদের মাধ্যমে তারা এখানে এসেছে এবং তাদের আসার উদ্দেশ্য কি।”

এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আটক যুবকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উপস্থিতির কারণ জানার চেষ্টা করছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৫ জনের কারাদণ্ড

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৫ জনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মেঘনা নদীর খেজুরতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ জানান, গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্রি ইউনিয়নের খেজুরতলা সাতপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুটি ড্রেজারসহ ৫ জনকে আটক করা হয়, এবং তাদের ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার আবুপুর এলাকার ইদ্রিস ফকিরের ছেলে পারবেজ ফকির (৩০), ভোলা জেলার লামমোহন এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মিজান বেপারী (৩৯), একই এলাকার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম দফাদার (৩০), পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলাম জমাদারের ছেলে ইব্রাহিম জমাদার (৩০), এবং মো. সাদিকুর রহমান (২২)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোসাইরহাট উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম