তানোরে নলকূপের গর্তে আটকে শিশু, ২২ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারে দমকল বাহিনীর চেষ্টা টানা ২২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও সফলতা আসেনি। বুধবার দুপুরে ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এলাকাটিতে অবস্থান নিয়ে নিরলসভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের ছেলে স্বাধীন বাড়ির পাশেই খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া একটি সরু এবং দীর্ঘ গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট, যা শিশুটিকে উদ্ধারের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরুর পাশাপাশি এলাকায় তিনটি এস্কেভেটর এনে দ্রুত খনন শুরু করে। এস্কেভেটরের সাহায্যে শিশুটি যেখানে পড়ে গেছে তার কাছাকাছি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত আলাদা একটি গর্ত খনন করা সম্ভব হয়। ওই খননকৃত স্থান থেকেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটি যে গর্তে আটকে আছে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে পানি, কাদা এবং ভেতরের ঘন মাটি পুরো উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি নলকূপের যেকোনো স্তরে আটকে থাকতে পারে। এজন্য প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “গর্তের ভেতর যে কোনো জায়গায় শিশুটি আটকে থাকতে পারে, তাই সুড়ঙ্গ তৈরির সময় পুরো স্থাপনাটি নিরাপদ রাখা হচ্ছে।”

ঘটনার পর বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নলকূপের ভেতরে ৩০ ফুট গভীরতায় ক্যামেরা নামানো হয়, কিন্তু গর্তে ধসে পড়া মাটি, খড় এবং পানি জমে থাকার কারণে শিশুটিকে দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রথম দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল, যা শিশুটি তখনও জীবিত থাকার আশা জাগিয়েছিল।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবার, প্রতিবেশী এবং স্থানীয়রা চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ ঘটনাস্থলে ভিড় করে অপারেশন পরিস্থিতির আপডেট জানার চেষ্টা করছেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা সদস্যরা শিশু স্বাধীনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রতিটি মিনিটই শিশুটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তফসিল ঘোষণা আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দরজায় কড়া নাড়ছে  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। সারাদেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া । এবারের ভোটেই নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষৎ।

আজ বৃহস্পতি বার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল চারটার দিকে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

সরকার বারবার বলে আসছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। ইসিও সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ দুটি ভোটের দিনক্ষণ জানাবেন সিইসি।

সময় ব্যবস্থাপনার জন্য এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।




ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় ঝাড়ু মিছিল

বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাবুগঞ্জবাসীদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করেন। পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পুনরায় স্থানীয়দের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে কঠোর প্রতিবাদ জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কালাম হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন বাবুগঞ্জের মানুষ নাকি বোমা তৈরি করে এবং তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে—এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আমরা কখনো মেনে নেব না।’

মীরগঞ্জ ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘বাবুগঞ্জের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষকে অপমান করার দায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণকে অপমান করার বিষয়টি তারা সহজভাবে নেবে না এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন বাংলাদেশের নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিকা চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ” হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি বলেন—এ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতিগত দায়িত্ব, যা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস আমাদের আরেকটি সুযোগ দিয়েছে দেশকে সঠিক পথে দাঁড় করানোর। অতীতের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা নির্বাচন নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ছিল প্রতারণা। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর দায়িত্ব প্রশাসনের কাঁধেই। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন—এই নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে; আর ব্যর্থ হলে জাতি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে।

সভায় যুক্ত ছিলেন দেশের সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবার উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইউএনওরাই মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সরকারও তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

এ সময় তিনি গণভোটকেও “জাতির জন্য শত বছরের সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, গণভোট এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব। “নতুন বাংলাদেশ” ধারণার ভিতও এই গণভোট থেকেই তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন ও গণভোট দুটোর ক্ষেত্রেই ভোটারদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন—ভোটারদের বোঝাতে হবে, তারা যেন মনস্থির করে ভোটকেন্দ্রে যান—হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন, সেটি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে হবে।

সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা। এজন্য প্রতিটি পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সম্ভাব্য জটিলতা মোকাবেলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন—নারীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোটের পরিবেশ নষ্টে অপতথ্য ও গুজবকে “সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন—ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়; তেমনি প্রশাসন দায়িত্বশীল হলে নির্বাচনও ভালো হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি বাস্তবায়নে সমন্বিত ভূমিকা পালনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন তফসিল শিগগিরই ঘোষণা হবে বলে জানান এবং ইউএনওদের এখন থেকেই দিন–তারিখ ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেন। তার মতে, পরিকল্পনা যত সুসংগঠিত হবে, ততই দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ধারাকে শক্তিশালী করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান জানাল অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত যদি সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ একতরফাভাবে কিছুই করতে পারবে না।

তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ভারতের সম্মতির ওপর। তার ভাষায়—ভারতকে রাজি হতে হবে, নতুবা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশটি এখন আগের তুলনায় আরও সচেতন। র‌্যাবের কার্যক্রমে গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে কোনো বিদেশি নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানান, শেখ হাসিনা কোথায় থাকবেন—বাংলাদেশে নাকি ভারতে—তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক পরিবর্তন, আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয়ে বিষয়টি এখন দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনীতিকরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ হলো কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা। একই সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় যুক্তিসঙ্গত সমাধানের পথ খোঁজা। পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও সরকার ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের আশা দেখছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এনসিপির নির্বাচনী চমক: ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে লড়তে প্রস্তুত ১২৫ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব-পশ্চিমসহ প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যম, সততা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিসর বাড়াতে দলটি এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে—একদিকে জনমুখী প্রার্থীদের মনোনয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার ধারা অব্যাহত রাখা। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইন পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট অনেক পরিচিত মুখ।

উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও জেলার দুই আসনে মো. রবিউল ইসলাম এবং গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে আ হ ম শামসুল মুকতাদির ও ডা. আব্দুল আহাদসহ একাধিক অভিজ্ঞ মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন ও আবু সায়েদ লিয়নকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনেও তালিকায় স্থান পেয়েছেন আল মামুন, আখতার হোসেন, মাহফুজুল ইসলামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পরিমল চন্দ্র (উরাও), মনিরা শারমিন, অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদিরের মতো শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাটের আসনগুলোতে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকেও নির্বাচন করেছে দলটি।

দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের তালিকায় রয়েছে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, ফরিদুল হক, আবু সাঈদ মুসা, নুরুল হুদা চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখ। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী-১ আসনে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোলা, ঝালোকাঠি, পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য constituencies–এও দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন।

ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। রাজধানীর ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নারী নেত্রী এবং উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে পার্টি। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মেজর (অব) আলমগীর ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যাদের নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু দলটির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগেও রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম-৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬—প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি, যাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী। কক্সবাজারের ১, ২ ও ৪ নম্বর আসনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, প্রিয় চাকমা ও মংসা প্রু চৌধুরীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ব্যাপকভিত্তিক এই প্রার্থী তালিকা দলটিকে আগামীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে তিন শর্তে জাতীয় সরকার গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিনটি নির্দিষ্ট শর্তে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা-১৫ আসনের দক্ষিণ কাফরুলে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত আমির বলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধারণা ভুল। বরং তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় আগ্রহী। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে তিনটি মূল শর্তের ওপর
১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ,
২) বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা,
৩) অভ্যুত্থানের চেতনা বা অবৈধ ক্ষমতা দখলের ধারণা বর্জন।

তার দাবি, এই তিন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকারে অংশ নিতে পারবে।

সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বৈষম্য দূর করা না হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী মানুষ ও সম্পদশালী গোষ্ঠীর মধ্যে যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দেশের মানুষের স্বস্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধ কমানোও সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, সব ধরনের অপরাধের সূচনা হয় “অপ-নির্বাচন” থেকে। তাই আগামীর জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পায়। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেই নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যারা নির্বাচনের আগে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার অঙ্গীকার করেন। এদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন, তারা যেন ক্ষমতায় গেলে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা বহন করছে। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জোটগত সম্ভাবনার ইঙ্গিতও রয়েছে তার কথায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এই সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন তফসিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে সিইসিকে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। পরে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ৭ ডিসেম্বর জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিইসির আজকের মন্তব্য নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রশাসন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সাপোর্ট—সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। কমিশন আশা করছে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থক ও প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উত্তর জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে সুনামি সতর্কতা

জাপানের উত্তর উপকূল আবারও তীব্র ভূকম্পনের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালেই হোক্কাইডো উপকূলের আওমোরি এলাকার কাছাকাছি আঘাত হানে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে, যা ভূমিকম্পটির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

হঠাৎ তীব্র দোলনের পর উপকূলজুড়ে জারি করা হয় অন্তত ১০ ফুট উঁচু সুনামির সতর্কতা, যা স্থানীয় জনমানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য করে। উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের সমুদ্রগামী কার্যক্রম নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ দপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বড় তথ্য পাওয়া না গেলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তরাঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জরুরি নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুনামি আঘাত হানলে ওই কেন্দ্রগুলোর শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

হোক্কাইডো ও আওমোরি অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সময়মতো সতর্কতা জারি করাকে স্থানীয় প্রশাসন “জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাপানে উন্নত ভূমিকম্প আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা থাকায় মানুষ দ্রুত উচ্চভূমিতে সরে যেতে পেরেছে, ফলে বড় ধরনের হতাহতের শঙ্কা এখনো কম বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

জনগণকে উপকূল থেকে দূরে থাকতে এবং আবহাওয়া দপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নারী অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান—চার গুণী নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক

নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদান রাখা চার বিশিষ্ট নারীকে এ বছরের বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের হাতে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা যাঁরা এবার পুরস্কৃত হয়েছেন তারা হলেন—

  • রুভানা রাকিব — নারীশিক্ষা (গবেষণা)
  • কল্পনা আক্তার — নারী অধিকার (শ্রম অধিকার)
  • নাবিলা ইদ্রিস — মানবাধিকার
  • ঋতুপর্ণা চাকমা — নারী জাগরণ (ক্রীড়া)

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই পদক প্রদান অনুষ্ঠান শুধু স্বীকৃতিই নয়, নতুন প্রজন্মকে নারী অধিকার ও অগ্রযাত্রার পথে অনুপ্রাণিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। নারী শিক্ষার পথিকৃত, সমাজ সংস্কারক ও লেখিকা বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী একই দিন—৯ ডিসেম্বর। তাই বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।

১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেওয়া বেগম রোকেয়া সমাজে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কুসংস্কার দূরীকরণ ও নারী মুক্তির সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা আজও দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ গ্রন্থ নারী জাগরণে অমর দলিল হয়ে আছে।

এ বছর পদক পাওয়া চার নারীই রোকেয়ার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন—এমনটাই মত উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকদের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম