চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 

বরিশাল নগরীর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে এক তরুণী রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বান্দ রোডে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, পেটের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি তার পেটে হাত দেন। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। তরুণী বলেন, “আমি চিৎকার দিলে তিনি আমার গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে ল্যাবের অন্যান্য লোকজন চেম্বারে এলে তিনি পালিয়ে যান।”

তরুণী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ডায়াগনস্টিক ল্যাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রোগীর সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে ডিজিটাল ল্যাব কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

ঘটনাটি নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত না হলে কীভাবে এমন অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পর্যটন সুবিধা বাড়ালে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া দ্বীপ, বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রায় চার দশক আগে জেগে ওঠা এক ছোট্ট দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ দ্বীপটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সবুজ বনভূমি, সোনালি সৈকত, বালুর ঝলকানি এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ, এসব মিলিয়ে তারুয়া দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক প্রচার ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত হলে, এই দ্বীপটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।

তারুয়া দ্বীপে পৌঁছাতে হলে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। দ্বীপের পথে যাত্রায় ক্লান্তি দূর হয়ে যায় সাগরের গর্জন ও চারপাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি দেখে। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা বিশাল চারণভূমি। দ্বীপে নানা প্রজাতির প্রাণী বসবাস করছে, যেমন হরিণ, বন্য মহিষ, বানর এবং লাল কাঁকড়া। প্রকৃতির নিখাদ নির্জনতা এবং মোহনীয় দৃশ্য দেখে যেকোনো দর্শক সজীব হয়ে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সব কিছু সাজিয়েছে।

তারুয়া দ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সকালের সোনালি আভায় সাগরের বুক থেকে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখন এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা দর্শকদের মনমুগ্ধ করে। আবার সন্ধ্যায়, যখন পশ্চিম আকাশ রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের অনুভূতি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে যায়।

প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে তারুয়া দ্বীপ। স্থানীয়রা যখন মাছ ধরতে আসতেন, তখন তাদের জালে শত শত “তারুয়া” মাছ উঠে আসত, যার কারণে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে তারুয়া। এই দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব ক্ষেত্র, যেখানে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি, হরিণ, কাঠবিড়ালী, বন ষাড়, এবং শীতকালীন অতিথি পাখির বসবাস।

বর্তমানে দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, তবে গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। তারুয়া দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বিশাল। ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার, ক্যাম্পিং সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তুললে, এটি কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সরাসরি সড়কপথ ও সি-ট্রাক পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের জন্য এটি আরো সহজতর হবে।

ভোলার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল জানান, তারুয়া বিচের সৌন্দর্য এবং পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। বন ও পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্যাম্পিং করা উচিত। ম্যানগ্রোভ বনে পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে, তাই ফায়ারিং ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ। পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিশু ইব্রাহিমের ঠাঁই হলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে, মাকে হারিয়ে অসহায় জীবন

বরিশাল নগরীর বেলসপার্কের ফুটপাতে শীতের রাতে এক শিশুর কষ্টকর পরিস্থিতি ছিলো নজরে। চার বছরের শিশু ইব্রাহিমের গর্ভধারীনি মা তাকে রেখে চলে গেছেন, আর শিশু ইব্রাহিম ছিলো পাতলা পোশাকে শুয়ে, কাঁপতে কাঁপতে। এ দৃশ্যটি শুক্রবার রাতের এক যুবক দেখেন এবং দ্রুতই বিষয়টি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজকে অবহিত করেন।

অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে তাকে সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এতে শিশুটির ভবিষ্যতের জন্য একটা নতুন আশ্রয়স্থল তৈরি হয়। এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ইব্রাহিমের মা, ময়না বেগমকেও খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে, শিশু ইব্রাহিমের জীবন আরও বিপর্যস্ত। তার বাবা, জীবন মিয়া গত পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ। শিশু ইব্রাহিমের খোঁজ-খবর নিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, সরকার শিশুটির লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে। সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয় জানায় যে, ইব্রাহিমের মা ময়না বেগম বরিশাল লঞ্চঘাটে ভাসমান জীবনযাপন করেন, এবং মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন। মাতৃহীন ইব্রাহিমকে ফিরে পেয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলেন ময়না বেগম। তার অনুমতি সাপেক্ষে শিশুটিকে সমাজসেবা কার্যালয়ের পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিসিসিতে প্লান নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) কর্তৃক প্লান অনুমোদনে জটিলতা ও হয়রানির প্রতিবাদে ১১টি দাবি তুলে ধরে রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নিলে পরবর্তীতে বিক্ষোভ সমাবেশ, সিটি করপোরেশন ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘট, গণঅনশনসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণের হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবু ছালেহ বলেন, নগরবাসী প্রায় দেড় বছর ধরে প্লান অনুমোদনে জটিলতা থাকায় হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিক, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টবৃন্দসহ নানা পেশার মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের পক্ষ থেকে গত ২৪ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর ১১ দফা দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এসোসিয়েশন অব বিল্ডিং কনসালটেন্ট, বরিশাল ডেভেলপার এসোসিয়েশন, সিমেন্ট ও লৌহজাত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়ন, জমির মালিকগনসহ নানা পেশার লোকজন মিলে গত ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে মানববন্ধন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা হয়। তারাও এ অন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দাবিগুলো হল-বরিশাল সিটি করপোরেশনে জমা থাকা সকল প্লান অনতিবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে। ইতোমধ্যে পাশকৃত সকল প্লান (যাহার চালান, হোল্ডিং এবং পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে) তা ডেলিভারি দিতে হবে। বরিশাল শহরের অধিকাংশ রাস্তার প্র্রশস্ততা কম তাই রাস্তার প্রশস্ততার ক্ষেত্রে গতানুগতিক ও প্রচলিত নিয়মে প্লানের অনুমোদন দিতে হবে। সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বরিশাল ইমারত নির্মান নীতিমালা-২০২০ পূর্ণবহাল করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মরোধে প্লান অনুমোদনসহ সকল ধরনের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

অতি পুরাতন অকার্যকর মাষ্টার প্লান (যাহা ২০২০ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে) তার অযুহাত দিয়ে রেড জোন, শিল্পাঞ্চল জোন, কৃষি জোন, ইকোপার্ক জোন দেখিয়ে জনগনকে যে হয়রানী করা হচ্ছে তা লাঘব করে অকার্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন মাষ্টার প্লান বাতিল করতে হবে। ইমারত নির্মান বিধিমালা-১৯৯৬ এর আওতায় প্লান অনুমোদনের কথা বললেও কর্তৃপক্ষ কেবল মাত্র রাস্তার ক্ষেত্রে উক্ত বিধিমালা অনুসরণ করে কিন্তু প্লান পাশের ফিসহ অন্যান্য বিষয়ে মনগড়া আইন বাস্তবায়ন করছেন তাই স্ক-বিরোধী এ নিয়ম বাতিল করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় কিংবা বাড়িতে পানির সরবরাহ লাইন সংযোগ করা হয়নি, সেই সব এলাকার জনগনকে পানির বিল হইতে অব্যহতি দিতে হবে। ভবনে বসবাস শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পূর্বে ভরাটকৃত ব্যক্তিগত রেকর্ডিয় জমির শ্রেনীতে পুকুর উল্লেখ থাকলে প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত না করে সরেজমিন তদন্ত করে প্লান অনুমোদন দিতে হবে। খালের পাড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের রেকর্ডিয় জমির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মানে জমি ছাড়ের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ও বান্ধন ভিত্তিক সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী এএফএম হারুন-অর রশীদ, যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মাহমুদ, প্রকৌশলী আকতার হোসেন, আনোয়ার হোসাইন খান, যুগ্ম সদস্য সচিব ডিজাইনার রিয়াদুল আহসান, গোপাল চন্দ্র সাহা, সোহেল রানা, সদস্য প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, প্রকৌশলী শাহ আলম সিকদার, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় বিপুল পরিমাণ হাতবোমা ও অস্ত্রসহ ৬ সন্ত্রাসী আটক

ভোলা সদর উপজেলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৯টি হাতবোমা, ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ ৬ সন্ত্রাসী আটক করা হয়েছে। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক সন্ত্রাসীরা হলেন মফিজুল হক মজু (৬২), মো. শাকিল (২৬), মো. মোবারক (৩৮), মো. ইব্রাহিম (২৩), মো. মামুন (৩২) ও মো. সিকান্দার (৬৪)। তারা সকলেই ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী মফিজুল হক মজুর নেতৃত্বে একটি দল জমিদখল, চাঁদাবাজি, নদীতে অসহায় জেলেদের মাছ ও টাকা লুট এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২৯টি হাতবোমা, ১০টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র, এবং ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদেরকে ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন

বরিশালে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রীদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ক্যাম্পেইন পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা না করা ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদেরও নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।

কিশোরীরা টিকা গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবে।

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বরিশাল আভাস প্রশিক্ষণ সেন্টারে টিকাদান ক্যাম্পেইনটির উদ্বোধন করেন বরিশাল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আভাস নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা কাজল। এছাড়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. এজাজ হোসেন ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. সজল পান্ডে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তানধারণ, বহু গর্ভধারণ, একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপায়ী জনগোষ্ঠী, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং প্রজনন বিষয়ে অজ্ঞ জনগোষ্ঠী জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর।

তবে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর থেকে এই টিকার বিরুদ্ধে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এসব গুজব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সচিবালয়ে চলাচল সীমিত: ক্রাইম সিন রক্ষার জন্য নেয়া হলো এই সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সচিবালয়ে গতকাল (২৮ ডিসেম্বর) আগুনের ঘটনা ঘটার পর প্রশাসন সেখানকার চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নেওয়া হয়েছে মূলত ক্রাইম সিন রক্ষার জন্য, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে চলতে পারে এবং আলামত নষ্ট না হয়। প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, “এটা তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।”

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দেন যে, সচিবালয়ে ঘটনার পর তদন্ত কমিটি আগামীকাল, সোমবার, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে। এছাড়া কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং এসব আলামত বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, “জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি একটি প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ ছিল।”

এর আগে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার লিখেন, বাংলাদেশ সচিবালয়কে দালালদের হাটবাজার বানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “এটা একটা দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া জরুরি।” সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়ে তিনি জানান, এটি সাময়িক একটি ব্যবস্থা।

তিনি আরও বলেন, “কোনো সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়নি, কেবল সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।” তিনি জানান, যে কোনো প্রয়োজনে অস্থায়ী পাস ইস্যু করা হবে। শিগগিরই বিদ্যমান সব প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পর্যালোচনা করে নতুন কার্ড ইস্যু করার জন্য সমস্ত সংবাদ মাধ্যম থেকে আবেদন চাওয়া হবে।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিলেটে তেলের মজুদ: দেড় কোটি ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য

সিলেটের তেলের খনিতে উত্তোলনযোগ্য মজুদ প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্লামবার্জার নামক কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল হারে তেল উত্তোলন করা সম্ভব হলে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত এই মজুদ উত্তোলন করা যাবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মজুদ আরও বেশি হতে পারে। স্লামবার্জারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিলেটের খনিতে মোট ১৪.৮ মিলিয়ন ব্যারেল (প্রায় দেড় কোটি) উত্তোলনযোগ্য তেল রয়েছে। এতে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এছাড়া, সিলেট-১০ কূপের ১৩৯৭-১৪৪৫ মিটার গভীরতায় তেলের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় প্রথম দিনে ২ ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেল তেল উত্তোলন হয়, যদিও কূপটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার জানিয়েছেন, সিলেট-১০ থেকে উত্তোলিত তেলের কোয়ালিটি অত্যন্ত উন্নতমানের। বুয়েট এবং ইস্টার্ন রিফাইনারী কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষার পর তেলটি উৎকৃষ্ট মানের বলে প্রতিবেদন দিয়েছে।

এছাড়া, সিলেট-১০ কূপে গ্যাসের তিনটি স্তর পাওয়া গেছে, যার সম্ভাব্য মজুদ ৪৩.৬ থেকে ১০৬ বিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে। গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে, তবে পাইপলাইনের অভাবে এখনো উত্তোলন শুরু হয়নি।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন, পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে এবং ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন কমে আসছে, এবং আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২০ টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ তেল দেশীয় উৎস থেকে এসেছে। বাকি ৯২ শতাংশ আমদানি করা তেল। ডিজেল এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল বর্তমানে দেশের প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিপিএল টিকিট পেতে মিরপুরে দর্শকদের বিক্ষোভ, উত্তেজনা ছড়ালো

বিপিএল শুরুর আগের দিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টিকিট নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো দর্শক ভোর থেকেই স্টেডিয়ামের ১ ও ২ নম্বর ফটকের সামনে টিকিট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন, কিন্তু টিকিট বুথ বন্ধ থাকায় তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সকাল থেকে টিকিট পাওয়ার জন্য অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের দাবি ছিল, টিকিট ছাড়া কেউ ফিরবেন না।

ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে দুই নম্বর ফটকের সামনে জমায়েত হওয়া দর্শকরা স্লোগান ও গালিগালাজ শুরু করেন এবং প্রবল ধাক্কাধাক্কিতে ফটক খুলে ফেলেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও দৌড়াদৌড়ির মধ্যে কয়েকজন দর্শক আহত হন। পরে লোহার ফটক তালাবদ্ধ করা হলেও উত্তেজনা থামেনি।

ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক দর্শক সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চার-পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু জানলাম না। বারবার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে জানানো হবে বলা হলেও কিছু হয়নি। বিসিবি কি আমাদের কোনো মূল্য দেয় না?” আরেক দর্শক অভিযোগ করেন, “কালকেই আনসারদের কাছে ২০০-৪০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যাবে।”

বিপিএল কর্তৃপক্ষ অবশেষে বেলা পৌনে ১২টায় টিকিট বিক্রির তথ্য জানায়। টিকিট অনলাইনে কেনা যাবে, তবে বুথ থেকে সংগ্রহ করতে হবে কি না, তা পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া মধুমতি ব্যাংকের সাতটি শাখায়ও টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে।

বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন বলেন, “দর্শকদের কাছে তথ্য আরও আগে পৌঁছানো উচিত ছিল। এখানে ব্যাংকসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের জটিলতা ছিল, তবে দায় আমাদেরই।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেরপুরে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৬

শেরপুর সদর উপজেলায় একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের পিটিআই’র সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শেরপুর সদর থানার এসআই আনসার আলী জানান, রিফাত পরিবহন নামের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

এদিকে, এসআই আনসার আলী আরও জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তারা। পুলিশ দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যার মধ্যে অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। শেরপুরের মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম