“ক্যাডার-নন-ক্যাডার বৈষম্য দূর করার আহ্বান”

বৈষম্যবিরোধী গণকর্মচারী পরিষদের নেতারা সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নির্বিশেষে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে মৌলিক বৈষম্য বিদ্যমান, তা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।’’ তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বৈষম্য না কমালে প্রশাসনে আরও বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক জিন্নাত আলী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদুল আলম ও মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, জনপ্রশাসনে সংস্কারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু, কমিশনে বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসের প্রতিনিধিত্বকারী অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিশালসংখ্যক নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যদিও কমিশন নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করছে, কিন্তু সরকারি জনবল কাঠামোর বৃহত্তম অংশ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এর কোনো বৈঠক হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’ তারা মনে করেন, জনগণের সরাসরি সেবা প্রদানকারী নন-ক্যাডার কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর না হলে জনপ্রশাসন কখনোই জনকল্যাণমুখী হতে পারবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’’তে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মের শ্রেণিবিভাগে ‘নন-ক্যাডার’ নামে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে দক্ষ ও মেধাবী সরকারি কর্মচারীরা প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন দফতরের নন-ক্যাডার কর্মচারীদের সমস্যাগুলোর দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন— ‘‘সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পরিচিতি, মর্যাদা, প্রেষণ, পদোন্নতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণসহ নানান ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। এসব বৈষম্যের ফলে শুধু একটি অস্থির প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হয় না, বরং একটি পক্ষপাতমূলক সমাজের জন্ম নেয়।’’

তারা আরও উল্লেখ করেন, চাকরি জীবনের শুরুতেই একই গ্রেডে একজনকে ক্যাডার এবং অন্যজনকে নন-ক্যাডার হিসেবে তকমা দেওয়া হয়, যা চরম বৈষম্যমূলক। ‘‘গেজেটেড অফিসার্স রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৭৮’’ ও ‘‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কনসালটেশন) ১৯৭৯’’ অনুযায়ী সরকারি পদগুলো বিভক্ত করা হয়, যেখানে নবম গ্রেডকে ‘গেজেটেড’ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডকে ‘নন-গেজেটেড’ পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তারা মনে করেন, ‘‘একই গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা হলেও, তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার কারণে সরকারি সুযোগপ্রাপ্তি ও মর্যাদায় বড় ধরনের অমিল রয়েছে।’’ তাই তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, ‘‘সরকারি কর্মে ক্যাডার-নন-ক্যাডার বিভাজন বিলুপ্ত করে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক।’’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সহযোগী অধ্যাপকদের পুনর্বহালের দাবিতে শেবামেকের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) এর দুই সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বদলি করার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের বা সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে এ বদলি করিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শেবামেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আকবর কবির এবং প্যাথলজি বিভাগের বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার সাহার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বদলি করা হয়েছে। তারা আরও জানান, এই দুই শিক্ষকের বদলি শেবামেকের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শনিবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রানা। তিনি বলেন, “এই বদলি আমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং আমরা দাবি করছি, দুই সহযোগী অধ্যাপককে পূর্বের কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হোক। দাবি না মানা হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হুমায়রা আনজুম জুঁই, মুজাহিদুল ইসলাম, মিনহাজুল ইসলাম, আজগর হোসাইন, মাহমুদুল হাসান মুশফিক, খন্দকার নাজমুস সালেহীন, আলিফ ইসলামসহ শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

**মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম**

**ট্যাগ:** #শেবামেক #সহযোগীঅধ্যাপক #পুনর্বহাল #বদলি #বরিশাল #শিক্ষার্থী #মেডিক্যাল #শিক্ষার_দাবি #বাংলাদেশ




হজ কোটা পূর্ণ হলো না, তিন বছর পরও সমাধান হয়নি সংকট

২০২৫ সালে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধনের শেষ তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর), তবে শেষ দিনেও হজ কোটা পূর্ণ হয়নি। এ বছরও কোটা ফাঁকা রয়ে গেছে। মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের জন্য নির্ধারিত কোটা ছিল, যার বিপরীতে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছে ৮৩ হাজার ৫৮৭ জন। তবে, সাড়া না পেয়ে তিন দফা সময়সীমা বাড়ানো হয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে, তবুও কোটা পূর্ণ হয়নি। গত তিন বছর ধরে এই সংকট চলতে থাকায় হজে জড়িত ব্যবসাগুলোতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হজ এজেন্সির মালিকরা।

২০২৩ এবং ২০২৪ সালে দেখা গেছে, কোটা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে অনেক কম যাত্রী হজ পালন করেছেন। ২০২৩ সালে কোটা থেকে ৩ হাজার ৯৮০ জন এবং ২০২৪ সালে ৪১ হাজার ৯৪১ জন কম যাত্রী হজ পালন করেন, কিন্তু কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।

হজ একটি পবিত্র ইবাদত হলেও, দিন দিন হজ ব্যবস্থাপনা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। খরচের জন্য অনেকেই নফল উমরার দিকে ঝুঁকছেন, এবং বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর কাছে নিবন্ধন না করায় তাদের ক্ষতি হয়েছে। এ বছরের হজ প্যাকেজের মূল্য তারতম্য এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মগুলির কারণে, হজ ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর অভিযোগ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও তাদের মধ্যে দূরত্ব এবং সামনাসামনি আলাপ-আলোচনার অভাবের কারণে কোটা পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় একদল বাণিজ্যিক মহল লাভবান হয়েছে, যারা হজকে একটি মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি অহিদুল আলম বলেন, “হজ একটি বড় ইবাদত, কিন্তু এর সঙ্গে ব্যবসায়িক নজর যুক্ত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে হজের খরচ কম হলেও, বাংলাদেশে তা অনেক বেশি। সৌদি আরবের ভাড়া, আবাসন এবং অন্যান্য খরচের কারণে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, সরকারিভাবে হজ প্যাকেজের খরচ প্রতিবারই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯ সালে যেখানে খরচ ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্লেন ভাড়া এবং সৌদি সরকারের সেবার খরচের কারণে হজের খরচে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে তিন গাড়ির সংঘর্ষ: আহত ২০, যান চলাচল স্বাভাবিক

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলায় শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি তেলবাহী ট্যাংক-লরির মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ২০ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে স্থানীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বেলা ১১টার দিকে বরিশালের বাটাজোর এলাকার বাইচখোলা এলাকায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস বিপরীতগামী এস.ই নামের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্যাংক-লরি দুটি বাসের সাথে ধাক্কা খায়। এই ঘটনায় তিনটি যানবাহনের চালক ও হেলপারসহ মোট ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি ৭ জনকে গৌরনদী ও উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত মনে করা হয়েছিল, তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, তিনি জীবিত।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর পরিবহনগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, এবং এক ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তিনটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে বিএনপির নামে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর দুমকিতে উড়ো চিঠি মাধ্যমে বিএনপির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাংশ।

শুক্রবার রাত ৯টায় প্রেস ক্লাব দুমকিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ সাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “গত ২৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ‘নববর্ষ উপলক্ষ্যে দুমকিতে বিএনপির নামে চাঁদা দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক।”

তিনি আরও জানান, “চাঁদা দাবির অভিযোগে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে, তারা সবাই জাতীয়তাবাদী শক্তির পরীক্ষিত ত্যাগী কর্মী। এরা বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত, এবং রাজপথে টিকে থাকতে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা রয়েছে।”

সৈয়দ সাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে কোনো আয়োজনকারী বা দাওয়াতকারী নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই চিঠিটি কে বা কারা ছেপেছে, তা আমরা জানি না। তবে, পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, আমরা তাদের পক্ষে কথা বলছি, এবং তাদের বিরুদ্ধে এমন চাঁদা দাবি করার কোনো প্রমাণ নেই। এটা আমাদের দলের ঐক্যকে দুর্বল করার একটি ষড়যন্ত্র।”

তিনি জেলা বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা হোক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিএফডিসি জাতীয়তাবাদী অ্যামপ্লেয়েজের সাধারণ সম্পাদক, দুমকি উপজেলা বিএনপির সদস্য জিএম সাহজাদা, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন হাওলাদার এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম মৃধা।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর দুমকি উপজেলা বিএনপি প্রাথমিক তদন্ত করেছে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ রিপোর্ট জেলা বিএনপির কাছে পাঠিয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশের রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে : গভর্নর

বাংলাদেশের রিজার্ভ বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। গত পাঁচ মাসে দেশটি পেয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, এবং আগস্ট মাসের পর থেকে আর কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য জানান। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা অডিটোরিয়ামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০তম শাখা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

গভর্নর জানান, রিজার্ভে কোনো পতন হয়নি, বরং রিজার্ভ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যেসব সংকট ছিল, সেখান থেকে দেশের ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগে শঙ্কা ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো ব্যাংক ধ্বংস হবে না। আমাদের দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে গেলে ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে।”

ড. আহসান মনসুর আরো বলেন, “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতি এবং রিজার্ভের পতনের আশঙ্কা থাকলেও আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন আর কমবে না, বাড়বেই। রেমিট্যান্সের প্রবাহও গত পাঁচ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।”

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ: ১৯ পাকিস্তানি সেনা নিহত, আফগানিস্তানে ৩ বেসামরিক নিহত

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকা খোস্ত এবং পাকতিয়া প্রদেশে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে ১৯ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, এবং আফগানিস্তানে ৩ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের সীমান্তরক্ষীরা পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। খোস্ত প্রদেশের আলি শির জেলায় বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি সামরিক চৌকিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, এবং পাকতিয়া প্রদেশের ডান্ড-ই-পাতান এলাকায় দুটি পাকিস্তানি পোস্ট দখল করা হয়।

এ ঘটনার পর পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে তিন আফগান বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সেনাদের বিমান হামলায় ৫১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিল।

এ সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে, এবং সীমান্তে প্রতিকূল পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনা: অভিযুক্ত বাসচালক গ্রেফতার

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় ঘটেছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। যাত্রীবাহী একটি বাস, মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্যও রয়েছেন। দুর্ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর, অভিযুক্ত বাসচালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে র‍্যাবের বিশেষ অভিযান চলাকালে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‍্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস জানান, ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে অভিযুক্ত বাসচালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাসচালক সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার পরবর্তী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে শুরু হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম

আগামী রোববার থেকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের শূন্য কক্ষগুলোতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হবে। এমন ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর হেয়ার রোডে তার বাসভবনে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “দাফতরিক কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ থাকবে না। রোববার থেকেই নগর ভবনের শূন্য কক্ষগুলোতে মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু হবে। জনবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।”

তিনি আরও জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতির তথ্য লোপাটের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে দেওয়া হবে না।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “আগের চেয়ে আরও দৃঢ়চিত্তে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে কাজের গতি বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই গণহত্যার বিচার বিজয়ের আগেই সম্পন্ন হবে: আসিফ নজরুল

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিচার সম্পন্ন করে বিজয় দিবসে তা উদযাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংস্কার নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপে শেখ হাসিনার আমলের গুম, খুন, এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. আসিফ নজরুল জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, হেফাজতের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে ঘটে যাওয়া গুম-খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা হবে। তিনি বলেন, “আইন বিভাগ এই বিচার করবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা রাজনৈতিক প্রভাব এতে থাকবে না।”

প্রশ্ন তুললেন পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে
তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা পালানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে দেশ ছেড়েছেন। এমনকি ৫১ জেলা থেকে গায়েবি মামলার তথ্য সংগ্রহ করে পিপিরাও পালিয়েছে। এসব বিষয়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

আলোচনার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা গত ১৬ বছরে দেশে ঘটা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের গুমের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনা সরকারের গুমের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম